ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

চাকরির সাক্ষাৎকারে নারীর কাছে এইচআরের প্রশ্ন, ‘শিগগিরই সন্তান নেবেন?’


চাকরির সাক্ষাৎকারে নারীর কাছে এইচআরের প্রশ্ন, ‘শিগগিরই সন্তান নেবেন?’

চাকরির সাক্ষাৎকারের সময় এক নারীকে তার পারিবারিক পরিকল্পনা সম্পর্কে প্রশ্ন করে বিব্রতকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছেন মানবসম্পদ বিভাগের (এইচআর) একজন প্রতিনিধি। ভারতের শাতাক্ষী দ্বিবেদী নামের ওই চাকরিপ্রত্যাশী নারীকে প্রশ্ন করা হয়, তিনি শিগগিরই সন্তান নেওয়ার পরিকল্পনা করছেন কি না। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘটনাটি তুলে ধরে নিয়োগপ্রক্রিয়ায় নারীদের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে প্রশ্ন তোলার প্রবণতার সমালোচনা করেছেন তিনি।

ইনস্টাগ্রামে প্রকাশিত এক ভিডিওতে দ্বিবেদী তার অভিজ্ঞতা বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, চাকরির সাক্ষাৎকারে তাকে করা সবচেয়ে অযৌক্তিক প্রশ্নগুলোর মধ্যে এটি অন্যতম।

দ্বিবেদী জানান, সাক্ষাৎকারের শুরুতে তার বাসস্থান এবং অফিসে যাতায়াতের সুবিধা-অসুবিধা নিয়ে আলোচনা হয়। তিনি নিশ্চিত করেন, অফিসে যাতায়াত করতে তার কোনো সমস্যা হবে না। তার স্বামীও একই এলাকায় যাতায়াত করেন, ফলে প্রয়োজনে তিনি স্বামীর সঙ্গে যাতায়াত করতে পারবেন।

আরও পড়ুন: কমিউনিটি ব্যাংকে চাকরির সুযোগ, বয়স ২৩ হলেই আবেদন করতে পারবেন

তবে কথোপকথনের একপর্যায়ে এইচআর প্রতিনিধি তাকে প্রশ্ন করেন, ‘একটা প্রশ্ন করতে আপনার আপত্তি নেই তো? আপনি শিগগিরই সন্তান নেওয়ার পরিকল্পনা করছেন না, তাই তো?’

প্রশ্নটি শুনে হতবাক হয়ে যান দ্বিবেদী। একই সঙ্গে নারীর ক্ষমতায়ন নিয়ে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রকাশ্য অবস্থান এবং বাস্তবে তাদের নিয়োগপ্রক্রিয়ার মধ্যে থাকা বৈপরীত্যের বিষয়টিও তিনি তুলে ধরেন।

দ্বিবেদী বলেন, ‘এরপর আমরা আবার কাচের ছাদ ভাঙার কথা বলি। এসব প্রতিষ্ঠানই নারীর ক্ষমতায়ন নিয়ে সবচেয়ে বেশি কথা বলে।’

তবে তিনি কোন প্রতিষ্ঠানে সাক্ষাৎকার দিয়েছেন, সে বিষয়ে কিছু জানাননি।

আরও পড়ুন: এসিআই মোটরসে চাকরির সুযোগ, আবেদন ১০ নভেম্বর পর্যন্ত

ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই নিজেদের অভিজ্ঞতা শেয়ার করেছেন। তাদের মধ্যে কেউ কেউ জানিয়েছেন, চাকরির সাক্ষাৎকারে তাদেরও বিয়ে, সন্তান নেওয়া এবং পারিবারিক পরিকল্পনা নিয়ে প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয়েছে।

এক ব্যবহারকারী লিখেছেন, ‘সাক্ষাৎকারে অবিবাহিত নারীদের জিজ্ঞেস করা হয়, কবে বিয়ে করবেন। বিবাহিত নারীদের জিজ্ঞেস করা হয়, কবে সন্তান নেবেন। সন্তান থাকলে জানতে চাওয়া হয়, কাজ আর সন্তান কীভাবে সামলাবেন। অর্থাৎ, ২২ বছর বয়স থেকে শুরু করে চাকরি ছাড়ার আগ পর্যন্ত, এমনকি ৫০ বছর বয়স পর্যন্ত এই দ্বিমুখী মানসিকতার সমাজে সাক্ষাৎকারে এমন প্রশ্ন চলতেই থাকবে।’

আরেক ব্যবহারকারী নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বলেন, ‘আমার সঙ্গেও এমন হয়েছে। তারা সরাসরি আমার সন্তান নেওয়ার পরিকল্পনা সম্পর্কে জানতে চেয়েছিল। ২০২৬ সালেও নারীদের এমন অস্বস্তিকর প্রশ্ন করা হচ্ছে।’

তৃতীয় এক ব্যবহারকারী মন্তব্য করেন, ‘জবাবটা এমন হওয়া উচিত ছিল, “দুঃখিত, আমার ব্যক্তিগত জীবনে হস্তক্ষেপ আমি মেনে নিই না।” অথবা শুধু স্থির দৃষ্টিতে তাকিয়ে চুপ থাকা উচিত।’

আরও পড়ুন: আকিজ বেকারসে চাকরির সুযোগ, গাজীপুরের টঙ্গীতে কর্মস্থল

ঘটনাটি আবারও চাকরির নিয়োগপ্রক্রিয়ায় নারীদের ব্যক্তিগত জীবন ও পারিবারিক পরিকল্পনা নিয়ে প্রশ্ন তোলার যৌক্তিকতা নিয়ে আলোচনা সামনে এনেছে। কর্মক্ষেত্রে নারীর সমান সুযোগ নিশ্চিত করার পাশাপাশি নিয়োগের ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত পছন্দ ও পেশাগত যোগ্যতার মধ্যে সীমারেখা বজায় রাখার বিষয়টিও গুরুত্ব পাচ্ছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ঢাকাকে পরিচ্ছন্ন রাখার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর, সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তাদের উৎসাহিত করলেন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৬:২৪ পি.এম


ঢাকাকে পরিচ্ছন্ন রাখার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর, সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তাদের উৎসাহিত করলেন

ঢাকা শহরকে পরিচ্ছন্ন, স্বাস্থ্যকর ও বাসযোগ্য করে তুলতে সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

তিনি বলেন, "সবার কথা বাদ দেন, নিজের সন্তানের জন্য একটি স্বাস্থ্যকর পরিবেশ, একটি স্বাস্থ্যকর শহর গড়ে তুলি। আসুন, আমরা সবাই মিলে সেই চেষ্টা করি।"

সোমবার (১৯ অক্টোবর) ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রধান কার্যালয় নগর ভবন পরিদর্শনকালে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধানমন্ত্রী এ আহ্বান জানান।

সন্তানের ভবিষ্যতের কথা বিবেচনা করে নগরীকে পরিচ্ছন্ন রাখার আহ্বান জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, "কেউ নিশ্চয়ই চান না তার সন্তান নোংরা, জীবাণুযুক্ত ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে বড় হোক। সন্তানের শুধু নিজের বাসার আশেপাশে থাকে না; স্কুল, কলেজ, খেলার মাঠসহ শহরের বিভিন্ন জায়গায় যাতায়াত করে। তাই শুধু নিজের এলাকা নয়, পুরো শহরকে পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে।"

তিনি আরও বলেন, "আপনার সন্তান তো শুধু আপনার এলাকায় থাকবে না। সে সারা ঢাকা শহরে বিচরণ করবে। কাজেই আসুন, আমরা সবাই মিলে চেষ্টা করি। চেষ্টা করলে আমরা পারব।"

প্রধানমন্ত্রী বলেন, "ঢাকা শহরের অন্যতম বড় সমস্যা আবর্জনা ও অপরিচ্ছন্নতা। এই সমস্যা এক দিনে বা সাত দিনে সমাধান করা সম্ভব নয়। তবে সবাই আন্তরিকভাবে চেষ্টা করলে ধীরে ধীরে পরিস্থিতির পরিবর্তন হবে।"

সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, "আপনারা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে এই সমস্যা সমাধানের সঙ্গে জড়িত। হয়তো সময় লাগবে, কিন্তু চেষ্টা করে গেলে পরিবর্তন আসবেই। আপনাদের মধ্যে সেই আত্মবিশ্বাস থাকতে হবে। সবচেয়ে বড় বিষয় হচ্ছে ইচ্ছা।"

কর্মকর্তাদেরও একইভাবে দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানিয়ে সরকার প্রধান বলেন, "আমি যখন যেখানে যাই, দেখতে থাকি— কোথায় কী সমস্যা আছে। তারপর সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ফোন করি। আপনারাও যদি এভাবে সমস্যাগুলো দেখেন এবং সমাধানে পদক্ষেপ নেন, তাহলে পরিবর্তন অবশ্যই সম্ভব।"

যুক্তরাজ্যের লন্ডন শহরের উদাহরণ টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, "৬০ বা ৭০-এর দশকে লন্ডনের অনেক জায়গাতেও ময়লা-আবর্জনা ছিল। কিন্তু দীর্ঘদিনের প্রচেষ্টা ও নাগরিক সচেতনতার মাধ্যমে তারা পরিস্থিতির পরিবর্তন করেছে।"

তিনি বলেন, "আপনারা অনেকেই হয়তো বিদেশের সুন্দর, পরিচ্ছন্ন শহর দেখেছেন। দেশে ফিরে নিশ্চয়ই আফসোস হয়েছে, আমাদের শহরটা যদি এমন হতো! কিন্তু সেই আফসোস করে বসে থাকলে হবে না। নিজেদের দায়িত্বও পালন করতে হবে।"

ঢাকার পরিচ্ছন্নতা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী দক্ষিণ কোরিয়ার একটি প্রতিষ্ঠানের কর্ণধারের সঙ্গে তার সাম্প্রতিক কথোপকথনের প্রসঙ্গ তুলে ধরেন।

প্রধানমন্ত্রী জানান, বাংলাদেশে দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসা করা দক্ষিণ কোরিয়ার একটি প্রতিষ্ঠানের একজন শীর্ষ ব্যক্তি সম্প্রতি তার সঙ্গে দেখা করেছেন। এ সময় ঢাকার পরিবর্তন সম্পর্কে জানতে চাইলে ওই ব্যক্তি প্রধানমন্ত্রীকে বলেছেন, "শহরের পরিচ্ছন্নতা আগের তুলনায় কিছুটা ভালো হয়েছে।"

প্রধানমন্ত্রী বলেন, "তিনি কিন্তু বলেননি অনেক পরিবর্তন হয়েছে। বলেছেন, কিছুটা ভালো হয়েছে। তার মানে পরিবর্তন সম্ভব। আমরা সবাই মিলে চেষ্টা করলে আরও ভালো করা যাবে।"

নগরীর বিভিন্ন সড়ক ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনার অবস্থা সম্পর্কে নিয়মিত খোঁজখবর নেওয়ার কথাও জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, "কোথাও সড়ক বিভাজক নতুন করে তৈরি হচ্ছে, কোথাও বর্জ্য স্থানান্তর কেন্দ্রের অবস্থার কিছুটা উন্নতি হয়েছে। এসব উদ্যোগ অব্যাহত রাখতে হবে।"

কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উদ্দেশে সরকার প্রধান বলেন, "আপনি আমার সমালোচনা করতেই পারেন। কিন্তু নিজের ভেতরেও নিজের সমালোচনা করতে হবে। ভাবতে হবে, আমি আমার দায়িত্ব কতটুকু সঠিকভাবে পালন করছি, কতটুকু চেষ্টা করছি।"

এর আগে, প্রধানমন্ত্রী নগর ভবনের জরুরি পরিচালন কেন্দ্র পরিদর্শন করেন। সেখানে তিনি আবহাওয়ার তথ্য, যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থার (ইউএসজিএস) ভূমিকম্প সংক্রান্ত হালনাগাদ তথ্য, বাতাসের গতিবেগ, বন্যার পূর্বাভাস এবং বায়ুর মান পর্যবেক্ষণের বিভিন্ন ওয়েবসাইট দেখেন। এসব তথ্য কীভাবে পর্যবেক্ষণ করা হয় এবং জরুরি পরিস্থিতি সম্পর্কে কীভাবে জানা যায়, সে বিষয়ে খোঁজখবর নেন।

এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রী ফেসবুক লাইভের মাধ্যমে নগরীর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করেন। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের নগর উন্নয়ন ও বিভিন্ন কার্যক্রম নিয়ে তৈরি একটি ভিডিওচিত্রও দেখেন তিনি।

এ সময় স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আবদুস সালাম, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন, স্থানীয় সরকার বিভাগের সিনিয়র সচিব শহীদুল হাসান উপস্থিত ছিলেন। সূত্র: বাসস

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

আইনমন্ত্রী: আমার দলের কেউ চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত নয়

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৬:২৪ পি.এম


আইনমন্ত্রী: আমার দলের কেউ চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত নয়

আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান মন্তব্য করেছেন, "অত্যন্ত গর্ব করে বলতে পারি, আমার দলীয় কোনো কর্মী কোনো প্রকার চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত নয়।"

তিনি সোমবার (১৯ অক্টোবর) সকাল ৮টার দিকে ঝিনাইদহের শৈলকুপায় উপজেলা দোকান মালিক সমিতি এবং অটো-ইজিবাইক ও সিএনজি শ্রমিক ইউনিয়নের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় এ বক্তব্য প্রদান করেন।

মো. আসাদুজ্জামান আরও বলেন, "শৈলকুপাসহ সারা দেশে আমরা তথাকথিত মব জাস্টিস বন্ধ করেছি। যারা ভিন্নমতের আছে তাদের বিরুদ্ধে মব জাস্টিস করার সুযোগ দেওয়া হবে না।"

মন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, "১৭ বছরে যে লুটপাট হয়েছে, যে অন্যায় হয়েছে, আমাদের প্রথম দিনের শপথ ছিল সব লুটপাট, সব অন্যায়, সব সন্ত্রাসীর বিরুদ্ধে আইনসঙ্গতভাবে ব্যবস্থা নেব। আমরা নিজেরা আইন নিজের হাতে তুলে নেব না।" তিনি বলেন, "সেই থেকে আজ পর্যন্ত শান্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে পেরে নিজেদেরকে গর্বিত মনে করছি।"

নিয়োগ প্রক্রিয়ায় দুর্নীতি সম্পর্কে মন্ত্রী জানান, "আগে টাকার বিনিময়ে নিয়োগ হতো। আমরা সেটা বন্ধ করেছি। এখানে যে শ্রম দিতে পারবে, যার দক্ষতা আছে, আমরা তাকে নিয়োগ দেওয়ার চেষ্টা করছি।"

তিনি আরও বলেন, "আপনারা বিশ্বাস রাখবেন মন্ত্রীর নামে যে বরাদ্দ আসবে, তার প্রত্যেকটা পাই-পয়সা বুঝিয়ে দেওয়া হবে। এখানে (শৈলকুপায়) আমার কোনো নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে কেউ চাঁদাবাজির অভিযোগ আনতে পারবে না। আমাদের দলীয় কোনো নেতাকর্মী চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িতও নয়।"

সভায় শৈলকূপা উপজেলা দোকান মালিক সমিতির সভাপতি আবু তালেব মিয়ার সভাপতিত্বে সঞ্চালনা করেন সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক সেলিম রেজা ঠান্ডু। এতে বক্তব্য দেন মেহেদী হাসান সবুজ, আবুল কালাম আজাদ, সাইদুর রহমান ও জাকির হোসেন মোল্লাসহ অন্যান্যরা।

সভায় স্থানীয় পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের নেতাদের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। এ সময় ব্যবসায়ী ও পরিবহন শ্রমিকদের বিভিন্ন সমস্যা, সুযোগ-সুবিধা এবং দাবি-দাওয়া নিয়ে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। উপস্থিত ব্যক্তিরা নিজেদের অভিজ্ঞতা ও প্রত্যাশার কথা তুলে ধরেন।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নেত্রকোনায় শিশুকে বলাৎকারের অভিযোগে মাদরাসা পরিচালক গ্রেপ্তার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৬:২৫ পি.এম


নেত্রকোনায় শিশুকে বলাৎকারের অভিযোগে মাদরাসা পরিচালক গ্রেপ্তার

নেত্রকোনার পূর্বধলায় একটি দোকানে কাজ করা এক শিশুকে নিজ কক্ষে ডেকে নিয়ে যৌন নির্যাতনের অভিযোগে পুলিশ একটি মাদরাসার পরিচালককে গ্রেপ্তার করেছে।

গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তির নাম আব্দুল্লাহ আল মামুন দুলাল (৫০)। স্থানীয়দের সহযোগিতায় রোববার (১৮ অক্টোবর) রাতে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এই ঘটনায় ভুক্তভোগী শিশুর পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দুলাল পূর্বধলা উপজেলার একটি মাদরাসার পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তার একটি ফার্মেসির দোকানও রয়েছে, যেখানে শিশুটি কাজ করত।

শিশুটির বাবার দায়ের করা অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, ঘটনার দিন রাতে ফার্মেসির কাজ শেষ করে শিশুটি বাড়ি ফিরে ঘুমিয়ে পড়ে। রাত আনুমানিক সাড়ে ৯টার দিকে দুলাল তাকে ডেকে নিজ শোবার ঘরে নিয়ে যান। সেখানে শিশুটির ইচ্ছার বিরুদ্ধে যৌন নির্যাতন করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, ঘটনার পর শিশুটি অসুস্থ হয়ে পড়লে পরিবারের সদস্যদের কাছে নির্যাতনের বিষয়টি জানায়। পরে ঘটনা জানাজানি হলে স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযুক্তকে আটক করে পুলিশকে খবর দেন।

খবর পেয়ে উপজেলা প্রশাসন ও পূর্বধলা থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। পরে অভিযুক্ত দুলালকে গ্রেপ্তার করা হয়। এদিকে, নির্যাতনের শিকার শিশুটিকে চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

পূর্বধলা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

পূর্বধলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। আইনি ব্যবস্থা গ্রহণে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করা হবে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও সামাজিক সুরক্ষা জোরদার সরকারের অর্থনৈতিক সংস্কারের প্রধান লক্ষ্য: ড. তিতুমীর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৬:২৫ পি.এম


কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও সামাজিক সুরক্ষা জোরদার সরকারের অর্থনৈতিক সংস্কারের প্রধান লক্ষ্য: ড. তিতুমীর

প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর মন্তব্য করেছেন যে, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, দারিদ্র্য বিমোচন, সামাজিক সুরক্ষা জোরদার এবং উৎপাদন খাতে বিনিয়োগ বৃদ্ধির মাধ্যমে দেশের অর্থনীতিকে শক্তিশালী করাই সরকারের অর্থনৈতিক সংস্কার কর্মসূচির প্রধান লক্ষ্য।

তিনি উল্লেখ করেন, উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া ভঙ্গুর অর্থনীতি, উচ্চ মূল্যস্ফীতি, বেকারত্ব এবং মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে সৃষ্ট জ্বালানি সংকটের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে সরকার কাজ করছে।

সোমবার (১৯ অক্টোবর) রাজধানীতে বাংলাদেশ তৈরি পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) ‘ইএসজি প্লাটফর্ম’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।

ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর আরও বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে বিভিন্ন সময়ে বড় অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলা করে নতুন আয়ের উৎস ও কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা হয়েছে। ১৯৭৫-পরবর্তী যুদ্ধবিধ্বস্ত অর্থনীতি, দুর্ভিক্ষ, উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও জ্বালানি সংকটের প্রেক্ষাপটে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান নতুন আয়ের উৎস ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির উদ্যোগ নিয়েছিলেন। পরবর্তী সময়ে মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার শাসনামলে নারীর আনুষ্ঠানিক শ্রমবাজারে অংশগ্রহণ বৃদ্ধির মাধ্যমে দারিদ্র্য বিমোচনে অগ্রগতি এসেছে।

তিনি আরও বলেন, বর্তমানে দেশের তরুণ ও শিক্ষিত জনগণের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কর্মসংস্থান, শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের বাইরে থাকা মানুষের মধ্যে নারীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্য। তাই কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে নারী ও তরুণদের অংশগ্রহণ বাড়ানো অত্যন্ত জরুরি।

উপদেষ্টা বলেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর কৃষিঋণ মওকুফ, ফ্যামিলি কার্ড চালু এবং শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে ব্যয় বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে। এসব কর্মসূচি নিম্ন আয়ের মানুষের জীবনযাত্রার চাপ কমাতে এবং সামাজিক সুরক্ষা জোরদার করতে ভূমিকা রাখবে।

তিনি জানান, স্বাধীন গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলোর মূল্যায়ন অনুযায়ী, পাঁচ বছর ধরে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা গেলে দরিদ্র মানুষের সংখ্যা অনেকটাই কমে আসবে। আগের সরকারের সময়ে কার্যকর পদক্ষেপের অভাবে বিপুলসংখ্যক মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে নেমে যাওয়ার বিষয়টিও তিনি উল্লেখ করেন।

অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা বলেন, বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাসে পার্থক্য রয়েছে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) পূর্বাভাস সাধারণত এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের তুলনায় কম এবং বিশ্বব্যাংকের পূর্বাভাস মাঝামাঝি পর্যায়ে থাকে। তবে সংস্কার কার্যক্রমের বাস্তবায়ন প্রবৃদ্ধির গতিপথ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণের বিষয়ে তিনি বলেন, এলডিসি থেকে উত্তরণে বাংলাদেশের প্রস্তুতির সময় বাড়ানোর প্রস্তাব নিয়ে সংশ্লিষ্ট আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আলোচনা এগোচ্ছে। অতীতে পর্যাপ্ত প্রস্তুতি না থাকার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে দেশীয় শিল্প ও অর্থনীতিকে প্রস্তুত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এ বিষয়ে ডেনমার্ক, ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং অন্যান্য উন্নয়ন সহযোগীদের সমর্থনের জন্য তিনি কৃতজ্ঞতা জানান।

ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, বর্তমান সরকার বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরিতে পাঁচটি ক্ষেত্রে গুরুত্ব দিচ্ছে। এগুলো হলো নীতির ধারাবাহিকতা, ব্যবসা পরিচালনার পরিবেশের উন্নয়ন, অর্থায়নের সুযোগ বৃদ্ধি, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং পণ্য পরিবহনে নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগব্যবস্থা নিশ্চিত করা।

তিনি জানান, করনীতিতে পাঁচ বছরের ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বন্ধ হয়ে যাওয়া শিল্পকারখানা চালু করতে ৬০ হাজার কোটি টাকার একটি সহায়তা প্যাকেজ ঘোষণা করা হয়েছে। এ প্যাকেজের আওতায় মূল্যস্ফীতির চেয়ে কম সুদে ঋণ দেওয়ার পরিকল্পনার কথাও তিনি জানান।

জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ, নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধান, তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) ও তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) সরবরাহ বাড়ানো এবং ভাসমান সংরক্ষণ ও পুনর্গ্যাসীকরণ ইউনিট (এফএসআরইউ) স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা বলেন, পণ্য পরিবহনের গতি বাড়ানো, রেল যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং চট্টগ্রাম-ঢাকা যোগাযোগ অবকাঠামো উন্নয়নের বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এসব উদ্যোগ ২০২৯ সালের মধ্যে সম্পন্ন করার প্রত্যাশা রয়েছে।

তিনি বলেন, উৎপাদনশীল খাতে বিনিয়োগ বাড়িয়ে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা গেলে করের হার না বাড়িয়েও অভ্যন্তরীণ সম্পদ আহরণ বাড়ানো সম্ভব হবে। এর মাধ্যমে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে ব্যয় বৃদ্ধি, দক্ষ মানবসম্পদ গঠন এবং সুস্থ জনগোষ্ঠী গড়ে তোলা সহজ হবে।

বিজিএমইএর উদ্যোগের প্রশংসা করে অর্থ উপদেষ্টা বলেন, পরিবেশগত, সামাজিক ও সুশাসন সংক্রান্ত মানদণ্ড অনুসরণ করলে শিল্প খাতে স্বচ্ছতা, দক্ষতা ও প্রতিযোগিতার সক্ষমতা বাড়বে। বৈশ্বিক বাজারে বাংলাদেশের উৎপাদন খাতের সক্ষমতা ও গ্রহণযোগ্যতা বাড়াতেও এ ধরনের উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশের চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ড. এম মাসরুর রিয়াজ এবং বাংলাদেশে ডেনমার্কের রাষ্ট্রদূত ক্রিশ্চিয়ান ব্রিক্স মোলার। সূত্র: বাসস

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%