প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
জীবন-জীবিকার সন্ধানে সৌদি আরবে পাড়ি জমিয়েছিলেন দুই সহোদর। কিন্তু মর্মান্তিক এক সড়ক দুর্ঘটনা কেড়ে নিয়েছে তাদের প্রাণ। সব স্বপ্ন ভেঙে অবশেষে দুইটি কফিনে বন্দি হয়ে দেশে ফিরেছেন তারা।
আইনি প্রক্রিয়া শেষে সোমবার (২৭ জুলাই) দিবাগত রাতে লক্ষ্মীপুরের চন্দ্রগঞ্জ উপজেলার গনিপুর গ্রামে পৌঁছায় নিহত সজীব ও সুজনের মরদেহ। কফিন দুটি বাড়িতে পৌঁছাতেই স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে চারপাশ। শেষবারের মতো তাদের একনজর দেখতে শত শত মানুষ ভিড় করেন।
মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সকাল ১০টায় গনিপুর গ্রামের নিজ বাড়ি সংলগ্ন কামারহাট মসজিদ মাঠে তাদের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে পারিবারিক কবরস্থানে দুই ভাইকে দাফন করা হয়। জানাজায় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ, জনপ্রতিনিধি, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও মুসল্লিরা অংশ নেন। তাদের শেষ বিদায়ে আত্মীয়-স্বজন, এলাকাবাসী ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের কান্নায় এক শোকাবহ পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
নিহতরা হলেন গনিপুর গ্রামের খলিফার বাড়ির আব্দুল মালেকের দুই ছেলে সজীব ও ফরহাদ হোসেন সুজন। পরিবার সূত্রে জানা যায়, বড় ভাই সজীব দীর্ঘদিন ধরে সৌদি আরবের দাম্মামে খেজুরের ব্যবসা করতেন। চলতি বছরের শুরুতে ছোট ভাই সুজনকেও কাজের সহযোগিতার জন্য সেখানে নিয়ে যান তিনি।
গত ১৫ জুলাই দিবাগত রাতে নিজেদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মালামাল নিয়ে ফেরার পথে রিয়াদের ওয়াদি আল দাওয়াসির এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি কাভার্ডভ্যান তাদের গাড়িকে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে গাড়ির সামনের অংশ দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং ঘটনাস্থলেই বড় ভাই সজীব মারা যান। পরে উদ্ধারকর্মীরা ছোট ভাই সুজনকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে নিলে সেখানে তিনিও মারা যান।
নিহত সজীবের স্ত্রী ও দুই বছর বয়সী একটি ছেলে রয়েছে। পরিবারের প্রধান উপার্জনক্ষম দুই সদস্যকে হারিয়ে পরিবারটি এখন চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।
স্থানীয়রা জানান, সজীব ও সুজন অত্যন্ত ভদ্র, পরিশ্রমী ও সবার প্রিয় ছিলেন। তাদের এই অকাল মৃত্যুতে শুধু একটি পরিবার নয়, শোকের ছায়া নেমে এসেছে পুরো গনিপুর গ্রামে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন