বৃহস্পতিবার, ২৩শে জুলাই, ২০২৬ ইং
১০:৩৯ পি.এম
ভেসপা। সেই বাহনটি এখন প্রায় বিলুপ্তির পথে। দেখতে অনেকটা এই যুগের স্কুটির মতো।
ইতালির মোটর যানটি এই দেশে ৬০-৭০ দশকে জনপ্রিয়তা পায়। ৯০দশকে সেই জনপ্রিয়তার ভাটা পড়ে। বিশেষ করে মোটর সাইকেল সহজলভ্য হয়ে পড়ায় ভেসপার চাহিদা কমে যায় বলে জানা যায়।
কুমিল্লা নগরী ও জেলায় ৬০ এর দশকের প্রথম দিকে ভেসপা ব্যবহার শুরু করেন বিত্তবান সৌখিন পরিবারের সদস্যরা। নিভু নিভু করে টিকে থাকা সেই ভেসপার ভিড় এখন দেখা যায় নগরীর কাপ্তান বাজার এলাকায় আলী আক্কাসের মেকানিক দোকানে।
সূত্র জানায়, কুমিল্লায় ৬০এর দশকে কুমিল্লায় ভেসপা আমদানি করেন পরিবহন ব্যবসায়ী মাস্টার নিজাম উদ্দিন আহমেদের বড় ছেলে কামাল উদ্দিন আহমেদ। তবে এর বেশি ক্রেতা ছিলো চট্টগ্রামের লোকজন। প্রথম দিকে কুমিল্লায় ৪-৫টি ভেসপা থাকলেও ধীরে ধীরে তা দুইশ’ ছাড়িয়ে যায়। ৯০ দশক পর্যন্ত ভেসপার সেই দাপট বহাল ছিলো। শহরে উল্লেখযোগ্য ভেসপা ছিলো ঠাকুরপাড়ার প্রয়াত ব্যবসায়ী আবদুল হাকিম মজুমদারের, চক বাজারের ডিলার বাবর মিয়ার ছেলে খোকনের, সাতোরার ছানু মিয়া চেয়ারম্যানের ও মো. সেলিমের, ফৌজদারির আতাউর রহমান এসডিও'র ছেলে বাবরের, ধর্মপুরের আবদুল হালিমের। ৬০ দশকে ফ্যাশনেবল ভেসপা চালাতেন শাসনগাছা এলাকার মাস্টার নিজাম উদ্দিন আহমেদের মেঝ ছেলে কামাল উদ্দিন আহমেদ, তার ভেসপার সিটে লাগানো ছিলো বাঘের চামড়া, নিচের অংশে ছিলো হরিণের চামড়া। ৭০দশকে ফ্যাশনাবল ভেসপা চালাতেন তার ভাগ্নে তালপুকুর পাড়ের জামিল আহমেদ খন্দকার। তার ভেসপা চালানো দেখতে অনেকে সড়কের পাশে এসে দাঁড়াতেন। তার ভেসপা ছিল বিশেষ ডেকোরেশন করা। এতে বিশেষ সাউন্ড সিস্টেম লাগানো ছিলো।
ব্যবসায়ী মাস্টার নিজাম উদ্দিন আহমেদের ছেলে জসিম উদ্দিন আহমেদ বলেন, বড় ভাই জামাল উদ্দিন আহমেদ ভেসপা আমদানি করেন। তার ছোটজন কামাল উদ্দিন আহমেদ ছিলেন সৌখিন ভেসপা চালক। তার ভেসপায় বাঘ ও হরিণের চামড়া লাগানো থাকতো। সেটি গোপনে ১৯৬২ সালের দিকে প্রথম চালনা শুরু করেন। নিজে কিনেন ৭০ দশকের দিকে। আমার সেই ভেসপা এখনও সচল রয়েছে। এটি এখন কাপ্তান বাজারের মেকানিক আলী আক্কাসের নিকট মেরামত করি। জেলায় আর কোন মেকানিক শপ নেই। পাশের জেলা থেকেও এখানে লোকজন ভেসপা মেরামত করতে আসেন।
জামিল আহমেদ খন্দকার বলেন, তারুণ্যের সেই দিন গুলো এখনও মনে পড়ে। ভেসপা ছিলো আমাদের তারুণ্যের সৌখিন বাহন। বয়সের কারণে এখন অনিয়মিত চালাই।
কুমিল্লা নগরীর একমাত্র ভেসপা মেকানিক আলী আক্কাস বলেন, ১৯৬৫সালের দিকে ১০বছর বয়সে পুলিশ লাইন এলাকায় কেনু মিয়ার নিকট কাজ শিখি। বেবি টেক্সি দিয়ে কাজ শেখা শুরু করি। মোটর সাইকেলও মেরামত করতাম। শেষে ভেসপা মেরামতের কাজ শুরু করি। এখন শুধু ভেসপা মেরামত করি।
লাকসাম থেকে এক সময় চান মিয়া, সুরুজ মিয়া ও রহিম মিয়াও ভেসপা মেরামত করতে কুমিল্লায় নিয়ে আসতেন। এখনও ২৫-৩০টি ভেসপা টিকে আছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ২৩ জুলাই, ২০২৬ : বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান মন্তব্য করেছেন, যে বৈষম্যমুক্ত ও ন্যায়-ইনসাফের সমাজ প্রতিষ্ঠা, সর্বোপরি খুন, গুম, হত্যা, সন্ত্রাস, নৈরাজ্য ও আয়নাঘর থেকে মুক্তির জন্যই জুলাই এসেছিল।
তিনি আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজধানীর মিরপুর-১০ এলাকায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী উত্তর মিরপুর জোন আয়োজিত এক জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনায় গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের দাবি জানান।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আওয়ামী ফ্যাসিবাদ দেশ ও জাতির ঘাড়ে জগদ্দল পাথরের মতো চেপে বসেছিল।
৭ জানুয়ারি নির্বাচনের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ ৫ বছরের জন্য ক্ষমতা বুকিং- এর পর অনেকের মধ্যে হতাশা সৃষ্টি হয়েছিল। তবে আল্লাহ তা’য়ালা তার রহমত থেকে তাদের হতাশ হতে নিষেধ করেছেন। এরপরই জুলাই দেশ ও জাতির মুক্তির পয়গাম নিয়ে এসেছিল। মূলত, জুলাই এসেছিল ঘূর্ণিঝড় হয়ে। আর এ ঝড়েই ফ্যাসিবাদকে তছনছ করে তাসের ঘরের মতো উড়িয়ে দিয়েছিল।
শেখ হাসিনার দেশে ফেরার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, দেশ ছেড়ে পালানোর পর তিনি ‘এই আসলাম’ বলে এসেছেন প্রতিনিয়ত। এভাবে তিনি ১৩ বার ফেল করেছেন।
শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরার আহ্বান জানিয়ে বলেন, আসুন, যুব সমাজ অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে। তারা ফাঁসির রশি নিয়ে প্রস্তুত। তিনি জুলাই গণহত্যার বিচারের বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।
তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমান সরকার ও সংসদ জুলাই বিপ্লবের ফসল। তাই সরকারের প্রতি জুলাই বিপ্লবের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানানো জরুরি। তিনি উল্লেখ করেন, জুলাই গণহত্যার বিচারের দাবি জানাতে গিয়ে বলেন, শুধু বিচার নয় বরং জুলাই যোদ্ধাদের সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় সম্মানে ভূষিত করতে হবে। আহত ও পঙ্গুত্ববরণকারী যোদ্ধাদের সুচিকিৎসার ব্যবস্থা এবং তারা যাতে সম্মানজনকভাবে বাঁচতে পারেন, সে ব্যবস্থা নিতে হবে সরকারকেই।
তিনি চলতে থাকেন, জুলাই শহীদদের জাতীয় বীরের মর্যাদা দিতে হবে। তাদের পরিবারে সদস্যদের প্রতি যথাযথ রাষ্ট্রীয় সম্মান প্রদর্শন জরুরি। কারণ, জুলাই যোদ্ধারা জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান। তিনি দাবি জানান, সরকারের প্রতি যেন জুলাই শহীদদের নামে মিরপুরসহ রাজধানীর বিভিন্ন স্থাপনা ও সড়কের নামকরণ করা হয়। যাতে তাদের স্বজনরা তাদের জন্য গর্ববোধ করতে পারেন।
মহানগরী উত্তরের আমির মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিনের সভাপতিত্বে এবং কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য মাহফুজুর রহমানের পরিচালনায় সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন ব্যারিস্টার মীর আহমেদ বিন কাসেম আরমান এমপি, কর্নেল (অব.) আব্দুল বাতেন এমপি, শহীদ মাহফুজুর রহমানের পিতা আব্দুল মান্নান, শহীদ সাংবাদিক হাসান মেহেদীর পিতা মোশাররফ হোসেন, সাবেক সংসদ সদস্য মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য অধ্যাপক হারুন অর রশীদ খান এবং উত্তরের নায়েবে আমির আব্দুর রহমান মূসা প্রমুখ।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ায় বৈশ্বিক মুদ্রাস্ফীতির আশঙ্কা জোরালো হয়ে উঠেছে। একই সঙ্গে চলতি বছরে যুক্তরাষ্ট্রে সুদের হার বৃদ্ধির প্রত্যাশাও বাড়তে শুরু করেছে। এই অবস্থার ফলস্বরূপ বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম দু শতাংশের বেশি কমেছে। আগের দিন দুই সপ্তাহের সর্বোচ্চ অবস্থানে পৌঁছানোর পরে এই দরপতনটি দেখা যায়।
গত বুধবার ৭ জুলাইয়ের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে ওঠার পর স্পট স্বর্ণের দাম ২.১ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৪১ দশমিক ৫৯ ডলারে নেমে আসে। এসময় আগস্ট সরবরাহের জন্য মার্কিন স্বর্ণের ফিউচার ২.৬ শতাংশ কমে দাঁড়ায় প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৪৩ দশমিক ৫০ ডলারে।
এদিকে মার্কিন ডলারের মূল্য ০.৩ শতাংশ বেড়েছে। ফলে বিদেশি ক্রেতাদের জন্য ডলারে মূল্য নির্ধারিত স্বর্ণ কেনা আরও ব্যয়বহুল হয়ে উঠেছে। একই সঙ্গে ১০ বছর মেয়াদি মার্কিন ট্রেজারি নোটের ইল্ড ১ শতাংশের বেশি বেড়ে এক বছরেরও বেশি সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।
আমেরিকান গোল্ড এক্সচেঞ্জের বাজার বিশ্লেষক জিম উইকফ বলেছেন, অপরিশোধিত তেলের উচ্চ দাম মুদ্রাস্ফীতির উদ্বেগ বাড়িয়ে দিয়েছে। এতে ধারণা তৈরি হয়েছে যে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো সহজে সুদের হার কমাতে পারবে না। এর ফলে বন্ডের ইল্ড বেড়েছে যা স্বর্ণ ও রুপার মতো মূল্যবান ধাতুর জন্য নেতিবাচক। কারণ এসব ধাতু থেকে কোনো ইল্ড পাওয়া যায় না।
এদিকে ইয়েমেনের হুথিরা দুটি সৌদি তেল ট্যাঙ্কারে হামলার দাবি করার পর ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম মে মাসের শেষের পর প্রথমবারের মতো ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারে পৌঁছেছে। এতে হরমুজ প্রণালীর বাইরেও বৈশ্বিক তেল সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, তেলের উচ্চ মূল্য দীর্ঘ সময় ধরে সুদের হার বেশি থাকার সম্ভাবনা বাড়িয়ে দিয়েছে। আর উচ্চ সুদের হার সাধারণত কোনো সুদ না দেয়া সম্পদ হিসেবে স্বর্ণের আকর্ষণ কমিয়ে দেয়।
এখন বিনিয়োগকারীদের নজর রয়েছে মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভের পরবর্তী সুদের হার সিদ্ধান্তের দিকে। আগামী সপ্তাহে দুই দিনব্যাপী নীতি নির্ধারণী বৈঠক শেষে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের চেয়ারম্যান কেভিন ওয়ার্শের বক্তব্যও বাজারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হবে।
সিএমই ফেডওয়াচ টুলের তথ্যমতে, ব্যবসায়ীরা সেপ্টেম্বরে ফেডের সুদের হার বৃদ্ধির সম্ভাবনা এখন প্রায় ৮০ শতাংশ হিসেবে বিবেচনা করছেন। বুধবার এই সম্ভাবনা ছিল ৬৮ শতাংশ।
জিম উইকফ বলেছেন, বাজারের প্রত্যাশা হলো আগামী সপ্তাহে সুদের হারে কোনো পরিবর্তন হবে না। তবে ফেডের বক্তব্যে কঠোর নীতির ইঙ্গিত থাকতে পারে। আবার প্রত্যাশার বাইরে ফেড যদি নমনীয় বা আরও কঠোর অবস্থান নেয়, তাহলে বাজারে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া দেখা যাবে।
অন্য মূল্যবান ধাতুর বাজারেও দরপতন হয়েছে। স্পট রুপার দাম ৪.৩ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৫৭ দশমিক ১৫ ডলারে নেমেছে। প্ল্যাটিনামের দাম ৩.১ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৫৯৩ দশমিক ১৭ ডলারে এবং প্যালাডিয়ামের দাম ২.৮ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ১ হাজার ২৫৫ ডলারে নেমেছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
লক্ষ্মীপুরের চন্দ্রগঞ্জে পুলিশের একটি অভিযানে এক মাদক কারবারির বাড়ি থেকে উদ্ধার করা হয়েছে একটি বিদেশি পিস্তল, একটি ম্যাগাজিন, চার রাউন্ড গুলি, ছুরি এবং মাদক সেবনের বিভিন্ন সরঞ্জাম। তবে অভিযানের সময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে অভিযুক্ত পালিয়ে যায়, ফলে তাকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) সন্ধ্যায় উপজেলার হাজিরপাড়া ইউনিয়নের পূর্ব আলাদাদপুর গ্রামের একটি বাড়িতে আবুল হোসেনের ছেলে সাকিব হোসেনের ঘরে গোপন সূত্রের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করে পুলিশ।
চন্দ্রগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবদুর রব জানিয়েছেন, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে জানা যায়, চিহ্নিত মাদক কারবারি সাকিব হোসেনের কাছে অস্ত্র আছে। তার বাড়িতে অভিযান পরিচালনা করা হলে, পুলিশ আসার খবরে তিনি পালিয়ে যেতে সক্ষম হন।
ওসি আরও জানান, পরে তার ঘরে তল্লাশি চালিয়ে উদ্ধার হয় একটি বিদেশি পিস্তল, একটি ম্যাগাজিন, চার রাউন্ড গুলি, বিভিন্ন ধরনের ছুরি এবং মাদক সেবনের অন্যান্য সরঞ্জাম।
তিনি বলেন, এ ঘটনায় অস্ত্র আইনে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলমান রয়েছে। পাশাপাশি পলাতক সাকিব হোসেনকে গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
অতিরিক্ত ভাবে, সাকিব হোসেনের বিরুদ্ধে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও চন্দ্রগঞ্জ থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের অধীনে মোট ছয়টি মামলা চলমান রয়েছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
উন্নয়নের নামে যেন একটি নির্মম প্রহসন ঘটেছে। সরকারি অর্থে প্রায় ৫০ লাখ টাকার ব্যয়ে নির্মিত নগরপাড়া বাজার থেকে খালের সেতু পর্যন্ত ঢালাই সড়কটি উদ্বোধনের পর মাত্র এক মাসের মধ্যেই বিভিন্ন স্থানে ধসে পড়েছে। একই সাথে, সড়কের বাজার অংশে কোনো পানি নিষ্কাশনের ড্রেনেজ বা পাইপলাইন না থাকায় পুরো এলাকা স্থায়ী জলাবদ্ধতায় পরিণত হয়ে গেছে। এর ফলে নগরপাড়া, কাজীবাড়ি, পূর্বপাড়া, পশ্চিমপাড়া ও আশপাশের অন্যান্য কয়েকটি গ্রামের প্রায় ৭ হাজার মানুষ চরম দুর্ভোগে রয়েছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, নির্মাণকাজে নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহারের পাশাপাশি পরিকল্পনার অভাবের কারণে এত অল্প সময়ের মধ্যে সড়কটি ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। বৃষ্টির পানি ও বাজারের ময়লা-আবর্জনা জমে গিয়ে সড়কটি এখন দুর্গন্ধযুক্ত জলাশয়ে পরিণত হয়েছে। সামান্য বৃষ্টিতেই পুরো এলাকা পানিতে তলিয়ে যায়, যার কারণে শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী, দিনমজুর এবং সাধারণ মানুষের চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
দুর্নীতির খেসারত দিচ্ছেন সাধারণ মানুষ। এলাকা বাসীদের দাবি, যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নের উদ্দেশ্যে প্রকল্পটির গ্রহণ করা হলেও বাস্তবে কাজ হয়েছে অত্যন্ত নিম্নমানের। অভিযোগ রয়েছে যে, যথাযথ মান বজায় না রেখে নামমাত্র ইটের খোয়া ও ঢালাইয়ের কাজ করে প্রকল্পের বড় একটি অংশের অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে। সড়কের পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় দীর্ঘদিন ধরে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে এবং পচা পানিতে চলাচল করতে গিয়ে শিশু-বৃদ্ধসহ অনেকেই চর্মরোগে আক্রান্ত হয়েছেন।
জরুরি প্রয়োজনে কোনো রোগীকে হাসপাতালে নেওয়ার জন্য অ্যাম্বুলেন্স বা অন্যান্য যানবাহন গ্রামে প্রবেশ করতে পারে না। অনেক সময় মুমূর্ষু রোগীদের খাটিয়া বা কাঁধে করে মূল সড়কে এনে হাসপাতালে নিতে হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দা বিল্লাল হোসেন বলেন, "রাস্তার নিচে পানি যাওয়ার জন্য কোনো পাইপ দেওয়া হয়নি। ফলে ভেতরের পুরো রাস্তা পানিতে ডুবে থাকে। এতে মানুষের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে।"
ব্রাইট শিশু কানন হাই স্কুলের শিক্ষার্থী রাহিদ ও রাশিদ জানায়, "প্রতিদিন এই নোংরা পানি মাড়িয়ে স্কুলে যেতে হয়। আমাদের পায়ে চুলকানি ও বিভিন্ন ধরনের চর্মরোগ দেখা দিয়েছে।"
ব্যবসায়ী আবুল হাশেম বলেন, "দোকানের ভেতরে পানি ঢুকে ব্যবসার ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে। এভাবে চললে ব্যবসা টিকিয়ে রাখা কঠিন হয়ে পড়বে।"
ক্ষোভে ফুঁসছে এলাকাবাসী। স্থানীয়দের অভিযোগ, বারবার সংশ্লিষ্ট দপ্তরে অভিযোগ জানিয়েও কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তারা অবিলম্বে নিম্নমানের নির্মাণকাজের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ, ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক পুনর্নির্মাণ এবং স্থায়ী ড্রেনেজ ও পাইপলাইন নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন। অন্যথায় কঠোর আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তারা।
এ বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলী আক্তার হোসেন বলেছেন, ‘বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাইফুল ইসলাম জয় বলেন, ‘আমি বিষয়টি জেনেছি। দ্রুত সমস্যার সমাধানে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ