প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
ওমানের রাজধানী মাস্কাটে হুতি বিদ্রোহীদের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার পর ওয়াশিংটন একটি গুরুত্বপূর্ণ সামরিক নীতি পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। মার্কিন প্রশাসন সৌদি আরবকে হুতিদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে দেওয়া সকল ধরনের সামরিক সহায়তা বন্ধ করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। এর আগে বুধবার একাধিক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে মার্কিন ও হুতি প্রতিনিধিদের মধ্যে সরাসরি আলোচনা হওয়ার খবর প্রকাশিত হয়।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, বৈঠকে হুতিরা যুক্তরাষ্ট্রকে আশ্বস্ত করেছে যে তারা লোহিত সাগরের কৌশলগত বাব এল-মান্দেব প্রণালিতে কোনো মার্কিন জাহাজে হামলা চালাবে না। এছাড়া, গত বছর যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে স্বাক্ষরিত যুদ্ধবিরতির শর্ত ভঙ্গের কোনো পরিকল্পনা তাদের নেই বলেও জানায় গোষ্ঠীটি। তবে হুতি সূত্র জানিয়েছে, তারা ওয়াশিংটনকে পরিষ্কার করেছে যে লোহিত সাগরে কেবল সৌদি সংশ্লিষ্ট জাহাজগুলোতে তাদের হামলা অব্যাহত থাকবে।
হুতিদের এই আশ্বাসের পর যুক্তরাষ্ট্র সৌদিকে সামরিক সহায়তা না দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের সঙ্গে চলমান অত্যন্ত ব্যয়বহুল যুদ্ধের কারণে যুক্তরাষ্ট্র আপাতত মধ্যপ্রাচ্যে নতুন কোনো সামরিক দ্বন্দ্বে জড়াতে চাইছে না। এছাড়া, ইরানের বিরুদ্ধে দীর্ঘ লড়াইয়ের ফলে মার্কিন বাহিনীর অস্ত্রের মজুতেও টান পড়েছে, যা ওয়াশিংটনকে এই চুক্তি ও সিদ্ধান্তে আসতে বাধ্য করেছে।
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের মার্চে হুতিদের আনুষ্ঠানিকভাবে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে ঘোষণা করেছিল ওয়াশিংটন। তবে এরপরও কৌশলগত প্রয়োজনে মার্কিন কর্মকর্তারা হুতিদের পাশাপাশি হামাস, হিজবুল্লাহ এবং ইরানি কর্তৃপক্ষের সঙ্গেও একাধিক সরাসরি বৈঠকে অংশ নিয়েছেন।
গার্ডিয়ান জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সহায়তা বন্ধ হওয়ার ফলে সৌদি আরবের ওপর এখন চরম কূটনৈতিক চাপ তৈরি হয়েছে। রিয়াদকে এখন হুতিদের সঙ্গে আলোচনা করে সমস্যার সমাধান করতে হবে, অথবা তুরস্ক ও পাকিস্তানকে যুক্ত করে নতুন কোনো সামরিক জোট গঠনের চেষ্টা করতে হবে।
এদিকে গত শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) এক ঝটিকা অভিযান চালিয়ে লোহিত সাগরের গুরুত্বপূর্ণ বন্দরনগরী মোখা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেয় হুতিরা। এর ফলে বাব এল-মান্দেব প্রণালিতে তাদের একক কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। ইরান যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর থেকে সৌদি আরব এই লোহিত সাগর দিয়েই বিশ্ববাজারে নিজেদের অপরিশোধিত তেল রপ্তানি করে আসছিল।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন