ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

‘জেলে গেলেও পরোয়া নেই’, শিক্ষিকাকে গুলির পর ৬ বছরের শিশুর মন্তব্য


‘জেলে গেলেও পরোয়া নেই’, শিক্ষিকাকে গুলির পর ৬ বছরের শিশুর মন্তব্য

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়ায় ছয় বছর বয়সী এক শিশুর শিক্ষিকাকে গুলি করার ঘটনায় পুলিশ কর্মকর্তার দেহে লাগানো ক্যামেরায় ধারণ করা ভিডিও সম্প্রতি প্রকাশিত হয়েছে। ভিডিওতে দেখা যায়, গুলি চালানোর পর শিশুটি পুলিশ কর্মকর্তাদের উদ্দেশে গালাগাল করতে থাকে এবং "জেলে গেলেও আমার পরোয়া নেই" বলে মন্তব্য করে। ২০২৩ সালের ওই ঘটনার পর স্কুল কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়ে চলা আইনি প্রক্রিয়ায় ভিডিওটি গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছিল।

২০২৩ সালের ৬ জানুয়ারি ভার্জিনিয়ার নিউপোর্ট নিউজ শহরের রিচনেক প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এই ঘটনা ঘটে। প্রথম শ্রেণির ছয় বছর বয়সী শিশুটি তার শিক্ষিকা অ্যাবি জোয়ার্নারকে গুলি করে। গুলিটি শিক্ষিকার হাত ভেদ করে বুকে গিয়ে আটকে যায়। গুরুতর আহত হলেও তিনি প্রাণে বেঁচে যান। গুলির পর শিক্ষিকা ও শ্রেণিকক্ষে উপস্থিত ১৬ শিক্ষার্থী বাইরে চলে যায়।

আদালতের নথিতে শিশুটিকে জে.টি. হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম ভার্জিনিয়ান-পাইলটের প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায়, গুলির ঘটনার পর পুলিশ কর্মকর্তারা শ্রেণিকক্ষে প্রবেশ করেন। এ সময় পাঠদানে সহায়তাকারী বিশেষজ্ঞ অ্যামি কোভাক তাদের জানান, শিশুটি স্বীকার করেছে যে তার কাছে একটি গুলি ছিল। তিনি আরও বলেন, শিশুটির কাছে অস্ত্র থাকার আশঙ্কার কথা আগে সহকারী প্রধান শিক্ষক ইবনি পার্কারকে জানিয়েছিলেন।

আরও পড়ুন: ফ্লোরিডার মহাসড়কে পাঁচ গাড়ির সংঘর্ষে অন্তঃসত্ত্বা নারী ও তার সন্তান নিহত

ভিডিওতে কোভাককে বলতে শোনা যায়, গুলির শব্দ শোনার পর তিনি জরুরি নম্বরে ফোন করেছিলেন। পরে করিডর দিয়ে গিয়ে শিক্ষিকাকে রক্তাক্ত অবস্থায় দেখতে পান। তিনি জানান, শিশুটির জন্য বিশেষ সময়সূচিতে ক্লাসের ব্যবস্থা ছিল এবং মাকে সঙ্গে ছাড়া সেটিই ছিল তার স্কুলে উপস্থিতির প্রথম সপ্তাহ।

পুলিশ কর্মকর্তারা শিশুটির কাছে অস্ত্র সম্পর্কে জানতে চাইলে সে জানায়, বন্দুকটি তার মায়ের কাছে ছিল এবং সে মায়ের কাছ থেকেই সেটি চুরি করেছে। শিশুটি আরও জানায়, গুলিতে সে নিজে আহত হয়নি। কোভাক পুলিশকে বলেন, শিশুটির হাতে গুলির অবশিষ্টাংশের চিহ্ন ছিল।

ভিডিওতে শিশুটিকে পুলিশ কর্মকর্তাদের উদ্দেশে গালাগাল করতে শোনা যায়। একপর্যায়ে সে বলে, "তোমরা যদি আমাকে ধরতে চাও, তাহলে এসে ধরো।" পরে সে কোভাককে আঘাত করে এবং পুলিশ কর্মকর্তারা তাকে শ্রেণিকক্ষ থেকে নিয়ে যান।

ঘটনার পর শিক্ষিকা অ্যাবি জোয়ার্নার স্কুলের সহকারী প্রধান শিক্ষক ইবনি পার্কারের বিরুদ্ধে দেওয়ানি মামলা করেন। অভিযোগে বলা হয়, শিশুটির কাছে বন্দুক থাকার বিষয়ে একাধিকবার সতর্ক করা হলেও পার্কার যথাযথ ব্যবস্থা নেননি। গত বছরের নভেম্বরে মামলায় জোয়ার্নারের পক্ষে ১ কোটি ডলারের ক্ষতিপূরণ নির্ধারণ করেন জুরি বোর্ড।

আরও পড়ুন: মধ্যপ্রাচ্যে ইরান আতঙ্ক, তিন দেশে যুক্তরাষ্ট্রের সতর্কবার্তা

অন্যদিকে, দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে পার্কারের বিরুদ্ধে গুরুতর অপরাধের আটটি অভিযোগ আনা হয়েছিল। চলতি বছরের মে মাসে তার ফৌজদারি মামলার শুনানিতে ভিডিওটি প্রমাণ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়। পরে বিচারক ভিডিওটি সিলগালা করে দেন। তবে সংবাদমাধ্যমের আবেদনের পর জুনে ভিডিওটি প্রকাশের অনুমতি দেওয়া হয়, শর্ত ছিল শিশুটির মুখ ঝাপসা রাখতে হবে। গত ৬ অক্টোবর ভিডিওটি প্রকাশ করে ভার্জিনিয়ান-পাইলট ও ডেইলি প্রেস।

সংবাদমাধ্যমটি সম্পাদকীয় নোটে জানায়, ভিডিওর দৃশ্য ও বক্তব্য কষ্টদায়ক হলেও জনস্বার্থে এর সংবাদমূল্য রয়েছে। তাদের মতে, ভিডিওটি শিশুটির জীবন ও ঘটনার প্রেক্ষাপট সম্পর্কে ধারণা দেয় এবং ওই পরিস্থিতিতে বিদ্যালয়ের কর্মীদের কী ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হয়েছিল, তা তুলে ধরে।

শিশুটির মা দেজা নিকোল টেলর অস্ত্র কেনার সময় পটভূমি যাচাইয়ের ফর্মে মিথ্যা তথ্য দেওয়ার ঘটনায় ফেডারেল কারাগারে এবং শিশু অবহেলার ঘটনায় অঙ্গরাজ্যের কারাগারে সাজা ভোগ করেছেন। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে তিনি মুক্তি পান। সংবাদমাধ্যমটির তথ্য অনুযায়ী, শিশুটি বর্তমানে নিউপোর্ট নিউজে তার পরদাদার তত্ত্বাবধানে রয়েছে।

সূত্র: ইউএসএ টুডে

আরও পড়ুন: বিলবোর্ডের ছবিকে রাস্তা ভেবে সজোরে ট্রাক চালালেন চালক, অতঃপর প্রাণ হারালেন

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পর্তুগাল দলের থেকে নিষেধাজ্ঞার শঙ্কায় রোনালদো

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

শনিবার, ১০ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৪:৫৪ পি.এম


পর্তুগাল দলের থেকে নিষেধাজ্ঞার শঙ্কায় রোনালদো

জাতীয় দলের ক্যাম্প ত্যাগের ঘটনায় পর্তুগিজ মহাতারকা ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়ে আলোচনা চলছে। যদি নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ দীর্ঘ হয়, তাহলে আগামী মাসে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক ম্যাচে অংশগ্রহণ করা এই পাঁচবারের ব্যালন ডি’অরজয়ী ফুটবলারের জন্য অনিশ্চিত হয়ে পড়তে পারে।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ডেইলি মিররের এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, কোচ জর্জ জেসুসের সঙ্গে মতবিরোধের কারণে জাতীয় দলের ক্যাম্প ছেড়ে চলে যান রোনালদো। আন্তর্জাতিক বিরতির সময় খেলার ক্ষেত্রে এবং মাঠে তার ভূমিকা নিয়ে দুজনের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

ঘটনার পর নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করতে রোনালদো একটি বিবৃতি দেন। সেখানে তিনি নিজের ভুলের জন্য অনুশোচনা প্রকাশ করেন এবং ক্ষমাও চান। পর্তুগিজ ফুটবল ফেডারেশন যদি তার বিরুদ্ধে কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করে, সেক্ষেত্রে তা মেনে নেওয়ার কথাও জানান এই ফরোয়ার্ড।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ক্যাম্প ত্যাগের ঘটনায় ফেডারেশনের বিধি অনুসারে রোনালদোর বিরুদ্ধে সাময়িক নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হয়েছে। একই সঙ্গে, পুরো ঘটনার তদন্ত করছে একটি স্বাধীন কমিটি। তাদের মূল্যায়নের ভিত্তিতে পরবর্তী শাস্তির বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।

সম্ভাব্য নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ এক থেকে ছয় মাস পর্যন্ত হতে পারে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে চূড়ান্ত শাস্তির বিষয়ে এখনও কোনো সিদ্ধান্ত আসেনি।

নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ যদি এক মাসের বেশি হয়, তাহলে রোনালদোর খেলা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে পর্তুগালের আসন্ন উয়েফা নেশনস লিগের ম্যাচগুলোতে, যা ডেনমার্ক ও ওয়েলসের বিরুদ্ধে অনুষ্ঠিত হবে। দলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই তারকাকে ছাড়া পর্তুগালকে বড় চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হতে পারে।

তবে রোনালদোর সম্ভাব্য নিষেধাজ্ঞা নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত কী হবে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

যুব উন্নয়ন নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগে স্থগিত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

শনিবার, ১০ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৪:৫৪ পি.এম


যুব উন্নয়ন নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগে স্থগিত

যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা পদে নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ উঠেছে। কর্তৃপক্ষ পরীক্ষাটি স্থগিত করেছে, কারণ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরীক্ষা শুরুর কয়েক ঘণ্টা আগে প্রশ্নপত্র ছড়িয়ে পড়ার অভিযোগ পাওয়া যায়।

শনিবার (১০ অক্টোবর) সকাল ১১টায় রাজধানীর বিভিন্ন কেন্দ্রে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। তবে প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগের কারণে পরীক্ষা শুরুর ঠিক আগে নিয়োগ পরীক্ষা স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন) ও যুগ্মসচিব ডি এম আতিকুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এক পরীক্ষার্থী জানান, নির্ধারিত সময়ে তাঁরা পরীক্ষাকেন্দ্রে প্রবেশ করেন এবং তাঁদের ওএমআর শিটও দেওয়া হয়। কিন্তু সকাল ১০টা ৪৫ মিনিটে প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগের কারণে পরীক্ষা স্থগিতের ঘোষণা দেওয়া হয়।

যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা (১১তম গ্রেড) পদে ২৪২ জন নিয়োগের জন্য গত ১৭ মে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছিল। সারা দেশ থেকে তিন লাখেরও বেশি প্রার্থী এ নিয়োগ পরীক্ষায় অংশ নিতে আবেদন করেন। পরীক্ষার আয়োজনের জন্য রাজধানীর প্রায় ১০০টি কেন্দ্র প্রস্তুত করা হয়েছিল।

প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগের পর পরীক্ষা স্থগিতের সিদ্ধান্ত চাকরিপ্রার্থীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। তবে স্থগিত পরীক্ষার পরবর্তী তারিখ সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

লুক্সেমবার্গের নাগরিকত্ব নিচ্ছেন আমেরিকানরা, ট্রাম্পের ভয়ের কারণে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শনিবার, ১০ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৪:৫৫ পি.এম


লুক্সেমবার্গের নাগরিকত্ব নিচ্ছেন আমেরিকানরা, ট্রাম্পের ভয়ের কারণে

যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও ভবিষ্যৎ সম্পর্কে অনিশ্চয়তার কারণে ইউরোপের ছোট দেশ লুক্সেমবার্গের নাগরিকত্ব গ্রহণে আগ্রহ বৃদ্ধি পাচ্ছে আমেরিকানদের। বিশেষত, যাদের পূর্বপুরুষদের লুক্সেমবার্গের সঙ্গে পারিবারিক সম্পর্ক রয়েছে, তারা বংশপরিচয়ের মাধ্যমে নাগরিকত্ব পাওয়ার চেষ্টা করছেন। অনেকের কাছে ইউরোপের নাগরিকত্ব এখন বিকল্প ভবিষ্যৎ গড়ার একটি উপায়।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউজউইকের একটি প্রতিবেদনে এই তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের ডেনভার শহরের ৩৫ বছর বয়সী ক্যারিস ক্যাসিডি তাদের মধ্যে একজন। ছোটবেলা থেকেই ইউরোপে যাওয়ার স্বপ্ন ছিল তার। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক বিভাজন, সামাজিক সুযোগের সীমাবদ্ধতা এবং জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে উদ্বেগ বেড়ে গেছে।

ক্যাসিডি বলেন, "যুক্তরাষ্ট্রে কাজ করে নিজের জীবন উন্নত করতে গেলেও অনেক সময় ঋণের বোঝা নিতে হয়, নয়তো বাসস্থান ও ব্যক্তিগত জীবনের নানা অভিজ্ঞতায় কাটছাঁট করতে হয়।" তার কাছে ইউরোপকে মনে হয়েছে একটু স্বস্তিতে নিজের মতো করে বাঁচার জায়গা।

পরে তিনি জানতে পারেন, তার পাঁচ প্রজন্ম আগের এক পূর্বপুরুষের জন্ম লুক্সেমবার্গে। অনলাইনে পারিবারিক ইতিহাস খুঁজতে গিয়ে তিনি জানতে পারেন, উনিশ শতকে তার কয়েকজন পূর্বপুরুষ লুক্সেমবার্গ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়েছিলেন। পরে তারা শিকাগো হয়ে মিনেসোটা, আইওয়া ও কানসাসে বসবাস করেন।

এই পারিবারিক সূত্র কাজে লাগিয়ে ক্যাসিডি লুক্সেমবার্গের নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করেন। দেশটির আইনে নির্দিষ্ট শর্তে পূর্বপুরুষের সূত্র ধরে নাগরিকত্ব পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। তার ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংগ্রহ করতে প্রায় এক বছর লেগেছিল। তবে নাগরিকত্ব পেতে ভাষা পরীক্ষা দেওয়া কিংবা দেশটিতে সশরীরে যাওয়ার প্রয়োজন হয়নি।

গত মার্চে নাগরিকত্ব পাওয়ার পর ক্যাসিডি যুক্তরাষ্ট্র ছেড়ে সুইডেনে চলে যান। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বিগ্ন ছিলেন তিনি। বর্তমানে লিঙ্গান্তরের প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যাওয়া ক্যাসিডি যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে এসে আবার ইউরোপে কোথায় স্থায়ী হবেন, তা নিয়ে অনিশ্চয়তায় রয়েছেন।

নাগরিকত্ব গ্রহণে নতুন রেকর্ড

ট্রাম্প দ্বিতীয়বার হোয়াইট হাউসে ফেরার পর লুক্সেমবার্গের নাগরিকত্ব নেওয়ার আগ্রহ আরও বেড়েছে। দেশটির জাতীয় নিবন্ধনের তথ্য অনুযায়ী, ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের প্রথম বছরে ৩ হাজার ৫৭৪ জন আমেরিকান লুক্সেমবার্গের নাগরিক হিসেবে নথিভুক্ত হন। দেশটিতে এ ধরনের হিসাব রাখা শুরুর পর এটিই ছিল সবচেয়ে বড় সংখ্যা।

তবে লুক্সেমবার্গের বিচার মন্ত্রণালয়ের হিসাবে, ওই বছরে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত ৬৫৭ জন আমেরিকান নতুন করে নাগরিকত্ব পেয়েছেন। দুই হিসাবের পার্থক্যের কারণ হলো, জাতীয় নিবন্ধনে অন্তর্ভুক্ত অনেকেই আইনের শর্ত অনুযায়ী আগে থেকেই দেশটির নাগরিক হিসেবে বিবেচিত ছিলেন। তাদের নাগরিকত্বের বিষয়টি পরে নথিভুক্ত হয়েছে।

বিচার মন্ত্রণালয়ের হিসাবে, ৬৫৭ জন স্বেচ্ছায় আবেদন করে স্বাভাবিকীকরণ, বিশেষ বিধান কিংবা পূর্বের নাগরিকত্ব পুনরুদ্ধারের মাধ্যমে নাগরিকত্ব পেয়েছেন। আগের বছরের তুলনায় এই সংখ্যা ৪০ শতাংশ বেশি।

পূর্বপুরুষের সূত্রে নাগরিকত্ব

যুক্তরাষ্ট্রের নেব্রাস্কায় জন্ম নেওয়া ড্যানিয়েল অ্যাটজও পারিবারিক সূত্রে লুক্সেমবার্গের নাগরিকত্ব পেয়েছেন। তার প্রপিতামহী মার্গারিট ক্রুখটেন লুক্সেমবার্গে জন্মেছিলেন। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর তিনি কানসাসে চলে যান।

লুক্সেমবার্গের নাগরিকত্ব পুনরুদ্ধারের সুযোগ কাজে লাগিয়ে অ্যাটজ ২০১৪ সালে নাগরিকত্ব পান। এর মাধ্যমে তিনি ইউরোপে নিজের হারিয়ে যাওয়া আত্মীয়দের খুঁজে পান এবং তাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তোলেন। তার ভাষায়, "এই নাগরিকত্ব তার জীবন পুরোপুরি বদলে দিয়েছে।"

২০০৮ সালে লুক্সেমবার্গের নাগরিকত্ব আইন সংশোধনের মাধ্যমে নির্দিষ্ট শর্তে পূর্বপুরুষের সূত্র ধরে নাগরিকত্ব ফিরে পাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়। পরে ২০১৭ সালে এ বিষয়ে আরেকটি আইন করা হয়। ওই আইনের আওতায় আবেদন করার সময়সীমা ছিল ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর।

বর্তমানে অ্যাটজ তার প্রতিষ্ঠিত নাগরিকত্ববিষয়ক পরামর্শমাধ্যমের মাধ্যমে অন্য আমেরিকানদেরও আবেদনপ্রক্রিয়ায় সহায়তা করছেন। তার ভাষ্য, ২০১৬ সালে ট্রাম্প প্রথমবার নির্বাচিত হওয়ার সময়ও নাগরিকত্বের আবেদনে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি দেখা গিয়েছিল। তবে সাম্প্রতিক সময়ে আগ্রহ আরও বেড়েছে।

অ্যাটজ জানান, ২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে তার প্রতিষ্ঠানের সেবা নেওয়ার আগ্রহ দ্রুত বাড়তে থাকে। গত বছর তাদের কর্মীর সংখ্যা দুই থেকে বেড়ে ১৫ জনে দাঁড়ায়। তার প্রতিষ্ঠান প্রায় ৯০০ আমেরিকানকে নাগরিকত্ব পাওয়ার প্রক্রিয়ায় সহায়তা করেছে। তবে তার হিসাব অনুযায়ী, লুক্সেমবার্গের নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করা আমেরিকানদের মোট সংখ্যার মাত্র ১৫ শতাংশের প্রতিনিধিত্ব করে তার প্রতিষ্ঠান।

তিনি আরও জানান, বর্তমানে তার সহায়তা নেওয়া অনেকের মধ্যে এলজিবিটিকিউ সম্প্রদায়ের মানুষ রয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ তাদের নাগরিকত্ব নেওয়ার আগ্রহ বাড়াচ্ছে।

নাগরিকত্ব নিচ্ছেন, তবে সবাই যাচ্ছেন না লুক্সেমবার্গে

লুক্সেমবার্গের নাগরিকত্ব নেওয়ার সংখ্যা বাড়লেও অধিকাংশ আমেরিকান দেশটিতে স্থায়ীভাবে বসবাস করতে যাচ্ছেন না। অনেকের কাছে ইউরোপের নাগরিকত্ব অনিশ্চিত ভবিষ্যতের জন্য বিকল্প ব্যবস্থা। আবার অনেকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলোতে বসবাস ও কাজের সুযোগ পাওয়ার আশায় নাগরিকত্ব নিচ্ছেন।

অ্যাটজের মতে, নাগরিকত্ব নেওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে ৫ শতাংশেরও কম লুক্সেমবার্গে স্থায়ীভাবে যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন। এর একটি কারণ দেশটির উচ্চ জীবনযাত্রার ব্যয়। ইউরোপীয় ইউনিয়নের গড়ের তুলনায় সেখানে ভোক্তাপণ্যের দাম প্রায় ৫১ শতাংশ বেশি। পাশাপাশি নতুনদের জন্য সব ধরনের চাকরির সুযোগও নেই।

অ্যাটজ জানান, তার অনেক গ্রাহক শেষ পর্যন্ত স্পেন, পর্তুগাল ও ফ্রান্সে বসবাসের সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন। ক্যাসিডিও লুক্সেমবার্গে থিতু হতে চান, তবে আর্থিক দিক থেকে সেটি তার জন্য কতটা সম্ভব, তা নিয়ে নিশ্চিত নন।

কেউ ছাড়ছেন মার্কিন নাগরিকত্ব, কেউ খুঁজছেন বিকল্প

একদিকে যুক্তরাষ্ট্রের অনেক নাগরিক ইউরোপীয় নাগরিকত্ব নেওয়ার চেষ্টা করছেন, অন্যদিকে বিদেশে বসবাসরত কিছু আমেরিকান মার্কিন নাগরিকত্ব ত্যাগ করছেন। গত দুই বছরে নাগরিকত্ব ত্যাগের সংখ্যাও বেড়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে ক্যাসিডি আপাতত মার্কিন নাগরিকত্ব ছাড়তে চান না। তার আশা, আগামী নির্বাচনের পর যুক্তরাষ্ট্রের পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে। তিনি বলেন, "অনেক খারাপ ঘটনা ঘটলেও পরিস্থিতি বদলে যাওয়ার এবং শেষ পর্যন্ত ভালো কিছু হওয়ার আশা তিনি ছাড়েননি।"

ট্রাম্পের মেয়াদের বাকি বছরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রে কী ঘটে, তা ভবিষ্যতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হবে বলেও মনে করেন ক্যাসিডি।

সূত্র: নিউজ উইক

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

হজ এজেন্সিকে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের জরুরি নির্দেশনা প্রকাশ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

শনিবার, ১০ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৪:৫৫ পি.এম


হজ এজেন্সিকে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের জরুরি নির্দেশনা প্রকাশ

আগামী বছরের হজে অংশগ্রহণের জন্য অনুমোদিত হজ এজেন্সিগুলোর জন্য ‘হজ মিশন ভিসা’ ইস্যু করার উদ্দেশ্যে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় জরুরি নির্দেশনা প্রদান করেছে। রবিবার (১১ অক্টোবর) এর মধ্যে প্রয়োজনীয় তথ্য ও ব্যাংক জমার মূল রসিদ দাখিল করতে বলা হয়েছে।

শুক্রবার (০৯ অক্টোবর) ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের হজ-১ শাখা থেকে একটি সরকারি নোটিশে এই তথ্য প্রকাশ করা হয়।

নোটিশে বলা হয়েছে, ২০২৭ সালের হজ কার্যক্রমের জন্য নিবন্ধিত ১০০ জন বা তার বেশি হজযাত্রী রয়েছে এমন ২৬০টি এজেন্সিকে ১টি করে মিশন ভিসা দেওয়া হবে। এছাড়া, নিবন্ধিত হজযাত্রী সংখ্যা ১০০ জনের কম হলেও ৮টি লিড এজেন্সি এবং ২টি মোনাজ্জেম এজেন্সিকে ১টি করে মোট ২৭০টি হজ মিশন ভিসা প্রদান করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, নির্ধারিত ছকে এজেন্সির নাম, লিড নম্বর, নিবন্ধিত হজযাত্রীর সংখ্যা, এজেন্সির মালিক/মোনাজ্জেম বা প্রতিনিধির নাম, পদবি, পাসপোর্ট নম্বর ও মোবাইল নম্বর পূরণ করতে হবে। আগামীকাল রোববারের মধ্যে নির্ধারিত নম্বরে (01921-467718) হোয়াটসঅ্যাপে সফটকপি এবং এজেন্সির নিজস্ব প্যাডে স্বাক্ষরিত হার্ডকপি দাখিল করতে হবে।

মিশন ভিসা প্রাপ্তির জন্য সৌদি হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয় কর্তৃক নির্ধারিত ভিসা ফি, ইন্স্যুরেন্স ফি, ইলেকট্রনিক সার্ভিস ফি, জমজম পানির ফি, লাগেজ পরিবহন ফি, তাবু ও মাশায়ের সার্ভিস ফিসহ অন্যান্য ফি জমা দিতে হবে। এসব ফি ধর্ম মন্ত্রণালয়ের অধীন সোনালী ব্যাংকের স্থানীয় কার্যালয় শাখার হিসাব নম্বর ০০২-০০০২৬৩০০০০৯০৮ (Sale Proceeds of Haj Deposit)-এ জমা দিতে হবে এবং জমার মূল রসিদ ঢাকার আশকোনাস্থ হজ অফিসে জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, বিমান ভাড়াসহ যাতায়াত খরচ এবং সৌদি আরবে থাকা-খাওয়ার যাবতীয় ব্যয়ভার সংশ্লিষ্ট মিশন ভিসাপ্রাপ্ত ব্যক্তি বা এজেন্সিকে বহন করতে হবে।

ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব মো. মনিরুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এই নির্দেশনার অনুলিপি হজ এজেন্সিজ অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (হাব)-এর সভাপতি ও মহাসচিব, আশকোনা হজ অফিসসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোতে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পাঠানো হয়েছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%