ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

ভারত থেকে প্রথমবার বাংলাদেশে ৫০০ টন ইলিশ রপ্তানি


ভারত থেকে প্রথমবার বাংলাদেশে ৫০০ টন ইলিশ রপ্তানি

ইলিশের বাণিজ্যে এবার একটি ভিন্ন চিত্র দেখা যাচ্ছে। এতদিন বাংলাদেশ থেকে ভারতে ইলিশ রপ্তানি হয়ে এলেও চলতি বছরে উল্টো ভারত থেকেই বাংলাদেশে ইলিশের চালান এসেছে।

গত দুই মাসে ভারতের গুজরাট থেকে প্রায় ৫০০ টন ইলিশ বাংলাদেশে পৌঁছেছে। ভারতীয় ব্যবসায়ীদের ধারণা, আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে আরও ১৫০ থেকে ২০০ টন ইলিশ বাংলাদেশে আসতে পারে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম টেলিগ্রাফের এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।

আরও পড়ুন: ফ্লোরিডার মহাসড়কে পাঁচ গাড়ির সংঘর্ষে অন্তঃসত্ত্বা নারী ও তার সন্তান নিহত

ভারতের ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, বাংলাদেশে পাঠানো ইলিশের বেশিরভাগ গুজরাট থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে। পরবর্তীতে ভারুচ বন্দর ব্যবহার করে এসব মাছ বাংলাদেশে পাঠানো হয়। এছাড়া পশ্চিমবঙ্গের হাওড়ার পাইকারি মাছের বাজারের মাধ্যমেও কিছু ইলিশ বাংলাদেশে সরবরাহ করা হয়েছে।

হাওড়া পাইকারি মাছ আমদানিকারক সমিতির সম্পাদক সৈয়দ আনোয়ার মাকসুদ বলেন, "ভারত থেকে বাংলাদেশে সাধারণত বোয়াল, রুই, পারশে ও ট্যাংরাসহ বিভিন্ন মাছ যায়। তবে এ বছর ইলিশ রপ্তানির ঘটনা তাদের জন্য ব্যতিক্রম।"

গুজরাটের ইলিশে তুলনামূলকভাবে ডিম বেশি থাকে এবং স্বাদ কিছুটা নোনতা। এ কারণে ভারতের স্থানীয় বাজারে এ মাছের চাহিদা খুব বেশি নয়। অন্যদিকে বাংলাদেশের কিছু এলাকায় ডিমওয়ালা ইলিশের চাহিদা থাকায় গুজরাটের ইলিশের জন্য এখানে নতুন বাজার তৈরি হয়েছে।

প্রতি বছর দুর্গাপূজা ও শারদীয় উৎসবের আগে বাংলাদেশ থেকে ভারতে ইলিশ রপ্তানি করা হয়। তবে চলতি বছর বাংলাদেশ থেকে ভারতে ইলিশ পাঠানো হবে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়। গত বছর উৎসবের আগে ভারতকে ১ হাজার ২০০ টন ইলিশ রপ্তানির অনুমতি দিয়েছিল বাংলাদেশ সরকার।

আরও পড়ুন: মধ্যপ্রাচ্যে ইরান আতঙ্ক, তিন দেশে যুক্তরাষ্ট্রের সতর্কবার্তা

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জাতিসংঘের পরবর্তী মহাসচিবের দৌড়ে ৮ প্রার্থী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সোমবার, ১৪ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৪:২৮ পি.এম


জাতিসংঘের পরবর্তী মহাসচিবের দৌড়ে ৮ প্রার্থী

জাতিসংঘের পরবর্তী মহাসচিব নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গেছে। বর্তমান মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর নতুন মহাসচিব আগামী ১ জানুয়ারি দায়িত্ব গ্রহণ করবেন।

বিশ্লেষকদের মতে, এবারের নির্বাচনে পরবর্তী মহাসচিব লাতিন আমেরিকা থেকে আসার সম্ভাবনা রয়েছে। কারণ মহাসচিবের পদটি সাধারণত বিভিন্ন মহাদেশের মধ্যে পালাক্রমে বণ্টন করা হয়। সর্বশেষ লাতিন আমেরিকার মহাসচিব ছিলেন পেরুর হাভিয়ের পেরেজ দে কুয়েলার, যিনি ১৯৯২ সালে দায়িত্ব ছাড়েন।

এবারের নির্বাচনে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, জাতিসংঘ প্রতিষ্ঠার ৮০ বছরে এখনো কোনো নারী মহাসচিব হননি। তাই প্রথমবারের মতো একজন নারীকে এই পদে বসানোর জন্য দীর্ঘদিন ধরে অনানুষ্ঠানিকভাবে দাবি রয়েছে।

নতুন মহাসচিব এমন একটি জাতিসংঘের দায়িত্ব নেবেন, যা নানা সংকটে চাপে রয়েছে। জাতিসংঘের সবচেয়ে বড় অর্থদাতা যুক্তরাষ্ট্র স্বেচ্ছা তহবিলে অর্থ কমিয়েছে এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা থেকে বেরিয়ে গেছে। একই সঙ্গে সদস্য দেশগুলোর বকেয়া চাঁদা ও আর্থিক সংকটে জাতিসংঘের তারল্য পরিস্থিতিও কঠিন হয়ে উঠেছে।

বর্তমান মহাসচিব গুতেরেসের সময়ে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ গাজা ও সুদানে সংঘাত এবং ইউক্রেনে রাশিয়ার যুদ্ধ বন্ধ করতে ব্যর্থ হয়েছে। ফলে নতুন মহাসচিবের সামনে জাতিসংঘকে আরও কার্যকর করার বড় চ্যালেঞ্জ থাকবে।

কীভাবে নির্বাচিত হন জাতিসংঘের মহাসচিব?

পরবর্তী মহাসচিব নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু হয় ২০২৫ সালের নভেম্বরের শেষ দিকে। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ ও নিরাপত্তা পরিষদের সভাপতিরা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রার্থীদের মনোনয়ন আহ্বান করেন।

জাতিসংঘ সনদ অনুযায়ী, ১৫ সদস্যের নিরাপত্তা পরিষদ একজন প্রার্থীকে সুপারিশ করে। এরপর ১৯৩ সদস্যের সাধারণ পরিষদ সেই প্রার্থীর নিয়োগ অনুমোদন করে।

তবে মূল লড়াই হয় নিরাপত্তা পরিষদে। কোনো প্রার্থীকে নির্বাচিত হতে নিরাপত্তা পরিষদের অন্তত ৯ সদস্যের সমর্থন প্রয়োজন। একই সঙ্গে পাঁচ স্থায়ী সদস্য—যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, রাশিয়া ও চীন—কেউ ভেটো দিতে পারবে না।

নিরাপত্তা পরিষদ প্রথমে গোপন ও অনানুষ্ঠানিক ভোটের মাধ্যমে প্রার্থীদের জনপ্রিয়তা যাচাই করে। এসব ভোটে কোনো প্রার্থীর জন্য ‘উৎসাহিত’, ‘মতামত নেই’ অথবা ‘নিরুৎসাহিত’—এই তিন ধরনের অবস্থান জানানো হয়।

এখন পর্যন্ত দুই দফা এমন ভোট অনুষ্ঠিত হয়েছে। দ্বিতীয় দফার ভোটের পর গায়ানার প্রার্থী ক্যারোলিন রড্রিগেস-বিরকেট এগিয়ে রয়েছেন। তার পরেই রয়েছেন কোস্টারিকার রেবেকা গ্রিনস্প্যান এবং আর্জেন্টিনার রাফায়েল মারিয়ানো গ্রোসি।

ক্যারোলিন রড্রিগেস-বিরকেট— গায়ানা

জাতিসংঘে গায়ানার রাষ্ট্রদূত ক্যারোলিন রড্রিগেস-বিরকেট আগে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও আদিবাসীবিষয়ক মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০২৪-২৫ সালে তিনি নিরাপত্তা পরিষদে গায়ানার প্রতিনিধিত্ব করবেন।

তার নির্বাচনি অঙ্গীকারের মূল বিষয় ছোট দেশগুলোর স্বার্থ রক্ষা, শান্তি ও নিরাপত্তা, উন্নয়ন এবং মানবাধিকারকে সমান গুরুত্ব দেওয়া। দ্বিতীয় দফার ভোটে তিনি ৮টি ‘উৎসাহিত’, ৩টি ‘নিরুৎসাহিত’ এবং ৪টি ‘মতামত নেই’ ভোট পেয়েছেন। ফলে বর্তমানে তিনিই সবচেয়ে এগিয়ে থাকা প্রার্থী।

রেবেকা গ্রিনস্প্যান— কোস্টারিকা

রেবেকা গ্রিনস্প্যান জাতিসংঘের বাণিজ্য ও উন্নয়নবিষয়ক সংস্থা UNCTAD-এর মহাসচিব। এর আগে তিনি কোস্টারিকার ভাইস প্রেসিডেন্ট ও উপ-অর্থমন্ত্রী ছিলেন।

২০২২ সালের ব্ল্যাক সি গ্রেইন ইনিশিয়েটিভ বাস্তবায়নে জাতিসংঘের নেতৃত্বাধীন আলোচনায় তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। তিনি মহাসচিবের কার্যালয় পুনর্গঠন, মধ্যস্থতার সক্ষমতা বাড়ানো, জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থার ওভারলেপিং দায়িত্ব কমানো এবং প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার বাড়ানোর পক্ষে।

জুলাইয়ের প্রথম ভোটে তিনি ১০টি ‘উৎসাহিত’ ভোট পেলেও আগস্টের দ্বিতীয় ভোটে তা কমে ৭টিতে নেমে আসে।

রাফায়েল মারিয়ানো গ্রোসি— আর্জেন্টিনা

রাফায়েল মারিয়ানো গ্রোসি বর্তমানে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা-এর মহাপরিচালক। প্রায় চার দশকের কূটনৈতিক অভিজ্ঞতা রয়েছে তার। গ্রোসি জাতিসংঘকে আরও কার্যকর করার জন্য শান্তি ও নিরাপত্তা, উন্নয়ন, মানবাধিকার, প্রশাসনিক সংস্কার এবং বাস্তববাদী বহুপাক্ষিকতার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন।

আগস্টের ভোটে তিনি সাতটি ‘উৎসাহিত’ ভোট পেয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে ছিলেন। তবে ছয়টি ‘নিরুৎসাহিত’ ভোটও পেয়েছেন।

তার প্রার্থিতা নিয়ে আরেকটি সমস্যা তৈরি হয়েছে ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জের মালিকানা নিয়ে আর্জেন্টিনার সঙ্গে যুক্তরাজ্যের বিরোধ। নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্য যুক্তরাজ্য চাইলে তার প্রার্থিতায় ভেটো দিতে পারে।

মারিয়া ফার্নান্দা এসপিনোসা— ইকুয়েডর

ইকুয়েডরের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী মারিয়া ফার্নান্দা এসপিনোসা ২০১৮–১৯ সালে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি ছিলেন। তিনি ছিলেন ওই পদে দায়িত্ব নেওয়া চতুর্থ নারী এবং লাতিন আমেরিকা ও ক্যারিবীয় অঞ্চলের প্রথম নারী।

তার অন্যতম প্রধান প্রস্তাব হলো ‘প্রিভেনশন অ্যান্ড আর্লি অ্যাকশন হাব’ গঠন করা। এর মাধ্যমে বিভিন্ন সংকট বড় আকার ধারণ করার আগেই ঝুঁকি শনাক্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

আগস্টের ভোটে তিনি মাত্র ৪টি ‘উৎসাহিত’ ভোট পান। ফলে বর্তমানে তিনি বেশ পিছিয়ে রয়েছেন।

মিশেল ব্যাশেলে— চিলি

চিলির সাবেক প্রেসিডেন্ট মিশেল ব্যাশেলে জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি জাতিসংঘের অভ্যন্তরীণ আমলাতন্ত্র সংস্কার, সাধারণ মানুষের সঙ্গে সংযোগ বাড়ানো এবং ভবিষ্যৎ সংকট মোকাবিলায় আরও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার পক্ষে।

তবে আগস্টের ভোটে তার সমর্থন উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়। তিনি মাত্র ২টি ‘উৎসাহিত’ এবং ৬টি ‘নিরুৎসাহিত’ ভোট পান।

ম্যাকি সাল — সেনেগাল

সেনেগালের ২০১২ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত প্রেসিডেন্ট ছিলেন ম্যাকি সাল। তার নির্বাচনি প্রচারের মূল বক্তব্য হলো ‘নতুন ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বহুপাক্ষিকতা’। তিনি জাতিসংঘের সংঘাত প্রতিরোধ ব্যবস্থা শক্তিশালী করা, প্রশাসনিক কাঠামো পর্যালোচনা এবং মানবাধিকার ও উন্নয়নকে গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলেছেন।

তবে তার সামনে বড় বাধা হলো—পরবর্তী মহাসচিব লাতিন আমেরিকা থেকে আসবেন, এমন প্রত্যাশা এবং প্রথম নারী মহাসচিব নির্বাচনের চাপ।

ওলারা ওতুনু— উগান্ডা

উগান্ডার অভিজ্ঞ কূটনীতিক ওলারা ওতুনু চার দশকের বেশি সময় আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে কাজ করেছেন। তিনি জাতিসংঘে উগান্ডার রাষ্ট্রদূত এবং দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ছিলেন।

তিনি দায়িত্বের প্রথম দিন থেকেই ইউক্রেন, গাজা, কঙ্গো, সুদান ও ইরানের মতো সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা বলেছেন।

জুলাই থেকে আগস্টের মধ্যে নিরাপত্তা পরিষদের ভোটে তার সমর্থন সবচেয়ে বেশি বেড়েছে। তবে লাতিন আমেরিকার নারী প্রার্থী না হওয়ায় তিনিও রাজনৈতিকভাবে পিছিয়ে থাকতে পারেন।

ইভোনে এ-বাকি— ইকুয়েডর

ইকুয়েডরের কূটনীতিক ও সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী ইভোনে এ-বাকি টোঙ্গার মনোনয়নে এই দৌড়ে যুক্ত হয়েছেন। তার মূল লক্ষ্য সংঘাত প্রতিরোধ এবং জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের সংস্কার। তিনি আফ্রিকা, লাতিন আমেরিকা ও ক্যারিবীয় অঞ্চলের মতো ঐতিহাসিকভাবে পিছিয়ে থাকা অঞ্চলগুলোর জন্য নিরাপত্তা পরিষদে স্থায়ী প্রতিনিধিত্বের পক্ষে।

তবে আগস্টের ভোটে তিনি কোনো ‘উৎসাহিত’ ভোট পাননি। তার বিপক্ষে ৮টি ‘নিরুৎসাহিত’ এবং ৭টি ‘মতামত নেই’ ভোট পড়ে। ফলে তার প্রার্থিতা বর্তমানে সবচেয়ে দুর্বল অবস্থানে রয়েছে।

সামনে কী হবে?

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশন চলাকালে প্রার্থীদের নিয়ে আলোচনা ও লবিং আরও বাড়বে। শেষ পর্যন্ত নিরাপত্তা পরিষদের পাঁচ স্থায়ী সদস্যের সম্মতি পাওয়া হবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

বর্তমান পরিস্থিতিতে গায়ানার ক্যারোলিন রড্রিগেস-বিরকেট সবচেয়ে এগিয়ে থাকলেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনও হয়নি। আগামী কয়েক সপ্তাহে ভোটের সমীকরণ বদলে যেতে পারে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

এবার ডাকসুর সংগ্রহশালায় গোলাম আজমের প্রতি জুতা নিক্ষেপের ছবি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

সোমবার, ১৪ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৪:২৮ পি.এম


এবার ডাকসুর সংগ্রহশালায় গোলাম আজমের প্রতি জুতা নিক্ষেপের ছবি

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদে মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর সাঁটানো ছবির ভাঙ্গচুরের ঘটনার পর এবার গোলাম আজমের প্রতি জুতা নিক্ষেপের ছবি সাঁটানোর ঘটনা ঘটেছে। এই ছবি ছাত্র ফেডারেশন কর্তৃক সাঁটানো হয়েছে, যা আশির দশকের একটি প্রতীক।

বায়তুল মোকাররম এলাকায় বাংলাদেশের ক্ষুব্ধ জনগণের মধ্যে জুতা নিক্ষেপের দৃশ্য দেখা যায়।

এর আগে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের সংগ্রহশালায় মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর ছবি সাঁটানোর বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়।

এছাড়া, শেখ মুজিবুর রহমানসহ মুক্তিযুদ্ধের বিভিন্ন ছবি সরিয়ে ফেলার আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়।

এই ঘটনার প্রতিবাদে ছাত্রদল ইতোমধ্যে নিন্দা জানিয়ে প্রশাসনের কাছে দাবি জানিয়েছে। তারা উপাচার্যের কাছে গিয়ে এই ছবি অপসারণের জন্য ডাকসুর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের আল্টিমেটাম দিয়েছে।

অন্যদিকে, সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) দুপুর ২টা নাগাদ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী তৈয়ব হালদার সংগ্রহশালায় প্রবেশ করে এসব ছবি ছিঁড়ে ফেলেন।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ছাত্রদলের আলটিমেটাম: ডাকসু সংগ্রহশালা থেকে জিন্নাহর ছবি সরাতে হবে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

সোমবার, ১৪ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৪:৪৪ পি.এম


ছাত্রদলের আলটিমেটাম: ডাকসু সংগ্রহশালা থেকে জিন্নাহর ছবি সরাতে হবে

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) সংগ্রহশালায় প্রদর্শিত পাকিস্তানের জাতির জনক মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর ছবি ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সরানোর দাবি তুলেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদল। সংগঠনটির সভাপতি গণেশ চন্দ্র রায় সাহস জানিয়েছেন, দাবি বাস্তবায়ন না হলে উপাচার্যের কার্যালয় ও ডাকসু সংগ্রহশালায় কর্মসূচি দেওয়ার হুঁশিয়ারি রয়েছে।

সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও ডাকসু সভাপতি ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলামের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে ছাত্রদল তাদের দাবি জানায়। পরে উপাচার্যের কার্যালয়ের সামনে প্রেস ব্রিফিংয়ে উপস্থিত হন সংগঠনটির নেতারা।

এ সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাহিদুজ্জামান শিপন মন্তব্য করেন, ‘একজন বিতর্কিত ব্যক্তির ছবি ডাকসুর সংগ্রহশালায় টানানো হয়েছে, যার সঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা ডাকসুর ন্যূনতম কোনো সম্পর্ক নেই। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন, ১৯৬২ সালের শিক্ষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ, স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনসহ বিভিন্ন গণতান্ত্রিক আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা ডাকসুর সংগ্রহশালায় পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠাতা মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর ছবি টানিয়ে সংগঠনটির ঐতিহাসিক অবস্থানকে বিতর্কিত করা হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এবং ডাকসুর সভাপতি দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে এবং বিতর্কিত ছবিগুলো অপসারণ না করলে আমরা কর্মসূচি দিতে বাধ্য হব।’

ঢাবি ছাত্রদল সভাপতি গণেশ চন্দ্র রায় সাহস জানান, ৫ আগস্ট-পরবর্তী সময়ে ক্যাম্পাসে বিভিন্ন ধরনের রাজনৈতিক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। ছাত্রদল গণতান্ত্রিকভাবে সেগুলো মোকাবিলার চেষ্টা করছে। তিনি অভিযোগ করেন, এ সময় একটি বিশেষ গোষ্ঠীর একের পর এক বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা নাখোশ হয়েছেন।

তিনি বলেন, ‘ডাকসু ভবনের সংগ্রহশালা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও গৌরবের সঙ্গে সম্পর্কিত। সেখানে ‘বিতর্কিত’ দুজন ব্যক্তির ছবি টানানো হয়েছে। এ ধরনের কাজ নৈতিকভাবে স্খলনজনিত এবং তা ছাত্রদল মেনে নিতে পারে না। এ কারণে ডাকসুর সভাপতি হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের কাছে ছবিগুলো দ্রুত সরিয়ে নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।’

গণেশ চন্দ্র রায় সাহস বলেন, ‘আমরা এরই মধ্যে ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম দিয়েছি। আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ছবি দুটি সরানো না হলে উপাচার্যের কার্যালয় ও ডাকসু সংগ্রহশালায় কর্মসূচি দিতে বাধ্য হব।’

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর
ডাকসুর সংগ্রহশালা

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে জিন্নাহর ছবি ছিঁড়ে ফেললেন উর্দু বিভাগের শিক্ষার্থী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

সোমবার, ১৪ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৪:৪৪ পি.এম


ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে জিন্নাহর ছবি ছিঁড়ে ফেললেন উর্দু বিভাগের শিক্ষার্থী

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) সংগ্রহশালায় ‘সংস্কারের’ অংশ হিসেবে পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠাতা মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর তিনটি ছবিকে স্থান দেওয়া হয়েছিল, সেগুলো ছিঁড়ে ফেলেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষার্থী, প্রতিবাদ জানিয়ে।

সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) দুপুর আড়াইটার দিকে ডাকসু সংগ্রহশালায় গিয়ে ছবিগুলো ছিঁড়ে ফেলেন শিক্ষার্থী আবু তৈয়ব হাবিলদার।

তিনি এ সময় বলেন, "এদেশের ভাষা আন্দোলনের আসল নায়কদের বাদ দিয়ে পাকিস্তানের জাঁদরেল জিন্নাহর ছবি কেন ডাকসু রেখেছে তার জন্য প্রশাসন ও ডাকসুর নেতাদের জবাব দিতে হবে। যে জিন্নাহ আমাদের মুখের ভাষা কেড়ে নিতে চেয়েছিল, সে জিন্নাহকে কীভাবে এখানে রাখে? ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ভাষা আন্দোলন থেকে মুক্তিযুদ্ধ সব জায়গায় রক্তগঙ্গা দিয়েছে। এখানে থাকতে হবে ভাষা আন্দোলনের নায়ক আবুল কাসেমের (ছবি)। এখানে থাকবে শেখ মুজিবুর রহমান, মাওলানা আবদুর রশীদ তর্কবাগীশ।"

আবু তৈয়ব হাবিলদার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উর্দু বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী। তিনি ২০২৫ সালে ডাকসু নির্বাচনে সহ-সভাপতি পদে স্বতন্ত্রভাবে ভোট দিয়েছিলেন।

সংস্কার শেষে রোববার ডাকসু সংগ্রহশালা পুনরায় চালু করে, যেখানে বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের একক বা গৌরবোজ্জ্বল ছবি স্থান না পেলেও নতুন করে যুক্ত হয় পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠাতা মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর আলোচিত ছবি।

এর মধ্যে একটি ছবি ১৯৪৮ সালের ২১ মার্চ তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানের (সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) এক অনুষ্ঠানের, যেখানে তিনি ঘোষণা দিয়েছিলেন, ‘কেবল উর্দুই হবে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা’।

স্থান পায় ১৯৪০ সালের মার্চ মাসে লাহোরে নিখিল ভারত মুসলিম লীগের বার্ষিক সম্মেলনের একটি গ্রুপ ছবি, যেখানে জিন্নাহ রয়েছেন। অপর ছবিটি ১৯৭০ সালের নির্বাচন নিয়ে জিন্নাহর ছবি সংবলিত পাকিস্তানের ডন পত্রিকার প্রতিবেদনের পেপার কাটিং।

ডাকসু সংগ্রহশালায় পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠাতা মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর ‘বিতর্কিত’ ছবি প্রদর্শনের নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল।

সোমবার সকালে সংগঠনটি বলেছে, শিবির নিয়ন্ত্রিত ডাকসুর এই পরিষদ শিক্ষার্থীদের গণআকাঙ্ক্ষা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্তিকামী চেতনাকে বিসর্জন দিয়ে ১৯৭১ সালের পরাজিত শক্তির প্রতি তাদের প্রচ্ছন্ন অনুরাগ ও ‘পাকিস্তান প্রেম’ জাহির করছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%