বৃহস্পতিবার, ৩ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
১১:২৬ পি.এম
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের জনগণকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন যাতে সমাজবিরোধী অপশক্তি মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে না পারে এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট না হয়।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) সকালে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে শুভ জন্মাষ্টমী উপলক্ষে সনাতন ধর্মাবলম্বী বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় এবং পুরোহিত ও সেবাইতগণের সম্মানী প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই আহ্বান জানান।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, "বাংলাদেশে আবহমানকাল থেকে দল-মত-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সব মানুষ পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতি বজায় রেখে নিজ নিজ ধর্ম ও সংস্কৃতি পালন করে আসছে।" তবে তিনি উল্লেখ করেন যে, সময় সময়ে ‘কংস’ চরিত্রের মানুষেরা রাষ্ট্র ও সমাজে বিভেদ সৃষ্টির অপচেষ্টা চালিয়েছে।
তিনি আরও বলেন, "বাংলাদেশেও গণতন্ত্রকামী জনগণের সকল অধিকার কেড়ে নিয়ে ‘কংসের’ মত এক নিষ্ঠুর শাসক জনগণের কাঁধে চেপে বসেছিল।" দীর্ঘ দেড় দশকের বেশি সময় পর, তিনি জানান, দেশের গণতন্ত্রকামী জনগণ হাজারো প্রাণের বিনিময়ে কংসরূপী সেই ফ্যাসিস্টদের পতন ঘটিয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, "বাংলাদেশে আবারো গণতন্ত্রের যাত্রা শুরু হয়েছে। ভঙ্গুর অর্থনীতি, বিভাজিত প্রশাসন, আর অবনতিশীল আইনশৃঙ্খলার উন্নতি ঘটিয়ে এবার দেশ পুনর্গঠনের পালা।"
একটি রাষ্ট্র এবং সমাজে বিভিন্ন ধর্ম ও মতের মানুষের সম্মিলন থাকে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, "এটিই বৈচিত্র্যময় সমাজের সৌন্দর্য।" তিনি বলেন, "আজকের এই অনুষ্ঠানে যারা ‘সংখ্যালঘু’ কিংবা ‘সংখ্যাগুরু’ হিসেবে বিবেচিত, ইউরোপ কিংবা আমেরিকা সফরে গেলে আমরা সবাই কিন্তু কথিত ‘সংখ্যা লঘু’।"
প্রধানমন্ত্রী বলেন, "সংখ্যালঘু’ কিংবা ‘সংখ্যাগুরু’ নয়, আসুন সবাই নিজেদেরকে বাংলাদেশী ভাবি।" তিনি উল্লেখ করেন যে, রাষ্ট্র এবং সমাজে দল, মত, ধর্ম, বর্ণ, পরিচয় যেন মানুষের মধ্যে বিভেদ বৈষম্য সৃষ্টির কারণ না হয়, সেই উপলব্ধি থেকেই দেশের সকল নাগরিককে ঐক্যবদ্ধ রাখতে স্বাধীনতার ঘোষকের যুগান্তকারী রাজনৈতিক দর্শন ‘বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ’।
তিনি বলেন, "আমাদের সকল নাগরিকের গর্বিত পরিচয় ‘আমরা বাংলাদেশী’।" বর্তমান সরকার একটি কল্যাণমূলক রাষ্ট্র ব্যবস্থা গড়তে চায় উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, রাষ্ট্র তার সাধ্য এবং সামর্থ্য অনুযায়ী দল-মত, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে দেশের নাগরিকদের প্রয়োজনীয় সহায়তা দেবে।
অপরদিকে নাগরিকগণ রাষ্ট্রের প্রতি তাদের সকল নাগরিক দায়িত্ব পালন করবে। তিনি বলেন, "এভাবেই রাষ্ট্র ও সরকার এবং নাগরিকদের মধ্যকার পারস্পরিক দায়িত্ব ও আস্থা এবং আলাপের মাধ্যমেই গড়ে উঠবে সকলের কাঙ্ক্ষিত কল্যাণমূলক রাষ্ট্র।"
এই রাষ্ট্র এবং সমাজে কেউ যাতে পিছিয়ে না থাকে তা নিশ্চিত করতে বর্তমান সরকার বদ্ধপরিকর। এজন্য প্রয়োজন সম্মিলিত উদ্যোগ ও সহায়তা।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, "সার্বভৌমত্ব সুসংহত রেখে সমৃদ্ধ স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়তে হলে দেশে নাগরিকদের রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন জরুরি।" সেই লক্ষ্য পূরণেই বর্তমান সরকার ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, স্পোর্টস কার্ড, সকল ধর্মের ধর্মীয় গুরুদের জন্য সম্মানী ভাতা প্রদানসহ যাবতীয় উদ্যোগ গ্রহণ এবং বাস্তবায়ন করে চলছে।
সনাতন ধর্মের প্রবর্তক শ্রীকৃষ্ণকে স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, "হিন্দু ধর্মীয় শাস্ত্রমতে, কৃষ্ণপক্ষের অষ্টমী তিথিতে জন্ম নিয়েছিলেন সনাতন ধর্মের প্রবর্তক শ্রীকৃষ্ণ।" তিনি বলেন, "হিন্দু ধর্মের অবতার শ্রীকৃষ্ণ প্রায় সাড়ে ৫ হাজার বছর আগে মথুরায় এমন একসময় জন্মগ্রহণ করেন, যখন মথুরার শাসক ছিলেন নিষ্ঠুর ও দুষ্টু প্রকৃতির, অত্যাচারী-স্বৈরাচারী 'কংস'।"
শ্রীকৃষ্ণের আবির্ভাবের পর 'কংসে'র পতন ঘটে। হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা বিশ্বাস করেন, দুষ্টের দমন শিষ্টের পালনই ছিল শ্রীকৃষ্ণের অন্যতম ব্রত।
হিন্দু সম্প্রদায়কে জন্মাষ্টমীর শুভেচ্ছা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, "এই দেশ আপনার আমার আমাদের সকলের। নাগরিক হিসেবে এই দেশে আপনার আমার আমাদের সকলের অধিকার সমান।" তিনি বলেন, "নিজ নিজ ধর্মীয় বিশ্বাস ও সংস্কৃতি অনুযায়ী জীবন পরিচালনা করা প্রতিটি নাগরিকের সাংবিধানিক মৌলিক অধিকার।"
বর্তমান সরকার বিশ্বাস করে, বিএনপি বিশ্বাস করে, "ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার।" প্রধানমন্ত্রী বলেন, "ধর্ম যার যার নিরাপত্তা পাবার অধিকার সবার।" তিনি বলেন, "আসুন, আমরা সবাই ধর্মীয় সম্প্রীতি, সহনশীলতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধা এবং সৌহার্দ্য-সম্প্রীতির বন্ধন আরও সুদৃঢ় করি।"
তিনি আরও বলেন, "শুভ জন্মাষ্টমীর উৎসবের পরই আপনাদের সামনে আসন্ন ধর্মীয় ও সামাজিক উৎসব দুর্গাপূজা। আপনারা সকল উৎসব-আয়োজন শান্তিতে ও স্বস্তিতে এবং নিরাপদে পালন করুন। আমি আবারো জন্মাষ্টমীর শুভেচ্ছার পাশাপাশি দুর্গোৎসবের আগাম শুভেচ্ছা জানাচ্ছি।"
জন্মাষ্টমী উপলক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের উদ্যোগে শুভেচ্ছা বিনিময়ের এই আয়োজন করা হয়। গীতা পাঠের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়।
এর আগে হিন্দু সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে সংস্কৃতি মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী প্রধানমন্ত্রীকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান। প্রধানমন্ত্রী হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রতি শুভেচ্ছা জানিয়ে পুস্পস্তবক উপহার দেন। হিন্দু সম্প্রদায়ের পক্ষে তা গ্রহণ করেন সংসদ সদস্য সূবর্ণা শিকদার ঠাকুর।
অনুষ্ঠানে মন্দিরের ৯ জন পুরোহিত ও সেবায়েতের মধ্যে সম্মানী বিতরণ করেন প্রধানমন্ত্রী। একই সঙ্গে সারাদেশে পুরোহিত ও সেবাইতগণের ব্যাংক একাউন্টে এফটিএ’র মাধ্যমে এই অর্থ পৌঁছে যায়।
হিন্দু সম্প্রদায়ের আরাধ্য ভগবান শ্রীকৃষ্ণের শুভ জন্মদিন শুক্রবার। দিবসটির প্রাক্কালে প্রধানমন্ত্রী সনাতন ধর্মাবলম্বী ব্যক্তিদের সাথে শুভেচ্ছা বিনিময় করলেন।
হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান ও নৃ-গোষ্ঠি বিষয়ক প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী বিজন কান্তি সরকারের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ, সংস্কৃতি মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী, প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসন বিষয়ক উপদেষ্টা ইসমাইল জবিহউল্লাহ, ধর্ম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ শামীম কায়সার লিংকন, সিপিডির ফেলো দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য, হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাষ্টের ভাইস চেয়ারম্যান তপন চন্দ্র মজুমদার, পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সন্তোষ শর্মা, স্বামীবাগ ইসকনের অধ্যক্ষ শ্রীমৎ ভক্তিময় নিতাই স্বামী মহারাজ, বিএনপির সহ ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক অমলেন্দু দাস অপু বক্তব্য রাখেন।
অনুষ্ঠানে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী আবদুল মঈন খান, আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী রশিদুজ্জামান মিল্লাত, প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা জহির উদ্দিন স্বপন, প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান, পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমান উল্লাহ আমান, ফরহাদ হালিম ডোনার, ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ বুলু, গণফোরাম সভাপতি সুব্রত চৌধুরীসহ হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
জাতীয় সংসদ ভবন থেকে ফিরে আসার সময়, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সমাধিতে শ্রদ্ধা প্রদর্শন করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা মির্জা আব্বাস।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) তিনি সমাধিস্থলে উপস্থিত হন এবং সেখানে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে তাদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
এ সময়, কিছুক্ষণ নীরবতা পালন করে তাদের স্মৃতির প্রতি সম্মান জানান মির্জা আব্বাস।
দীর্ঘ পাঁচ মাসের বেশি সময় ধরে সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়ায় চিকিৎসা শেষে, বুধবার রাতে দেশে ফিরে আসেন তিনি। দেশে ফেরার পর বৃহস্পতিবার প্রথমবারের মতো জাতীয় সংসদে গিয়ে দাপ্তরিক কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করেন আব্বাস।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের অধিবেশনে এদিন প্রথমবারের মতো অংশগ্রহণ করে বক্তব্যও দেন ঢাকা-৮ আসনের এই সংসদ সদস্য।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
কুলাউড়ায় চলন্ত ট্রেন থেকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেওয়া ১১ বছর বয়সী এক পানিবিক্রেতা শিশুকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেছেন এক মানসিকভাবে অসুস্থ ব্যক্তি। এই ঘটনাটি মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলা এলাকায় ঘটেছে।
আহত শিশুটির পরিচয় এখনো জানা সম্ভব হয়নি। তার স্বজনদের কোনো যোগাযোগের নম্বরও সে দিতে পারেনি। চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, শিশুটির ঘাড়সহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম রয়েছে। তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য মৌলভীবাজার জেলা সদর হাসপাতালে স্থানান্তরের প্রক্রিয়া চলছে।
পুলিশ ও উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) বিকেলে উপজেলার ছকাপন এলাকা থেকে স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় আহত শিশুটিকে কুলাউড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান খোকন চৌধুরী (৪৮) নামের ওই ভারসাম্যহীন ব্যক্তি। খোকন চট্টগ্রামের জোরারগঞ্জ থানার তেতুয়া গ্রামের বাসিন্দা। তিনি একসময় পল্লিচিকিৎসক ছিলেন।
কুলাউড়া রেলওয়ে থানার উপপরিদর্শক (এসআই) অমর চন্দ্র বিশ্বাস জানান, খোকন চৌধুরী বেশ কিছুদিন ধরে মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে নিখোঁজ ছিলেন। রেললাইন দিয়ে হাঁটার সময় তিনি শিশুটিকে রক্তাক্ত পড়ে থাকতে দেখে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নিয়ে আসেন। খোকন নিজে অসুস্থ হলেও পুরো রাত হাসপাতালে ঘুমন্ত শিশুটির পাশে বসে থেকে অনন্য মানবিকতার পরিচয় দিয়েছেন। খবর পেয়ে তার স্বজনেরা তাকে বাড়ি নিয়ে যেতে কুলাউড়ার উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন।
সাময়িক সুস্থ হয়ে সমাজসেবা কার্যালয়ের কর্মীদের শিশুটি জানায়, সে ট্রেনে পানির বোতল বিক্রি করত। কয়েকজন লোক তার সঙ্গে থাকা সব টাকাপয়সা ছিনিয়ে নিয়ে চলন্ত ট্রেন থেকে ধাক্কা দিয়ে নিচে ফেলে দেয়।
কুলাউড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক আনিকা কাসেম জানান, শিশুটির শরীরে বড় ধরনের অভ্যন্তরীণ আঘাত বা হাড় ভাঙা থাকতে পারে। প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হলেও তার অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় দ্রুত জেলা সদর হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। কুলাউড়া রেলওয়ে থানা পুলিশ ও সমাজসেবা অধিদপ্তর শিশুটির আসল পরিচয় শনাক্তে কাজ করছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
কলকাতার বাংলাদেশ উপ-হাইকমিশন বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য চিকিৎসা ও অন্যান্য প্রয়োজনে ভারতে ভ্রমণের সময় আবাসন সংক্রান্ত অনাকাঙ্ক্ষিত সমস্যার সম্ভাবনা এড়াতে সতর্কবার্তা জারি করেছে। শহরটিতে সাম্প্রতিক ঘটে যাওয়া একটি অগ্নিকাণ্ডের প্রেক্ষাপটে স্থানীয় প্রশাসনের কঠোর ব্যবস্থাগুলোর কথা মাথায় রেখে ভ্রমণকারীদের অগ্রিম হোটেল নিশ্চিত করার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।
৩ সেপ্টেম্বর, বৃহস্পতিবার, কলকাতার বাংলাদেশ উপ-হাইকমিশন থেকে প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই জরুরি নির্দেশনা জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, গত ১৯ আগস্ট কলকাতায় ঘটে যাওয়া এক মর্মান্তিক অগ্নিকাণ্ডের পর স্থানীয় প্রশাসন নিরাপত্তা জোরদারে তৎপর হয়েছে। অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি রয়েছে এমন বেশ কিছু আবাসিক হোটেল ও রেস্তোরাঁ কর্তৃপক্ষের নির্দেশে সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। নিরাপত্তা বিধি মেনে এসব হোটেল পুনরায় স্বাভাবিক কার্যক্রম শুরু করতে এক মাসেরও বেশি সময় লাগতে পারে।
এমন পরিস্থিতিতে কলকাতায় এসে আবাসনের বিষয়ে কোনো সমস্যা যাতে না হয়, সেই জন্য ঢাকা ত্যাগ করার আগে হোটেলের কক্ষের প্রাপ্যতা ও কার্যক্রম সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
বিশেষ করে চিকিৎসার উদ্দেশ্যে যাওয়া রোগী এবং তাদের সফরসঙ্গীদের (অ্যাটেনডেন্ট) জন্য কলকাতায় পৌঁছানোর পূর্বেই হোটেল বুকিং সম্পন্ন করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে হোটেল থেকে হাসপাতালের দূরত্ব, বুকিংয়ের বৈধতা এবং প্রাসঙ্গিক সুযোগ-সুবিধা সম্পর্কে আগেভাগেই খোঁজ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
উপ-হাইকমিশনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ভ্রমণকালীন ভোগান্তি এবং যেকোনো অনভিপ্রেত পরিস্থিতি এড়াতে বাংলাদেশি পর্যটক ও রোগীদের স্থানীয় নিরাপত্তা বিধি মেনে সতর্কতার সঙ্গে ভ্রমণ পরিকল্পনা করা উচিত।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ কে এম শামছুল ইসলামের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন।
এই সাক্ষাৎ বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) ঢাকা সেনানিবাসে সশস্ত্র বাহিনী বিভাগে প্রতিরক্ষা উপদেষ্টার কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়। আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
বৈঠকের সময় বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে বিদ্যমান সামরিক এবং প্রতিরক্ষা সহযোগিতাকে আরও শক্তিশালী ও বেগবান করার বিষয়ে উভয় পক্ষ তাদের মতামত প্রকাশ করেন। বিশেষ করে, উভয় দেশের সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের উন্নত পেশাগত প্রশিক্ষণ, সামরিক শিক্ষা বিনিময় এবং প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধির বিষয়গুলো নিয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে।
আধুনিক সামরিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় দুই দেশের পারস্পরিক অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং প্রশিক্ষণ সহযোগিতার বৃদ্ধি দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও উন্নত করবে বলে বৈঠকে উভয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা দুই দেশের দীর্ঘদিনের ঐতিহাসিক বন্ধুত্ব, কৌশলগত অংশীদারিত্ব এবং উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় চীনের সহযোগিতার কথা স্মরণ করেন এবং ভবিষ্যতে চীনের সহযোগিতা আরও বৃদ্ধি পাবে বলে আশা প্রকাশ করেন।
বৈঠকের সময় চীনের রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা খাতের আধুনিকায়নে দেশটির অব্যাহত সমর্থনের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন।
উভয় পক্ষ ভবিষ্যতে দুই দেশের বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ও পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রতিরক্ষা সহযোগিতাকে আরও নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ