০৮:০০ পি.এম
ঢাকা, ১ নভেম্বর, ২০২৬ : সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা আজ নতুন বেতন কাঠামোর আওতায় তাদের বেতন গ্রহণ করেছেন। পাশাপাশি, জুলাই, আগস্ট ও সেপ্টেম্বর মাসের জন্য বর্ধিত বেতনের বকেয়া অর্থও তারা পেয়েছেন।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগের কর্মকর্তাদের সূত্রে জানা যায়, সকাল ১০টার পর থেকে অনেক সরকারি কর্মচারী তাদের মোবাইল ফোনে অক্টোবর মাসের বেতন এবং বিগত তিন মাসের বকেয়া টাকা জমা হওয়ার এসএমএস নোটিফিকেশন গ্রহণ করেছেন।
কর্মকর্তাদের মতে, দেশের প্রায় ১৪ লাখ সরকারি কর্মচারী, ৮ লাখ পেনশনভোগী এবং ৬ লাখ এমপিওভুক্ত শিক্ষকের অধিকাংশই এই বর্ধিত বেতন-ভাতা পেয়েছেন।
আরও পড়ুন: মিরপুরে কুরিয়ার সার্ভিসের সামনে ককটেল বিস্ফোরণে যুবক দগ্ধ
তবে যেসব কর্মচারীর পে-ফিক্সেশন (বেতন নির্ধারণ) প্রক্রিয়া এখনও সম্পন্ন হয়নি, তারা নতুন কাঠামোর এই সংশোধিত বেতন পাননি।
কিছু সরকারি কর্মকর্তা জানান, সকাল ১০টা থেকেই তারা নতুন বেতন কাঠামোর অধীনে প্রাপ্ত বেতনের নিশ্চিতকরণ বার্তা পেয়েছেন। তারা আশাবাদী যে, পে-ফিক্সেশন সংক্রান্ত প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর আগামী দুই থেকে তিন দিনের মধ্যে বাকি কর্মচারীরাও তাদের পাওনা পেয়ে যাবেন।
গত ১৭ সেপ্টেম্বর সরকার নতুন ‘জাতীয় বেতন স্কেল’-এর গেজেট প্রজ্ঞাপন জারি করে। এই প্রজ্ঞাপনে সরকারি কর্মচারীদের বিদ্যমান ২০টি গ্রেড বজায় রেখে মূল বেতন সর্বোচ্চ ১৪২ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সংশোধিত কাঠামোর অধীনে, ১ থেকে ১১ নম্বর গ্রেডের কর্মচারীদের মূল বেতন ১০০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, আর ১২ থেকে ২০ নম্বর গ্রেডের কর্মচারীদের ক্ষেত্রে এই বৃদ্ধির হার ১১৫ থেকে ১৪২ শতাংশ পর্যন্ত।
আরও পড়ুন: সচিবালয়ে আইডি কার্ড দৃশ্যমান রাখা বাধ্যতামূলক করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়
নতুন বেতন কাঠামোটি ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে কার্যকর ধরা হলেও, এটি একক ধাপে দেওয়ার পরিবর্তে পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত ৯ বা তদূর্ধ্ব গ্রেডের কর্মকর্তারা বর্ধিত মূল বেতনের ৪০ শতাংশ এবং ১০ থেকে ২০ নম্বর গ্রেডের কর্মচারীরা ৫০ শতাংশ হারে সুবিধা পাবেন।
২০২৬ সালের ৩০ জুনে উত্তোলিত বা প্রদেয় বেতনের ভিত্তিতে এই অতিরিক্ত অর্থ হিসাব করা হয়েছে।
এরপর, ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত কর্মচারীরা বর্ধিত মূল বেতনের ৭৫ শতাংশ পাবেন। আর ২০২৭ সালের ১ জুলাই থেকে বার্ষিক ইনক্রিমেন্টসহ সংশোধিত স্কেলের ১০০ শতাংশ পুরোটাই বাস্তবায়ন করবে সরকার।
আরও পড়ুন: ঢাকায় তিন দিনের সফরে এলেন চীনা মন্ত্রী লিউ হাইশিং
তবে ২০২৭ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত অন্যান্য সকল ভাতা ২০২৬ সালের ৩০ জুনে প্রযোজ্য হারেই অব্যাহত থাকবে। প্রজ্ঞাপনে ঘোষিত ভাতাগুলোর সংশোধিত হার কার্যকর হবে ২০২৮ সালের ১ জানুয়ারি থেকে।
এর আগে সর্বশেষ জাতীয় বেতন স্কেল কার্যকর হয়েছিল ২০১৫ সালে। ফলে দীর্ঘ ১১ বছর পর সরকারি কর্মচারীদের বেতনে এটিই প্রথম বড় ধরনের পুনর্গঠন।
২০১৫ সালের বেতন স্কেলে সর্বনিম্ন গ্রেডে ১০১ শতাংশ এবং সর্বোচ্চ গ্রেডে ৯৫ শতাংশ মূল বেতন বৃদ্ধি পেয়েছিল।
আরও পড়ুন: বাংলাদেশ অ্যাক্রেডিটেশন কাউন্সিলের উদ্যোগে একাডেমিক নিরীক্ষকদের প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন