ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

অন্তরে প্রতিহিংসা জন্মালে ভয়াবহতা থেকে বাঁচতে করণীয় আমল


অন্তরে প্রতিহিংসা জন্মালে ভয়াবহতা থেকে বাঁচতে করণীয় আমল

অন্যের সাফল্য, সম্পদ, সৌন্দর্য কিংবা সুখের দিকে তাকালে কখনও কখনও নিজের মনে অস্বস্তি সৃষ্টি হতে পারে। কিন্তু যখন সেই অনুভূতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে অন্যের ভালো কিছু নষ্ট হয়ে যাক—এমন কামনা জাগে, তখন তা হিংসায় পরিণত হয়। ইসলাম এই অন্তরের নেতিবাচক প্রবণতা থেকে দূরে থাকার নির্দেশ দেয়। হিংসা মানুষের সম্পর্ক নষ্ট করে, মনে অশান্তি বৃদ্ধি করে এবং অন্যের প্রতি বিদ্বেষ সৃষ্টি করে।

তবে কারও ভালো কিছু দেখে নিজেরও তেমন ভালো কিছু পাওয়ার ইচ্ছা করা এবং তার নিয়ামত নষ্ট হয়ে যাক—এমন কামনা করা এক বিষয় নয়। সুতরাং অন্তরে হিংসা জন্মালে তা প্রশ্রয় না দিয়ে নিজের মনকে সংশোধন করা জরুরি। ইসলামের শিক্ষা ও কিছু অভ্যাস এই ক্ষেত্রে সহায়ক হতে পারে।

১. হিংসা ও বিদ্বেষ থেকে দূরে থাকুন

আরও পড়ুন: সৌদি আরবে গিয়ে ইসলাম গ্রহণ: সিস্টার ডেইজির জীবনের গল্প

হিংসা মানুষের মধ্যে দূরত্ব তৈরি করে এবং পারস্পরিক ভালোবাসা নষ্ট করে। এ বিষয়ে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন—

لَا تَبَاغَضُوا، وَلَا تَحَاسَدُوا، وَلَا تَدَابَرُوا، وَكُونُوا عِبَادَ اللَّهِ إِخْوَانًا

অর্থ: “তোমরা একে অপরের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করো না, পরস্পর হিংসা করো না এবং একে অপরের থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়ো না। বরং আল্লাহর বান্দা হিসেবে পরস্পর ভাই ভাই হয়ে থাকো।” (সহিহ বুখারি, হাদিস ৬০৬৫)।

এই শিক্ষার আলোকে অন্যের সাফল্যে কষ্ট না পেয়ে তার প্রতি সদয় হওয়ার চেষ্টা করা উচিত। মতের অমিল থাকলেও কারও ক্ষতি কামনা করা থেকে বিরত থাকা প্রয়োজন।

আরও পড়ুন: শ্বশুর-শাশুড়ির সেবা পুত্রবধূর জন্য বাধ্যতামূলক নয়, জানুন ইসলামের বিধান

২. নিজের নিয়ামতের জন্য কৃতজ্ঞ থাকুন

অন্যের সম্পদ, সাফল্য কিংবা জীবনযাত্রার সঙ্গে নিজের তুলনা করতে থাকলে নিজের প্রাপ্তিগুলোও অনেক সময় ছোট মনে হয়। এতে মনের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হতে পারে। তাই অন্যের কী আছে, তা নিয়ে পড়ে না থেকে নিজের জীবনে আল্লাহর দেওয়া নিয়ামতগুলোর কথা ভাবুন।

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন—

انْظُرُوا إِلَى مَنْ أَسْفَلَ مِنْكُمْ، وَلَا تَنْظُرُوا إِلَى مَنْ هُوَ فَوْقَكُمْ، فَهُوَ أَجْدَرُ أَنْ لَا تَزْدَرُوا نِعْمَةَ اللَّهِ عَلَيْكُمْ

আরও পড়ুন: অন্যের গোপন তথ্য ফাঁসের শাস্তি ঘোষণা করলেন আল্লাহ

অর্থ: “তোমরা নিজেদের চেয়ে নিচের অবস্থানে থাকা মানুষের দিকে তাকাও, তোমাদের চেয়ে উঁচু অবস্থানে থাকা মানুষের দিকে তাকিয়ো না। এতে আল্লাহর দেওয়া নিয়ামতকে তুচ্ছ মনে করার প্রবণতা কমবে।” (সহিহ মুসলিম, হাদিস ২৯৬৩)।

নিজের সুস্থতা, পরিবার, নিরাপত্তা, জীবিকা কিংবা জীবনের ছোট ছোট প্রাপ্তির জন্যও কৃতজ্ঞ থাকা জরুরি। কৃতজ্ঞতা মানুষকে নিজের জীবনের ভালো দিকগুলো চিনতে সাহায্য করে।

৩. যার প্রতি হিংসা হয়, তার জন্য দোয়া করুন

কারও উন্নতি দেখে মনে হিংসা জাগলে তার ক্ষতি কামনা না করে বরং তার কল্যাণের জন্য দোয়া করার চেষ্টা করুন। এতে নিজের মনকে বিদ্বেষ থেকে সরিয়ে শুভকামনার দিকে নেওয়া সহজ হতে পারে।

আরও পড়ুন: স্ত্রীকে ‘বোন’ বা স্বামীকে ‘ভাই’ ডাকলে কি বিয়ে ভেঙে যায়?

পবিত্র কোরআনে মুমিনদের একটি সুন্দর দোয়া শেখানো হয়েছে—

رَبَّنَا اغْفِرْ لَنَا وَلِإِخْوَانِنَا الَّذِينَ سَبَقُونَا بِالْإِيمَانِ وَلَا تَجْعَلْ فِي قُلُوبِنَا غِلًّا لِّلَّذِينَ آمَنُوا رَبَّنَا إِنَّكَ رَءُوفٌ رَّحِيمٌ

উচ্চারণ: রব্বানাগফির লানা ওয়া লি-ইখওয়ানিনাল্লাজিনা সাবাকুনা বিলঈমানি, ওয়া লা তাজআল ফি কুলুবিনা গিল্লাল্লিল্লাজিনা আমানু, রব্বানা ইন্নাকা রাউফুর রহিম।

অর্থ: “হে আমাদের রব! আমাদের ক্ষমা করুন এবং আমাদের সেই ভাইদেরও ক্ষমা করুন, যারা ঈমানে আমাদের আগে অগ্রগামী হয়েছে। আর যারা ঈমান এনেছে, তাদের প্রতি আমাদের অন্তরে কোনো বিদ্বেষ রাখবেন না। হে আমাদের রব! নিশ্চয়ই আপনি পরম স্নেহশীল, পরম দয়ালু।” (সুরা হাশর, আয়াত ১০)।

আরও পড়ুন: কন্যাসন্তান নিয়ে কোরআনের সুসংবাদ ও ইসলামের নির্দেশনা

এই দোয়ার মাধ্যমে নিজের অন্তরকে বিদ্বেষমুক্ত রাখার জন্য আল্লাহর সাহায্য চাওয়া যায়।

৪. নিজের জন্য যা চান, অন্যের জন্যও তা চান

নিজের জন্য সাফল্য, সম্মান ও সুখ কামনা করা স্বাভাবিক। কিন্তু অন্যের জন্যও একই ধরনের কল্যাণ কামনা করতে পারা উত্তম চরিত্রের পরিচয়। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন—

لَا يُؤْمِنُ أَحَدُكُمْ حَتَّى يُحِبَّ لِأَخِيهِ مَا يُحِبُّ لِنَفْسِهِ

আরও পড়ুন: মুমিনদের জীবনে যেভাবে এলো পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ

অর্থ: “তোমাদের কেউ প্রকৃত মুমিন হতে পারবে না, যতক্ষণ না সে তার ভাইয়ের জন্য তা-ই পছন্দ করে, যা সে নিজের জন্য পছন্দ করে।” (সহিহ বুখারি, হাদিস ১৩)।

সুতরাং অন্যের ভালো কিছু দেখে মনে কষ্ট হলে নিজেকে প্রশ্ন করুন—আমি কি নিজের জন্য যেমন সাফল্য চাই, তার জন্যও তেমন সাফল্য চাইতে পারি? এই মনোভাব চর্চা করলে অন্যের প্রতি শুভকামনা বাড়তে পারে।

৫. হিংসার ভয়াবহতা সম্পর্কে সতর্ক থাকুন

সুনান আবু দাউদে একটি বর্ণনায় হিংসাকে আগুনের সঙ্গে তুলনা করে বলা হয়েছে, আগুন যেমন জ্বালানি পুড়িয়ে ফেলে, হিংসাও তেমনি নেক আমল ধ্বংস করে। তবে এই বর্ণনাটিকে মুহাদ্দিস আলবানী দুর্বল বলেছেন। তাই এটিকে নিঃশর্তভাবে সহিহ হাদিস বলা ঠিক নয়।

তবে হিংসা ও বিদ্বেষ থেকে দূরে থাকার নির্দেশ সহিহ বুখারির হাদিসেও রয়েছে। হিংসা মানুষকে অন্যের ক্ষতি কামনা, অপবাদ দেওয়া কিংবা সম্পর্ক নষ্ট করার দিকে ঠেলে দিতে পারে। তাই এমন অনুভূতি তৈরি হলে তা নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করা জরুরি।

৬. হিংসুকের অনিষ্ট থেকে আল্লাহর আশ্রয় চান

অন্যের হিংসা বা অনিষ্টের আশঙ্কা হলে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাওয়া যায়। পবিত্র কোরআনের সুরা ফালাকে আল্লাহ তাআলা শিক্ষা দিয়েছেন—

وَمِنْ شَرِّ حَاسِدٍ إِذَا حَسَدَ

অর্থ: “আর হিংসুকের অনিষ্ট থেকে, যখন সে হিংসা করে।” (সুরা ফালাক, আয়াত ৫)।

এই আয়াতের শিক্ষা হলো, হিংসুকের অনিষ্ট থেকে আল্লাহর আশ্রয় চাওয়া। একই সঙ্গে নিজের অন্তরেও যেন অন্যের প্রতি হিংসা ও বিদ্বেষ বাসা না বাঁধে, সেদিকেও খেয়াল রাখা প্রয়োজন।

অন্তরে হিংসা জাগলে তাৎক্ষণিক করণীয়

ইস্তিগফার করুন: নিজের ভুল অনুভূতি বুঝতে পারলে আল্লাহর কাছে ক্ষমা চান। বলতে পারেন—

أَسْتَغْفِرُ اللَّهَ

উচ্চারণ: আসতাগফিরুল্লাহ।

অর্থ: আমি আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি।

কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করুন: নিজের প্রাপ্তির কথা মনে করে বলুন—

الْحَمْدُ لِلَّهِ

উচ্চারণ: আলহামদুলিল্লাহ।

অর্থ: সব প্রশংসা আল্লাহর জন্য।

অন্যের কল্যাণ কামনা করুন: যার প্রতি হিংসা হচ্ছে, তার জন্য ভালো কিছু কামনা করুন এবং তার নিয়ামতে বরকতের দোয়া করুন।

তুলনা কমিয়ে নিজের উন্নতিতে মন দিন: অন্যের সাফল্যে মন খারাপ না করে নিজের লক্ষ্য ঠিক করুন। কীভাবে নিজের দক্ষতা ও জীবনমান উন্নত করা যায়, সেদিকে মনোযোগ দিন।

অন্যের ভালো কিছু নষ্ট হয়ে যাক—এমন কামনা করে কারও লাভ হয় না; বরং এতে নিজের মনেই অশান্তি বাড়ে। তাই অন্যের অর্জনে কষ্ট না পেয়ে নিজের প্রাপ্তির জন্য কৃতজ্ঞ থাকা, অন্যের কল্যাণ কামনা করা এবং অন্তরকে বিদ্বেষমুক্ত রাখার চেষ্টা করা উচিত। আল্লাহ আমাদের অন্তরকে হিংসা ও বিদ্বেষ থেকে পবিত্র রাখুন। আমিন।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ছুটির দিনেও ঢাকার বাতাস অস্বাস্থ্যকর, স্কোর ১৫৮

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ৯ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৪:১০ পি.এম


ছুটির দিনেও ঢাকার বাতাস অস্বাস্থ্যকর, স্কোর ১৫৮

সিঙ্গাপুর বায়ুদূষণের শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে। অন্যদিকে, ছুটির দিনেও ঢাকার বাতাস অস্বাস্থ্যকর পর্যায়ে রয়েছে। শুক্রবার (৯ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৮টায় বায়ুর মান পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্সের (আইকিউএয়ার) সূচক থেকে এসব তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।

বায়ুর মানকে ভালো বলে ধরা হয় যখন স্কোর শূন্য থেকে ৫০ এর মধ্যে থাকে। ৫১ থেকে ১০০ এর মধ্যে স্কোর হলে তা মাঝারি বা সহনীয় হিসেবে গণ্য করা হয়। ১০১ থেকে ১৫০ স্কোরের মধ্যে থাকা বায়ুকে সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর হিসেবে বিবেচনা করা হয়। অন্যদিকে, ১৫১ থেকে ২০০ স্কোরের মধ্যে থাকা বাতাসও অস্বাস্থ্যকর হিসেবে চিহ্নিত হয়।

যখন স্কোর ২০১ থেকে ৩০০ এর মধ্যে থাকে, তখন সেটিকে খুবই অস্বাস্থ্যকর হিসেবে গণ্য করা হয়। ৩০১ এর বেশি স্কোর হলে তা দুর্যোগপূর্ণ বলে বিবেচিত হয়।

এই পরিপ্রেক্ষিতে, সিঙ্গাপুরের দূষণ স্কোর ২০৫, যা নির্দেশ করে যে সেখানকার বাতাস খুবই অস্বাস্থ্যকর পর্যায়ে রয়েছে। অপরদিকে, ঢাকার দূষণ স্কোর ১৫৮, যা নির্দেশ করে যে এখানকার বাতাস অস্বাস্থ্যকর।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নানা পাটেকরের শেষ মুহূর্তে বাঁচার আপ্রাণ চেষ্টা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বিনোদন ডেস্ক

শুক্রবার, ৯ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৪:১১ পি.এম


নানা পাটেকরের শেষ মুহূর্তে বাঁচার আপ্রাণ চেষ্টা

ভারতীয় চলচ্চিত্র অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে বর্ষীয়ান অভিনেতা নানা পাটেকরের আকস্মিক মৃত্যুতে। ৭৫ বছর বয়সী এই অভিনেতা মৃত্যুর আগে গভীর রাতে অসুস্থ বোধ করে এক বন্ধুকে বার্তা পাঠিয়েছিলেন। তবে বার্তাটি দেখতে দেরি হওয়ায় সাহায্য পৌঁছাতে বিলম্ব ঘটে। চিকিৎসকদের দীর্ঘ চেষ্টার পরও তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।

গোয়ার মণিপাল হাসপাতালের ক্যানসার চিকিৎসা বিভাগের প্রধান চিকিৎসক শেখর সালকার, সংবাদ সংস্থা এএনআইকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মৃত্যুর আগে ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলো তুলে ধরেন। চিকিৎসকের তথ্য অনুযায়ী, রাত আড়াইটার দিকে শারীরিক অস্বস্তি অনুভব করে নানা পাটেকর এক বন্ধুকে বার্তা পাঠান। গভীর রাত হওয়ায় বন্ধু তখন বার্তাটি দেখতে পাননি। ভোর ৪টার দিকে বার্তাটি দেখে তিনি অভিনেতাকে ফোন করেন এবং দ্রুত তার বাড়িতে ছুটে যান।

বাড়িতে গিয়ে বন্ধুটি দেখতে পান, নানা পাটেকরের শরীর ঘামে ভিজে গেছে এবং তিনি ধীরে ধীরে জ্ঞান হারাচ্ছেন। এরপর দ্রুত পরিচর্যাকারীকে হাসপাতালে পাঠিয়ে অ্যাম্বুলেন্স ডাকা হয়। জরুরি চিকিৎসা দল পৌঁছে তাকে সম্পূর্ণ সাড়াহীন অবস্থায় পায়। তখনই হৃদযন্ত্র সচল করার চেষ্টা শুরু হয়। ভোর সাড়ে ৪টার দিকে তাঁকে হাসপাতালে নেওয়া হয়।

হাসপাতালে প্রায় ৪৫ মিনিট থেকে এক ঘণ্টা ধরে হৃদযন্ত্র সচল করতে বক্ষচাপসহ জরুরি চিকিৎসা দেওয়া হয়। কিন্তু চিকিৎসকদের চেষ্টা সফল হয়নি। ভোর সাড়ে ৫টার দিকে তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ পুলিশকে বিষয়টি জানায়। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ গোয়া মেডিকেল কলেজে পাঠানো হয়। ঘটনার সময় অভিনেতার সঙ্গে পরিবারের কেউ ছিলেন না; কয়েকজন বন্ধু ও পরিচর্যাকারী তার পাশে ছিলেন। এ ঘটনায় চিকিৎসা-সংক্রান্ত আইনি মামলা হয়েছে।

নানা পাটেকর স্ত্রী নীলকান্তি, ছেলে মল্লার পাটেকর এবং দুই ভাই অশোক ও দিলীপ পাটেকরকে রেখে গেছেন। তার মৃত্যুতে অক্ষয় কুমার, শাহরুখ খান, রিতেশ দেশমুখ, কিয়ারা আদভানি ও রাকুল প্রীত সিংসহ ভারতীয় চলচ্চিত্র অঙ্গনের অনেক তারকা শোক প্রকাশ করেছেন।

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে মুক্তি পাওয়া বিশাল ভরদ্বাজের ‘ও রোমিও’ ছবিতে শাহিদ কাপুর ও তৃপ্তি ডিমরির সঙ্গে অভিনয় করেছিলেন নানা পাটেকর। ছবিটি বক্স অফিসে প্রত্যাশা পূরণ করতে না পারলেও তার অভিনয় সমালোচকদের প্রশংসা পেয়েছিল।

এছাড়া প্রাইম ভিডিওর সুবেদার ছবিতে বিশেষ উপস্থিতি এবং এমএক্স প্লেয়ারে প্রকাশ ঝা পরিচালিত সামাজিক-রাজনৈতিক ধারাবাহিক সংকল্প-এও তাকে দেখা গেছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ব্রাহ্মণবাড়িয়া হাসপাতালে প্রসূতির মাথায় হাত বুলিয়ে নবজাতক চুরি করে পালালেন নারী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ৯ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৪:১১ পি.এম


ব্রাহ্মণবাড়িয়া হাসপাতালে প্রসূতির মাথায় হাত বুলিয়ে নবজাতক চুরি করে পালালেন নারী

ব্রাহ্মণবাড়িয়া ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল থেকে এক দুর্বৃত্ত নারী তিন দিন বয়সী একটি নবজাতক ছেলেশিশুকে চুরি করে নিয়ে গেছে।

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) বিকেলে হাসপাতালের গাইনি ওয়ার্ডে এই চুরির ঘটনা ঘটে।

এই ঘটনার ফলে শহরজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। চুরি হওয়া শিশুটি বিজয়নগর উপজেলার চান্দুরা গ্রামের শামীম মিয়া ও মরিয়ম বেগমের প্রথম সন্তান।

শিশুটির পরিবার জানিয়েছে, গত সোমবার প্রসবব্যথা নিয়ে মরিয়ম জেলা সদর হাসপাতালের গাইনি বিভাগে ভর্তি হন। পরদিন, মঙ্গলবার দুপুরে তিনি একটি পুত্রসন্তান জন্ম দেন। বিয়ের তিন বছর পর প্রথম সন্তান ছেলে হওয়ায় পরিবারটি অত্যন্ত খুশি ছিল।

তবে বৃহস্পতিবার দুপুরে, অজ্ঞাতপরিচয় এক নারী রোগীর স্বজনের ছদ্মবেশে মরিয়ম ও তার মায়ের সঙ্গে সখ্য গড়ে তোলেন। কিছুক্ষণ পর, নবজাতকের মায়ের ব্যথা অনুভূত হলে ওই নারী সহযোগিতার কথা বলে শিশুটিকে কোলে নেন। একপর্যায়ে, তিনি শিশুটিকে নিয়ে সেখান থেকে পালিয়ে যান।

ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা হাসপাতালে এসে তদন্ত শুরু করেন।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খাইরুল ইসলাম জানান, ঘটনার খবর পেয়ে ভুক্তভোগী শিশুটির পরিবার ও আশপাশের লোকজনের সঙ্গে কথা বলা হয়েছে। হাসপাতালের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে পর্যালোচনা করা হচ্ছে। ওই নারীকে শনাক্ত করা এবং শিশুটিকে উদ্ধারে পুলিশের একাধিক দল কাজ করছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

আজ ৯ অক্টোবর পালিত হচ্ছে বিশ্ব ডিম দিবস, দাম বেড়ে ক্রেতাদের সমস্যা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ৯ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৪:১২ পি.এম


আজ ৯ অক্টোবর পালিত হচ্ছে বিশ্ব ডিম দিবস, দাম বেড়ে ক্রেতাদের সমস্যা

আজ ৯ অক্টোবর বিশ্ব ডিম দিবস। প্রতিবছর অক্টোবরের দ্বিতীয় শুক্রবার বিশ্বজুড়ে এই দিবসটি পালিত হয়, যার উদ্দেশ্য হল ডিমের পুষ্টিগুণ সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করা। তবে বাংলাদেশে ডিমের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় ক্রেতাদের জন্য পুষ্টিকর এই খাদ্যটি কিনতে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে।

বিশ্ব ডিম দিবসের সূচনা ১৯৯৬ সালে অস্ট্রিয়ার ভিয়েনায় হয়েছিল। সেই সময় থেকে প্রতিবছর অক্টোবরের দ্বিতীয় শুক্রবার দিবসটি পালন করা হচ্ছে। এবছর দিবসটির ৩০ বছর পূর্তি হচ্ছে। এবারের আয়োজনের মূল লক্ষ্য হল ডিমের পুষ্টিগুণ ও এর বহুমুখী ব্যবহারের বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি করা।

একটি ডিম থেকে সাধারণত প্রায় ৭৭ কিলোক্যালরি শক্তি পাওয়া যায়। ডিম উচ্চমানের আমিষের পাশাপাশি আয়রন, ক্যালসিয়াম, পটাশিয়াম, ফলেট, দস্তা এবং ভিটামিন ডির উৎস হিসেবে পরিচিত। এতে চোখের সুস্থতার জন্য প্রয়োজনীয় লুটিন ও জিয়াজ্যানথিনের মতো উপাদানও বিদ্যমান।

ডিম শরীরের প্রয়োজনীয় পুষ্টি জোগাতে সহায়তা করে, দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা রাখতে সক্ষম এবং বিপাকীয় কার্যক্রমে সহায়তা প্রদান করে। এতে ওমেগা-৩-এর মতো প্রয়োজনীয় চর্বিও রয়েছে। সহজলভ্য ও তুলনামূলক সাশ্রয়ী হওয়ায় বিশ্বের কোটি কোটি মানুষের খাদ্যতালিকায় ডিমের একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান রয়েছে। যদিও মুরগির ডিম সবচেয়ে বেশি খাওয়া হয়, হাঁস, কোয়েল এবং রাজহাঁসের ডিমও জনপ্রিয়।

এদিকে, বিশ্ব ডিম দিবসের এই দিনে দেশে ডিমের বাজারে স্বস্তি নেই। সরকারি তথ্যমতে, গত এক মাসে ডিমের দাম প্রায় ৮ শতাংশ বেড়ে গেছে।

ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) বৃহস্পতিবারের (৮ অক্টোবর) প্রতিবেদনে প্রতি ডজন ডিমের সর্বোচ্চ দাম ১৬২ টাকা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। গত ৮ সেপ্টেম্বর এই দাম ছিল ১৫০ টাকা। অন্যদিকে, পাড়া-মহল্লার খুচরা বাজারে বাদামি ডিম প্রতি ডজন ১৬০ থেকে ১৬৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে বাজার ও দোকানের ওপর ভিত্তি করে দামে পার্থক্য রয়েছে।

সূত্র: ওয়ার্ল্ড এ্যাগ অর্গানাইজেশন , ন্যাশনাল ডে কেলেন্ডার

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%