শুক্রবার, ৪ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৪:৪৪ পি.এম
জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলার ১২টি ইউনিয়নে মোট ৫১টি কমিউনিটি ক্লিনিক প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। সরকারের উদ্যোগে প্রান্তিক জনগণের মাঝে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়ার জন্য এই কমিউনিটি ক্লিনিকগুলো স্থাপন করা হয়েছে। ফলে, প্রান্তিক জনগণের দ্রুত চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করার জন্য বছরে ৩ থেকে ৪ বার ওষুধ সরবরাহ করা হয় এসব ক্লিনিকে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোপাইটর (ঈঐঈচ) সপ্তাহে ইচ্ছেমতো সময়ে ক্লিনিকে আসেন। তারা ক্লিনিক খোলেন এবং কখনো এক দুই ঘণ্টা চালু রাখেন। আবার কখনো তারা আসেনই না। এর ফলে সেবা নিতে আসা রোগীদের অনির্দিষ্ট সময় অপেক্ষা করতে হয় এবং পরে ফিরে যেতে হয়। এলাকাবাসীরা স্বাস্থ্যসেবার ক্ষেত্রে চরম অব্যবস্থাপনার শিকার হচ্ছেন।
৩ সেপ্টেম্বর সরেজমিনে মোহাম্মদপুর কমিউনিটি ক্লিনিকের সকাল ১০:১৫ মিনিটে গিয়ে দেখা যায়, ক্লিনিকের তালা বন্ধ ছিল। আবার ১:৫৩ মিনিটে ক্লিনিকের পাশে বাজারে (ঈঐঈচ) সাফিকুল ইসলামকে দেখা যায়। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ক্লিনিকটি তালাবদ্ধ অবস্থায় ছিল, এর কারণ সম্পর্কে তিনি কোনো সদোত্তর দিতে পারেননি। সাফিকুল ইসলাম কোনো উত্তর না দিয়ে ক্লিনিকে চলে যান। পরে ফিরে এসে জানান, "চা খাওয়ার জন্য গেছিলাম।" অফিসের সময় সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন, "নয়টা থেকে তিনটা।" আবার সকালে ক্লিনিকে আসার সময় সম্পর্কে তিনি জানান, "জানিনা, সময় দেখি নাই।" বুধবার গোয়ালের চর ইউনিয়নের চেয়ারম্যানের সঙ্গে কথা বললে তিনি বলেন, "খুব একটা না তবে মোটামুটি আসে।"
পলাবান্দা ইউনিয়নে তিনটি ক্লিনিক রয়েছে। এর মধ্যে দুইটি বন্ধ পাওয়া যায়। শুধুমাত্র উত্তর সিরাজাবাদ কমিউনিটি ক্লিনিক খোলা ছিল। সেখানে কর্মরত কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোপাইটর (ঈঐঈচ) জেসমিন জানান, তিনি প্রতিদিন অফিসে আসেন এবং চিকিৎসা সেবা দেন। তবে তিনি উল্লেখ করেন, ওষুধ অপ্রতুল। এ বিষয়ে পলবান্ধা ইউপির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান কমল বলেন, "পলাবান্দা ইউনিয়নের তিনটি কমিউনিটি ক্লিনিক রয়েছে। এসব ক্লিনিক বেশীরভাগ সময় বন্ধ থাকে। ইচ্ছে হলে সপ্তাহে কর্মরত কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোপাইটর (ঈঐঈচ) দুইচার দিন আসেন। আবার অনেকেই আসেন না। রোগীরা এলে বলেন, 'ওষুধ নাই', এভাবে চলছে ক্লিনিক।"
সরকার প্রতিটি ক্লিনিকে টাকা খরচ করলেও প্রান্তিক জনগণের পর্যাপ্ত সেবা নিশ্চিত হচ্ছে না। তদারকির অভাবে সিএইচসিপি, এইচএ, এফডব্লিউএ দায়সারা ভাবে দায়িত্ব পালন করছেন। প্রান্তিক জনগণের মাঝে স্বাস্থ্যসেবা ও প্রয়োজনীয় ওষুধ পৌঁছে দিতে সরকারের উদ্যোগে কমিউনিটি ক্লিনিক প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। চাহিদা অনুযায়ী বছরে ৩ থেকে ৪ বার ওষুধ সরবরাহ করা হলেও রোগীরা যথাযথ সেবা পাচ্ছেন না। কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোপাইটর (ঈঐঈচ) নিয়মিতভাবে অনুপস্থিত থাকায় এবং চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় ওষুধপত্র না থাকার কারণে এলাকাবাসী দিন দিন স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
মালমারার কমিউনিটি ক্লিনিকে যাওয়ার সময় অটোচালক জুয়েল শেখ বলেন, "কোথায় যাবেন?" মালমারা কমিউনিটি ক্লিনিকে গিয়ে জুয়েল শেখ জানান, "ওইখানে গিয়ে কি করবেন? সেখানকার (ঈঐঈচ) মাহফুজা বেগম অফিসে আসেন না। মাসে দেখি একদিন কি দুইদিন।"
কমিউনিটি ক্লিনিকের জমি দাতা নইমদ্দী চেয়ারম্যানের স্ত্রী সাযেদা বেগম জানান, "ওই মহিলা বারোটায় আসলে একটা চলে যায়। কেউ ওষুধ চাইলে ওষুধ দেয় না।" একই অভিযোগ ষাটউর্ধ্ব রাহেলা বেগম, সোনা মিয়া, অষ্টম শ্রেণীর সিয়ামও করেন। তারা সবাই বলেন, ক্লিনিকে গেলে কোনো ওষুধ পাওয়া যায় না।
সরকারি নিয়ম অনুযায়ী, ক্লিনিকের কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা ও সেবার মান নিশ্চিত করার জন্য ইউনিয়ন স্বাস্থ্য পরিদর্শকের নিয়মিত তদারকির কথা থাকলেও কমিউনিটি ক্লিনিকের ক্ষেত্রে তা অনুপস্থিত বলে মনে হচ্ছে। সিএইচসিপি, স্বাস্থ্য সহকারীর দায়িত্ব সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, স্বাস্থ্যসেবা প্রদানের ক্ষেত্রে এই অনিয়ম বন্ধ করতে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করা প্রয়োজন। এ বিষয়ে ইসলামপুরের হাসপাতালের প প কর্মকর্তা আবু তাহেরকে জিজ্ঞেস করলে তিনি জানান, "তদন্ত করে ব্যবস্থা নেব।"
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
নীলফামারী সোনালী ব্যাংক পিএলসির সাবেক অঞ্চল প্রধান ও তৎকালীন ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) মো. ওয়াহেদুন্নবীর বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাৎ, ক্ষমতার অপব্যবহার, অসদাচরণ এবং বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যান বরাবর একটি লিখিত অভিযোগের মাধ্যমে এসব অভিযোগের তদন্তের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, নীলফামারী প্রিন্সিপাল অফিসে প্রায় দুই বছর ছয় মাস দায়িত্ব পালনকালে তিনি ব্যাংকের অর্থ আত্মসাৎ, ক্ষমতার অপব্যবহার ও অসদাচরণসহ বিভিন্ন অনিয়মের সঙ্গে জড়িত ছিলেন।
অভিযোগপত্রে দেখা যায়, ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ তদন্তে তার বিরুদ্ধে ২ লাখ ৪৬ হাজার ২০০ টাকা অর্থ আত্মসাতের অভিযোগসহ বিভিন্ন অনিয়মের তথ্য উঠে এসেছে। এ ঘটনায় ব্যাংকের পক্ষ থেকেও বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে। নীলফামারী প্রিন্সিপাল অফিসের বিভিন্ন শাখার আসবাবপত্র কেনাকাটাকে কেন্দ্র করে অনিয়মের অভিযোগ করা হয়েছে। কার্যাদেশ অনুযায়ী পণ্য সরবরাহ না করেও ভুয়া বা অসম্পূর্ণ ডেলিভারি চালান ও অন্যান্য কাগজপত্রের মাধ্যমে বিল পরিশোধের অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগকারীর দাবি, এ-প্রক্রিয়ায় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের মধ্যে যোগসাজশের মাধ্যমে ব্যাংকের অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে।
এছাড়া, সোনালী ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ তদন্তে অনিয়মের বিভিন্ন তথ্য উঠে আসার কথাও অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, ব্যাংকের ক্রয় কমিটি ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ওপর প্রভাব বিস্তার করে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র তৈরি এবং বিল পরিশোধের ব্যবস্থা করা হয়। এতে ব্যাংকের আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি প্রশাসনিক নিয়ম-কানুনও লঙ্ঘিত হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। মো. ওয়াহেদুন্নবীর বিরুদ্ধে কর্মকর্তাদের বদলির ক্ষেত্রেও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ আনা হয়েছে।
অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, নীলফামারী প্রিন্সিপাল অফিসে দায়িত্ব পালনকালে ব্যাপকসংখ্যক কর্মকর্তা-কর্মচারীকে বিভিন্ন সময়ে বদলি করা হয়। এর মধ্যে একই কর্মকর্তাকে একাধিকবার দূরবর্তী স্থানে বদলি করার ঘটনাও ঘটেছে। এসব বদলির ক্ষেত্রে নিয়মনীতি অনুসরণ করা হয়নি এবং কর্মকর্তাদের ওপর চাপ সৃষ্টি ও হয়রানির উদ্দেশ্যে বদলিকে ব্যবহার করা হয়েছে বলে অভিযোগকারীর দাবি। অভিযোগপত্রে মো. ওয়াহেদুন্নবীর বিরুদ্ধে অধীনস্থ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে অসদাচরণ এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগও করা হয়েছে।
এই অভিযোগগুলো সোনালী ব্যাংক পিএলসির ‘হুইসেল ব্লোয়ার পলিসি-২০২১’, ব্যাংকের কর্মচারী চাকরি প্রবিধানমালা এবং প্রযোজ্য অন্যান্য আইন ও বিধিমালা অনুযায়ী তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য দুদকের কাছে অনুরোধ জানানো হয়েছে। রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান থেকে অনিয়ম-দুর্নীতি দূর করতে সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করছে। এই প্রেক্ষাপটে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ব্যাংকের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগে সোনালী ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ তদন্তে উঠে আসা তথ্য যাচাই করে অর্থ আত্মসাৎ, ক্ষমতার অপব্যবহার, অসদাচরণ ও অন্যান্য অনিয়মের বিষয়ে স্বাধীন তদন্ত করার অনুরোধ জানানো হয়েছে। বর্তমানে মো. ওয়াহেদুন্নবী জেনারেল ম্যানেজার্স অফিস, রংপুরের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার হিসেবে কর্মরত আছেন বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
কুড়িগ্রামের রাজারহাটে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসবমুখর পরিবেশে ভগবান শ্রীশ্রীকৃষ্ণের জন্মাষ্টমী উদযাপন সম্পন্ন হয়েছে। এ উপলক্ষে শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) সকালে উপজেলা কেন্দ্রীয় মন্দির প্রাঙ্গণে বিভিন্ন কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। সকাল ১১টায় উপজেলা কেন্দ্রীয় মন্দির থেকে একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের হয়ে উপজেলার প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় কেন্দ্রীয় মন্দির প্রাঙ্গণে এসে শেষ হয়। এতে সনাতন ধর্মাবলম্বী ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন।
পরে কেন্দ্রীয় মন্দির প্রাঙ্গণে ভগবান শ্রীকৃষ্ণের জন্মতিথির তাৎপর্য নিয়ে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভার সঞ্চালনা করেন মন্দিরের সাধারণ সম্পাদক সরকার অরুণ যদু। বক্তব্য রাখেন উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট শফিকুল ইসলাম, সদস্য সচিব সাহিদুল ইসলাম, যুগ্ম আহ্বায়ক জাকির হোসেন ও শহিদুল ইসলাম ব্যাপারী, বিএনপি নেতা টিটু, রাজারহাট থানার দায়িত্বপ্রাপ্ত ইনচার্জ রেজওয়ানুল ইসলাম রেজা, উপজেলা পূজা উদযাপন ফ্রন্টের আহ্বায়ক নিতাই চন্দ্র রায়, উপজেলা হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য ফ্রন্টের আহ্বায়ক সুশীল চন্দ্র সরকার প্রমূখ।
বক্তারা এসময় উল্লেখ করেন, ভগবান শ্রীকৃষ্ণের জন্মাষ্টমী সনাতন ধর্মাবলম্বীদের জন্য একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় উৎসব। বক্তারা শ্রীকৃষ্ণের জীবনাদর্শ, ন্যায়, সত্য, মানবতা, সাম্য ও অসাম্প্রদায়িক চেতনা অনুসরণ করে সমাজে শান্তি ও সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠায় সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান। ধর্মীয় সম্প্রীতি ও পারস্পরিক সৌহার্দ্য বজায় রেখে উৎসব উদযাপনের গুরুত্বের ওপরও তারা আলোকপাত করেন।
এদিকে জন্মাষ্টমী উপলক্ষে শুক্রবার রাতে উপজেলার বিভিন্ন মন্দির ও সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বাড়িতে ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। এসব আয়োজনে ভগবান শ্রীকৃষ্ণের পূজা, গীতাযজ্ঞ, নামযজ্ঞ ও পুষ্পাঞ্জলিসহ বিভিন্ন ধর্মীয় কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হবে বলে জানা গেছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
নরসিংদীর মাধবদীতে স্বামীর সঙ্গে ঝগড়ার পর উর্মি (২২) নামে এক নারী তার সন্তানদের সাথে হারপিক পান করেছেন। এই ঘটনায় ওই নারী ও তার পাঁচ বছর বয়সী মেয়ে মারা গেছেন। গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় তার আড়াই বছর বয়সী ছেলে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে মাধবদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ কামাল হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) দুপুর সোয়া একটার দিকে মাধবদী পৌরসভার আনন্দী এলাকায় এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। নিহত উর্মির মা নার্গিস বেগম মাধবদী থানায় মামলা দায়ের করেছেন। পুলিশ রাতেই শিশুদের বাবা মিলন মিয়াকে আটক করেছে।
উর্মির স্বামী মিলন পেশায় গাড়িচালক। তারা পাঁচ বছর বয়সী মেয়ে মিম ও আড়াই বছর বয়সী ছেলে আবিরকে নিয়ে মাধবদী থানার বসুন্ধরা এলাকার কান্দাপাড়া এলাকায় শেফালী বেগম নামে এক নারীর বাড়িতে ভাড়ায় বাসা করতেন।
ওসি মোহাম্মদ কামাল হোসেন বলেন, পারিবারিক বিষয় নিয়ে উর্মি ও তার স্বামী মিলনের মধ্যে ঝগড়া ও মনোমালিন্য ঘটে। একপর্যায়ে মিলন উর্মিকে জুতা দিয়ে পেটান। এর পর উর্মি দুই সন্তানকে নিয়ে ভাড়া বাসা থেকে বের হয়ে যান।
পরে উর্মি মাধবদী পৌরসভার আনন্দী এলাকায় গিয়ে হারপিক পান করেন এবং দুই শিশুকেও তা পান করান। এতে তিনজনই অসুস্থ হয়ে পড়েন। স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাদের নরসিংদী সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়।
সদর হাসপাতালে নেওয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক উর্মিকে মৃত ঘোষণা করেন। অপর দুই শিশুকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। কিন্তু পরে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে মিম ও আবিরকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। চিকিৎসক মিমকে মৃত ঘোষণা করেন। আবির বর্তমানে জরুরি বিভাগে ভর্তি হয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
ওসি বলেন, পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ পাওয়া সাপেক্ষে এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। উর্মির স্বামী মিলনকে আগেই আটক করা হয়েছে এবং প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে শুক্রবার দুপুরে আদালতে পাঠানো হয়েছে তাকে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
প্রথম বিয়ে ও সন্তানের তথ্য গোপন করে প্রতারণার মাধ্যমে পুনরায় বিয়ের একটি আলোচিত মামলায় শারমিন সুরভী মৌসুমী নামের এক প্রবাসী নারীকে এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেছে আদালত।
এছাড়া, তাকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) সিলেটের অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত এই রায় ঘোষণা করেন। দণ্ডিত আসামি শারমিন জন্মসূত্রে বাংলাদেশি হলেও বর্তমানে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক এবং সেখানে বসবাস করছেন।
বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট আব্দুর রহমান আফজাল জানিয়েছেন, শারমিন পূর্বের বিয়ে ও সন্তান থাকার বিষয়টি সম্পূর্ণ গোপন রেখে জাকের আহমেদ নামের এক ব্যক্তির সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। পরবর্তীতে প্রতারণার বিষয়টি জানার পর জাকের আহমেদ আদালতে মামলা দায়ের করেন।
মামলার বিচার চলাকালে বাদী ও সাক্ষীগণের জবানবন্দি এবং প্রয়োজনীয় নথিপত্র পর্যালোচনা করে আদালত আসামির বিরুদ্ধে এই সাজা প্রদান করে। বিয়ের আয়োজন ও সহায়তার সঙ্গে যুক্ত পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের মামলায় আসামি করা হলেও রায়ে তাদের বিষয়ে ভিন্ন সিদ্ধান্ত এসেছে বলে আইনজীবী জানিয়েছেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ