রবিবার, ৬ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
১০:৩৭ পি.এম
২৪ বছর বয়সী কোরআনের হাফেজ জায়েদ আলী শাহ, কম খরচে ইউরোপে যাওয়ার স্বপ্ন নিয়ে বাড়ি ছেড়েছিলেন। দালাল চক্রের খপ্পরে পড়ে অমানবিক নির্যাতনের শিকার হয়ে গ্রিসে পৌঁছালেও, তাঁর স্বপ্ন পূরণ হয়নি। নির্যাতন ও অনাহারে থাকার পর, গ্রিসে পৌঁছানোর চার দিন পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান জায়েদ আলী।
দেড় মাস পর, রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) ওই যুবকের প্রাণহীন নিথর দেহ গ্রামে ফিরে আসে। পরে দুপুরে জানাজার নামাজ শেষে তাঁকে নিজ গ্রামে দাফন করা হয়। হৃদয়বিদারক এই ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
জায়েদ আলী সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর পৌরসভার শেরপুর গ্রামের মৃত শাহ রহিম আলীর ছেলে। পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, তিন ভাই ও এক বোনের মধ্যে জায়েদ ছিলেন সবার ছোট ও আদরের। তবুও সংসারের হাল ধরতে গত সাত মাস আগে সার্বিয়া যাওয়ার জন্য বাড়ি ছাড়েন জায়েদ। কিন্তু দালাল চক্রের প্রতারণার শিকার হয়ে সার্বিয়ার বদলে লিবিয়া হয়ে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে দেড় মাস আগে গ্রিসে পৌঁছান তিনি।
লিবিয়ায় অবস্থানকালে, অমানবিক শারীরিক নির্যাতন ও অনাহারে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। পরে তাঁকে গ্রিসের একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৪০ দিন আগে তাঁর মৃত্যু ঘটে। পরে বাংলাদেশ দূতাবাসের সহযোগিতায় শনিবার জায়েদের মরদেহ দেশে ফেরত আনা হয়।
জায়েদের বড় ভাই রাহেদ শাহ জানিয়েছেন, গত সাত মাস আগে দালালের সঙ্গে ১৩ লাখ টাকায় তাঁর ভাইকে সার্বিয়া পাঠানোর চুক্তি হয়। কিন্তু দালাল প্রতারণা করে তাঁকে লিবিয়া পাঠায়। সেখানে তাঁকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হতে হয়। নির্যাতন থেকে জায়েদকে বাঁচাতে, তিনি দালাল চক্রকে আরও ৯ লাখ টাকা দেন। তবুও তিনি তাঁর ভাইকে বাঁচাতে পারেননি। তাঁরা এর বিচার চান।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশের নদীবহুল অঞ্চল বরিশালের বাকেরগঞ্জ একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান। এই উপজেলার বিভিন্ন অংশের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে একাধিক নদ-নদী, যা স্থানীয় মানুষের জীবনযাত্রা এবং মৎস্য আহরণের সঙ্গে দীর্ঘকাল ধরে জড়িত। তবে বর্তমানে, এসব নদীতে কাঙ্ক্ষিত পরিমাণে রূপালি ইলিশের অভাব দেখা দিয়েছে, যা স্থানীয় জেলে ও ব্যবসায়ীদের জন্য হতাশার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ভরা মৌসুমে বাকেরগঞ্জের নদীগুলোতে ইলিশের পরিমাণ তুলনামূলকভাবে কম বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। এর ফলে স্থানীয় হাট-বাজারে ইলিশের সরবরাহও উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে। বাজারে যে অল্পসংখ্যক ইলিশ উঠছে, তার দাম সাধারণ ক্রেতাদের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে, এ বিষয়ে ক্রেতাদের অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয় বাজার ও মৎস্য আড়ত পরিদর্শন করে দেখা গেছে, সরবরাহ কম থাকায় বিভিন্ন আকারের ইলিশ বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। এতে মধ্যবিত্ত ও নিম্নআয়ের মানুষের জন্য ইলিশ কেনা কঠিন হয়ে পড়েছে।
স্থানীয় জেলেদের মতে, নদীতে মাছের পরিমাণ কমে যাওয়ার ফলে তাদের আয়ও কমেছে। মাছ ধরতে নদীতে গেলেও কাঙ্ক্ষিত পরিমাণে ইলিশ না পাওয়ায় অনেক জেলে পরিবার আর্থিক সংকটে পড়েছে।
জেলে ও স্থানীয় ব্যবসায়ীদের অভিমত, নদীর নাব্যতা সংকট, স্রোতের গতিপথের পরিবর্তন, আবহাওয়ার প্রভাবসহ বিভিন্ন কারণে ইলিশের প্রাপ্যতা কমে যেতে পারে। তবে ইলিশের কম পাওয়ার প্রকৃত কারণ নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের গবেষণা ও পর্যবেক্ষণ প্রয়োজন বলে তারা মনে করছেন।
ক্রেতাদের অভিযোগ, নদীঘেরা বাকেরগঞ্জে বসবাস করেও সাধারণ মানুষের পাতে ইলিশ ওঠানো এখন কঠিন হয়ে পড়েছে। বাজারে ইলিশ পাওয়া গেলেও উচ্চমূল্যের কারণে অনেকেই কিনতে পারছেন না।
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছে, নদীগুলোর পরিবেশ ও নাব্যতা রক্ষা, মাছের প্রজননক্ষেত্র সংরক্ষণ এবং অবৈধভাবে মাছ আহরণ বন্ধে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে ইলিশের উৎপাদন ও সরবরাহ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আরও সক্রিয় ভূমিকা কামনা করেছেন তারা।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
ভোলার লালমোহনে মো. মাহে আলম (৬৫) নামে এক বৃদ্ধের মরদেহ তিন দিন পরে তার নিজ বসতঘর থেকে উদ্ধার করা হয়েছে।
রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) সকালে উপজেলার পেয়ারী মোহন এলাকার ৪ নম্বর ওয়ার্ডে এই ঘটনা ঘটে।
মৃত মাহে আলম পেয়ারী মোহন গ্রামের মৃত আজাহার সইয়ালের পুত্র।
স্থানীয় মসজিদের চিল্লার মুসল্লিরা ফজরের নামাজের জন্য দাওয়াত দিতে বাড়ি বাড়ি যাচ্ছিলেন। এ সময় তারা মাহে আলমের বাড়িতে গিয়ে ডাকাডাকি করেন, কিন্তু কোনো সাড়া না পেয়ে দরজা খোলা থাকায় ভেতরে উঁকি দিয়ে তাকে উপুড় হয়ে পড়ে থাকতে দেখেন। এরপর তারা বিষয়টি স্থানীয়দের জানিয়ে দেন।
স্থানীয়দের কাছ থেকে জানা গেছে, মাহে আলমের স্ত্রী রহিমা বেগম (৩৫) তার তিন সন্তানকে নিয়ে প্রায় ১৫ দিন আগে তজুমদ্দিন থানার শিবপুর খাসের হাট এলাকায় তার বাবার বাড়িতে গিয়েছিলেন। এই সময় মাহে আলম একা বাড়িতে ছিলেন। ধারণা করা হচ্ছে, তার মৃত্যু আনুমানিক দুই থেকে তিন দিন আগে হয়েছে।
মাহে আলম শারীরিকভাবে অসুস্থ ছিলেন। অসুস্থতার কারণে তিনি ঢাকার প্রাইভেট ড্রাইভিংয়ের চাকরি ছেড়ে বর্তমানে বাড়িতে অবস্থান করছিলেন। তার পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকে জানা গেছে, তিনি এর আগে দুইবার স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়েছিলেন।
লালমোহন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, খবর পাওয়ার পর লালমোহন থানা পুলিশের একটি টিম ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহের বিষয়ে আইনি প্রক্রিয়া শুরু করেছে। তবে তার মৃত্যুর সঠিক কারণ আইনি প্রক্রিয়া শেষে জানা যাবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
কসমেটিকস পণ্য উৎপাদনে দেশের সেরা কোম্পানির স্বীকৃতি অর্জন করেছে রিমার্ক-হারল্যান। রাজধানীর ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় তিন দিনব্যাপী কসমেটিকা ঢাকা প্রদর্শনীর শেষ দিনে শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় রিমার্কের প্যাভিলিয়নে প্রতিষ্ঠানটির হাতে এই সম্মাননা প্রদান করা হয়।
সার্বিক বিবেচনায় দেশসেরা কসমেটিকস উৎপাদক কোম্পানি এবং সেরা প্যাভিলিয়নের স্বীকৃতির ক্রেস্ট প্রদর্শনীর আয়োজক স্কোয়াড মাইন্ড গ্লোবাল লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম ফয়সাল মুনিম তুলে দেন। রিমার্কের পক্ষ থেকে সম্মাননা গ্রহণ করেন সিনিয়র অপারেটিভ ডিরেক্টর মিজানুর রহমান এবং হারল্যানের হেড অব মার্কেটিং হাবিবুল্লাহ হাবিবসহ রিমার্ক-হারল্যানের অন্যান্য প্রতিনিধিরা।
ফয়সাল মুনিম মন্তব্য করেন, "কসমেটিকস শিল্পে রিমার্কের অবদান ঈর্ষণীয়। কসমেটিকায় আধুনিক উৎপাদন সক্ষমতার প্রদর্শন, ব্যতিক্রমী স্টল ডিজাইন ও পেশাদার উপস্থাপন তাদের বিশেষভাবে মুগ্ধ করেছে।" তিনি আরও বলেন, রিমার্কের প্যাভিলিয়ন শুধুমাত্র পণ্য প্রদর্শনেই সীমাবদ্ধ ছিল না বরং বাংলাদেশের কসমেটিকস শিল্পের সক্ষমতা ও সম্ভাবনাকেও দর্শকদের সামনে তুলে ধরেছে।
তিনি জানান, প্রদর্শনীতে অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠান, দর্শনার্থী, ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তাদের কাছ থেকে পাওয়া ইতিবাচক প্রতিক্রিয়ার ভিত্তিতে রিমার্ককে এই বিশেষ স্বীকৃতি প্রদান করা হয়েছে।
রিমার্কের পরিচালক (ফার্মা) সুকান্ত দাশ এই স্বীকৃতিকে বড় অর্জন হিসেবে দেখছেন। তিনি বলেন, "আজকের এই অর্জন শুধু রিমার্কের নয়, দেশের কসমেটিকস উৎপাদন সক্ষমতারও স্বীকৃতি। ১৬ দেশের ৫৮টি কোম্পানির মধ্যে রিমার্কের সেরা হওয়া অবশ্যই দেশীয় উৎপাদকদের আরও উৎসাহিত করবে।" তিনি উল্লেখ করেন, নকল-ভেজালের ভিড়ে ভোক্তাদের জন্য অথেনটিক পণ্যপ্রাপ্তি নিশ্চিত করতে রিমার্ক কাজ করছে। "আজকের এই অর্জন আমাদের ওপর আরও বেশি দায়িত্ব তুলে দিয়েছে।"
রিমার্কের সিনিয়র অপারেটিভ ডিরেক্টর মিজানুর রহমান বলেন, "আমরা উৎফুল্ল, আনন্দিত। প্রথমবারের মতো অংশ নিয়েই এমন স্বীকৃতি আমাদের অনুপ্রেরণা বাড়িয়ে দিয়েছে।" তিনি আশা প্রকাশ করেন, আগামীতে তারা আরও জোরালোভাবে মানুষের সামনে রিমার্কের নতুন প্রযুক্তিগত সক্ষমতা ও পণ্য নিয়ে আসতে পারবেন। পাশাপাশি কসমেটিকস খাতে বাংলাদেশের ঈর্ষণীয় অবস্থানও তুলে ধরতে পারবেন।
হারল্যানের হেড অব মার্কেটিং হাবিবুল্লাহ হাবিব জানান, "রিমার্ক তার পণ্য শুধু দেশের বাজারের জন্য নয়, সারা বিশ্বে ছড়িয়ে দিচ্ছে। নতুন এই অর্জন আমাদের আগামীর পথচলাকে আরও মসৃণ করে তুলবে।"
রিমার্কের এ অর্জনে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন অ্যাসোসিয়েশন অব স্কিন কেয়ার অ্যান্ড বিউটি প্রোডাক্টস ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অব বাংলাদেশ (এএসবিএমইবি)। সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক জামাল উদ্দিন বলেন, "বাংলাদেশের কসমেটিকস খাতে রিমার্কের অবদান অফুরন্ত। দেশে আন্তর্জাতিক মানের কসমেটিকস ও পার্সোনাল কেয়ার পণ্য উৎপাদনের সক্ষমতা বেড়েছে।" তিনি আশা প্রকাশ করেন, রিমার্কের দেখানো পথে বাংলাদেশ কসমেটিকস খাতে আমদানিনির্ভর দেশ থেকে রপ্তানিকারক দেশে পরিণত হতে পারবে।
দর্শনার্থীদের আগ্রহ রিমার্কের প্যাভিলিয়নে
তিন দিনের আন্তর্জাতিক প্রদর্শনীর শেষ দিনেও রিমার্কের প্যাভিলিয়ন ঘিরে দর্শনার্থীদের উপচেপড়া ভিড় ছিল। মডেল ও অভিনেত্রী নাজিফা তুষি, শার্লিন ফারজানা, শবনম ফারিয়া সহ ইনফ্লুয়েন্সার ও দর্শনার্থীদের মধ্যে রিমার্কের কসমেটিকস ও স্কিনকেয়ার পণ্য নিয়ে বিশেষ আগ্রহ দেখা যায়।
খ্যাতনামা তারকারা রিমার্কের প্যাভিলিয়ন পরিদর্শন করলে সেখানে বাড়তি আকর্ষণ তৈরি হয়। এ সময় গণমাধ্যমকর্মীদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তরে তারা রিমার্কের কসমেটিকস পণ্যের প্রশংসা করেন এবং অথেনটিক পণ্য কেনার ক্ষেত্রে জনসাধারণকে আরও সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান।
রিমার্কের বিভিন্ন গ্লোবাল ব্র্যান্ডের পণ্য প্রদর্শনের পাশাপাশি দর্শনার্থীদের জন্য বিশেষ ‘স্পিন অ্যান্ড উইন’ কার্যক্রমের আয়োজন করা হয়। ফলে প্যাভিলিয়নজুড়ে বাড়তি উৎসাহ ও উদ্দীপনা তৈরি হয়।
প্যাকেজিং ও করপোরেট সেলসে অর্ডার
তিন দিনের আন্তর্জাতিক প্রদর্শনীজুড়ে রিমার্কের প্যাভিলিয়নে বাংলাদেশে উৎপাদিত বিভিন্ন কসমেটিকস ও স্কিনকেয়ার পণ্যের পাশাপাশি বিশ্বমানের প্যাকেজিং, প্রিন্টিং ও ইনগ্রেডিয়েন্টস সক্ষমতা তুলে ধরা হয়।
শেষ দিনে নতুন উদ্যোক্তাদের মধ্যেও রিমার্কের প্যাকেজিং ও প্রিন্টিং সক্ষমতা নিয়ে আগ্রহ দেখা যায়। তারা নিজেদের ব্র্যান্ডের জন্য বিভিন্ন প্যাকেজিং আইটেমের অর্ডারসহ নানা বিষয়ে তথ্য নেন।
রিমার্কের হেড অব প্যাকেজিং মো. আলী রেজা জানান, প্রদর্শনী চলাকালে প্রতিষ্ঠানটি প্রিন্টিং, প্যাকেজিং ও করপোরেট সেলস খাতে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বাণিজ্যিক অর্ডার নিশ্চিত করেছে। বিশেষ করে নতুন উদ্যোক্তাদের মধ্যে রিমার্কের বিশ্বমানের প্যাকেজিং, প্রিন্টিং ও ইনগ্রেডিয়েন্ট নিয়ে বিশেষ আগ্রহ ছিল।
তিনি বলেন, দেশীয় উদ্যোক্তাদের পাশাপাশি বিদেশি বায়ার ও কোম্পানিগুলোও রিমার্কের উৎপাদিত পণ্য ও সক্ষমতা নিয়ে আগ্রহ দেখিয়েছে। প্রদর্শনীতে বিভিন্ন দেশের কোম্পানি ও ব্যবসায়িক প্রতিনিধিদের সঙ্গে যোগাযোগের মাধ্যমে নতুন ব্যবসায়িক সহযোগিতা ও বাজার সম্প্রসারণের সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছে।
রিমার্ক সূত্র জানায়, গবেষণা ও উন্নয়ন (আরঅ্যান্ডডি), আন্তর্জাতিক মানের ফর্মুলেশন, আধুনিক উৎপাদন প্রযুক্তি এবং মান নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার সমন্বয়ে উৎপাদিত প্রতিষ্ঠানটির কসমেটিকস ও স্কিনকেয়ার পণ্য বর্তমানে থাইল্যান্ড, শ্রীলঙ্কা, নেপাল, ওমান, সংযুক্ত আরব আমিরাত, যুক্তরাষ্ট্র ও ফিলিপাইনসহ বিভিন্ন দেশে রপ্তানি হচ্ছে। উৎপাদন সক্ষমতা ও মান নিয়ন্ত্রণের স্বীকৃতি হিসেবে রিমার্ক আইএসও, সিজিএমপি, বিএসটিআই হালাল সার্টিফিকেশন এবং গ্রিন ফ্যাক্টরি অ্যাওয়ার্ড অর্জন করেছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
ঠাকুরগাঁওয়ে নাগরিক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন— সংঘাত নয়, সংঘর্ষ নয়, প্রতিশোধ নয়; আমরা ভালোবাসা এবং ভালোবাসার মধ্য দিয়ে সত্যিকার অর্থে একটা সমাজ গড়ে তুলতে চাই।
রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) বিকাল ৩টায় ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত নাগরিক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণের পর এটি তার নিজ জেলায় প্রথম আনুষ্ঠানিক সংবর্ধনা।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর উল্লেখ করেন, গণতন্ত্রের জন্য দীর্ঘ সংগ্রাম ও রক্তপাতের পর দেশ এক নতুন পথচলার সুযোগ পেয়েছে। আমাদের মূল দায়িত্ব হলো, এই গণতন্ত্রকে রক্ষা করা এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করা। রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকবে, তবে সংঘাত-সংঘর্ষে না জড়িয়ে পারস্পরিক আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে সুস্থ ধারার রাজনীতি চর্চা করতে হবে।
ঠাকুরগাঁওয়ের আঞ্চলিক ভাষায় উপস্থিত জনতার উদ্দেশে কথা বলতে গিয়ে আবেগে আপ্লুত হয়ে পড়েন রাষ্ট্রপতি। তিনি বলেন, মুই জানু তোমরা মোক ভালবাসেন। সুতরাং যতক্ষণ কাঁতা কহিম, তোমরা শুনিবেন। ঠিক না? উপস্থিত জনতা সমস্বরে ‘হ্যাঁ’ বলে উঠলে তিনি আবার জিজ্ঞেস করেন, ক্যাঙ্গাতি আছেন তোমরা বারে? ভালো আছেন তো?
এলাকার সার্বিক উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিয়ে রাষ্ট্রপতি জানান, ঠাকুরগাঁওয়ে ঘোষিত পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের জমির অধিগ্রহণ শেষ হয়েছে এবং দ্রুতই শিক্ষক নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু হবে। তিনি ঘোষণা দেন, আগামীকালই ইনশাআল্লাহ্ এই বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হবে। এছাড়া জেলায় মেডিকেল কলেজ স্থাপন, উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে খেলার মাঠ নির্মাণ, আধুনিক তথ্য কমপ্লেক্স, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের আঞ্চলিক কার্যালয় এবং শিবগঞ্জ বিমানবন্দর পুনরায় চালু করার বিষয়ে সরকারের গৃহীত নানা পদক্ষেপের কথা তুলে ধরেন রাষ্ট্রপতি।
স্থানীয় কর্মসংস্থান বাড়াতে ঠাকুরগাঁওয়ে কৃষিভিত্তিক শিল্প কারখানা গড়ে তোলার ওপর বিশেষ জোর দেন রাষ্ট্রপতি। তিনি যুবসমাজকে মাদকের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর পাশাপাশি চাকরি বা ঠিকাদারির ওপর নির্ভর না হয়ে নিজেরা উদ্যোক্তা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করার আহ্বান জানান।
দেশের রাজনীতিতে সহিষ্ণুতা ফেরানোর আহ্বান জানিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, গণতন্ত্রের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো ট্রলারেন্স বা সহিষ্ণুতা। বিভেদ ভুলে সবাই যেন এক বাংলাদেশি নাগরিক হিসেবে নিজ নিজ অধিকার নিয়ে বাঁচতে পারি, সেই পরিবেশ আমাদের তৈরি করতে হবে।
বক্তব্যের শেষভাগে নিজের শৈশব ও জন্মভূমির স্মৃতি স্মরণ করে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের পংক্তি উদ্ধৃত করে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল বলেন, মোর নাম এই বলে খ্যাত হোক, আমি তোমাদেরই লোক। জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত দেশ ও জনগণের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব এবং গণতন্ত্র রক্ষায় কাজ করে যাওয়ার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন তিনি।
বক্তব্যের শুরুতে রাষ্ট্রপতি মঞ্চে উপস্থিত মন্ত্রী, সংসদ সদস্য, বিশিষ্ট নাগরিক, সামরিক-বেসামরিক কর্মকর্তা, বীর মুক্তিযোদ্ধা, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কৃষক-শ্রমিক এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দকে ধন্যবাদ জানান। বিশেষ করে হিন্দু, মুসলমান, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টানসহ স্থানীয় রাজবংশী ও সনাতন ধর্মাবলম্বী ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর প্রতি শুভেচ্ছা জ্ঞাপন করেন তিনি। পাশাপাশি দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে অকুতোভয়ে পাশে থাকার জন্য নিজের সহধর্মিণীর প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ