শুক্রবার, ৪ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৬:২২ পি.এম
নরসিংদীর মাধবদীতে স্বামীর সঙ্গে ঝগড়ার পর উর্মি (২২) নামে এক নারী তার সন্তানদের সাথে হারপিক পান করেছেন। এই ঘটনায় ওই নারী ও তার পাঁচ বছর বয়সী মেয়ে মারা গেছেন। গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় তার আড়াই বছর বয়সী ছেলে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে মাধবদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ কামাল হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) দুপুর সোয়া একটার দিকে মাধবদী পৌরসভার আনন্দী এলাকায় এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। নিহত উর্মির মা নার্গিস বেগম মাধবদী থানায় মামলা দায়ের করেছেন। পুলিশ রাতেই শিশুদের বাবা মিলন মিয়াকে আটক করেছে।
উর্মির স্বামী মিলন পেশায় গাড়িচালক। তারা পাঁচ বছর বয়সী মেয়ে মিম ও আড়াই বছর বয়সী ছেলে আবিরকে নিয়ে মাধবদী থানার বসুন্ধরা এলাকার কান্দাপাড়া এলাকায় শেফালী বেগম নামে এক নারীর বাড়িতে ভাড়ায় বাসা করতেন।
ওসি মোহাম্মদ কামাল হোসেন বলেন, পারিবারিক বিষয় নিয়ে উর্মি ও তার স্বামী মিলনের মধ্যে ঝগড়া ও মনোমালিন্য ঘটে। একপর্যায়ে মিলন উর্মিকে জুতা দিয়ে পেটান। এর পর উর্মি দুই সন্তানকে নিয়ে ভাড়া বাসা থেকে বের হয়ে যান।
পরে উর্মি মাধবদী পৌরসভার আনন্দী এলাকায় গিয়ে হারপিক পান করেন এবং দুই শিশুকেও তা পান করান। এতে তিনজনই অসুস্থ হয়ে পড়েন। স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাদের নরসিংদী সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়।
সদর হাসপাতালে নেওয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক উর্মিকে মৃত ঘোষণা করেন। অপর দুই শিশুকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। কিন্তু পরে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে মিম ও আবিরকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। চিকিৎসক মিমকে মৃত ঘোষণা করেন। আবির বর্তমানে জরুরি বিভাগে ভর্তি হয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
ওসি বলেন, পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ পাওয়া সাপেক্ষে এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। উর্মির স্বামী মিলনকে আগেই আটক করা হয়েছে এবং প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে শুক্রবার দুপুরে আদালতে পাঠানো হয়েছে তাকে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
প্রথম বিয়ে ও সন্তানের তথ্য গোপন করে প্রতারণার মাধ্যমে পুনরায় বিয়ের একটি আলোচিত মামলায় শারমিন সুরভী মৌসুমী নামের এক প্রবাসী নারীকে এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেছে আদালত।
এছাড়া, তাকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) সিলেটের অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত এই রায় ঘোষণা করেন। দণ্ডিত আসামি শারমিন জন্মসূত্রে বাংলাদেশি হলেও বর্তমানে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক এবং সেখানে বসবাস করছেন।
বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট আব্দুর রহমান আফজাল জানিয়েছেন, শারমিন পূর্বের বিয়ে ও সন্তান থাকার বিষয়টি সম্পূর্ণ গোপন রেখে জাকের আহমেদ নামের এক ব্যক্তির সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। পরবর্তীতে প্রতারণার বিষয়টি জানার পর জাকের আহমেদ আদালতে মামলা দায়ের করেন।
মামলার বিচার চলাকালে বাদী ও সাক্ষীগণের জবানবন্দি এবং প্রয়োজনীয় নথিপত্র পর্যালোচনা করে আদালত আসামির বিরুদ্ধে এই সাজা প্রদান করে। বিয়ের আয়োজন ও সহায়তার সঙ্গে যুক্ত পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের মামলায় আসামি করা হলেও রায়ে তাদের বিষয়ে ভিন্ন সিদ্ধান্ত এসেছে বলে আইনজীবী জানিয়েছেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন তিনজন পাইলট ইরানের। তাদের নাম মোজতবা বাঘেরি, হামেদ ওকাতি এবং হোসেনই মাহদাভিয়ান বলে জানা গেছে। প্রথম দুইজন নৌবাহিনীর পাইলট হিসেবে পরিচিত ছিলেন, আর তৃতীয়জন বিমানবাহিনীর পাইলট।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) এই তথ্য প্রকাশ করেছে ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড। খবরটি এসেছে ইরান ইন্টারন্যাশনালের মাধ্যমে।
তবে, কোথায় এই তিন পাইলট হামলার শিকার হয়েছেন, সে সম্পর্কে কোনো তথ্য দেয়নি ইরান। তেহরান উল্লেখ করেনি, তারা নিহত হওয়ার সময় যুদ্ধবিমান চালাচ্ছিলেন কি না কিংবা কোনো সংঘাতে অংশ নিয়েছিলেন কি না।
এই তিন পাইলটের পাশাপাশি, ইরান আরও ছয়জন নৌবাহিনীর সদস্যের মৃত্যুর তথ্যও দিয়েছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাপক বোমাবর্ষণের ফলে মঙ্গলবার ও বুধবারে অন্তত ১৯ জন ইরানি নিহত হয়েছেন।
দেশটির সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, মার্কিন হামলায় ইরানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় খুজেস্তান প্রদেশে সাতজন এবং কেরমানশাহ প্রদেশে বিপ্লবী গার্ডের চার সদস্য নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে উপসাগরের লাভান দ্বীপে আধাসামরিক বাহিনীর তিন সদস্য এবং ফার্স প্রদেশে আরও একজন নিহত হয়েছেন।
এছাড়া, হরমুজগান প্রদেশে বিয়ের এক অনুষ্ঠানে চারজনের প্রাণহানির ঘটনায় মার্কিন হামলাকে দায়ী করেছেন ইরানি কর্মকর্তারা। নৌবাহিনীর ওই ছয় কর্মকর্তা খুজেস্তানে ইতোমধ্যে নিহত হিসেবে সরকারের প্রকাশিত প্রতিবেদনে সাতজনের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত ছিলেন কি না, তাৎক্ষণিকভাবে স্পষ্ট হওয়া যায়নি।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে যানজট হ্রাসের উদ্দেশ্যে রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থেকে চট্টগ্রাম সিটি গেট পর্যন্ত এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণের ঘোষণা দিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সীতাকুণ্ড নাগরিক সমাজের চেয়ারম্যান মাস্টার আবুল কাশেম এবং সদস্যসচিব অ্যাডভোকেট আবুল হাসান মোহাম্মদ শাহাবুদ্দিনের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল মন্ত্রীর মেহেদীবাগস্থ বাসভবনে সাক্ষাৎ ও মতবিনিময়কালে তিনি এই পরিকল্পনার কথা জানান।
সাক্ষাৎকালে সীতাকুণ্ড নাগরিক সমাজের নেতৃবৃন্দ ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের যানজটের সমাধানের জন্য বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে সীতাকুণ্ডের সমুদ্র উপকূলীয় বেড়িবাঁধের ওপর মেরিন ড্রাইভ সড়ক নির্মাণের প্রস্তাব উপস্থাপন করেন। তারা একই সঙ্গে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সীতাকুণ্ড অংশে বড়দারোগারহাট থেকে ফৌজদারহাট পর্যন্ত এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণের দাবি জানান।
অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী যাত্রাবাড়ী থেকে চট্টগ্রাম সিটি গেট পর্যন্ত এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণের পরিকল্পনা সরকারের পক্ষ থেকে তুলে ধরেন।
পরে সীতাকুণ্ড নাগরিক সমাজের নেতৃবৃন্দ তাদের বিভিন্ন দাবি-দাওয়া সংবলিত একটি স্মারকলিপি মন্ত্রীর কাছে পেশ করেন। স্মারকলিপিতে চট্টগ্রাম ওয়াসার পানির লাইন সীতাকুণ্ড পর্যন্ত সম্প্রসারণসহ সীতাকুণ্ডের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা ও দাবির বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সহযোগিতা কামনা করা হয়।
অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীকে সীতাকুণ্ড সমুদ্রউপকূলে মেরিন ড্রাইভ সড়ক নির্মাণ এবং ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে বিশেষ করে সীতাকুণ্ড অংশে বড়দারোগারহাট থেকে ফৌজদারহাট পর্যন্ত এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণের জন্য দাবি সম্বলিত স্মারকলিপি প্রদান করছেন সীতাকুণ্ড নাগরিক সমাজের নেতৃবৃন্দ। অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী তাদের বক্তব্য মনোযোগ সহকারে শোনেন এবং বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
কানাডা, দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ বন্ধু যুক্তরাষ্ট্র থেকে ক্রমাগত দূরে সরে যাচ্ছে। কানাডার নাগরিকরা মার্কিন শুল্কনীতি, বাণিজ্য বিরোধ এবং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিভিন্ন পদক্ষেপে চরম ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছেন। এর ফলস্বরূপ, যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণের প্রবণতা উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে। একইসঙ্গে, মার্কিন পণ্য বয়কটের প্রবণতা সমানতালে বৃদ্ধি পাচ্ছে।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে এ তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, কানাডার বিভিন্ন শহরে মার্কিন পণ্য বয়কটের হিড়িক লেগে গেছে। অনেক কানাডিয়ান এখন মার্কিন পণ্যের পরিবর্তে দেশীয় পণ্য কিনতে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন। পাশাপাশি, কিছু ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান মার্কিন সরবরাহকারীদের পরিবর্তে কানাডীয় এবং অন্যান্য দেশের বিকল্প উৎস খুঁজে বের করার চেষ্টা করছেন।
যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণের ক্ষেত্রেও একই ধরনের প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। অনেক কানাডিয়ান যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণ কমিয়ে দেশের অভ্যন্তরে অথবা ইউরোপসহ অন্যান্য আন্তর্জাতিক গন্তব্যে যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন।
রাজনৈতিক দিক থেকেও যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরতা কমানোর দাবি জোরালো হয়েছে। সাম্প্রতিক অ্যাঙ্গাস রিড ইনস্টিটিউটের জরিপে দেখা গেছে, ৭৬ শতাংশ কানাডিয়ান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য আলোচনা থেকে সরে আসার সরকারের সিদ্ধান্তকে সমর্থন করেছেন।
যুক্তরাষ্ট্র-কানাডার বহুদিনের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক এখন বড় ধরনের সংকটে পড়েছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একের পর এক হঠকারী পদক্ষেপের কারণে। ইতোমধ্যে কানাডার বিভিন্ন পণ্যের ওপর যুক্তরাষ্ট্র উচ্চহারে শুল্ক আরোপ করেছে। এর জবাবে কানাডাও পাল্টা শুল্ক আরোপ করেছে। কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি যুক্তরাষ্ট্রের ওপর অর্থনৈতিক নির্ভরতা কমিয়ে নতুন বাজার ও বাণিজ্যিক অংশীদার খোঁজার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন।
কানাডিয়ানদের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কে জনমতেও উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন ঘটেছে। সাম্প্রতিক অ্যাঙ্গাস রিডের জরিপে দেখা গেছে, মাত্র ৪৫ শতাংশ কানাডিয়ান মার্কিন জনগণের প্রতি ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করেছেন। বিপরীতে, ৪৮ শতাংশের মনোভাব নেতিবাচক। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রতি নেতিবাচক মনোভাব আরও বেশি। জরিপে ৭৯ শতাংশ কানাডিয়ান তার প্রতি বিরূপ মনোভাব প্রকাশ করেছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, কানাডা-যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান বৈরিতা শুধুমাত্র সাময়িক রাজনৈতিক বিরোধের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এর প্রভাব পড়ছে বাণিজ্য, ভ্রমণ, ভোক্তাদের কেনাকাটা এবং দুই দেশের দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক সম্পর্কেও। ফলে, কয়েক দশকের ঘনিষ্ঠ কানাডা-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক নতুন এক বাস্তবতার মুখোমুখি হচ্ছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ