প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলার ১২টি ইউনিয়নে মোট ৫১টি কমিউনিটি ক্লিনিক প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। সরকারের উদ্যোগে প্রান্তিক জনগণের মাঝে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়ার জন্য এই কমিউনিটি ক্লিনিকগুলো স্থাপন করা হয়েছে। ফলে, প্রান্তিক জনগণের দ্রুত চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করার জন্য বছরে ৩ থেকে ৪ বার ওষুধ সরবরাহ করা হয় এসব ক্লিনিকে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোপাইটর (ঈঐঈচ) সপ্তাহে ইচ্ছেমতো সময়ে ক্লিনিকে আসেন। তারা ক্লিনিক খোলেন এবং কখনো এক দুই ঘণ্টা চালু রাখেন। আবার কখনো তারা আসেনই না। এর ফলে সেবা নিতে আসা রোগীদের অনির্দিষ্ট সময় অপেক্ষা করতে হয় এবং পরে ফিরে যেতে হয়। এলাকাবাসীরা স্বাস্থ্যসেবার ক্ষেত্রে চরম অব্যবস্থাপনার শিকার হচ্ছেন।
৩ সেপ্টেম্বর সরেজমিনে মোহাম্মদপুর কমিউনিটি ক্লিনিকের সকাল ১০:১৫ মিনিটে গিয়ে দেখা যায়, ক্লিনিকের তালা বন্ধ ছিল। আবার ১:৫৩ মিনিটে ক্লিনিকের পাশে বাজারে (ঈঐঈচ) সাফিকুল ইসলামকে দেখা যায়। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ক্লিনিকটি তালাবদ্ধ অবস্থায় ছিল, এর কারণ সম্পর্কে তিনি কোনো সদোত্তর দিতে পারেননি। সাফিকুল ইসলাম কোনো উত্তর না দিয়ে ক্লিনিকে চলে যান। পরে ফিরে এসে জানান, "চা খাওয়ার জন্য গেছিলাম।" অফিসের সময় সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন, "নয়টা থেকে তিনটা।" আবার সকালে ক্লিনিকে আসার সময় সম্পর্কে তিনি জানান, "জানিনা, সময় দেখি নাই।" বুধবার গোয়ালের চর ইউনিয়নের চেয়ারম্যানের সঙ্গে কথা বললে তিনি বলেন, "খুব একটা না তবে মোটামুটি আসে।"
পলাবান্দা ইউনিয়নে তিনটি ক্লিনিক রয়েছে। এর মধ্যে দুইটি বন্ধ পাওয়া যায়। শুধুমাত্র উত্তর সিরাজাবাদ কমিউনিটি ক্লিনিক খোলা ছিল। সেখানে কর্মরত কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোপাইটর (ঈঐঈচ) জেসমিন জানান, তিনি প্রতিদিন অফিসে আসেন এবং চিকিৎসা সেবা দেন। তবে তিনি উল্লেখ করেন, ওষুধ অপ্রতুল। এ বিষয়ে পলবান্ধা ইউপির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান কমল বলেন, "পলাবান্দা ইউনিয়নের তিনটি কমিউনিটি ক্লিনিক রয়েছে। এসব ক্লিনিক বেশীরভাগ সময় বন্ধ থাকে। ইচ্ছে হলে সপ্তাহে কর্মরত কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোপাইটর (ঈঐঈচ) দুইচার দিন আসেন। আবার অনেকেই আসেন না। রোগীরা এলে বলেন, 'ওষুধ নাই', এভাবে চলছে ক্লিনিক।"
সরকার প্রতিটি ক্লিনিকে টাকা খরচ করলেও প্রান্তিক জনগণের পর্যাপ্ত সেবা নিশ্চিত হচ্ছে না। তদারকির অভাবে সিএইচসিপি, এইচএ, এফডব্লিউএ দায়সারা ভাবে দায়িত্ব পালন করছেন। প্রান্তিক জনগণের মাঝে স্বাস্থ্যসেবা ও প্রয়োজনীয় ওষুধ পৌঁছে দিতে সরকারের উদ্যোগে কমিউনিটি ক্লিনিক প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। চাহিদা অনুযায়ী বছরে ৩ থেকে ৪ বার ওষুধ সরবরাহ করা হলেও রোগীরা যথাযথ সেবা পাচ্ছেন না। কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোপাইটর (ঈঐঈচ) নিয়মিতভাবে অনুপস্থিত থাকায় এবং চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় ওষুধপত্র না থাকার কারণে এলাকাবাসী দিন দিন স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
মালমারার কমিউনিটি ক্লিনিকে যাওয়ার সময় অটোচালক জুয়েল শেখ বলেন, "কোথায় যাবেন?" মালমারা কমিউনিটি ক্লিনিকে গিয়ে জুয়েল শেখ জানান, "ওইখানে গিয়ে কি করবেন? সেখানকার (ঈঐঈচ) মাহফুজা বেগম অফিসে আসেন না। মাসে দেখি একদিন কি দুইদিন।"
কমিউনিটি ক্লিনিকের জমি দাতা নইমদ্দী চেয়ারম্যানের স্ত্রী সাযেদা বেগম জানান, "ওই মহিলা বারোটায় আসলে একটা চলে যায়। কেউ ওষুধ চাইলে ওষুধ দেয় না।" একই অভিযোগ ষাটউর্ধ্ব রাহেলা বেগম, সোনা মিয়া, অষ্টম শ্রেণীর সিয়ামও করেন। তারা সবাই বলেন, ক্লিনিকে গেলে কোনো ওষুধ পাওয়া যায় না।
সরকারি নিয়ম অনুযায়ী, ক্লিনিকের কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা ও সেবার মান নিশ্চিত করার জন্য ইউনিয়ন স্বাস্থ্য পরিদর্শকের নিয়মিত তদারকির কথা থাকলেও কমিউনিটি ক্লিনিকের ক্ষেত্রে তা অনুপস্থিত বলে মনে হচ্ছে। সিএইচসিপি, স্বাস্থ্য সহকারীর দায়িত্ব সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, স্বাস্থ্যসেবা প্রদানের ক্ষেত্রে এই অনিয়ম বন্ধ করতে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করা প্রয়োজন। এ বিষয়ে ইসলামপুরের হাসপাতালের প প কর্মকর্তা আবু তাহেরকে জিজ্ঞেস করলে তিনি জানান, "তদন্ত করে ব্যবস্থা নেব।"
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন