প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নিষেধাজ্ঞার প্রেক্ষাপটে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সর্বোচ্চ মানবাধিকার পুরস্কার অর্জন করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি)। আদালটিকে ২০২৬ সালের ‘সাখারভ পুরস্কার ফর ফ্রিডম অব থট’ প্রদান করা হয়েছে, যা আন্তর্জাতিক আইন ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় এর অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে।
গতকাল বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) ফ্রান্সের স্ট্রাসবুর্গে ইউরোপীয় পার্লামেন্টে পুরস্কার বিজয়ী হিসেবে আইসিসির নাম ঘোষণা করেন পার্লামেন্টের প্রেসিডেন্ট রবার্তা মেতসোলা। এ খবরটি প্রকাশ করেছে রয়টার্স ও এপি।
আইসিসির প্রেসিডেন্ট তোমোকো আকানে এই সম্মাননার জন্য ইউরোপীয় পার্লামেন্টকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেন, আদালত ও এর কর্মকর্তারা নজিরবিহীন চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন থাকা অবস্থায় এই স্বীকৃতি অর্জন করেছে। তিনি আদালতের স্বাধীনভাবে কাজ করার গুরুত্বও তুলে ধরেন, যা আন্তর্জাতিক আইন ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় অপরিহার্য।
হেগভিত্তিক আইসিসি যুদ্ধাপরাধ, মানবতাবিরোধী অপরাধ, গণহত্যা এবং আগ্রাসনের অপরাধের বিচার করে থাকে। ২০২৪ সালে গাজায় সংঘটিত অপরাধের তদন্তের অংশ হিসেবে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্টের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির পর আদালটিতে ট্রাম্প প্রশাসনের চাপ বৃদ্ধি পায়।
সম্প্রতি ট্রাম্প প্রশাসন আইসিসির বিরুদ্ধে নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে, যা আদালতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের আর্থিক লেনদেন এবং সেবা গ্রহণে বাধা সৃষ্টি করতে পারে। ওয়াশিংটনের এই পদক্ষেপগুলোকে আদালতের কার্যক্রম দুর্বল করার চেষ্টা হিসেবে দেখছেন এর সমর্থকেরা।
অন্যদিকে, ইউরোপীয় ইউনিয়ন যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার বিরোধিতা করেছে। তারা আদালতের কার্যক্রম সচল রাখতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের কথা জানিয়েছে। ইউরোপীয় কমিশন আইসিসিকে সেবা প্রদানকারী ইউরোপীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে সুরক্ষা দেওয়ার বিষয়টিও বিবেচনা করছে।
এ বছরের সাখারভ পুরস্কারের সংক্ষিপ্ত তালিকায় আইসিসি ছাড়াও তানজানিয়ার বিরোধী নেতা তুন্দু লিসু এবং ইরানের কারাবন্দি দুই বোন তারানেহ ও রোমিনা রহিমি অন্তর্ভুক্ত ছিলেন।
১৯৮৮ সালে সাবেক সোভিয়েত ভিন্নমতাবলম্বী আন্দ্রেই সাখারভের নামে ইউরোপীয় পার্লামেন্ট এই পুরস্কার চালু করে। প্রতিবছর মানবাধিকার, গণতন্ত্র এবং মৌলিক স্বাধীনতা রক্ষায় অবদানের জন্য ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে এই সম্মাননা প্রদান করা হয়।
সূত্র: রয়টার্স, এপি।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন