০৩:৪৮ পি.এম
উত্তর ইরাকের কুর্দি নিয়ন্ত্রিত ‘খোর মোর’ গ্যাসক্ষেত্রে ড্রোন হামলা চালানোর খবর দিয়েছে ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম আইআরআইবি। এই গ্যাসক্ষেত্র কুর্দি অঞ্চলের অধিকাংশ বিদ্যুৎকেন্দ্রে গ্যাস সরবরাহ করে।আইআরআইবি জানিয়েছে, সোমবার (২৭ জুলাই) দিবাগত গভীর রাতে হামলা চালানো হয়েছে খোর মোর গ্যাসক্ষেত্রে, যা উত্তর ইরাকের কুর্দি অধ্যুষিত সুলাইমানিয়া প্রদেশে অবস্থিত।প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, হামলার সময় সেখান থেকে প্রায় ২০০ কিলোমিটার দূরে কুর্দি শাসিত অঞ্চলের রাজধানী এরবিলে কয়কেটা শক্তিশালী বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে।এদিকে, ইরাকি সংবাদমাধ্যম এবং ইরানের বার্তা সংস্থা ফার্সের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয় যে, মার্কিন কনস্যুলেটের নিকটবর্তী এলাকায় এরবিলে অন্তত সাতটি বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে।পুলিশের সূত্রে জানা যায়, এরবিলের উত্তর-পূর্বে খালিফান ও সোরান এলাকার বিভিন্ন স্থানে অন্তত চারটি ইরানি ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে।পুলিশের শনাক্তকৃত তথ্যে দেখা যায়, সন্দেহভাজন এই ইরানি ড্রোন হামলার পর এরবিলের আকাশে যুক্তরাষ্ট্রের ১০টির বেশি যুদ্ধবিমান এবং ড্রোন টহল দিতে দেখা গেছে।এছাড়া পুলিশ জানিয়েছে, হামলা লক্ষ্যবস্তু এলাকাগুলো ও আশপাশে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ঘটে। হামলায় ব্যবহৃত দুটি ড্রোন লক্ষ্যবস্তুর কাছাকাছি এসে বিধ্বস্ত হয়েছে।ইরানের সামরিক ও কৌশলগত স্থাপনায় টানা হামলার পর যুক্তরাষ্ট্র চার দিন ধরে নীরব ছিল। প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে হামলা স্থগিত রাখলেও পরিস্থিতি এখনও অস্থিতিশীল। গত কয়েক সপ্তাহে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটি ও স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে ইরান ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায়।সামরিক সংঘাতের এই বিরতির মধ্যেই কূটনৈতিক চাপান-উতোর শুরু হয়েছে। ট্রাম্প বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের ভালো আলোচনা চলছে এবং ইতিবাচক কিছু ঘটতে পারে। তবে তিনি পরিষ্কার করেছেন, আলোচনার জন্য বেশী সময় দেওয়া হবে না। দ্রুত সমঝোতা না হলে ওয়াশিংটন আবারও কঠোর সামরিক পদক্ষেপে ফিরে যাবে, এমনও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।অন্যদিকে, ইরানের বক্তব্য হলো, তারা কোনো আলোচনার অনুরোধ জানায়নি বরং যুদ্ধে কাঙ্ক্ষিত ফল না পেয়ে যুক্তরাষ্ট্র কূটনীতির আশ্রয় নিচ্ছে। ইরানের দাবির মধ্যে তাদের পাল্টা হামলা এবং প্রতিরোধকল্পে ওয়াশিংটন চাপের মধ্যে রয়েছে। তাই জাতীয় নিরাপত্তা, পারমাণবিক কর্মসূচি, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং হরমুজ প্রণালি বিষয়ে নিজেদের অবস্থান থেকে সরে আসার কোন সুযোগ নেই।হরমুজ প্রণালি নিয়ে এখনও দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ রয়েছে। বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল এই জলপথ দিয়ে পরিবহন হয়। ওমান, কাতার এবং পাকিস্তারের মধ্যস্থতায় আলোচনা চললেও প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ, জাহাজ চলাচল এবং সম্ভাব্য সার্ভিস ফি নিয়ে কোন সমঝোতা হয়নি।ফলে আপাতত ক্ষেপণাস্ত্র থেমে থাকলেও মধ্যপ্রাচ্যের সংকট শেষ হয়নি। বরং যুদ্ধের ময়দান থেকে সংঘাত এখন অনেকটাই সরে এসেছে কূটনীতির টেবিলের দিকে। একটি ব্যর্থ আলোচনা বা নতুন কোনো হামলাই আবার পুরো অঞ্চলকে সংঘাতের আগুনে ঠেলে দিতে পারে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন