বৃহস্পতিবার, ১৩ই আগস্ট, ২০২৬ ইং
১২:২৭ পি.এম
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিএনপির অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক সমীকরণ নতুন করে তৈরি হয়েছে। দলে একাধিক সূত্রের দাবি, বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে রাষ্ট্রপতি করার সিদ্ধান্ত প্রায় চূড়ান্ত হতে চলেছে। যদি তিনি রাষ্ট্রপতি হন, তাহলে দলটির মহাসচিব পদটি শূন্য হয়ে যাবে। এই পরিস্থিতিতে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের পাশাপাশি এখন সবচেয়ে বেশি আলোচনা হচ্ছে— মির্জা ফখরুলের স্থানে বিএনপির পরবর্তী মহাসচিব হিসেবে কে থাকছেন?
আজ বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর অফিসে বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। ওই বৈঠকেই রাষ্ট্রপতি পদে দলের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এক্ষেত্রে মহাসচিব পদে সম্ভাব্য নেতৃত্ব নিয়ে আলোচনা প্রাধান্য পাচ্ছে।
এই পদে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছেন দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তার সঙ্গে স্থায়ী কমিটির সদস্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের নামও এই আলোচনায় চলে এসেছে।
রিজভীই কি এগিয়ে থাকার সম্ভাবনা?
বিএনপির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, মহাসচিব যদি কোনো কারণে দায়িত্ব পালনে অনুপস্থিত হন বা অক্ষম হন, তবে সিনিয়র পর্যায়ের একজন নেতা সাময়িকভাবে দায়িত্ব পালন করতে পারেন। সেই দিক থেকে মির্জা ফখরুল রাষ্ট্রপতি হলে অনেক নেতা মনে করছেন যে রুহুল কবির রিজভী এগিয়ে থাকবেন।
দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির রাজনৈতিক কর্মসূচি, সাংগঠনিক কার্যক্রম এবং গণমাধ্যমে দলের বক্তব্য তুলে ধরার ক্ষেত্রে যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছেন রিজভী। আন্দোলন সংগ্রামে সক্রিয় থাকা এবং মাঠপর্যায়ের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে তার যোগাযোগও সফলতায় বড় বিষয় হিসেবে ধরা হচ্ছে।
তবে মহাসচিব পদ নিয়ে দলের ভেতরে পূর্ণ একমত নেই সবাই। স্থায়ী কমিটির কয়েকজন প্রবীণ নেতা মনে করছেন, মহাসচিব একটি গুরুত্বপূর্ণ নীতিনির্ধারণী পদ। এই কারণে যদি স্থায়ী কমিটির কোনো সদস্যকে দায়িত্ব দেওয়া হয়, তাহলে দলের নীতিনির্ধারণী কাঠামো ও সাংগঠনিক কার্যক্রমের মধ্যে সমন্বয় আরও কার্যকর হবে।
এই দিক থেকে সালাহউদ্দিন আহমদের নামও আলোচনায় রয়েছে।
গঠনতন্ত্রে কী আসে
বিএনপির গঠনতন্ত্রে ‘ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব’ নামের কোনো স্থায়ী পদ নেই। সুতরাং, যদি মির্জা ফখরুল রাষ্ট্রপতি হন, তাহলে তার স্থানে কাউকে সাময়িক দায়িত্ব দেওয়া হবে কি না, অথবা সরাসরি নতুন মহাসচিব নির্বাচন করা হবে— এই সবকিছু দলীয় সিদ্ধান্তের উপর নির্ভর করবে।
দলের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, মহাসচিব জাতীয় কাউন্সিলের মাধ্যমে নির্বাচিত হন। তাই স্থায়ীভাবে নতুন মহাসচিব নির্বাচন করতে হলে কাউন্সিলের বিষয়টিও সামনে আসবে। এর আগে সাংগঠনিক প্রয়োজন বিবেচনা করে অস্থায়ী কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে কি না, তা নিয়েও আলোচনা চলছে।
এই বিষয়ে রুহুল কবির রিজভী গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, তিনি এ বিষয়ে এখনও কিছু জানেন না। তিনি মন্তব্য করেছেন, ‘প্রধানমন্ত্রী এ বিষয়ে ভালো জানেন।’
রাষ্ট্রপতি নির্বাচন কেন গুরুত্বপূর্ণ?
আজ ১৩ আগস্ট রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন। ফলে আজই পরিষ্কার হয়ে যেতে পারে বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি কে হচ্ছেন। এর ফলে আরও সামনে চলে আসবে বিএনপির পরবর্তী মহাসচিবের সম্ভাব্য নামও।
মির্জা ফখরুলকে রাষ্ট্রপতি করার বিষয়টিকে কেবল একজন ব্যক্তিকে বঙ্গভবনে পাঠানোর সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখছেন না সংশ্লিষ্টরা। বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার মধ্যে ভারসাম্য বা ‘চেক অ্যান্ড ব্যালেন্স’ প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি রয়েছে। সেই সঙ্গে, দলটি জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের কথাও বলছে।
বর্তমান সংবিধানে রাষ্ট্রপতির বেশিরভাগ দায়িত্ব প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শের উপর নির্ভরশীল। তাই রাষ্ট্রপতির পদটি এখন অনেকটাই আনুষ্ঠানিক। তবে জুলাই জাতীয় সনদে রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা ও দায়িত্ব বাড়ানোর প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে বঙ্গভবনের ভূমিকা ভবিষ্যতে আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
সে কারণে রাষ্ট্রপতি পদে কে দায়িত্ব নিচ্ছেন, এটি আর শুধু আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত নয়। এটা ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রব্যবস্থা, রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার ভারসাম্য এবং সাংবিধানিক কাঠামোর দিক থেকেও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
দলের সংশ্লিষ্ট নেতাদের মতে, এমন পরিস্থিতিতে রাষ্ট্রপতি পদে একটি রাজনৈতিকভাবে অভিজ্ঞ, দলের প্রতি আস্থাশীল এবং সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনে গ্রহণযোগ্যতা বজায় রাখতে সক্ষম একজনের প্রয়োজন।
কেন মির্জা ফখরুল?
এখন পর্যন্ত মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বিএনপির মহাসচিব হিসেবে এক দশকের বেশি সময় ধরে দায়িত্ব পালন করছেন। তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি সংসদ সদস্যও ছিলেন এবং সরকারের প্রতিমন্ত্রী ও মন্ত্রী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।
রাজনৈতিক জীবনের মামলাসমেত গ্রেপ্তার ও কারাবরণের পাশাপাশি কঠিন সময়েও তিনি নেতৃত্বের সঙ্গে সমন্বয় করে নেতা-কর্মীদের সংগঠিত রাখতে সক্ষম ছিলেন। সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার কাছেও তিনি আস্থাভাজন হিসেবে পরিচিত ছিলেন।
দলীয় সংশ্লিষ্টদের মতে, রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, দীর্ঘদিনের সাংগঠনিক ভূমিকা এবং দলের ভেতরে গ্রহণযোগ্যতার প্রশ্নগুলো বিবেচনায় রেখেই রাষ্ট্রপতি পদে মির্জা ফখরুলের নাম গুরুত্ব পাচ্ছে।
সামনে স্থানীয় সরকার নির্বাচন, কাউন্সিল
মহাসচিবের পদটি দ্রুত পূরণের প্রয়োজনীয়তাও রয়েছে বিএনপির সামনে। স্থানীয় সরকার নির্বাচন, দলীয় কর্মসূচি, আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকার প্রেক্ষাপটে নতুন রাজনৈতিক সমীকরণের পরিস্থিতি এবং দলের কাউন্সিল— সব মিলিয়ে সামনে রয়েছে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি।
এই কারণে মহাসচিবের মতো গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক পদটি দীর্ঘ সময় শূন্য রাখার সুযোগ নেই, এমনটিই মনে করছেন দলের নেতা-কর্মীরা।
রুহুল কবির রিজভীকে ঘিরে দলটির ভেতরে মতবিরোধ থাকলেও তার দীর্ঘ রাজনৈতিক ত্যাগ, আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা এবং নেতা-কর্মীদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগকে ইতিবাচক দিক হিসেবে দেখছেন অনেকে। অন্যদিকে, স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদের পক্ষে থাকা নেতারা নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের সঙ্গে সাংগঠনিক নেতৃত্বের সমন্বয়ের বিষয়টি সামনে নিয়ে আসছেন।
অতএব, শেষ পর্যন্ত মহাসচিব পদে কে আসছেন, সে বিষয়টি বিএনপির অভ্যন্তরীণ আলোচনাও বর্তমানে বেশ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
ঠাকুরগাঁও-১ আসনেও নতুন হিসাব
যদি মির্জা ফখরুল রাষ্ট্রপতি হন, তাহলে তার সংসদীয় আসন ঠাকুরগাঁও-১ শূন্য হয়ে যাবে। সেই ক্ষেত্রে সংবিধান ও নির্বাচনি আইনের নির্দিষ্ট বিধান অনুযায়ী আসনটিতে উপনির্বাচনের আয়োজন করতে হবে নির্বাচন কমিশনকে।
এ আসনে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে স্থানীয় বিএনপি নেতাদের পাশাপাশি মির্জা ফখরুলের বড় মেয়ে ড. শামারুহ মির্জার নামও স্থানীয়ভাবে আলোচনায় এসেছে। গত জাতীয় নির্বাচনে বাবার সমর্থনে প্রচারে সক্রিয় ছিলেন তিনি। তবে তাকে প্রার্থী করার বিষয়ে বিএনপির কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত এখনো নেই।
সব মিলিয়ে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিএনপির সামনে একাধিক সমীকরণ তৈরি হয়েছে। মির্জা ফখরুল রাষ্ট্রপতি হলে মহাসচিবের পদ শূন্য হবে, নতুন নেতৃত্বের প্রশ্ন সামনে আসবে। একই সঙ্গে জুলাই জাতীয় সনদের সম্ভাব্য সাংবিধানিক পরিবর্তন বাস্তবায়ন হলে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার ভারসাম্য নতুন গুরুত্ব পেতে পারে। আরও, ঠাকুরগাঁও-১ আসনে সম্ভাব্য উপনির্বাচন ঘিরে রাজনৈতিক হিসাব তৈরি হবে।
অর্থাৎ, রাষ্ট্রপতি নির্বাচন বিএনপির জন্য একজন প্রার্থী বাছাইয়ের প্রশ্ন নয়; বরং এর সঙ্গে সংযুক্ত রয়েছে দলের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব, সাংগঠনিক কাঠামো এবং দেশের ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ কিছু প্রশ্ন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ১৩ আগস্ট, ২০২৬ : বিচার প্রার্থীদের জন্য সময়, অর্থ ও হয়রানি কমানোর লক্ষ্যে চতুর্থ পর্যায়ে দেশের আরও ১২টি জেলায় ইলেকট্রনিক জামিননামা বা ই-বেইলবন্ডের কার্যক্রম উদ্বোধন করা হয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার সকালে আইন মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত এক ভার্চুয়াল অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে যুক্ত হয়ে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান এ কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।
নতুন করে ই-বেইলবন্ড সিস্টেমের অন্তর্ভুক্ত ১২টি জেলা হলো— টাঙ্গাইল, কিশোরগঞ্জ, মুন্সীগঞ্জ, রাঙ্গামাটি, কক্সবাজার, চাঁদপুর, জামালপুর, সিরাজগঞ্জ, বাগেরহাট, পটুয়াখালী, হবিগঞ্জ এবং ঠাকুরগাঁও।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘আইনের সুশাসন প্রতিষ্ঠা করাই আমাদের মূল লক্ষ্য। আগে একটি জামিননামা আদালত থেকে কারাগার পর্যন্ত পৌঁছাতে ১২টি জটিল ধাপ পার করতে হতো। এখন আইনজীবীরা তাদের চেম্বার বা যেকোনো স্থানে বসেই স্মার্টফোনের মাধ্যমে এক ক্লিকে ই-বেইলবন্ড জমা দিতে পারবেন। সাথে সাথে মোবাইলে ওটিপি ও কনফার্মেশন চলে আসবে।’
উনি জানান, নারায়ণগঞ্জে প্রথম পরীক্ষামূলক চালুর পর দ্বিতীয় ধাপে দেশের ৮টি জেলা এবং তৃতীয় ধাপে বগুড়াসহ ৭টি জেলা নিয়ে মোট ১৬টি জেলায় ইতোমধ্যে ই-বেইলবন্ড সফলভাবে চালু করা হয়েছে। এসব জেলায় ইতোমধ্যে ১ লাখ ২০ হাজার ই-বেইলবন্ড নিষ্পত্তি করা হয়েছে।
নতুন ১২টি জেলা যুক্ত হওয়ার ফলে এ সুবিধার আওতায় আসার পাশাপাশি বিচারিক গতি বহুগুণ বাড়বে বলে জানান আইনমন্ত্রী।
মন্ত্রী মামলার জট নিরসনে বিচারকদের উৎসাহিত করে আরও বলেন, আগামী এক বছরের মধ্যে যেসব জেলা জুডিশিয়াল অ্যাক্টিভিজম ও বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তির মাধ্যমে মামলার সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে কমাতে পারবে, আইন মন্ত্রণালয় থেকে এর জন্য বিশেষ পুরস্কারের ব্যবস্থা করা হবে।
অনুষ্ঠানে আইন ও বিচার বিভাগের সচিব লিয়াকত আলী মোল্লা সভাপতির বক্তব্য রাখেন এবং মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব খাদেমুল কায়েস স্বাগত বক্তব্য রাখেন।
এছাড়া অনুষ্ঠানে পটুয়াখালীর সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ মো. শহিদুল্লাহ্, কক্সবাজারের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ শফিউল আযম, চাঁদপুর জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি মো. শামসুল ইসলাম এবং ঠাকুরগাঁও কারাগারের জেল সুপার মো. মাসুদুর রহমান ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে ই-বেইলবন্ড কার্যক্রমের বিষয়ে বক্তব্য দেন।
বক্তারা বলেন, এ যুগান্তকারী পদক্ষেপের ফলে বিশেষ করে প্রত্যন্ত ও দূরবর্তী অঞ্চলের বিচারপ্রার্থীদের ভোগান্তি কমবে। পাশাপাশি বিচার বিভাগে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত হবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
চট্টগ্রামের লালদীঘি জেলা পরিষদ ভবনে অবস্থিত অগ্রণী ব্যাংক পিএলসির লালদীঘি পূর্ব করপোরেট শাখার ক্যাশ ভল্ট থেকে ৪ কোটি ৩৮ লাখ টাকা উধাও হওয়ার অভিযোগ উত্থাপিত হয়েছে।
ব্যাংকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বিপুল পরিমাণ এই অর্থের ‘ঘাটতি’ বিশাল পরিসরে পাওয়া গেছে। ব্যাংক উল্লেখ করেছে যে, টাকা বিভিন্ন গ্রাহকের আমানতের অংশ বলে জানা গেছে। এ ঘটনার প্রেক্ষিতে দায়ের করা মামলায় ব্যাংকের সিনিয়র অফিসার ও ক্যাশ ইনচার্জ মো. কামরুল হোসেন (৪১) এবং ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারী নন মো. জাফরুল্লাহ তানভীর নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং তাঁদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।
এরই মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে যে, ৪ কোটি ৩৮ লাখ টাকা যদি সত্যিই ভল্ট থেকে সরানো হয়ে থাকে, তবে এত বিপুল অর্থের ঘাটতি এক বছরেরও বেশি সময় ধরে কেন শনাক্ত করা হলো না? জমা ও ভোল্টের হিসাব প্রতিদিন কে যাচাই করতেন? শাখা ব্যবস্থাপনার উপর নজর কোথায় ছিল?
কোতোয়ালি থানায় দায়ের করা মামলার নম্বর হলো ২২/৪৩৮। মামলায় দণ্ডবিধির ৪০৮, ৪২০ ও ৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। মামলার বাদী হলেন অগ্রণী ব্যাংক পিএলসি লালদীঘি পূর্ব করপোরেট শাখার জেনারেল ম্যানেজার মোস্তাক আহমেদ (৫৮)। মামলায় কামরুল হোসেন ও জাফরুল্লাহ তানভীরের নাম উল্লেখ করে আরও অজ্ঞাত কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে। এই মামলাটি তদন্ত করছেন কোতোয়ালি থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. ইকবাল হোসেন। উল্লেখ্য, কামরুল হোসেন ওই শাখার ক্যাশ ও ভল্টের দায়িত্ব পালন করতেন।
৯ আগস্ট নিয়মিত ব্যাংকিং কার্যক্রম ও লেনদেন সম্পন্ন হওয়ার পর নগদ অর্থের হিসাব ও ভল্টে রাখা নগদ অর্থের হিসাব মিলানোর সময় গরমিল ধরা পড়ে। এরপর অনুষ্ঠিত হিসাব-নিকাশ, ভল্টের হিসাব, সংশ্লিষ্ট রেকর্ডপত্র ও নথি যাচাই করে ৪ কোটি ৩৮ লাখ টাকার ঘাটতি পাওয়া যায় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, কামরুল হোসেনকে ঘাটতির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি সন্তোষজনক কোনো জবাব দিতে পারেননি। পরে ব্যাংক পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে যে, জাফরুল্লাহ তানভীরসহ অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের সহায়তায় তিনি ব্যাংকের ভল্ট থেকে টাকা সরিয়ে ব্যবসায় বিনিয়োগ করেছেন।
মামলার দ্বিতীয় আসামি জাফরুল্লাহ তানভীরের বাবা আজিম উল্লাহ ব্যাংকের এজাহারে থাকা বক্তব্যের সঙ্গে সম্পূর্ণ ভিন্নমত পোষণ করেছেন। তিনি বলেন, আমার ছেলে কোনো ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারী নয়, অগ্রণী ব্যাংকের লালদীঘি শাখার গ্রাহকও নয়। সে আগে থেকেই গরুর খামারের ব্যবসা করে। অথচ তাকে ব্যাংকের ৪ কোটি ৩৮ লাখ টাকা আত্মসাতের মামলায় জড়ানো হয়েছে। আমার ছেলের কাছে এত টাকা দেওয়ার কোনো ব্যাংক রেকর্ড বা প্রমাণও দেখানো হয়নি।
তিনি আরও জানান, ৯ আগস্ট রাত ১টারদিকে আমার স্ত্রীর মোবাইলে ব্যাংক থেকে ফোন করে বলা হয়, আমার ছেলে লালদীঘি ব্যাংকে আটক আছে। টাকা নিয়ে যেতে বলা হলেও কীসের টাকা, কত টাকা— কিছুই পরিষ্কার করে বলা হয়নি। আমার ছেলে ফোনে কথা বলতে পারেনি। এর আগে ক্যাশ ইনচার্জ কামরুল হোসেনই অন্যদিনের মতো আমার ছেলেকে ফোন করে ডেকে নিয়ে যান। রাতেই আমরা সাত-আটজন আত্মীয়স্বজন নিয়ে ব্যাংকে যাই। কিন্তু ব্যাংকের লোকজন আমাদের ভিতরে ঢুকতে দেয়নি। পরে আমরা কোতোয়ালি থানায় গিয়ে ওসিকে বিষয়টি জানাই। পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে রাত আনুমানিক ২টার দিকে আবার ব্যাংকে গেলে প্রথমে আমাদের ঢুকতে দেওয়া হয়নি। পরে পুলিশ কৌশলে ব্যাংকে প্রবেশ করে আমার ছেলেসহ কামরুল হোসেনকে থানায় নিয়ে যায়। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা দরকার। ব্যাংকের ভল্টে যদি ১ জুন ২০২৫ থেকে ৯ আগস্ট ২০২৬ পর্যন্ত সময়ের মধ্যে ৪ কোটি ৩৮ লাখ টাকার ঘাটতি তৈরি হয়ে থাকে, তাহলে এতদিন বিষয়টি ব্যাংকের নিয়মিত হিসাব ও তদারকিতে ধরা পড়েনি কেন? তাদের দাবি, একটি ব্যাংকের দৈনন্দিন লেনদেন শেষ হওয়ার পর ক্যাশ ও ভল্টের হিসাব মেলানোর নিয়ম রয়েছে। তাহলে এক বছরের বেশি সময় ধরে এত বড় অঙ্কের অর্থের ঘাটতি কীভাবে অজানা থাকল— এ প্রশ্নের উত্তরও তদন্তে বের করা প্রয়োজন।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কোতোয়ালি থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. ইকবাল হোসেন বলেন, গ্রাহকের ৪ কোটি ৩৮ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে করা মামলায় এজাহারনামীয় দুই আসামি কামরুল হোসেন ও জাফরুল্লাহ তানভীরকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তাঁদের কাছ থেকে দুটি মোবাইল ফোন, হোয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগ ও তথ্যের রেকর্ডসহ ৬৪ জিবির একটি পেনড্রাইভ জব্দ করা হয়েছে। মামলাটি তদন্তাধীন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
শিশুদের জন্য পরিকল্পনা করা চ্যারিটি প্রোগামের মাধ্যমে কোটি কোটি ডলার হাতিয়ে নিয়ে পালিয়ে থাকা এক আন্তর্জাতিক প্রতারককে ফিলিপাইনসে বিলাসবহুল জীবনযাপন করতে দেখা গেছে। এই অপরাধীর নাম মাইকেল মারাসিগান এবং তিনি এফবিআই-এর মোস্ট ওয়ান্টেড তালিকায় রয়েছেন।
প্যাসিফিক ডেইলি নিউজের তথ্য অনুযায়ী, সম্প্রতি তাকে ফিলিপাইনের রাজধানী ম্যানিলার একটি অভিজাত রেস্তোরাঁয় ঘুরে বেড়াতে দেখা গেছে। গত মার্চ মাসে তোলা একটি ছবির সিরিজে দেখা যায়, মারাসিগান কালো প্যান্ট, কালো জ্যাকেট, সাদা টি-শার্ট এবং বাঁ হাতে একটি সোনালী রঙের ব্রেসলেট বা ঘড়ি পরা অবস্থায় রয়েছেন। তার চেহারার সাথে এফবিআই-এর কাছে থাকা মগশটের বেশ মিল রয়েছে। তবে ছবিটি ওঠার পাঁচ মাস পর কেন প্রকাশ্যে এলো তা এখনো পরিষ্কার নয়।
গুয়ামের একটি বিঙ্গো হল থেকে অবৈধ জুয়ার ব্যবসা পরিচালনা, অর্থ পাচার এবং তারের মাধ্যমে জালিয়াতির অভিযোগে, গত ২০২৫ সালের মে মাসে মারাসিগানকে প্রায় ২২ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। তিনি ২০১৫ সালের মার্চ থেকে ২০২১ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত হাওয়াইয়ের শ্রাইনার্স হসপিটাল ফর চিলড্রেনে শিশুদের চিকিৎসার জন্য অর্থ পাঠানোর ভুয়া প্রতিশ্রুতি দিয়ে সাধারণ খেলোয়াড়দের প্রতারিত করেছিলেন।
এই জালিয়াতি স্কিম থেকে মোট ৩৪ মিলিয়ন বা ৩ কোটি ৪০ লাখ ডলার উদ্ধার করা হয়েছিল, যার মধ্যে মারাসিগান ও তার সহযোগীরা প্রায় ১ কোটি ৭ লাখ ৫০ হাজার ডলার নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেন। আদালত তাকে চিকিৎসার জন্য ফিলিপাইনে যাওয়ার সাময়িক অনুমতি দিলে তিনি সেটির সুযোগ নিয়ে আত্মগোপন করেন এবং আমেরিকার আদালতে ফেরত আসার আদেশ অমান্য করেন। তিনি আমেরিকা ও ফিলিপাইন উভয় দেশেরই দ্বৈত নাগরিক।
ম্যানিলার যে চেইন রেস্তোরাঁয় তাকে দেখা গেছে, সেটি 'লাস ফ্লোরেস' ব্র্যান্ডের একটি অভিজাত স্প্যানিশ রেস্তোরাঁ। সেখানে প্রতি বেলার খাবারের খরচ প্রায় ২,০০০ পেসো বা ৩২ ডলার, যেখানে ম্যানিলায় সাধারণ ফাস্টফুডের দাম মাত্র ৪ ডলারের কাছাকাছি। যে স্থানে তিনি অপরাধ সংঘটন করেছিলেন, ম্যানিলা সেখান থেকে প্রায় ১,৬০০ মাইল দূরে অবস্থিত।
আদালতের রায়ে মারাসিগানকে ‘অ্যালোহা শ্রাইনার্স’-কে ১ কোটি ৭ লাখ ৫০ হাজার ৮০৪ ডলার ক্ষতিপূরণ দেওয়ার পাশাপাশি প্রায় ৫৮ লাখ ৭১ হাজার ৪৯৩ ডলারের অর্থদণ্ড ও ৬,৫০০ ডলারের বাধ্যতামূলক আদালত ফি পরিশোধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। তাকে গ্রেপ্তার ও সাজা নিশ্চিত করার মতো কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্যের জন্য এফবিআই বর্তমানে ১ লাখ ৫০ হাজার মার্কিন ডলারের পুরস্কার ঘোষণা করেছে।
ফিলিপিনের কনস্যুলেট জেনারেল জানিয়েছেন, মারাসিগান ফিলিপাইনসে ধরা পড়লেও তাকে সরাসরি আমেরিকায় ফেরত পাঠানো সম্ভব নয়, কারণ এটি একটি দীর্ঘ আপিল প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভর করবে। তবে এফবিআই-এর হনুলুলু অফিস নিশ্চিত করেছে যে, তারা তাকে বিচারের মুখোমুখি করতে এখনো কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
শরীয়তপুরের জাজিরায় জমিজমাসংক্রান্ত বিরোধ ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দু’পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের একটি ভয়াবহ ঘটনা ঘটেছে। এবার সংঘর্ষে অন্তত দেড় শতাধিক ককটেল বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। ককটেলের আঘাতে মান্নান সরদার (৭৫) নামে এক বৃদ্ধ নিহত হন এবং রিপন মোল্লা (৪০) নামের অপর একজনের হাতের কবজি বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। এই সংঘর্ষে অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন।
এদিকে, মান্নান সরদারের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে এলাকা জুড়ে ব্যাপক তাণ্ডব, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) সরজমিন গেলে লুটপাট ও তাণ্ডবের কিছু চিত্র উদ্ধার করা হয়।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে যে, দীর্ঘদিন ধরে জমিজমা নিয়ে স্থানীয় মোশারফ চৌকিদার ও আজাহার চৌকিদারের মধ্যে বিরোধ চলছিল। পরিস্থিতি পরে স্থানীয় রাজনৈতিক কোন্দলে রূপ নেয়। সোমবার (১০ আগস্ট) সন্ধ্যায় উপজেলার মূলনা ইউনিয়নের লাউখোলা এলাকায় রেজাউল সিকদার সমর্থিত এসকেনদার সরদার, আতাউর মাঝি, আমির মাঝি ও ওয়াসিম মোল্লার গ্রুপ এবং তামিজ খা সমর্থিত বাবুল মোল্লা ও লাবলু মোল্লাদের গ্রুপ দেশীয় অস্ত্র ও ককটেল নিয়ে মুখোমুখি সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।
সংঘর্ষ চলাকালে প্রতিপক্ষকে আঘাত করার জন্য উভয়পক্ষ বিপুল পরিমাণ ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায়। এসময় ককটেল বিস্ফোরণে হামি মোল্লার ছেলে রিপন মোল্লার ডান হাতের কবজি বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। অপরদিকে, ককটেলের আঘাতে গুরুতর আহত সেনেরচর ইউনিয়নের চরধুপুর চরকান্দি এলাকার মৃত আলিউদ্দিন সরদারের ছেলে মান্নান সরদারকে ঢাকা নেওয়ার সময় মৃত্যু হয়।
মান্নান সরদারের মৃত্যুর খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়ার পর রেজাউল সিকদার ও তার অনুসারীরা হিংস্র হয়ে ওঠে। তারা দিনদুপুরে ও রাতে প্রতিপক্ষের অন্তত শতাধিক বাড়িতে হামলা করে, ভাঙচুর ও লুটপাট চালান। নারীদের ওপরও হামলার ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, তাদের মূল্যবান স্বর্ণালংকার, গরু-ছাগলসহ অন্তত কোটি টাকার সম্পদ লুট করা হয়েছে। জাজিরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দায়িত্বে থাকা চিকিৎসক ওমর ফারুক জানান, ককটেল বিস্ফোরণে গুরুতর আহত দুই ব্যক্তিকে হাসপাতালে আনা হয়েছিল। এদের মধ্যে একজনের হাতের মারাত্মক ক্ষতি হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়। অপরজনকে হাসপাতালে আনার পর মৃত ঘোষণা করা হয়।
জাজিরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সালেহ্ আহম্মেদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, সংঘর্ষে একজন নিহত ও একজনের হাত বিচ্ছিন্ন হওয়ার খবর পেয়েছি। তিনি বলেন, এলাকাতে বিশৃঙ্খলা রোধ করতে গত দুই দিন ধরে জাজিরা থানা পুলিশ বাড়ি বাড়ি গিয়ে সতর্কতামূলক কার্যক্রম চালায়। তা সত্ত্বেও এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাটি ঘটে। বর্তমানে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ