বৃহস্পতিবার, ১৩ই আগস্ট, ২০২৬ ইং
১২:৩৯ পি.এম
চট্টগ্রামের লালদীঘি জেলা পরিষদ ভবনে অবস্থিত অগ্রণী ব্যাংক পিএলসির লালদীঘি পূর্ব করপোরেট শাখার ক্যাশ ভল্ট থেকে ৪ কোটি ৩৮ লাখ টাকা উধাও হওয়ার অভিযোগ উত্থাপিত হয়েছে।
ব্যাংকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বিপুল পরিমাণ এই অর্থের ‘ঘাটতি’ বিশাল পরিসরে পাওয়া গেছে। ব্যাংক উল্লেখ করেছে যে, টাকা বিভিন্ন গ্রাহকের আমানতের অংশ বলে জানা গেছে। এ ঘটনার প্রেক্ষিতে দায়ের করা মামলায় ব্যাংকের সিনিয়র অফিসার ও ক্যাশ ইনচার্জ মো. কামরুল হোসেন (৪১) এবং ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারী নন মো. জাফরুল্লাহ তানভীর নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং তাঁদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।
এরই মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে যে, ৪ কোটি ৩৮ লাখ টাকা যদি সত্যিই ভল্ট থেকে সরানো হয়ে থাকে, তবে এত বিপুল অর্থের ঘাটতি এক বছরেরও বেশি সময় ধরে কেন শনাক্ত করা হলো না? জমা ও ভোল্টের হিসাব প্রতিদিন কে যাচাই করতেন? শাখা ব্যবস্থাপনার উপর নজর কোথায় ছিল?
কোতোয়ালি থানায় দায়ের করা মামলার নম্বর হলো ২২/৪৩৮। মামলায় দণ্ডবিধির ৪০৮, ৪২০ ও ৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। মামলার বাদী হলেন অগ্রণী ব্যাংক পিএলসি লালদীঘি পূর্ব করপোরেট শাখার জেনারেল ম্যানেজার মোস্তাক আহমেদ (৫৮)। মামলায় কামরুল হোসেন ও জাফরুল্লাহ তানভীরের নাম উল্লেখ করে আরও অজ্ঞাত কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে। এই মামলাটি তদন্ত করছেন কোতোয়ালি থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. ইকবাল হোসেন। উল্লেখ্য, কামরুল হোসেন ওই শাখার ক্যাশ ও ভল্টের দায়িত্ব পালন করতেন।
৯ আগস্ট নিয়মিত ব্যাংকিং কার্যক্রম ও লেনদেন সম্পন্ন হওয়ার পর নগদ অর্থের হিসাব ও ভল্টে রাখা নগদ অর্থের হিসাব মিলানোর সময় গরমিল ধরা পড়ে। এরপর অনুষ্ঠিত হিসাব-নিকাশ, ভল্টের হিসাব, সংশ্লিষ্ট রেকর্ডপত্র ও নথি যাচাই করে ৪ কোটি ৩৮ লাখ টাকার ঘাটতি পাওয়া যায় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, কামরুল হোসেনকে ঘাটতির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি সন্তোষজনক কোনো জবাব দিতে পারেননি। পরে ব্যাংক পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে যে, জাফরুল্লাহ তানভীরসহ অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের সহায়তায় তিনি ব্যাংকের ভল্ট থেকে টাকা সরিয়ে ব্যবসায় বিনিয়োগ করেছেন।
মামলার দ্বিতীয় আসামি জাফরুল্লাহ তানভীরের বাবা আজিম উল্লাহ ব্যাংকের এজাহারে থাকা বক্তব্যের সঙ্গে সম্পূর্ণ ভিন্নমত পোষণ করেছেন। তিনি বলেন, আমার ছেলে কোনো ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারী নয়, অগ্রণী ব্যাংকের লালদীঘি শাখার গ্রাহকও নয়। সে আগে থেকেই গরুর খামারের ব্যবসা করে। অথচ তাকে ব্যাংকের ৪ কোটি ৩৮ লাখ টাকা আত্মসাতের মামলায় জড়ানো হয়েছে। আমার ছেলের কাছে এত টাকা দেওয়ার কোনো ব্যাংক রেকর্ড বা প্রমাণও দেখানো হয়নি।
তিনি আরও জানান, ৯ আগস্ট রাত ১টারদিকে আমার স্ত্রীর মোবাইলে ব্যাংক থেকে ফোন করে বলা হয়, আমার ছেলে লালদীঘি ব্যাংকে আটক আছে। টাকা নিয়ে যেতে বলা হলেও কীসের টাকা, কত টাকা— কিছুই পরিষ্কার করে বলা হয়নি। আমার ছেলে ফোনে কথা বলতে পারেনি। এর আগে ক্যাশ ইনচার্জ কামরুল হোসেনই অন্যদিনের মতো আমার ছেলেকে ফোন করে ডেকে নিয়ে যান। রাতেই আমরা সাত-আটজন আত্মীয়স্বজন নিয়ে ব্যাংকে যাই। কিন্তু ব্যাংকের লোকজন আমাদের ভিতরে ঢুকতে দেয়নি। পরে আমরা কোতোয়ালি থানায় গিয়ে ওসিকে বিষয়টি জানাই। পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে রাত আনুমানিক ২টার দিকে আবার ব্যাংকে গেলে প্রথমে আমাদের ঢুকতে দেওয়া হয়নি। পরে পুলিশ কৌশলে ব্যাংকে প্রবেশ করে আমার ছেলেসহ কামরুল হোসেনকে থানায় নিয়ে যায়। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা দরকার। ব্যাংকের ভল্টে যদি ১ জুন ২০২৫ থেকে ৯ আগস্ট ২০২৬ পর্যন্ত সময়ের মধ্যে ৪ কোটি ৩৮ লাখ টাকার ঘাটতি তৈরি হয়ে থাকে, তাহলে এতদিন বিষয়টি ব্যাংকের নিয়মিত হিসাব ও তদারকিতে ধরা পড়েনি কেন? তাদের দাবি, একটি ব্যাংকের দৈনন্দিন লেনদেন শেষ হওয়ার পর ক্যাশ ও ভল্টের হিসাব মেলানোর নিয়ম রয়েছে। তাহলে এক বছরের বেশি সময় ধরে এত বড় অঙ্কের অর্থের ঘাটতি কীভাবে অজানা থাকল— এ প্রশ্নের উত্তরও তদন্তে বের করা প্রয়োজন।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কোতোয়ালি থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. ইকবাল হোসেন বলেন, গ্রাহকের ৪ কোটি ৩৮ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে করা মামলায় এজাহারনামীয় দুই আসামি কামরুল হোসেন ও জাফরুল্লাহ তানভীরকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তাঁদের কাছ থেকে দুটি মোবাইল ফোন, হোয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগ ও তথ্যের রেকর্ডসহ ৬৪ জিবির একটি পেনড্রাইভ জব্দ করা হয়েছে। মামলাটি তদন্তাধীন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
শিশুদের জন্য পরিকল্পনা করা চ্যারিটি প্রোগামের মাধ্যমে কোটি কোটি ডলার হাতিয়ে নিয়ে পালিয়ে থাকা এক আন্তর্জাতিক প্রতারককে ফিলিপাইনসে বিলাসবহুল জীবনযাপন করতে দেখা গেছে। এই অপরাধীর নাম মাইকেল মারাসিগান এবং তিনি এফবিআই-এর মোস্ট ওয়ান্টেড তালিকায় রয়েছেন।
প্যাসিফিক ডেইলি নিউজের তথ্য অনুযায়ী, সম্প্রতি তাকে ফিলিপাইনের রাজধানী ম্যানিলার একটি অভিজাত রেস্তোরাঁয় ঘুরে বেড়াতে দেখা গেছে। গত মার্চ মাসে তোলা একটি ছবির সিরিজে দেখা যায়, মারাসিগান কালো প্যান্ট, কালো জ্যাকেট, সাদা টি-শার্ট এবং বাঁ হাতে একটি সোনালী রঙের ব্রেসলেট বা ঘড়ি পরা অবস্থায় রয়েছেন। তার চেহারার সাথে এফবিআই-এর কাছে থাকা মগশটের বেশ মিল রয়েছে। তবে ছবিটি ওঠার পাঁচ মাস পর কেন প্রকাশ্যে এলো তা এখনো পরিষ্কার নয়।
গুয়ামের একটি বিঙ্গো হল থেকে অবৈধ জুয়ার ব্যবসা পরিচালনা, অর্থ পাচার এবং তারের মাধ্যমে জালিয়াতির অভিযোগে, গত ২০২৫ সালের মে মাসে মারাসিগানকে প্রায় ২২ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। তিনি ২০১৫ সালের মার্চ থেকে ২০২১ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত হাওয়াইয়ের শ্রাইনার্স হসপিটাল ফর চিলড্রেনে শিশুদের চিকিৎসার জন্য অর্থ পাঠানোর ভুয়া প্রতিশ্রুতি দিয়ে সাধারণ খেলোয়াড়দের প্রতারিত করেছিলেন।
এই জালিয়াতি স্কিম থেকে মোট ৩৪ মিলিয়ন বা ৩ কোটি ৪০ লাখ ডলার উদ্ধার করা হয়েছিল, যার মধ্যে মারাসিগান ও তার সহযোগীরা প্রায় ১ কোটি ৭ লাখ ৫০ হাজার ডলার নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেন। আদালত তাকে চিকিৎসার জন্য ফিলিপাইনে যাওয়ার সাময়িক অনুমতি দিলে তিনি সেটির সুযোগ নিয়ে আত্মগোপন করেন এবং আমেরিকার আদালতে ফেরত আসার আদেশ অমান্য করেন। তিনি আমেরিকা ও ফিলিপাইন উভয় দেশেরই দ্বৈত নাগরিক।
ম্যানিলার যে চেইন রেস্তোরাঁয় তাকে দেখা গেছে, সেটি 'লাস ফ্লোরেস' ব্র্যান্ডের একটি অভিজাত স্প্যানিশ রেস্তোরাঁ। সেখানে প্রতি বেলার খাবারের খরচ প্রায় ২,০০০ পেসো বা ৩২ ডলার, যেখানে ম্যানিলায় সাধারণ ফাস্টফুডের দাম মাত্র ৪ ডলারের কাছাকাছি। যে স্থানে তিনি অপরাধ সংঘটন করেছিলেন, ম্যানিলা সেখান থেকে প্রায় ১,৬০০ মাইল দূরে অবস্থিত।
আদালতের রায়ে মারাসিগানকে ‘অ্যালোহা শ্রাইনার্স’-কে ১ কোটি ৭ লাখ ৫০ হাজার ৮০৪ ডলার ক্ষতিপূরণ দেওয়ার পাশাপাশি প্রায় ৫৮ লাখ ৭১ হাজার ৪৯৩ ডলারের অর্থদণ্ড ও ৬,৫০০ ডলারের বাধ্যতামূলক আদালত ফি পরিশোধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। তাকে গ্রেপ্তার ও সাজা নিশ্চিত করার মতো কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্যের জন্য এফবিআই বর্তমানে ১ লাখ ৫০ হাজার মার্কিন ডলারের পুরস্কার ঘোষণা করেছে।
ফিলিপিনের কনস্যুলেট জেনারেল জানিয়েছেন, মারাসিগান ফিলিপাইনসে ধরা পড়লেও তাকে সরাসরি আমেরিকায় ফেরত পাঠানো সম্ভব নয়, কারণ এটি একটি দীর্ঘ আপিল প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভর করবে। তবে এফবিআই-এর হনুলুলু অফিস নিশ্চিত করেছে যে, তারা তাকে বিচারের মুখোমুখি করতে এখনো কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
শরীয়তপুরের জাজিরায় জমিজমাসংক্রান্ত বিরোধ ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দু’পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের একটি ভয়াবহ ঘটনা ঘটেছে। এবার সংঘর্ষে অন্তত দেড় শতাধিক ককটেল বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। ককটেলের আঘাতে মান্নান সরদার (৭৫) নামে এক বৃদ্ধ নিহত হন এবং রিপন মোল্লা (৪০) নামের অপর একজনের হাতের কবজি বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। এই সংঘর্ষে অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন।
এদিকে, মান্নান সরদারের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে এলাকা জুড়ে ব্যাপক তাণ্ডব, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) সরজমিন গেলে লুটপাট ও তাণ্ডবের কিছু চিত্র উদ্ধার করা হয়।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে যে, দীর্ঘদিন ধরে জমিজমা নিয়ে স্থানীয় মোশারফ চৌকিদার ও আজাহার চৌকিদারের মধ্যে বিরোধ চলছিল। পরিস্থিতি পরে স্থানীয় রাজনৈতিক কোন্দলে রূপ নেয়। সোমবার (১০ আগস্ট) সন্ধ্যায় উপজেলার মূলনা ইউনিয়নের লাউখোলা এলাকায় রেজাউল সিকদার সমর্থিত এসকেনদার সরদার, আতাউর মাঝি, আমির মাঝি ও ওয়াসিম মোল্লার গ্রুপ এবং তামিজ খা সমর্থিত বাবুল মোল্লা ও লাবলু মোল্লাদের গ্রুপ দেশীয় অস্ত্র ও ককটেল নিয়ে মুখোমুখি সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।
সংঘর্ষ চলাকালে প্রতিপক্ষকে আঘাত করার জন্য উভয়পক্ষ বিপুল পরিমাণ ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায়। এসময় ককটেল বিস্ফোরণে হামি মোল্লার ছেলে রিপন মোল্লার ডান হাতের কবজি বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। অপরদিকে, ককটেলের আঘাতে গুরুতর আহত সেনেরচর ইউনিয়নের চরধুপুর চরকান্দি এলাকার মৃত আলিউদ্দিন সরদারের ছেলে মান্নান সরদারকে ঢাকা নেওয়ার সময় মৃত্যু হয়।
মান্নান সরদারের মৃত্যুর খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়ার পর রেজাউল সিকদার ও তার অনুসারীরা হিংস্র হয়ে ওঠে। তারা দিনদুপুরে ও রাতে প্রতিপক্ষের অন্তত শতাধিক বাড়িতে হামলা করে, ভাঙচুর ও লুটপাট চালান। নারীদের ওপরও হামলার ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, তাদের মূল্যবান স্বর্ণালংকার, গরু-ছাগলসহ অন্তত কোটি টাকার সম্পদ লুট করা হয়েছে। জাজিরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দায়িত্বে থাকা চিকিৎসক ওমর ফারুক জানান, ককটেল বিস্ফোরণে গুরুতর আহত দুই ব্যক্তিকে হাসপাতালে আনা হয়েছিল। এদের মধ্যে একজনের হাতের মারাত্মক ক্ষতি হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়। অপরজনকে হাসপাতালে আনার পর মৃত ঘোষণা করা হয়।
জাজিরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সালেহ্ আহম্মেদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, সংঘর্ষে একজন নিহত ও একজনের হাত বিচ্ছিন্ন হওয়ার খবর পেয়েছি। তিনি বলেন, এলাকাতে বিশৃঙ্খলা রোধ করতে গত দুই দিন ধরে জাজিরা থানা পুলিশ বাড়ি বাড়ি গিয়ে সতর্কতামূলক কার্যক্রম চালায়। তা সত্ত্বেও এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাটি ঘটে। বর্তমানে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
আগামী ১৬ আগস্ট কিশোরগঞ্জ জেলার কটিয়াদীতে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে একটি সমাবেশ, যেখানে জাতীয় মৎস্যপক্ষ-২০২৬ উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
মৎস্য উৎপাদন এবং এই খাতের উন্নয়নে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে প্রধানমন্ত্রী এদিন ১৩টি ক্যাটাগরিতে মোট ১৪ জন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে মৎস্য পদক প্রদান করবেন বলে জানিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ।
বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট সকালে সচিবালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রী এ তথ্য জানান।
এ সময় তিনি জানিয়েছেন, 'রূপালি মৎস্যে স্বনির্ভর দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ' - এই প্রতিপাদ্যে ১৬ থেকে ৩০ আগস্ট সারাদেশে একযোগে জাতীয় মৎস্যপক্ষ-২০২৬ উদযাপন করা হবে।
মৎস্য উৎপাদনে বাংলাদেশ স্বয়ংসম্পূর্ণ ইতোমধ্যেই প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এ সময় মন্ত্রী বলেন, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দেশে মোট ৫১ লক্ষ মেট্রিক টন মাছ উৎপাদিত হয়েছে। মৎস্য খাত দেশের অর্থনীতি, খাদ্য নিরাপত্তা এবং পুষ্টি নিশ্চয়তার একটি গুরুত্বপূর্ণ ও সম্ভাবনাময় খাত হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
জামালপুরে গ্যাস সংকট নিরশন এবং গ্যাসের দাবি জানিয়ে জামালপুর-টাঙ্গাইল আঞ্চলিক মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করছেন সিএনজি চালিত অটোরিকশা চালকেরা।
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) সকাল ৬টায় জামালপুর পৌর শহরের দড়িপাড়া এলাকায় জামালপুর-টাঙ্গাইল আঞ্চলিক মহাসড়কটিতে অবরোধ করা হয়।
সড়ক অবরোধের কারণে বিক্ষোভ শুরু হওয়ার পর মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে এবং বহু কিলোমিটার ব্যাপী দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হয়েছে। এতে সাধারণ যাত্রী এবং কর্মজীবী মানুষজন ভোগান্তিতে পড়েছেন।
চালকদের অভিযোগ, তারা দীর্ঘ সময় পর্যন্ত লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও প্রয়োজনীয় গ্যাস পাচ্ছেন না। এতে তাদের দৈনন্দিন আয় ব্যাহত হচ্ছে এবং তাদের পরিবার চরম সংকটে পড়েছে। তারা জানান, গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক না হওয়া এবং সিএনজিচালিত যানবাহনের জন্য পর্যাপ্ত গ্যাসের ব্যবস্থা না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন জারি রাখবেন।
বিক্ষোভকারী চালক জয়নাল আবেদীন জানিয়েছেন, "রাত ১২টা থেকে লাইনে বসে আছি, এখনো গ্যাস পাই নাই। আমরা ভাড়া গাড়ি চালাই। গ্যাস না পেলে গাড়ি চালাবো কীভাবে? তাই বাধ্য হয়ে সবাই মিলে রাস্তা অবরোধ করেছি।"
চালক আমজাদ হোসেন মন্তব্য করেছেন, "শুধু কিছু নির্দিষ্ট গাড়িকে গ্যাস দেয়া হয়, আমরা সাধারণ চালকরা গ্যাস পাই না। আমাদের জন্য একটা গ্যাস পাম্পের ব্যবস্থা বা সুনির্দিষ্ট আশ্বাস দিলে আমরা রাস্তা ছেড়ে দেব।"
সকালে অবরোধ শুরু হওয়ার পর থেকে মহাসড়কের উভয় পাশে শত শত যানবাহন আটকা পড়ে আছে। দূরপাল্লার বাস, ট্রাক, পিকআপ, এবং ছোট গাড়ির যাত্রীরা দুর্ভোগে পড়েছেন। অনেক যাত্রীকে যানবাহন ছেড়ে হেঁটে গন্তব্যে যেতে দেখা গেছে।
এ বিষয়ে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাজনীন আখতার বলেছেন, গ্যাস সংকট এবং নতুন একটি গ্যাস স্টেশনের দাবিতে সিএনজি চালিত অটোরিকশা চালকরা সড়ক অবরোধ করছিলেন। জেলা প্রশাসকের নির্দেশে আমি এবং আমাদের সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এখানে এসেছি। যারা দাবি আদায়ের জন্য বিক্ষোভ করছিলেন তাদের সঙ্গে কথা বলেছি। প্রশাসনিক যে সব ব্যবস্থা রয়েছে তা আমরা দ্রুত নেব। ইতোমধ্যে জেলা প্রশাসক বিভিন্ন চ্যানেলে কথা বলছেন। তাদের বলা হয়েছে, তারা যদি স্মারকলিপি দেন, তবে ওই স্মারকলিপি যথাযোগ্য কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হবে। গ্যাস সংকট এখন জাতীয় সমস্যা হয়েছে, আশা করি খুব দ্রুতই এর সমাধান হবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ