বৃহস্পতিবার, ১৭ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৯:২৬ পি.এম
আন্তর্জাতিক অণুজীব দিবস-২০২৬ উপলক্ষে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের আমেরিকান সোসাইটি ফর মাইক্রোবায়োলজি স্টুডেন্ট চ্যাপ্টার কর্তৃক সচেতনতামূলক কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। ‘অণুজীব জানুন, নিরাপদ থাকুন’ এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে অনুষ্ঠিত এই কর্মসূচিতে শতাধিক স্থানীয় জনগণ অংশগ্রহণ করেন।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের নিকটবর্তী শ্রীরামপুরের তমালতলা এলাকায় স্থানীয় জনগণের মধ্যে সচেতনতা তৈরির উদ্দেশ্যে এই কর্মসূচি পরিচালনা করেন সংগঠনটির নেতৃবৃন্দ।
কর্মসূচির শুরুতে সংগঠনের সেক্রেটারি অভিনন্দন পাল সীমান্ত অণুজীবের পরিচয়, দৈনন্দিন জীবনে এর ভূমিকা ও গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা করেন। এরপর ভাইস প্রেসিডেন্ট হাফসা বিজ্ঞানভিত্তিক সচেতনতা বৃদ্ধি এবং জনস্বাস্থ্য-সম্পর্কিত সঠিক তথ্য সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার গুরুত্ব তুলে ধরেন।
অনুষ্ঠানে এলাকার বাসিন্দা ফজলুল হক গ্রামাঞ্চলের স্যানিটেশন ব্যবস্থার পরিবর্তন সম্পর্কে বক্তব্য দেন। তিনি উল্লেখ করেন, "প্রায় ১০ বছর আগে আমাদের এই নিশ্চিতপুর গ্রামের মানুষ কাঁচা পায়খানা ব্যবহার করতেন। কিন্তু এখন অনেকের বাড়িঘর অনুন্নত হলেও প্রত্যেক ঘরে বাথরুম রয়েছে।"
পরে সংগঠনের প্রেসিডেন্ট খন্দকার মেহেদী হাসান অণুজীব সম্পর্কে সঠিক জ্ঞান অর্জন, স্বাস্থ্যসচেতনতা বৃদ্ধি ও বিজ্ঞানমনস্ক সমাজ গঠনের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
কর্মসূচির পরবর্তী পর্বে অর্গানাইজিং সেক্রেটারি মুরশিদা পাওয়ারপয়েন্ট প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে ক্ষতিকর অণুজীব, সম্ভাব্য স্বাস্থ্যঝুঁকি ও সংক্রমণ প্রতিরোধের উপায় সম্পর্কে আলোচনা করেন। সহজ ও বোধগম্য ভাষায় উপস্থাপিত এই আলোচনার মাধ্যমে স্থানীয় জনগণের মধ্যে অণুজীব ও স্বাস্থ্যবিধি সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধির চেষ্টা করা হয়।
সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক অভিনন্দন পাল সীমান্ত গণমাধ্যমকে জানান, "এ কর্মসূচির মূল লক্ষ্য ছিল শিক্ষার্থীদের অর্জিত বৈজ্ঞানিক জ্ঞান কমিউনিটি পর্যায়ে ছড়িয়ে দেওয়া এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বাস্থ্যবিধি, স্যানিটেশন ও নিরাপদ জীবনযাপন সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি করা।" শতাধিক মানুষের অংশগ্রহণ কর্মসূচিটিকে একটি অর্থবহ জনসচেতনতামূলক উদ্যোগে পরিণত করেছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
রাঙ্গামাটিতে পুলিশের বিশেষ অভিযানে আটজনকে আটক করা হয়েছে, যাদের মধ্যে মাদক কারবারি, মাদকসেবী এবং ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি রয়েছেন। কলেজ গেইট এলাকার মাহাবুব আলমের কাছ থেকে ২০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় রাঙ্গামাটি শহরের বিভিন্ন স্থানে কোতয়ালী থানা পুলিশ এই বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেছে।
পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, রাঙামাটি পৌরসভার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে মো. মাহাবুব আলমকে আটক করা হয়। তাদের দাবি, মাহাবুব আলমের হেফাজত থেকে ২০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়েছে। এই ঘটনায় মাহাবুব আলমের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য উদ্ধারের অভিযোগে একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে।
এছাড়া, মাদক কারবারির অভিযোগে মো. মানিক উদ্দীন, মো. আকবর আলী, মো. জুয়েল এবং মো. সিদ্দিকুর বাবুকে আটক করা হয়েছে। অন্যদিকে, দাঙ্গা সংগঠনের অভিযোগে মো. মাসুদ রানাকে এবং মাদক সেবনের অভিযোগে মো. রাশেদকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
এছাড়া, সিআর গ্রেপ্তারি পরোয়ানামূলে মো. আবুল কালামকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
রাঙ্গামাটি কোতয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জসীম উদ্দিন জানিয়েছেন, রাঙ্গামাটি শহরে পরিচালিত এই বিশেষ অভিযানে আটজনকে আটক করা হয়েছে। তাদেরকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে সরকারি বরাদ্দের অর্থ যথাযথভাবে ব্যয় না করে আত্মসাৎ, ভুয়া ভাউচার তৈরি, শিক্ষকদের কাছ থেকে চাঁদা আদায় এবং বিভিন্নভাবে অর্থ উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগগুলি তদন্তের জন্য সংসদ সদস্যের কাছে লিখিত আবেদন করেছেন উপজেলার একদল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক।
অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, ভোলা-৪ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম নয়নের কাছে চরফ্যাশন উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে।
অভিযোগে বলা হয়েছে, আন্তঃইউনিয়ন ফুটবল টুর্নামেন্ট ২০২৫-২৬ এবং আন্তঃইউনিয়ন প্রাথমিক শিক্ষা পদক প্রতিযোগিতার জন্য ১ লাখ ৫৫ হাজার ও ৮৪ হাজার টাকা ইউনিয়ন পর্যায়ে প্রদান না করে ভুয়া ভাউচারের মাধ্যমে অর্থ উত্তোলন ও আত্মসাৎ করা হয়েছে।
এছাড়া, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ভোটকেন্দ্র হিসেবে বরাদ্দ পাওয়া ৪২টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জন্য ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা উত্তোলনের ক্ষেত্রে শিক্ষকদের হয়রানি করে বিদ্যালয়প্রতি প্রায় ৯ হাজার টাকা করে গ্রহণ এবং নির্বাচনের প্রায় চার মাস পর ওই অর্থ উত্তোলনের ঘটনাও ঘটেছে।
প্রতিবন্ধী শিশুদের ডিভাইস ক্রয়ের জন্য বরাদ্দকৃত ৯০ হাজার টাকা ভুয়া ভাউচারের মাধ্যমে উত্তোলন করে নেওয়া হয়েছে।
অভিযোগপত্রে ‘এডুকেশন ইন ইমার্জেন্সি’ খাতের বরাদ্দ নিয়েও বিস্তারিত অভিযোগ করা হয়েছে। এতে বলা হয়, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ১২টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বিদ্যালয়প্রতি ৩ লাখ টাকা এবং ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ৯টি বিদ্যালয়ের মধ্যে একটিতে ২ লাখ এবং আটটিতে ৩ লাখ টাকা করে বরাদ্দ দেওয়া হয়। এসব বরাদ্দের অর্থ ব্যয়ের ক্ষেত্রে অনিয়ম হয়েছে বলে অভিযোগকারীরা দাবি করেছেন।
এছাড়া, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে পুনরায় ২ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হলে বাস্তবে কোনো কাজ না করে ভাগ-বাঁটোয়ারার মাধ্যমে অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, একই অর্থবছরে কোনো কোনো বিদ্যালয়ে একাধিকবার ‘এডুকেশন ইন ইমার্জেন্সি’সহ বিভিন্ন খাতে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এমনকি একই ব্যক্তির মাধ্যমে একাধিকবার বরাদ্দ দেওয়ার অভিযোগও তোলা হয়েছে।
এছাড়া, প্রাক-প্রাথমিক খাতে বিদ্যালয়প্রতি বরাদ্দ করা ৭ হাজার ৫০০ টাকা থেকে ৫০০ টাকা করে চাঁদা নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।
কোনো কোনো বিদ্যালয়ে ওয়াই-ফাই না থাকা এবং নেট চালু না করার অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের কাছ থেকে যথাযথ প্রত্যয়ন গ্রহণ না করে কোম্পানির সঙ্গে যোগসাজশের মাধ্যমে ১৮ লাখ ১৫ হাজার ২০০ টাকা উত্তোলন করা হয়েছে।
অভিযোগপত্রে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, বিদ্যালয়ের কনটিনজেন্সি বই, পরিবহন, টিএ এবং বিভিন্ন দিবস পালনসহ বিভিন্ন খাতে বরাদ্দ করা অর্থ শিক্ষকদের ব্যক্তিগত/সংশ্লিষ্ট হিসাবে নিয়ে যথাযথভাবে টাকা প্রদান করা হয়নি। বাকি অর্থ নিজে চেকের মাধ্যমে উত্তোলন করেন।
এছাড়া, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের ৯৬ জন শিক্ষককে চিত্তবিনোদন ভাতা প্রদান না করে কালক্ষেপণ এবং শিক্ষকদের কাছ থেকে ৫০০ টাকা করে নেওয়ার অভিযোগও করা হয়েছে।
অভিযোগকারীদের দাবি, চরফ্যাশন উপজেলার মুজিবনগর ইউনিয়নের তিনটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আকস্মিক পরিদর্শন করে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমান শিক্ষকদের বেতন-ভাতা প্রায় দুই মাস বন্ধ রাখেন এবং শিক্ষকপ্রতি ৫ হাজার টাকা করে নেওয়ার পর বিল ছাড় করেন।
এছাড়া অভিযোগ রয়েছে, কর্মকর্তা মিজানুর রহমান ৭-৮ জন শিক্ষককে সঙ্গে নিয়ে প্রশিক্ষণ, সরকারি বরাদ্দ বণ্টন ও সরকারি বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা প্রদানের ক্ষেত্রে নিজের ইচ্ছামতো বণ্টন করেন। এবং বণ্টনের সময়ে শিক্ষকদের সঙ্গে সৌজন্যমূলক আচরণ করেন।
লিখিত অভিযোগে বলা হয়েছে, এসব অনিয়ম ও প্রশাসনিক প্রভাব খাটানোর কারণে উপজেলার প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর শিক্ষকরা বিভিন্নভাবে হয়রানির শিকার হচ্ছেন। এতে বিদ্যালয়গুলোর স্বাভাবিক প্রশাসনিক কার্যক্রম ও শিক্ষার কাঙ্ক্ষিত মান ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলেও অভিযোগকারীরা উল্লেখ করেছেন।
অভিযোগের বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত করে সত্যতা যাচাই এবং প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন শিক্ষকরা। অভিযোগপত্রের অনুলিপি প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর, বরিশাল বিভাগীয় কার্যালয়, জেলা প্রশাসক, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে পাঠানোর কথা উল্লেখ রয়েছে।
এ বিষয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমান বলেছেন, তারা যেসব অভিযোগ করেছেন, আমার সবগুলোর অফিস ডকুমেন্টস আছে। যথাযথ নিয়মে খরচ হয়েছে।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম জানান, আমার কাছে মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ আসেনি। যেখানে অভিযোগ করা হয়েছে, তারা তদন্ত করে দেখবে। আমার কাছে এলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
ওমানের রাজধানী মাস্কাটে হুতি বিদ্রোহীদের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার পর ওয়াশিংটন একটি গুরুত্বপূর্ণ সামরিক নীতি পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। মার্কিন প্রশাসন সৌদি আরবকে হুতিদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে দেওয়া সকল ধরনের সামরিক সহায়তা বন্ধ করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। এর আগে বুধবার একাধিক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে মার্কিন ও হুতি প্রতিনিধিদের মধ্যে সরাসরি আলোচনা হওয়ার খবর প্রকাশিত হয়।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, বৈঠকে হুতিরা যুক্তরাষ্ট্রকে আশ্বস্ত করেছে যে তারা লোহিত সাগরের কৌশলগত বাব এল-মান্দেব প্রণালিতে কোনো মার্কিন জাহাজে হামলা চালাবে না। এছাড়া, গত বছর যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে স্বাক্ষরিত যুদ্ধবিরতির শর্ত ভঙ্গের কোনো পরিকল্পনা তাদের নেই বলেও জানায় গোষ্ঠীটি। তবে হুতি সূত্র জানিয়েছে, তারা ওয়াশিংটনকে পরিষ্কার করেছে যে লোহিত সাগরে কেবল সৌদি সংশ্লিষ্ট জাহাজগুলোতে তাদের হামলা অব্যাহত থাকবে।
হুতিদের এই আশ্বাসের পর যুক্তরাষ্ট্র সৌদিকে সামরিক সহায়তা না দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের সঙ্গে চলমান অত্যন্ত ব্যয়বহুল যুদ্ধের কারণে যুক্তরাষ্ট্র আপাতত মধ্যপ্রাচ্যে নতুন কোনো সামরিক দ্বন্দ্বে জড়াতে চাইছে না। এছাড়া, ইরানের বিরুদ্ধে দীর্ঘ লড়াইয়ের ফলে মার্কিন বাহিনীর অস্ত্রের মজুতেও টান পড়েছে, যা ওয়াশিংটনকে এই চুক্তি ও সিদ্ধান্তে আসতে বাধ্য করেছে।
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের মার্চে হুতিদের আনুষ্ঠানিকভাবে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে ঘোষণা করেছিল ওয়াশিংটন। তবে এরপরও কৌশলগত প্রয়োজনে মার্কিন কর্মকর্তারা হুতিদের পাশাপাশি হামাস, হিজবুল্লাহ এবং ইরানি কর্তৃপক্ষের সঙ্গেও একাধিক সরাসরি বৈঠকে অংশ নিয়েছেন।
গার্ডিয়ান জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সহায়তা বন্ধ হওয়ার ফলে সৌদি আরবের ওপর এখন চরম কূটনৈতিক চাপ তৈরি হয়েছে। রিয়াদকে এখন হুতিদের সঙ্গে আলোচনা করে সমস্যার সমাধান করতে হবে, অথবা তুরস্ক ও পাকিস্তানকে যুক্ত করে নতুন কোনো সামরিক জোট গঠনের চেষ্টা করতে হবে।
এদিকে গত শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) এক ঝটিকা অভিযান চালিয়ে লোহিত সাগরের গুরুত্বপূর্ণ বন্দরনগরী মোখা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেয় হুতিরা। এর ফলে বাব এল-মান্দেব প্রণালিতে তাদের একক কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। ইরান যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর থেকে সৌদি আরব এই লোহিত সাগর দিয়েই বিশ্ববাজারে নিজেদের অপরিশোধিত তেল রপ্তানি করে আসছিল।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশ ব্যাংক ২০ হাজার কোটি টাকার একটি বিশেষ স্কিম চালু করেছে, যার উদ্দেশ্য হলো বন্ধ শিল্প ও সেবা খাতের প্রতিষ্ঠানগুলো পুনরায় কার্যকর করা। এই নতুন স্কিমের আওতায় গ্রাহক পর্যায়ে ঋণের সুদহার সর্বোচ্চ ৭ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। ঋণগ্রহীতাদের জন্য ছয় মাসের গ্রেস পিরিয়ডও রাখা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ-১ থেকে এ-সংক্রান্ত একটি সার্কুলার জারি করা হয়েছে।
সার্কুলারে উল্লেখ করা হয়েছে, ‘বন্ধ শিল্প ও সেবা খাত সহায়ক প্রাক-অর্থায়ন স্কিম’-এর আওতায় ব্যাংকগুলোকে অর্থায়নের মাধ্যমে বন্ধ শিল্প ও সেবা খাতের প্রতিষ্ঠান পুনরায় চালুর সুযোগ তৈরি করতে হবে। বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে ব্যাংকগুলোকে প্রাক-অর্থায়ন দেওয়া হবে।
নীতিমালা অনুযায়ী, স্কিমের আওতায় বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে নেওয়া প্রাক-অর্থায়নের বিপরীতে ব্যাংকগুলোকে ৪ শতাংশ হারে সুদ দিতে হবে। তবে, প্রাক-অর্থায়ন নেওয়ার পর প্রথম ছয় মাস এ সুদ পরিশোধ করতে হবে না। ছয় মাসের গ্রেস পিরিয়ড শেষ হওয়ার পর বাংলাদেশ ব্যাংককে ত্রৈমাসিক ভিত্তিতে সুদ পরিশোধ করতে হবে। প্রথম দুই ত্রৈমাসিকের বকেয়া সুদও পরিশোধ করতে হবে এ সময়।
অন্যদিকে, নতুন এ স্কিমের আওতায় ব্যাংকগুলো গ্রাহকদের যে ঋণ দেবে, তার সুদহার সর্বোচ্চ ৭ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। ঋণগ্রহীতাদের জন্যও ছয় মাসের গ্রেস পিরিয়ড রাখা হয়েছে। অর্থাৎ ঋণ বিতরণের পর প্রথম ছয় মাস গ্রাহকের কাছ থেকে সুদ আদায় করা যাবে না। ছয় মাস শেষ হওয়ার পর সুদ আদায় শুরু করতে হবে। এ ক্ষেত্রেও প্রথম দুই ত্রৈমাসিকের বকেয়া সুদ আদায়ের আওতায় থাকবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সার্কুলারে বলা হয়েছে, তহবিলের প্রাপ্যতা থাকা সাপেক্ষে স্কিমটির মেয়াদকালীন তিন বছরের মধ্যে যেকোনো সময়ে প্রাক-অর্থায়নের জন্য আবেদন করা যাবে। অর্থাৎ স্কিমের আওতায় সুবিধা নিতে আগ্রহী ব্যাংকগুলো তিন বছরের মধ্যে যেকোনো সময় বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে প্রাক-অর্থায়নের আবেদন করতে পারবে।
স্কিমের আওতায় দেওয়া অর্থ যথাযথভাবে ব্যবহার হচ্ছে কি না, ঋণ আদায় এবং সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের তদারকির ওপরও গুরুত্ব দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
নীতিমালা অনুযায়ী, ব্যাংকগুলোকে প্রাক-অর্থায়নের অর্থ নির্ধারিত কাজে ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে ঋণের ব্যবহার ও আদায় পরিস্থিতি তদারক করতে হবে। গ্রেস পিরিয়ড শেষ হওয়ার পর ব্যাংকগুলোকে নির্ধারিত নিয়মে বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে সুদ পরিশোধের হিসাব নিষ্পত্তি করতে হবে।
ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১-এর ৪৫ ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে এ নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। সার্কুলারে দেওয়া নির্দেশনা অবিলম্বে কার্যকর হবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ