প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় ১২ বছরের একটি শিশু ও তার মাকে মানিব্যাগ চুরির অভিযোগে বাঁশের লাঠি দিয়ে মারধরের ঘটনা ঘটেছে। এই মারধরের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
মারধরের পর ওই শিশু ও তার মা চার দিন ধরে আতঙ্কে ঘর থেকে বের হতে পারেননি বলে জানা গেছে। পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সকালে কলাপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।
ঘটনাটি ঘটেছিল শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) রাতে উপজেলার চাকামইয়া ইউনিয়নের গামুরবুনিয়া গ্রামে। অভিযুক্ত ব্যক্তি হাফিজুর রহমান চুন্নু, যিনি উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এবং আইনজীবী।
ভুক্তভোগী শিশুর নাম জিসান (১২), যিনি গামুরবুনিয়া গ্রামের মৃত বাচ্চু হাওলাদারের ছেলে।
ভুক্তভোগী শিশুর মা নাজমা বেগম জানান, তার স্বামী বাচ্চু হাওলাদার প্রায় দেড় বছর আগে মারা যান। মৃত্যুর আগে জমি বন্ধক রাখার বিনিময়ে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হাফিজুর রহমান চুন্নুর ছোট ভাই আবদুল হাইকে তার স্বামী এক লাখ টাকা দিয়েছিলেন। তবে এই লেনদেনের জন্য কোনো লিখিত প্রমাণ ছিল না।
নাজমার দাবি, স্বামীর মৃত্যুর পর তিনি ওই টাকা লেনদেনের লিখিত প্রমাণ চেয়ে কয়েকবার আবদুল হাইয়ের কাছে গিয়েছিলেন। এতে চুন্নু ও তার ভাই ক্ষুব্ধ হন। বৃষ্টির কারণে সড়কে কাদা থাকায় তারা চুন্নুর বাড়ির পাশ দিয়ে হেঁটে তাদের বাড়িতে যাতায়াত করতেন।
নাজমা বলেন, গত শুক্রবার চুন্নু ও তার ভাই জিসানকে তাদের ঘরে ডেকে নিয়ে মানিব্যাগ চুরির অভিযোগে বাঁশের লাঠি দিয়ে মারধর করেন। তার অভিযোগ, জমি বন্ধকের এক লাখ টাকা দেওয়ার লিখিত প্রমাণ চাওয়ায় তারা ক্ষুব্ধ হয়ে এই ঘটনা ঘটিয়েছেন।
কলাপাড়া উপজেলা হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডা. মাহবুবুর রহমান জানান, সকালে বাচ্চা ও তার মা হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তাদের শরীরে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে এবং আঘাতের স্থানে কালো দাগ হয়ে গিয়েছে। আমরা তাদের চিকিৎসা প্রদান করছি।
অভিযুক্ত হাফিজুর রহমান চুন্নু গণমাধ্যমকে বলেন, "ওই ছেলে চোর এবং এলাকায় সব জায়গায় চুরি করে বেড়ায়। সেদিন চুরি করার পর প্রশাসনকে বলেছি, তারা বলেছে দুই একটা ‘পিডান পুডান’ দিয়ে ছেড়ে দিন।"
ওর মাকে কেন মারধর করা হয়েছে—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, "ওরা এলাকার জাত চোর, সবাই জানে। আর আমরাও মানবিক, ওর মা সম্পর্কে আমার ভাগ্নি হয়। ওর মাকে বলেছি পোলা ঢাকা পাঠাইয়া দিতে।" এই বলে তিনি ফোন কেটে দেন।
কলাপাড়া থানার ওসি মো. নজরুল ইসলাম জানান, "এরকম কোনো বিষয়ে আমাকে জানানো হয়নি এবং এরকম অপেশাদার কথা আমরা বলিনি।"
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন