শুক্রবার, ২৩শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং
১১:২১ এম
কক্সবাজারের টুপটুপ রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার সাত দিন অতিবাহিত হলেও, আগুন লাগার প্রকৃত কারণ এখনো চূড়ান্তভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। তবে পুলিশ ও তদন্ত কমিটি ধারণা করছে, ফ্রিজে শর্টসার্কিটের কারণে আগুনের সূত্রপাত ঘটে। এরপর রান্নাঘরের গ্যাস সিলিন্ডারে বিস্ফোরণ ঘটে, যা পরিস্থিতিকে আরো বিপজ্জনক করে তোলে। গুদামে থাকা দাহ্য রাসায়নিক পদার্থের কারণে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।
১৭ অক্টোবর সকালে উখিয়ার পাটুয়ারটেক সৈকতসংলগ্ন মেরিন ড্রাইভের পাশে অবস্থিত তিনতলা রিসোর্টটিতে আগুন লেগে যায়। এই অগ্নিকাণ্ডের ফলে ১০ পর্যটকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
অগ্নিকাণ্ডের পর থেকে রিসোর্টের মালিক এবং মামলার প্রধান আসামি মো. তানভীর সুলতান মিয়া পলাতক অবস্থায় রয়েছেন। রিসোর্টের আরেক মালিক নেওয়াজ মোরশেদসহ অন্যান্যরা আত্মগোপনে চলে গেছেন। এখন পর্যন্ত পুলিশ সহকারী ব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেনকে গ্রেপ্তার করেছে। তাঁকে ৭ দিনের রিমান্ডের জন্য আবেদন করা হয়েছে, তবে রিমান্ড শুনানি এখনো অনুষ্ঠিত হয়নি।
উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুর রহমান জানান, প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, প্রথমে নিচতলার একটি ফ্রিজে শর্টসার্কিট ঘটে। এরপর আগুন ছড়িয়ে পড়ার পর রান্নাঘরের গ্যাস সিলিন্ডারে বিস্ফোরণ ঘটে।
ওসির বক্তব্য অনুযায়ী, রিসোর্টের গুদামে দাহ্য রাসায়নিক পদার্থ ছিল, যা তীব্র বাতাস এবং কাঠের অবকাঠামোর কারণে আগুনের বিস্তারকে ত্বরান্বিত করে। তবে, কী ধরনের রাসায়নিক পদার্থ ছিল, সে সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য এখনো পাওয়া যায়নি।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উখিয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) রিমন ঘোষ জানান, আগুনের সূত্রপাত নিয়ে বিভিন্ন তথ্য আসছে। প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে আরো সময় প্রয়োজন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নিষেধাজ্ঞার প্রেক্ষাপটে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সর্বোচ্চ মানবাধিকার পুরস্কার অর্জন করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি)। আদালটিকে ২০২৬ সালের ‘সাখারভ পুরস্কার ফর ফ্রিডম অব থট’ প্রদান করা হয়েছে, যা আন্তর্জাতিক আইন ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় এর অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে।
গতকাল বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) ফ্রান্সের স্ট্রাসবুর্গে ইউরোপীয় পার্লামেন্টে পুরস্কার বিজয়ী হিসেবে আইসিসির নাম ঘোষণা করেন পার্লামেন্টের প্রেসিডেন্ট রবার্তা মেতসোলা। এ খবরটি প্রকাশ করেছে রয়টার্স ও এপি।
আইসিসির প্রেসিডেন্ট তোমোকো আকানে এই সম্মাননার জন্য ইউরোপীয় পার্লামেন্টকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেন, আদালত ও এর কর্মকর্তারা নজিরবিহীন চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন থাকা অবস্থায় এই স্বীকৃতি অর্জন করেছে। তিনি আদালতের স্বাধীনভাবে কাজ করার গুরুত্বও তুলে ধরেন, যা আন্তর্জাতিক আইন ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় অপরিহার্য।
হেগভিত্তিক আইসিসি যুদ্ধাপরাধ, মানবতাবিরোধী অপরাধ, গণহত্যা এবং আগ্রাসনের অপরাধের বিচার করে থাকে। ২০২৪ সালে গাজায় সংঘটিত অপরাধের তদন্তের অংশ হিসেবে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্টের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির পর আদালটিতে ট্রাম্প প্রশাসনের চাপ বৃদ্ধি পায়।
সম্প্রতি ট্রাম্প প্রশাসন আইসিসির বিরুদ্ধে নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে, যা আদালতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের আর্থিক লেনদেন এবং সেবা গ্রহণে বাধা সৃষ্টি করতে পারে। ওয়াশিংটনের এই পদক্ষেপগুলোকে আদালতের কার্যক্রম দুর্বল করার চেষ্টা হিসেবে দেখছেন এর সমর্থকেরা।
অন্যদিকে, ইউরোপীয় ইউনিয়ন যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার বিরোধিতা করেছে। তারা আদালতের কার্যক্রম সচল রাখতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের কথা জানিয়েছে। ইউরোপীয় কমিশন আইসিসিকে সেবা প্রদানকারী ইউরোপীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে সুরক্ষা দেওয়ার বিষয়টিও বিবেচনা করছে।
এ বছরের সাখারভ পুরস্কারের সংক্ষিপ্ত তালিকায় আইসিসি ছাড়াও তানজানিয়ার বিরোধী নেতা তুন্দু লিসু এবং ইরানের কারাবন্দি দুই বোন তারানেহ ও রোমিনা রহিমি অন্তর্ভুক্ত ছিলেন।
১৯৮৮ সালে সাবেক সোভিয়েত ভিন্নমতাবলম্বী আন্দ্রেই সাখারভের নামে ইউরোপীয় পার্লামেন্ট এই পুরস্কার চালু করে। প্রতিবছর মানবাধিকার, গণতন্ত্র এবং মৌলিক স্বাধীনতা রক্ষায় অবদানের জন্য ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে এই সম্মাননা প্রদান করা হয়।
সূত্র: রয়টার্স, এপি।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
মালদ্বীপে বাংলাদেশি ব্যাংকের শাখা ও বিকল্প মুদ্রা নিষ্পত্তি ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ গ্রহণ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এর ফলে দেশটিতে কর্মরত বাংলাদেশিদের জন্য প্রবাসী আয় বৈধ চ্যানেলে দেশে পাঠানোর প্রক্রিয়া সহজ হবে এবং ব্যাংকিং সেবার পরিধি বৃদ্ধি পাবে বলে কেন্দ্রীয় ব্যাংক আশা করছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা মন্তব্য করেন, ‘প্রবাসী আয় যাতে বৈধ পথে দেশে আসে, সে জন্য মালদ্বীপে বাংলাদেশি ব্যাংকের শাখা খোলার চেষ্টা করছি।’
তিনি আরও উল্লেখ করেন, এ বিষয়ে সহযোগিতা চেয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. মোস্তাকুর রহমান মালদ্বীপ মনিটারি অথরিটির (এমএমএ) গভর্নর আহমেদ মুনাওয়ারকে একটি চিঠি পাঠিয়েছেন। এখন বাংলাদেশ তাদের জবাবের জন্য অপেক্ষা করছে।
উদ্যোগটি এগিয়ে নিতে বাংলাদেশ ব্যাংক সম্প্রতি মালদ্বীপে বাংলাদেশ দূতাবাসের সঙ্গে একটি ভার্চুয়াল বৈঠক করেছে। বৈঠকে বাংলাদেশি ব্যাংকের শাখা স্থাপন এবং প্রবাসীদের আয় বৈধ চ্যানেলে দেশে পাঠানোর সুযোগ আরও শক্তিশালী করার বিষয়ে আলোচনা করা হয়েছে।
বাংলাদেশের ব্র্যাক ব্যাংক ও ন্যাশনাল ব্যাংকসহ বেশ কয়েকটি বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংক মালদ্বীপে শাখা স্থাপনের সম্ভাব্যতা যাচাই করেছে বলেও ওই কর্মকর্তা জানান।
বর্তমানে শ্রীলঙ্কা, পাকিস্তান ও ভারতের কিছু ব্যাংক মালদ্বীপে শাখা পরিচালনা করছে, যা বাংলাদেশের জন্য একটি কার্যকর দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের মতে, মালদ্বীপে বাংলাদেশি ব্যাংকের উপস্থিতি বাড়লে প্রবাসীরা সহজে ব্যাংকিং সেবা পাবেন এবং অনুমোদিত চ্যানেলে দেশে অর্থ পাঠানো আরও সুবিধাজনক হবে। তবে এ জন্য দুই দেশের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ও পারস্পরিক সহযোগিতা প্রয়োজন হবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের দেশভিত্তিক প্রবাসী আয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে মালদ্বীপ থেকে বাংলাদেশে ১১ কোটি ৮০ লাখ ডলার এসেছে। আগের অর্থবছরে এই অঙ্ক ছিল ১৪ কোটি ১১ লাখ ডলার। অর্থাৎ এক বছরে প্রায় ১৬ দশমিক ৪ শতাংশ কমেছে প্রবাসী আয়।
তবে চলতি অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে মালদ্বীপ থেকে ৩ কোটি ৮০ লাখ ৫০ হাজার ডলার দেশে এসেছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, প্রবাসী আয় কমে যাওয়ার এবং অর্থ পাঠাতে বাংলাদেশি কর্মীদের নানা জটিলতার কারণে বৈধ রেমিট্যান্স সেবা আরও সহজ, সাশ্রয়ী ও কার্যকর করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
ব্যাংক শাখা স্থাপনের পাশাপাশি মালদ্বীপ থেকে রেমিট্যান্স পাঠানো সহজ করার জন্য তিনটি নতুন ব্যবস্থা প্রস্তাব করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
গত ৮ অক্টোবর এমএমএ গভর্নরের কাছে পাঠানো চিঠিতে গভর্নর ড. মোস্তাকুর রহমান দুই দেশের মুদ্রা কর্তৃপক্ষের মধ্যে নিরাপদ, দক্ষ, স্বচ্ছ ও কম ব্যয়ের রেমিট্যান্স ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সহযোগিতা চান।
প্রথম প্রস্তাবে এশিয়ান ক্লিয়ারিং ইউনিয়নের (এসিইউ) আওতায় উপযুক্ত ব্যবস্থার মাধ্যমে মালদ্বীপের স্থানীয় মুদ্রা রুফিয়া ব্যবহারের সম্ভাবনা যাচাইয়ের কথা বলা হয়েছে। এ ব্যবস্থায় বাংলাদেশে উপকারভোগীরা অনুমোদিত ডিলার ব্যাংকের মাধ্যমে টাকায় সমপরিমাণ অর্থ পাবেন।
দ্বিতীয় প্রস্তাবে মালদ্বীপের লাইসেন্সধারী ব্যাংক ও অর্থ স্থানান্তর প্রতিষ্ঠানগুলোকে বাংলাদেশি নাগরিকদের ভ্রমণসংক্রান্ত যোগ্য পরিশোধ রুফিয়ায় করার সুযোগ দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। বাংলাদেশে অনুমোদিত ডিলার ব্যাংকগুলো টাকাভিত্তিক কার্ড ইস্যু করবে এবং দুই দেশের সমন্বিত নিয়ন্ত্রক ব্যবস্থার মাধ্যমে এর নিষ্পত্তি হবে।
তৃতীয় প্রস্তাবে বাংলাদেশ ও মালদ্বীপের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় কারেন্সি সোয়াপ ব্যবস্থা চালুর সম্ভাবনা খতিয়ে দেখার কথা বলা হয়েছে, যাতে বাংলাদেশি কর্মীদের উপার্জন দেশে ফিরিয়ে আনা আরও সহজ হয়।
বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, এসব ব্যবস্থা বাস্তবায়ন দুই দেশের আইন ও নিয়ন্ত্রক অনুমোদনের ওপর নির্ভর করবে।
এ ছাড়া বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তা ও মালদ্বীপে বাংলাদেশ মিশনের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে একটি যৌথ প্রতিনিধিদল গঠনের মাধ্যমে এমএমএ’র সঙ্গে বৈঠক করতেও প্রস্তুতি রয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের। সম্ভাব্য ওই বৈঠকে নিয়ন্ত্রক শর্ত, পরিচালনাগত ব্যবস্থা এবং নিষ্পত্তি কাঠামো নিয়ে আলোচনা হবে।
মালদ্বীপে বর্তমানে এক লাখের বেশি বাংলাদেশি কর্মরত রয়েছে। ২০২৪ সালের তথ্য অনুযায়ী, দেশটিতে দুই লাখের বেশি বিদেশি কর্মী রয়েছেন, যার মধ্যে এক লাখের বেশি বাংলাদেশি।
এত বড় বাংলাদেশি কর্মীসমাজ থাকা সত্ত্বেও স্থানীয় মুদ্রা রুফিয়া সরাসরি গ্রহণে ব্যাংক ও মানি এক্সচেঞ্জ প্রতিষ্ঠানগুলোর অনীহার কারণে প্রবাসীরা বৈধ পথে অর্থ পাঠাতে সমস্যায় পড়ছেন।
ফলে অনেককে অনানুষ্ঠানিক বাজার থেকে আগে মার্কিন ডলার কিনে পরে ব্যাংক বা এক্সচেঞ্জ হাউসের মাধ্যমে অর্থ পাঠাতে হয়। এর সঙ্গে উচ্চ কমিশন যোগ হওয়ায় বৈধ পথে অর্থ পাঠানোর ব্যয় আরও বেড়ে যায়।
বাংলাদেশ ব্যাংকের মতে, এসব জটিলতা বৈধ চ্যানেলের ব্যবহার নিরুৎসাহিত করে এবং হুন্ডিসহ অনানুষ্ঠানিক ব্যবস্থার ওপর নির্ভরতা বাড়ায়, যার ফলে দেশের আনুষ্ঠানিক ব্যাংকিং ব্যবস্থায় প্রবাসী আয়ের প্রবাহ সীমিত হয়।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের আশা, প্রয়োজনীয় অনুমোদন ও কার্যকর ব্যবস্থা নিশ্চিত করা গেলে মালদ্বীপে বাংলাদেশি ব্যাংকের শাখা চালু এবং প্রস্তাবিত মুদ্রা নিষ্পত্তি ব্যবস্থাগুলো একসঙ্গে বাস্তবায়নের মাধ্যমে অনানুষ্ঠানিক মুদ্রাবাজারের ওপর নির্ভরতা কমবে, লেনদেনের স্বচ্ছতা বাড়বে এবং প্রবাসীরা আরও সহজে পরিবারের কাছে অর্থ পাঠাতে পারবেন।
বাংলাদেশ ব্যাংকের এই উদ্যোগের লক্ষ্য প্রবাসী আয় স্থানান্তরকে আরও নিরাপদ, দ্রুত ও কম ব্যয়বহুল করা এবং বৈধ চ্যানেলে দেশে আসা প্রবাসী আয়ের পরিমাণ বৃদ্ধি করা। তবে পুরো উদ্যোগের বাস্তবায়ন মালদ্বীপ মনিটারি অথরিটির সাড়া, প্রয়োজনীয় নিয়ন্ত্রক অনুমোদন এবং দুই দেশের মধ্যে কার্যকর সমন্বয় ব্যবস্থার ওপর নির্ভর করবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
৩৩ বছর বয়সী মার্কিন ওপেন-ওয়াটার সাঁতারু ক্যাথরিন ব্রিড অসাধ্য সাধন করেছেন। তিনি ক্যালিফোর্নিয়ার ৯০০ মাইল দীর্ঘ উপকূল সাঁতরে পার হয়ে মাত্র ১১১ দিনে একটি অবিশ্বাস্য ইতিহাস রচনা করেছেন। এই দীর্ঘ ও চ্যালেঞ্জিং যাত্রা শুরু হয় গত ১ জুলাই ওরেগন সীমান্ত থেকে এবং সফলভাবে শেষ হয় ১৯ অক্টোবর মেক্সিকোর টিজুয়ানা সীমান্তে।
ক্যাথরিন প্রতিদিন গড়ে পাঁচ থেকে আট ঘণ্টা খোলা সমুদ্রে সাঁতার কাটতেন। লস অ্যাঞ্জেলেস টাইমস ও নিউইয়র্ক টাইমসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, "এই অর্জন আমার কাছে এখনো স্বপ্নের মতো লাগছে।"
চার মাসের এই রোমাঞ্চকর যাত্রাপথ মোটেও সহজ ছিল না। বিশেষ করে ‘এল নিনো’র প্রভাবে সমুদ্রের বৈরী আবহাওয়ার কারণে তাকে বারবার দিক পরিবর্তন করতে হয়েছে। এতে তার সাঁতারের সময় ও দূরত্ব দুই-ই বেড়ে যায়। এর পাশাপাশি সমুদ্রের দ্রুততম শিকারি হিসেবে পরিচিত ‘মাকো হাঙর’-এর মুখোমুখিও হতে হয়েছিল তাকে।
হাঙর দেখার মাত্র ১০ সেকেন্ডের মধ্যেই দলের ক্যাপ্টেন মেইসি ব্রিস্টো তাকে নিরাপদে ৫২ ফুট দীর্ঘ নৌকায় তুলে নেন। ওয়ার্ল্ড ওপেন ওয়াটার সুইমিং অ্যাসোসিয়েশনের নির্বাহী পরিচালক কুইন ফিটজগেরাল্ড জানান, এল নিনোর প্রতিকূল পরিস্থিতিতে এমন উচ্চাভিলাষী এক অভিযান সফল করা ক্যাথরিনের অসাধারণ প্রতিভারই প্রমাণ।
ঐতিহাসিক এই অর্জনের পর ক্যাথরিন ব্রিড তার অনুভূতির কথা জানাতে গিয়ে পুরো ক্রু দলের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। টানা প্রায় চার মাস সমুদ্রের বুকে কাটানোর পর তিনি আপাতত ছুটি কাটাতে মধ্য আমেরিকায় এক বন্ধুর বিয়ের অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন। এরপর সমুদ্র সংরক্ষণ এবং সাধারণ মানুষকে বড় লক্ষ্য অর্জনে অনুপ্রাণিত করতে নিজের এই রোমাঞ্চকর যাত্রার গল্প সবার কাছে তুলে ধরার পরিকল্পনা রয়েছে এই অদম্য সাঁতারুর।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
বার্সেলোনার সাফল্যের গল্পে লিওনেল মেসির নাম অবশ্যই উঠে আসবে। সেই সোনালী সময়ের সফলতার অন্যতম বিশেষ কারণ ছিল একটি অসাধারণ দল, যেখানে মেসি জাভি, আন্দ্রেস ইনিয়েস্তা, কার্লেস পুয়োলসহ আরও অনেক কিংবদন্তি ফুটবলারদের সঙ্গে ছিলেন।
২০২৬ সালের প্রিন্সেস অব আস্তুরিয়াস স্পোর্টস অ্যাওয়ার্ড গ্রহণের আগে, ওভিয়েদোর হোটেল দে লা রেকনকুইস্তায় স্প্যানিশ সংবাদ সংস্থা ইএফই-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মেসি উল্লেখ করেন, তাদের দলের সাফল্য শুধুমাত্র ট্রফি জয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না; খেলোয়াড়রা খেলাটাকে আন্তরিকভাবে উপভোগ করতেন।
মেসি বলেন, "আমরা সৌভাগ্যবান ছিলাম যে সবকিছু জিততে পেরেছি এবং যেভাবে জিতেছি, সেটাও ছিল অসাধারণ। আমরা খেলতে, জিততে এবং গুরুত্বপূর্ণ অর্জন করতে উপভোগ করতাম। তবে সবচেয়ে বেশি উপভোগ করতাম প্রতিদিনের অনুশীলন আর একসঙ্গে কাটানো সময়। আমরা সত্যিই দারুণ সময় কাটিয়েছি।"
আর্জেন্টাইন তারকা জানান, ওইসব খেলোয়াড়দের সঙ্গে ড্রেসিংরুম ভাগ করে নেওয়া তাঁর জন্য বিশেষ সৌভাগ্যের বিষয় ছিল। তিনি এমন এক সময়ের কথা স্মরণ করেন, যখন জয় আর খেলায় আনন্দ একসঙ্গে চলত।
‘আমার জীবনের ক্লাব’ বার্সেলোনা
বর্তমানে ইন্টার মায়ামির হয়ে খেলা মেসি, এর আগে পিএসজিতে খেলেছেন। ৩৯ বছর বয়সী কিংবদন্তি স্বীকার করেন যে বার্সেলোনার গুরুত্ব কয়েকটি কথায় ব্যাখ্যা করা কঠিন।
মেসি বলেন, বার্সেলোনা তাঁর জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ এবং এটি “আমার জীবনের ক্লাব”।
প্রিন্সেস অব আস্তুরিয়াস ক্রীড়া পুরস্কার পেলেন লিওনেল মেসি
ফুটবলের বাইরেও শহরটির সঙ্গে তাঁর গভীর সম্পর্ক রয়েছে। বার্সেলোনাতেই তাঁর তিন সন্তানের জন্ম হয়েছে এবং সেখানেই জীবনের অনেক গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত কেটেছে। সেই কারণেই শহর ও ক্লাবটির প্রতি তাঁর “খুব, খুব বিশেষ ভালোবাসা” এখনও রয়ে গেছে।
কাতার ২০২২: ক্যারিয়ারের পূর্ণতা
বার্সেলোনার হয়ে ক্লাব পর্যায়ে সম্ভাব্য সব শিরোপা জয়ের পর, মেসি বলেন ২০২২ কাতার বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার শিরোপা জয়ই তাঁর ক্যারিয়ারের পূর্ণতা এনে দিয়েছে।
তাঁর ভাষায়, বিশ্বকাপ জেতা ছিল “স্বপ্নেরও বেশি কিছু”।
ফাইনালে করা গোলগুলোকে তিনি নিজের ক্যারিয়ারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ গোলগুলোর মধ্যে রেখেছেন। কারণ সেসব গোলের গুরুত্ব, প্রেক্ষাপট এবং ম্যাচটির তাৎপর্য ছিল অসাধারণ।
তিনি এগুলোকে বার্সেলোনার হয়ে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনাল এবং এল ক্লাসিকোর স্মরণীয় গোলগুলোর সমপর্যায়ে স্থান দিয়েছেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ