প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ায় বৈশ্বিক মুদ্রাস্ফীতির আশঙ্কা জোরালো হয়ে উঠেছে। একই সঙ্গে চলতি বছরে যুক্তরাষ্ট্রে সুদের হার বৃদ্ধির প্রত্যাশাও বাড়তে শুরু করেছে। এই অবস্থার ফলস্বরূপ বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম দু শতাংশের বেশি কমেছে। আগের দিন দুই সপ্তাহের সর্বোচ্চ অবস্থানে পৌঁছানোর পরে এই দরপতনটি দেখা যায়।
গত বুধবার ৭ জুলাইয়ের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে ওঠার পর স্পট স্বর্ণের দাম ২.১ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৪১ দশমিক ৫৯ ডলারে নেমে আসে। এসময় আগস্ট সরবরাহের জন্য মার্কিন স্বর্ণের ফিউচার ২.৬ শতাংশ কমে দাঁড়ায় প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৪৩ দশমিক ৫০ ডলারে।
এদিকে মার্কিন ডলারের মূল্য ০.৩ শতাংশ বেড়েছে। ফলে বিদেশি ক্রেতাদের জন্য ডলারে মূল্য নির্ধারিত স্বর্ণ কেনা আরও ব্যয়বহুল হয়ে উঠেছে। একই সঙ্গে ১০ বছর মেয়াদি মার্কিন ট্রেজারি নোটের ইল্ড ১ শতাংশের বেশি বেড়ে এক বছরেরও বেশি সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।
আমেরিকান গোল্ড এক্সচেঞ্জের বাজার বিশ্লেষক জিম উইকফ বলেছেন, অপরিশোধিত তেলের উচ্চ দাম মুদ্রাস্ফীতির উদ্বেগ বাড়িয়ে দিয়েছে। এতে ধারণা তৈরি হয়েছে যে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো সহজে সুদের হার কমাতে পারবে না। এর ফলে বন্ডের ইল্ড বেড়েছে যা স্বর্ণ ও রুপার মতো মূল্যবান ধাতুর জন্য নেতিবাচক। কারণ এসব ধাতু থেকে কোনো ইল্ড পাওয়া যায় না।
এদিকে ইয়েমেনের হুথিরা দুটি সৌদি তেল ট্যাঙ্কারে হামলার দাবি করার পর ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম মে মাসের শেষের পর প্রথমবারের মতো ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারে পৌঁছেছে। এতে হরমুজ প্রণালীর বাইরেও বৈশ্বিক তেল সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, তেলের উচ্চ মূল্য দীর্ঘ সময় ধরে সুদের হার বেশি থাকার সম্ভাবনা বাড়িয়ে দিয়েছে। আর উচ্চ সুদের হার সাধারণত কোনো সুদ না দেয়া সম্পদ হিসেবে স্বর্ণের আকর্ষণ কমিয়ে দেয়।
এখন বিনিয়োগকারীদের নজর রয়েছে মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভের পরবর্তী সুদের হার সিদ্ধান্তের দিকে। আগামী সপ্তাহে দুই দিনব্যাপী নীতি নির্ধারণী বৈঠক শেষে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের চেয়ারম্যান কেভিন ওয়ার্শের বক্তব্যও বাজারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হবে।
সিএমই ফেডওয়াচ টুলের তথ্যমতে, ব্যবসায়ীরা সেপ্টেম্বরে ফেডের সুদের হার বৃদ্ধির সম্ভাবনা এখন প্রায় ৮০ শতাংশ হিসেবে বিবেচনা করছেন। বুধবার এই সম্ভাবনা ছিল ৬৮ শতাংশ।
জিম উইকফ বলেছেন, বাজারের প্রত্যাশা হলো আগামী সপ্তাহে সুদের হারে কোনো পরিবর্তন হবে না। তবে ফেডের বক্তব্যে কঠোর নীতির ইঙ্গিত থাকতে পারে। আবার প্রত্যাশার বাইরে ফেড যদি নমনীয় বা আরও কঠোর অবস্থান নেয়, তাহলে বাজারে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া দেখা যাবে।
অন্য মূল্যবান ধাতুর বাজারেও দরপতন হয়েছে। স্পট রুপার দাম ৪.৩ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৫৭ দশমিক ১৫ ডলারে নেমেছে। প্ল্যাটিনামের দাম ৩.১ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৫৯৩ দশমিক ১৭ ডলারে এবং প্যালাডিয়ামের দাম ২.৮ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ১ হাজার ২৫৫ ডলারে নেমেছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন