মঙ্গলবার, ২৯শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৬:৪০ পি.এম
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু মন্তব্য করেছেন যে, বিএনপি হচ্ছে জনগণের দল এবং এটি জনবান্ধব একটি সংগঠন। তিনি উল্লেখ করেছেন, "বিএনপি যখন ক্ষমতায় আসে জনগণ ভালো থাকে, ভালো রাখার চেষ্টা করি আমরা।" প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, "বিগত একটি সরকার ছিল- ফ্যাসিস্ট সরকার। যারা খুন করেছে, গুম করেছে, হত্যা করেছে। শিশু বাচ্চাদের হত্যা করেছে, আলেমদেরকেও হত্যা করেছে।"
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে মানিকগঞ্জের দৌলতপুর উপজেলা পরিষদের হল রুমে বকনা ও পশুখাদ্য বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
তিনি বলেন, "জনগণ ঐক্যবদ্ধভাবে তাদেরকে বিতাড়িত করেছে। আজকে তারাও আবার বিভিন্ন রকম কথাবার্তা বলে, আসতে চায়। আরে ভাই আসবেন কেন? আপনার যে ফাঁসির রায় হয়েছে। ফাঁসি বাংলাদেশের জনগণ কার্যকর করতে চায়।" প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, "ফ্যাসিস্টরা যে পরিমাণ খুন করেছে, গুম করেছে, হত্যা করেছে তবুও কোনো অনুশোচনা নাই। কথায় কথায় বলে এর চাইতে ভয়ংকর হবে। তাহলে তো এবার বাংলাদেশের মানুষ ছেড়ে দেবে না। অনুশোচনা তো করবে- যে ভুল হয়েছে মাফ করে দেন। এই কথা না বলে, হুমকি-ধামকি দেয়। হুমকি ধামকি দিয়ে কি বাংলাদেশের জনগণকে রোধ করা যায়?"
তিনি আরও বলেন, "যতবার গণতন্ত্র হোঁচট খেয়েছে ততবার গণতন্ত্র রক্ষার জন্য বিএনপি আন্দোলন করেছে, সংগ্রাম করেছে। দেশরত্ন বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে স্বৈরাচারের পতন হয়েছে। আবার এই ফ্যাসিবাদের বিদায় আমাদের প্রিয় প্রধানমন্ত্রী দেশনায়ক তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশের সকল জনগণ ঐক্যবদ্ধভাবে ফ্যাসিস্টদের বিতাড়িত করেছে। কাজেই আজকে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। আপনারা ভোট দিয়ে নির্বাচিত করেছেন আমাদের।"
প্রতিমন্ত্রী বলেন, "সেই জনগণের সরকারকে এত সহজে কি ষড়যন্ত্র করে কোনো ক্ষতি কি করতে পারবে? আমাদেরকে সজাগ থাকতে হবে। আমাদেরকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। কোনো ষড়যন্ত্র যাতে এদেশে কেউ করতে না পারে। আমরা যদি সজাগ থাকি ষড়যন্ত্র করে কোনো লাভ হবে না।"
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, "প্রান্তিক জনগোষ্ঠী যদি স্বাবলম্বী হয় তাহলে দেশ অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হবে।" তিনি প্রধানমন্ত্রীর সব কাজে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান এবং সকল ষড়যন্ত্র রুখে দেওয়ার কথাও উল্লেখ করেন।
এ সময় অন্যান্যদের মধ্যে আরও বক্তব্য রাখেন মানিকগঞ্জ ১ আসনের সংসদ সদস্য এস এ জিন্নাহ কবীর, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. শাহজামান খানসহ জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তা ও স্থানীয় নেতাকর্মীরা।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম শহীদ আবু সাঈদের বাড়িতে নতুন ঘর নির্মাণ, তার মা-বাবার থাকার ব্যবস্থা এবং কবরস্থানের সৌন্দর্যবর্ধনে এক কোটি টাকা দেওয়ার ঘোষণা করেছেন।
তিনি মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সকালে রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার বাবনপুর গ্রামে আবু সাঈদের বাড়িতে গিয়ে এ ঘোষণা দেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, "বর্তমান সরকার কত সুন্দর সুন্দর কর্মসূচি হাতে নিয়েছে, সেগুলোকে সমর্থন না দিয়ে দেশের পরিস্থিতি অস্বাভাবিক করার চেষ্টা চালানো হচ্ছে। কোনো অপতৎপরতাই কাজে আসবে না, সরকার তার নিজস্ব গতিতেই চলবে।"
এ সময় শহীদ আবু সাঈদের বাড়ি ও কবর সৌন্দর্য বর্ধন করার জন্য এক কোটি টাকা দেওয়ার ঘোষণা দিয়ে তিনি উল্লেখ করেন, "উত্তরাঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের অবহেলা ও বঞ্চনা দূর করতে সরকার কাজ করছে। আবু সাঈদের আত্মত্যাগ শুধু ইতিহাসের অংশ নয়, এটি তরুণ সমাজ ও ছাত্র-জনতার জন্য অনুপ্রেরণা। তার আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে যে আন্দোলন সারা দেশের মানুষকে রাজপথে নামিয়েছিল, তা ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে থাকবে।"
শহীদ আবু সাঈদের স্মৃতি সংরক্ষণ প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, "আবু সাঈদ গণ-অভ্যুত্থানের বীর। আমরা আবু সাঈদকে ছড়িয়ে দিতে চাই। তার বাড়ির উন্নয়ন ও কবরস্থানের সৌন্দর্যবর্ধনে ঘোষিত এক কোটি টাকার কাজ জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করা হবে। এ জন্য জেলা প্রশাসককে নকশা তৈরির নির্দেশ দেওয়ার কথাও বলেন তিনি।"
উত্তরাঞ্চলের মানুষের জন্য সরকারের বিভিন্ন কর্মসূচির কথা তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, "একটি রাজনৈতিক দল বেহেশতের কথা বলে ভোট নিয়েছে, কিন্তু মসজিদ, মাদরাসা, ইমাম, মুয়াজ্জিন ও ধর্মীয় শিক্ষকদের নিয়ে চিন্তা করেনি। তাদের নিয়ে চিন্তা করেছেন তারেক রহমান।"
প্রতিমন্ত্রী ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, ইমাম-মুয়াজ্জিনদের সম্মানী, স্বাস্থ্য কার্ড, খাল খনন, কর্মসংস্থান, খেলাধুলার উন্নয়নসহ বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন।
ফ্যামিলি কার্ড প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রীর ভাষ্য, "এটি কোনো নির্দিষ্ট শ্রেণির মানুষের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। পর্যায়ক্রমে দেশের চার কোটি পরিবারের নারী প্রধানকে এ কর্মসূচির আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে। একইভাবে আগামী চার বছরে প্রায় ২ কোটি ১০ লাখ কৃষককে কৃষক কার্ড দেওয়ার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।"
কৃষকদের ভূমিহীন, প্রান্তিক, মধ্যম ও উচ্চপর্যায়ের বিভিন্ন শ্রেণিতে বিবেচনা করে কার্ড দেওয়া হবে। এ জন্য তাদের তদবিরের প্রয়োজন হবে না বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী।
ইমাম-মুয়াজ্জিনদের সম্মানীর বিষয়ে মীর শাহে আলম বলেন, "দেশের প্রায় সাড়ে তিন লাখ মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন, খাদেমসহ ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের সম্মানী দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।"
ইতোমধ্যে বিভিন্ন এলাকায় পাইলট প্রকল্প হিসেবে এ কার্যক্রম শুরু হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, "প্রতি মাসের প্রথম সপ্তাহে ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খাদেমদের মোবাইল অ্যাকাউন্টে সম্মানীর অর্থ পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।"
জ্বালানি সংকট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, "আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধসহ বিভিন্ন কারণে তেল-গ্যাসের বাজারে সংকট তৈরি হয়েছে। এ পরিস্থিতির জন্য সরকার দুঃখ প্রকাশ করেছে এবং সাময়িক অসুবিধার কথা জানিয়েছে। বিশ্ববাজারে তেলের দাম কমলে দেশের বাজারেও দাম কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে।"
বিরোধীদের আন্দোলন প্রসঙ্গে মীর শাহে আলম বলেন, "লংমার্চ করে কখনও সমস্যার সমাধান হবে না। আপনাদের কোনো সুনির্দিষ্ট মতামত থাকলে সংসদে দাঁড়িয়ে কথা বলুন। একই সঙ্গে সরকারের সফলতা-ব্যর্থতা মূল্যায়নের জন্য সময় দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।"
এ সময় জেলা পরিষদ প্রশাসক ও রংপুর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক সাইফুল ইসলাম, রংপুর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মাহফুজুন্নবীর ডনসহ প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
যশোরের মণিরামপুরে স্ত্রীর পরকীয়া সম্পর্কের কারণে আব্দুল্লাহ মিথুন (২৮) নামের এক যুবকের ঝুলন্ত মরদেহ তার নিজ বাড়ি থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। মৃত্যুর আগে তিনি মোবাইল ফোনের মাধ্যমে প্রতিবেশীকে তার স্ত্রীর বিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করেছিলেন বলে জানা যায়।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) রাত ১১টার দিকে কাশিমনগর ইউনিয়নের মান্দারতলায় তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহত আব্দুল্লাহ মিথুন মশিয়ার রহমানের ছেলে এবং পেশায় নির্মাণশ্রমিক ছিলেন। নিহতের পরিবার এই ঘটনাকে হত্যাকাণ্ড বলে উল্লেখ করেছে।
স্থানীয় সূত্র ও পরিবারের তথ্য অনুযায়ী, ১০ বছর আগে আব্দুল্লাহর মধুপুর গ্রামের সাথীর (২৬) সঙ্গে পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়। তাদের দুটি ছেলেসন্তান রয়েছে, বয়স ৬ ও ৪ বছর। আব্দুল্লাহর প্রতিবেশী সুমন চার বছর আগে মালয়েশিয়ায় চলে যান। সম্প্রতি দেশে ফিরে ছুটি কাটিয়ে তিন মাস আগে পুনরায় মালয়েশিয়ায় ফিরে যান তিনি। এই সময়ের মধ্যে সাথী সুমনের সঙ্গে পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়েন। বিষয়টি জানার পর স্ত্রীকে ফেরাতে ব্যর্থ হয়ে আব্দুল্লাহ নিজেই কাজী অফিসে গিয়ে সাথীকে সুমনের সঙ্গে বিয়ে দেন। কাবিননামায় সাক্ষী হিসেবেও তিনি স্বাক্ষর করেন।
নিহতের মা রওশনারা অভিযোগ করেছেন, "বউয়ের মানসিক চাপে আমার ছেলে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিল। রোববার রাতে তাদের মধ্যে ঝগড়া হয়। কিছুক্ষণ পর বউ এসে বলে আমার ছেলে আত্মহত্যা করেছে। আমার ধারণা, তাকে মেরে পরে মরদেহ আড়ার সঙ্গে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে।"
নিহতের ঘনিষ্ঠ বন্ধু ও পল্লিচিকিৎসক মুবাশশের আল মুবিন জানিয়েছেন, ঘটনার তিন দিন আগে আব্দুল্লাহর মন খারাপ ছিল। তিনি ফোনে কান্নাকাটি করে ক্ষমা চাচ্ছিলেন এবং ব্ল্যাকমেলের শিকার হয়ে দুই সন্তানের মুখের দিকে তাকিয়ে নিজের স্ত্রীকে নিজে বিয়ে দেওয়ার কথা জানিয়েছিলেন।
স্ত্রী সাথী অভিযোগ করেছেন, "আমার স্বামী নিজেই সুমনকে ফোন করে আমার দায়িত্ব নিতে বলে এবং চাপ দিয়ে রাজি করায়। পরে গত ১৬ সেপ্টেম্বর নওয়াপাড়ার একটি কাজী অফিসে নিয়ে আমাদের বিয়ে দেয় এবং সে নিজেই সাক্ষী হিসেবে স্বাক্ষর করে। ঘটনার রাতে এ নিয়ে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে ও গলায় গামছা জড়িয়ে আত্মহত্যা করে।"
তবে বিদেশে থাকায় অভিযুক্ত সুমনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। সুমনের ভগ্নিপতি রাকিব হোসেন দাবি করেছেন, আব্দুল্লাহর মৃত্যুর পর তারা বিষয়টি জেনেছেন এবং সুমন বিয়ের বিষয়টি অস্বীকার করেছে।
মণিরামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু সাঈদ জানিয়েছেন, আত্মহত্যার খবর পেয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। মরদেহের শরীরে আঘাতের কোনো চিহ্ন পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
গুগল ম্যাপসে সঠিক গন্তব্য খুঁজে পাওয়ার জন্য রাস্তার নাম ভুল হলে তা সংশোধন করার পাশাপাশি নতুন রাস্তার নাম যুক্ত করার সুযোগ রয়েছে। এই কারণে অনেক ব্যবহারকারী অচেনা স্থান বা শহরে নির্দিষ্ট গন্তব্যে যাওয়ার জন্য গুগল ম্যাপসকে ব্যবহার করেন।
যদিও ব্যবহারকারীদের দেওয়া তথ্য যাচাই করে প্রকাশ করা হয়, তবুও কখনো কখনো ভুল তথ্য গুগল ম্যাপসে স্থান পেয়ে যায়। চীনের বেইজিংয়ে গে ইউলু নামের একজন ব্যক্তি ভুল তথ্য দিয়ে নিজের নামে রাস্তার নামকরণ করতে উদ্যত হন।
২০১৩ সালে বেইজিংয়ের চাওইয়াং এলাকায় একটি রাস্তার নামের সাইনবোর্ড না থাকার কারণে বিষয়টি গে ইউলুর দৃষ্টিগোচর হয়। প্রশাসনিক জটিলতার কারণে সাইনবোর্ডটি বসানো সম্ভব হয়নি। এরপর গে ইউলু নিজেই একটি সাইনবোর্ড তৈরি করে সেখানে স্থাপন করেন। সাইনবোর্ডে রাস্তার নাম লেখা হয় ‘গে ইউ লু’। চীনা ভাষায় ‘লু’ শব্দের অর্থ রাস্তা এবং এটি গে ইউলুর নামেরও অংশ। ফলে স্থানীয়দের কাছে সাইনবোর্ডে লেখা নামটি অস্বাভাবিক মনে হয়নি। সরকারি সাইনবোর্ডের মতো দেখতে হওয়ায় অনেকেই সেটিকে প্রকৃত রাস্তার নাম হিসেবে গ্রহণ করেন।
গে ইউলুর তৈরি সাইনবোর্ডটির প্রভাব সম্পর্কে হয়তো তিনি নিজেও ভাবেননি। ২০১৫ সালের মধ্যে ‘গে ইউ লু’ নামটি সরকারি নথিতে অন্তর্ভুক্ত হয়ে যায়। এরপর নামটি বিভিন্ন মানচিত্র ও নেভিগেশন সেবায় ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে গুগল ম্যাপসে রাস্তার নামটি দেখা যায়। পরে বিষয়টি ধরা পড়লে সাইনবোর্ডটি সরিয়ে ফেলা হয় এবং বিভিন্ন মানচিত্রে রাস্তার নাম সংশোধন করা হয়। তবে এর আগে গে ইউলু কয়েক বছর ধরে নিজের নামে একটি রাস্তার নাম সরকারি নথি ও অনলাইন মানচিত্রে থাকার বিরল অভিজ্ঞতা অর্জন করেন।
অনলাইন মানচিত্রে রাস্তার নাম পরিবর্তন বা নতুন রাস্তা যুক্ত করার ক্ষেত্রে সরকারি সংস্থার তথ্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে ব্যবহারকারীদেরও তথ্য সংশোধন বা নতুন তথ্য যোগ করার সুযোগ রয়েছে। গুগল ম্যাপসে প্লাস (+) আইকনে ক্লিক করে ব্যবহারকারীরা ভুল রাস্তার নাম সংশোধনের প্রস্তাব দিতে পারেন। মানচিত্রে কোনো রাস্তা না থাকলে সেটিও যোগ করার সুযোগ রয়েছে। তবে ব্যবহারকারীদের দেওয়া তথ্য সরাসরি মানচিত্রে প্রকাশ করা হয় না। ভুল বা ভুয়া তথ্য প্রতিরোধের জন্য গুগল মানবকর্মীর পাশাপাশি মেশিন লার্নিং প্রযুক্তি ব্যবহার করে এসব তথ্য যাচাই করে।
গে ইউলুর দেওয়া রাস্তার নাম চীনের জনপ্রিয় মানচিত্র সেবা বাইদু ম্যাপসেও নথিভুক্ত হয়েছিল। রাস্তার নামের তথ্য যাচাইয়ের ক্ষেত্রে বাইদু মানুষ ও স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তি ব্যবহার করে। তবে গে ইউলুর তৈরি সাইনবোর্ডটি সরকারি সাইনবোর্ডের মতো হওয়ায় এটি ভুয়া, বিষয়টি যাচাইয়ের সময় ধরা পড়েনি বলে ধারণা করা হয়। বাইদু ম্যাপসে নামটি যুক্ত হওয়ার পর সেটি অন্যান্য মানচিত্র সেবাগুলোতেও ছড়িয়ে পড়ে। অ্যাপল ম্যাপস, গুগল ম্যাপস ও অটোনাভির মতো সেবাতেও একসময় ‘গে ইউ লু’ নামটি দেখা যায়।
সূত্র: বিজিআর ডটকম
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
গর্ভধারণের পরিকল্পনা থাকলে প্রতিদিনের সকালের কফি একেবারে বাদ দেওয়ার প্রয়োজন নেই—এমন একটি বিষয়। তবে, কতটা ক্যাফেইন গ্রহণ করা হচ্ছে, সে বিষয়ে নজর রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে, যদি একাধিক কাপ কফি, চা বা অন্যান্য ক্যাফেইনযুক্ত পানীয় নিয়মিত পান করা হয়, তাহলে পরিমাণের হিসাব রাখা প্রয়োজন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, গর্ভধারণের চেষ্টা করার সময় প্রতিদিনের ক্যাফেইন গ্রহণ ২০০ মিলিগ্রামের মধ্যে রাখা উচিত। কারণ কেবল কফি বা চা থেকেই নয়, বিভিন্ন খাবার, পানীয় এবং কিছু খাদ্য-পরিপূরকের মাধ্যমেও শরীরে ক্যাফেইন প্রবাহিত হতে পারে।
ক্যাফেইন কি গর্ভধারণের ক্ষমতায় প্রভাব ফেলে?
ক্যাফেইন এবং গর্ভধারণের ক্ষমতার সম্পর্ক নিয়ে গবেষণার ফলাফল সব ক্ষেত্রে একরকম নয়। প্রজনন চিকিৎসাবিষয়ক আমেরিকান সংগঠনের তথ্য অনুযায়ী, পরিমিত ক্যাফেইন—যেমন দিনে প্রায় এক থেকে দুই কাপ কফির সমপরিমাণ—গর্ভধারণের ক্ষমতার ওপর উল্লেখযোগ্য নেতিবাচক প্রভাব ফেলে, এমন শক্ত প্রমাণ নেই।
তবে, অতিরিক্ত ক্যাফেইন গ্রহণের সঙ্গে গর্ভধারণের ক্ষমতা কমে যাওয়ার সম্পর্ক কিছু গবেষণায় দেখা গেছে। বিশেষ করে, দিনে প্রায় ৫০০ মিলিগ্রাম ক্যাফেইন গ্রহণের ক্ষেত্রে এমন সম্পর্ক পাওয়া গেছে।
তাহলে, এক কাপ কফি পান করলে গর্ভধারণে সমস্যা হবে—এমনটি বলা যায় না। মূল বিষয় হলো দীর্ঘদিন ধরে অতিরিক্ত ক্যাফেইন গ্রহণ না করা।
গর্ভধারণের আগে ক্যাফেইন কমানোর পরামর্শ কেন?
ক্যাফেইন একটি উদ্দীপক পদার্থ। কফি, চা, কোমল পানীয়, শক্তিবর্ধক পানীয়, চকোলেট এবং কিছু খাদ্য-পরিপূরকেও ক্যাফেইন থাকতে পারে।
গর্ভধারণের চেষ্টা করার সময় পরিমিত ক্যাফেইন সাধারণত বড় উদ্বেগের কারণ নয়। তবে, অতিরিক্ত ক্যাফেইন এড়িয়ে চলার একটি কারণ হলো, গর্ভধারণের প্রথম দিকে অনেক নারী বুঝতেই পারেন না যে তারা গর্ভবতী হয়েছেন। তাই আগে থেকেই ক্যাফেইনের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে রাখা সুবিধাজনক।
গর্ভাবস্থায় সাধারণত প্রতিদিন ২০০ মিলিগ্রামের বেশি ক্যাফেইন না নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। অতিরিক্ত ক্যাফেইন গ্রহণের সঙ্গে গর্ভপাতসহ কিছু গর্ভাবস্থাজনিত ঝুঁকির সম্পর্কও পাওয়া গেছে।
কফির বদলে চা বা সবুজ চা কি ভালো?
কফির পরিবর্তে চা পান করলে অনেক ক্ষেত্রে ক্যাফেইন গ্রহণের পরিমাণ কমতে পারে। তবে, চা পুরোপুরি ক্যাফেইনমুক্ত নয়। কালো চা ও সবুজ চা—দুটিতেই ক্যাফেইন থাকে।
চায়ের ধরন, কতটা পাতা ব্যবহার করা হচ্ছে এবং কতক্ষণ পানিতে রাখা হচ্ছে, তার ওপর ক্যাফেইনের পরিমাণ পরিবর্তিত হতে পারে। তাই, দিনে কয়েক কাপ কফি বা চা পান করার অভ্যাস থাকলে ধীরে ধীরে কিছু কাপ ক্যাফেইনমুক্ত পানীয় দিয়ে তা প্রতিস্থাপন করা যেতে পারে।
প্যাকেটজাত পানীয় বা খাদ্য-পরিপূরক কেনার সময়ও সতর্ক থাকা দরকার। প্যাকেটের গায়ে থাকা তথ্য দেখে এতে ক্যাফেইন আছে কি না এবং থাকলে কতটা আছে, তা জেনে নেওয়া ভালো।
তাহলে, গর্ভধারণের পরিকল্পনা করলেই কফি পুরোপুরি বাদ দেওয়ার প্রয়োজন নেই। তবে, প্রতিদিনের মোট ক্যাফেইনের পরিমাণ হিসাব করে তা পরিমিত রাখা গুরুত্বপূর্ণ।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ