মঙ্গলবার, ১ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৪:০৭ পি.এম
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মন্তব্য করেছেন, দেশের গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা দীর্ঘ সংগ্রামের পর সম্ভব হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, গণতন্ত্রের জন্য চলমান আন্দোলন-সংগ্রামে দলের অনেক নেতা-কর্মী গুম ও হত্যার শিকার হয়েছেন এবং প্রায় ৪০ লাখ নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে ইন্টার-পার্লামেন্টারি ইউনিয়নের (আইপিইউ) সেক্রেটারি আন্দা ফিলিপের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতের সময় প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
সাক্ষাৎকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বের ভূয়সী প্রশংসা করেন আন্দা ফিলিপ। তিনি মন্তব্য করেন, প্রধানমন্ত্রীর নিয়মিত জাতীয় সংসদ অধিবেশনে অংশগ্রহণ সংসদীয় গণতন্ত্রের প্রতি তার দৃঢ় অঙ্গীকারের শক্তিশালী বার্তা বহন করে।
এ সময় তারেক রহমান বলেন, বিএনপি শুধু বহুদলীয় গণতন্ত্রই ফিরিয়ে আনেনি, বরং সংসদীয় গণতন্ত্রও এ দলের হাত ধরে এসেছে। বর্তমান সরকার প্রতিটি নাগরিকের সাংবিধানিক অধিকার রক্ষা এবং জনগণের প্রয়োজনীয় সেবা নিশ্চিত করতে কাজ করছে।
তিনি বলেন, "আমরা অত্যন্ত আনন্দিত যে দীর্ঘ সংগ্রামের পর দেশে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে পেরেছি। গণতন্ত্রের জন্য আমরা দীর্ঘদিন ধরে সংগ্রাম করেছি।"
তিনি আরও বলেন, "আমাদের দলের অসংখ্য নেতা-কর্মী গুম ও হত্যার শিকার হয়েছেন এবং প্রায় ৪০ লাখ নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়েছে। অবশেষে গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের মধ্য দিয়ে আমরা দেশে গণতান্ত্রিক ধারাকে সুগম করতে পেরেছি।"
প্রধানমন্ত্রী বলেন, "বিএনপি শুধু বহুদলীয় গণতন্ত্রই ফিরিয়ে আনেনি, সংসদীয় গণতন্ত্রও এ দলের হাত ধরে এসেছে। আমাদের সামনে এখনও কিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছে। তবে আমরা আশাবাদী এবং গণতন্ত্রের প্রতি দৃঢ়ভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। গণতন্ত্র নিয়ে মানুষের প্রত্যাশা অনেক।"
তিনি বলেন, "আমরা বিশ্বাস করি, একটি কার্যকর ও শক্তিশালী গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার মাধ্যমে দেশের টেকসই অগ্রগতি ও উন্নয়ন নিশ্চিত করা সম্ভব।" তার সরকার প্রতিটি নাগরিকের সাংবিধানিক অধিকার রক্ষা এবং জনগণের প্রয়োজনীয় সেবা নিশ্চিত করতে কাজ করছে।
আইপিইউ সেক্রেটারি জানান, তিনি বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহার পর্যালোচনা করেছেন। ইশতেহারে শিক্ষা খাতে গৃহীত বিভিন্ন উদ্যোগ এবং কমিউনিটিভিত্তিক কর্মসূচির প্রশংসা করেন তিনি।
বাংলাদেশের সংসদীয় গণতন্ত্রের অগ্রযাত্রার প্রশংসা করে আন্দা ফিলিপ বলেন, এ ধারা অব্যাহত থাকলে জনগণের মধ্যে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ও গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার প্রতি আস্থা আরও শক্তিশালী হবে।
আন্দা ফিলিপ আরও বলেন, আইপিইউ বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের সঙ্গে অভিজ্ঞতা বিনিময় ও সহযোগিতা আরও জোরদার করতে আগ্রহী।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, তানজানিয়ায় অনুষ্ঠেয় আইপিইউর ১৫৩তম সম্মেলনে বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের স্পিকার অংশ নিচ্ছেন। তার অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে আইপিইউর সঙ্গে বাংলাদেশের সংসদের সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হবে।
গণতন্ত্রকে আরও কার্যকর ও টেকসই করতে নাগরিক সচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন আইপিইউ সেক্রেটারি।
সাক্ষাতে নারীর ক্ষমতায়নের বিষয়টিও গুরুত্ব পায়। তরুণ ও নারী সংসদ সদস্যদের সঙ্গে বৈঠকের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে আন্দা ফিলিপ বলেন, তারা অত্যন্ত উদ্যমী ও আগ্রহী।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, নারীর ক্ষমতায়ন তার সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। নারীদের জন্য অনার্স পর্যায় পর্যন্ত বিনামূল্যে শিক্ষা এবং নারী শিক্ষার্থীর জন্য উপবৃত্তি চালুর পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।
এ ছাড়া তারেক রহমান বলেন, ফ্যামিলি কার্ড প্রকল্পের অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য হলো নারীদের আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী করা এবং পরিবারে সিদ্ধান্ত গ্রহণে তাদের অংশগ্রহণ বাড়ানো। সাক্ষাৎকালে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-১ হুমায়ুন কবির এবং পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-২ শামা ওবায়েদ ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ মন্তব্য করেছেন যে, রাজনৈতিক চাপ তৈরির জন্য পানি কোনোভাবেই ব্যবহার করা উচিত নয়। তিনি উল্লেখ করেন, পানি এই অঞ্চলের মানুষের জীবন ও ভবিষ্যতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে পানিকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা উচিত নয়।
এটি তিনি কিরগিজস্তানের রাজধানী বিশকেকে সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশনের (এসসিও) রাষ্ট্রপ্রধানদের বৈঠকে বক্তব্য দেওয়ার সময় বলেন।
শাহবাজ শরিফ আরও বলেন, আন্তর্জাতিক চুক্তিগুলোকে অবশ্যই তাদের মূল উদ্দেশ্য ও শর্ত অনুযায়ী সম্পূর্ণভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে। তিনি বলেন, “রাজনৈতিক উদ্দেশ্য বা চাপ প্রয়োগের জন্য পানিকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা অগ্রহণযোগ্য।” পানি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জীবন ও নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সিন্ধু পানি চুক্তি নিয়ে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে শাহবাজ শরিফ এই মন্তব্য করেছেন।
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী বলেন, টেকসই শান্তি ও আঞ্চলিক সহযোগিতা ছাড়া দক্ষিণ এশিয়া তার সম্ভাবনাকে পুরোপুরি কাজে লাগাতে পারবে না। তিনি বলেন, “পানি আমাদের অঞ্চলের জীবনধারা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জীবনের নিশ্চয়তা।”
আন্তর্জাতিক চুক্তিগুলোকে সম্মান করা এবং নির্ধারিত শর্ত অনুযায়ী সেগুলো বাস্তবায়নের ওপরও তিনি জোর দেন। তার মতে, অভিন্ন পানিসম্পদ নিয়ে কোনো বিরোধ দেখা দিলে আন্তর্জাতিক আইন ও প্রচলিত ব্যবস্থার মাধ্যমে তার সমাধান করা উচিত।
এ সময় তিনি তুরস্ক ও সৌদি আরবের সঙ্গে সম্প্রতি স্বাক্ষরিত মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি নিয়েও আলোচনা করেন। শাহবাজ শরিফ স্পষ্ট করেন যে, মক্কা চুক্তি কোনো নির্দিষ্ট দেশের বিরুদ্ধে নয়।
তিনি বলেন, পাকিস্তান বহুপক্ষীয় ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করা এবং শান্তিপূর্ণভাবে বিরোধ মীমাংসার পক্ষে। সম্প্রতি আঞ্চলিক সংকটের সময় উত্তেজনা কমাতে পাকিস্তান কার্যকর ভূমিকা রেখেছে বলেও দাবি করেন তিনি। তার ভাষ্য, পাকিস্তানের কূটনৈতিক প্রচেষ্টার ফলে ইসলামাবাদে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে, যা আঞ্চলিক উত্তেজনা কমানোর ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
শাহবাজ বলেন, পাকিস্তান সব বিরোধ শান্তিপূর্ণভাবে সমাধান এবং আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলায় বিশ্বাসী। আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতার সঙ্গে জড়িত চুক্তি ও প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবে কার্যকর করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়েরও দায়িত্ব রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, সাম্প্রতিক বিভিন্ন সংকট দেখিয়েছে যে নিরাপদ জ্বালানি করিডোর এবং আঞ্চলিক সহযোগিতা আরও জোরদার করা জরুরি।
তথ্যসূত্র: সামা টিভি
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
বাংলা চলচ্চিত্রের প্রখ্যাত নায়ক সালমান শাহর মৃত্যুর প্রায় তিন দশক অতিক্রান্ত হলেও, তার মৃত্যু সংক্রান্ত রহস্য, আলোচনা এবং বিতর্ক থামেনি। এই বিতর্ককে নতুন করে উসকে দিয়েছে একটি বই, যা প্রকাশের পর অল্প সময়ের মধ্যেই আদালতের নির্দেশে নিষিদ্ধ হয়ে যায়।
‘সালমান শাহ, নক্ষত্রের আত্মহত্যা’ শিরোনামের বইটি সাংবাদিক রবি আরমান লিখেছেন। ১৯৯৭ সালে প্রকাশিত এই বইয়ে সালমান শাহর মৃত্যুকে আত্মহত্যা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এই বিষয়টি বইটির বিরুদ্ধে তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি করে।
বইটি প্রকাশের পর সালমান শাহর মা নীলা চৌধুরী এর বিষয়বস্তু নিয়ে আপত্তি জানান। তিনি অভিযোগ করেন, বইটিতে সালমান শাহর মৃত্যু সম্পর্কে অসত্য এবং মানহানিকর তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। এ কারণে তিনি লেখক ও প্রকাশকের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করেন।
মামলার প্রেক্ষিতে আদালত বইটির বিক্রি ও বিতরণ বন্ধের নির্দেশ দেন। পাশাপাশি বাজারে থাকা কপিগুলো বাজেয়াপ্ত করার নির্দেশও দেওয়া হয়। এর ফলে প্রকাশের অল্প সময়ের মধ্যে বইটি নিষিদ্ধ হয়ে দুর্লভ গ্রন্থে পরিণত হয়।
একজন তৎকালীন জ্যেষ্ঠ বিনোদন সাংবাদিকের মতে, বইটিতে সালমান শাহর মৃত্যুর ক্ষেত্রে ‘আত্মহত্যা’ শব্দটি ব্যবহারের কারণেই পরিবারের পক্ষ থেকে সবচেয়ে বেশি আপত্তি ওঠে। কারণ সালমান শাহর মা বরাবরই দাবি করে আসছেন যে, তার ছেলেকে হত্যা করা হয়েছিল।
বইটির প্রচ্ছদের পেছনের লেখায় সালমান শাহকে বাংলা চলচ্চিত্রের আকাশে উদিত এক উজ্জ্বল নক্ষত্র হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। সেখানে তার অকালমৃত্যুর বেদনা এবং মৃত্যু ঘিরে রহস্যের বিষয়টিও উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রকাশের সময় বইটির প্রচারণায় বলা হয়েছিল, এতে সালমান শাহর ব্যক্তিজীবনের নানা অজানা অধ্যায়ের পাশাপাশি সে সময়ের ঢাকাই চলচ্চিত্র অঙ্গনের বিভিন্ন ঘটনা উঠে এসেছে। ফলে বইটি নিয়ে পাঠক ও চলচ্চিত্রপ্রেমীদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ সৃষ্টি হয়েছিল।
কিন্তু আদালতের নিষেধাজ্ঞার কারণে বইটির স্বাভাবিক বিপণন সম্ভব হয়নি। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এর কপি বিরল হয়ে ওঠে। তবুও সালমান শাহর মৃত্যু রহস্য নিয়ে মানুষের আগ্রহ অব্যাহত থাকায় বইটিকে ঘিরে কৌতূহল আজও রয়ে গেছে।
সালমান শাহর মৃত্যুর এত বছর পরেও তার মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিয়ে আলোচনা থামেনি। সেই দীর্ঘ বিতর্কের ইতিহাসে ‘সালমান শাহ, নক্ষত্রের আত্মহত্যা’ বইটি এখনো একটি আলোচিত ও বিতর্কিত অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হয়।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : গত সপ্তাহে হিমালয় অঞ্চলে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ বন্যার কারণে প্রাণহানির ঘটনার প্রেক্ষাপটে নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ মন্তব্য করেছেন যে, এটি কোনো ‘সাধারণ বন্যা’ নয়, বরং জলবায়ু পরিবর্তনের ফলস্বরূপ এই বিপর্যয় ঘটেছে।
তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য আহ্বান জানিয়েছেন।
এই খবরটি বার্তা সংস্থা এএফপি’র মাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।
চীন-নেপাল সীমান্তে একটি হিমবাহ ধসে বরফশীতল পানি ও ধ্বংসাবশেষের বিশাল ঢল নেমে এসেছে। এই ঘটনায় অন্তত ৯৩৯ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং প্রায় ৪ হাজার ৫০০ মানুষ নিখোঁজ রয়েছে। কাঠমান্ডু জানিয়েছে, দুর্যোগের পর পুনর্গঠনে ‘কয়েক বিলিয়ন ডলার’ ব্যয় হতে পারে।
সোমবার রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ একটি পোস্টে উল্লেখ করেন, ‘রাসুয়া এলাকায় ভোতে কোশি নদীর বন্যা কোনো সাধারণ বন্যা ছিল না।’
তিনি আরও বলেন, ‘হিমালয় অঞ্চলে তুষার ও বরফের বিশাল স্তর ধসে পড়ার ফলে এই দুর্যোগের সৃষ্টি হয়েছে। এটি ছিল এ অঞ্চলের ভয়াবহ বড় প্রাকৃতিক দুর্যোগ।’
হিমবাহ ধসের সঠিক কারণ এখনো স্পষ্ট নয়। তবে বিজ্ঞানীরা উল্লেখ করেছেন যে, বিশ্বজুড়ে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে হিমবাহ দ্রুত গলে যাচ্ছে, যার ফলে এ ধরনের দুর্যোগের ঝুঁকি বাড়ছে।
বিজ্ঞানীদের মতে, বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে বিশ্বের সর্বোচ্চ পর্বতমালা হিমালয়ের বরফও আগের তুলনায় দ্রুত গলছে।
শাহ বলেন, ‘এই ঘটনা দেখিয়ে দিচ্ছে যে জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে হিমালয় অঞ্চলে আমরা যেসব ঝুঁকির মুখোমুখি হচ্ছি, সেগুলোও বাড়ছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘তাই এই অঞ্চলের প্রতি আমাদের সতর্ক নজর রাখতে হবে।’
নেপালের প্রায় ৩ কোটি মানুষের মধ্যে অধিকাংশই গ্রামাঞ্চলে বসবাস করেন। শিল্পোন্নত ও ধনী দেশগুলোর বিপুল কার্বন নিঃসরণের তুলনায় বৈশ্বিক উষ্ণায়নের জন্য নেপালের অবদান খুবই সামান্য। কিন্তু জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাবের বড় একটি অংশ দেশটিকে মোকাবিলা করতে হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী শাহ বলেন, আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নেপালের এ বিষয়টিকে আরও জোরালোভাবে তুলে ধরা উচিত।
তিনি বলেন, ‘জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে আমরা যেসব দুর্যোগের মুখোমুখি হচ্ছি, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে জোরালোভাবে আমাদের দাবি তুলে ধরার এখনই সময়।’
বৃহত্তর হিমালয় ও হিন্দুকুশ পর্বতমালা থেকে নেমে আসা হিমবাহের পানি পাহাড়ি অঞ্চলের প্রায় ২৪ কোটি মানুষের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পানির উৎস। একই পানি নিচের দক্ষিণ এশিয়া ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার নদী অববাহিকায় বসবাসকারী আরও প্রায় ১৬৫ কোটি মানুষের জীবন ও জীবিকার সঙ্গে জড়িত।
জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস ২০২৩ সালে নেপাল সফরের সময় সতর্ক করে বলেছিলেন, হিমালয় অঞ্চলে হিমবাহ দ্রুত গলে যাচ্ছে এবং ‘পৃথিবীর ছাদ ধসে পড়ছে’।
বুধবারের ভয়াবহ দুর্যোগের পর জাতিসংঘের জলবায়ুবিষয়ক প্রধান সাইমন স্টিয়েল মন্তব্য করেন, এই ঘটনা ‘পাহাড়ি পরিবেশ কতটা নাজুক হতে পারে, তার এক ভয়াবহ স্মারক’।
এদিকে, বড় ধরনের এই দুর্যোগ মোকাবিলায় নেপালের সম্পদ সীমিত থাকায় দেশটির অর্থনীতি ইতোমধ্যেই চাপের মুখে রয়েছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রতিষ্ঠান অ্যানথ্রপিক একটি স্টার্টআপ-এর সঙ্গে ৩৫ বিলিয়ন ডলারের একটি চুক্তি সম্পন্ন করেছে, যা যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক এবং এনভিডিয়ার সমর্থনপুষ্ট।
এই চুক্তি অ্যানথ্রপিকের জন্য একটি নতুন সংযোজন, যা উন্নত কম্পিউটিং সক্ষমতার জন্য তীব্র প্রতিযোগিতার মধ্যে রয়েছে।
এএফপি সংবাদ সংস্থার বরাত দিয়ে জানা যায়, সান ফ্রান্সিসকোভিত্তিক এআই প্রতিষ্ঠানটি ল্যামডার সঙ্গে ছয় বছরের চুক্তি করেছে। ল্যামডা ক্যালিফোর্নিয়ার সান হোসে থেকে ক্লাউড কম্পিউটিং সেবা প্রদান করে।
গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, বিটকয়েন মাইনিং ও ডেটা সেন্টার নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান হাট ৮ যে ডেটা সেন্টার নির্মাণ করছে, সেখানে ল্যামডা কম্পিউটিং সুবিধা পাওয়ার সুযোগ নিশ্চিত করবে।
অ্যানথ্রপিক টেক্সাসে হাট ৮-এর নির্মাণাধীন একটি ডেটা সেন্টার থেকে কম্পিউটিং সুবিধা গ্রহণ করবে।
ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল সোমবার জানিয়েছে, অ্যানথ্রপিক এবং ল্যামডা—দুই প্রতিষ্ঠানেই বিনিয়োগকারী এনভিডিয়া হাট ৮-এর কাছ থেকে ডেটা সেন্টারটি লিজ নেবে।
এরপর ল্যামডা ওই ডেটা সেন্টার ব্যবহারের জন্য এনভিডিয়াকে একটি অপ্রকাশিত অর্থ পরিশোধ করবে।
সম্প্রতি অ্যানথ্রপিক লন্ডনভিত্তিক ক্লাউড সেবা প্রতিষ্ঠান এনস্কেলের সঙ্গে ছয় বছরের একটি চুক্তি সম্পন্ন করেছে।
এএফপির একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে যে ৪৫ বিলিয়ন ডলারের ওই চুক্তির আওতায় অ্যানথ্রপিক পশ্চিম ভার্জিনিয়ায় এনস্কেলের একটি স্থাপনায় কম্পিউটিং সক্ষমতা পাবে।
শুধুমাত্র চলতি বছরেই অ্যানথ্রপিক কমপক্ষে ১৩৫ বিলিয়ন ডলারের বিভিন্ন কম্পিউটিং চুক্তি সম্পন্ন করেছে।
গ্রাহক আকর্ষণ ও আয় বৃদ্ধির লক্ষ্যে অ্যানথ্রপিকের সঙ্গে এআই প্রতিষ্ঠান ওপেনএআই’র মধ্যে তীব্র প্রতিযোগিতা চলছে। উভয় প্রতিষ্ঠানই শেয়ারবাজারে প্রাথমিক গণপ্রস্তাব (আইপিও) ছাড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে।
গত কয়েক বছরে এআই মডেল নির্মাতাদের মধ্যে গ্রাহক এবং কম্পিউটিং সক্ষমতা পাওয়ার জন্য প্রতিযোগিতা তীব্র হয়েছে, যার ফলে চিপ এবং উন্নত কম্পিউটিং শক্তির চাহিদা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
এদিকে, এই বাড়তি চাহিদার কারণে ভোক্তা ইলেকট্রনিকসসহ বিভিন্ন খাতে চিপ সরবরাহের বৈশ্বিক ব্যবস্থার ওপর চাপ সৃষ্টি হয়েছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ