ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

নানা পাটেকরের শেষ মুহূর্তে বাঁচার আপ্রাণ চেষ্টা


নানা পাটেকরের শেষ মুহূর্তে বাঁচার আপ্রাণ চেষ্টা

ভারতীয় চলচ্চিত্র অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে বর্ষীয়ান অভিনেতা নানা পাটেকরের আকস্মিক মৃত্যুতে। ৭৫ বছর বয়সী এই অভিনেতা মৃত্যুর আগে গভীর রাতে অসুস্থ বোধ করে এক বন্ধুকে বার্তা পাঠিয়েছিলেন। তবে বার্তাটি দেখতে দেরি হওয়ায় সাহায্য পৌঁছাতে বিলম্ব ঘটে। চিকিৎসকদের দীর্ঘ চেষ্টার পরও তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।

গোয়ার মণিপাল হাসপাতালের ক্যানসার চিকিৎসা বিভাগের প্রধান চিকিৎসক শেখর সালকার, সংবাদ সংস্থা এএনআইকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মৃত্যুর আগে ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলো তুলে ধরেন। চিকিৎসকের তথ্য অনুযায়ী, রাত আড়াইটার দিকে শারীরিক অস্বস্তি অনুভব করে নানা পাটেকর এক বন্ধুকে বার্তা পাঠান। গভীর রাত হওয়ায় বন্ধু তখন বার্তাটি দেখতে পাননি। ভোর ৪টার দিকে বার্তাটি দেখে তিনি অভিনেতাকে ফোন করেন এবং দ্রুত তার বাড়িতে ছুটে যান।

বাড়িতে গিয়ে বন্ধুটি দেখতে পান, নানা পাটেকরের শরীর ঘামে ভিজে গেছে এবং তিনি ধীরে ধীরে জ্ঞান হারাচ্ছেন। এরপর দ্রুত পরিচর্যাকারীকে হাসপাতালে পাঠিয়ে অ্যাম্বুলেন্স ডাকা হয়। জরুরি চিকিৎসা দল পৌঁছে তাকে সম্পূর্ণ সাড়াহীন অবস্থায় পায়। তখনই হৃদযন্ত্র সচল করার চেষ্টা শুরু হয়। ভোর সাড়ে ৪টার দিকে তাঁকে হাসপাতালে নেওয়া হয়।

আরও পড়ুন: বিয়ের জন্য এক বছর বিজয়ের পেছনে লেগেছিলেন রাশমিকা

হাসপাতালে প্রায় ৪৫ মিনিট থেকে এক ঘণ্টা ধরে হৃদযন্ত্র সচল করতে বক্ষচাপসহ জরুরি চিকিৎসা দেওয়া হয়। কিন্তু চিকিৎসকদের চেষ্টা সফল হয়নি। ভোর সাড়ে ৫টার দিকে তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ পুলিশকে বিষয়টি জানায়। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ গোয়া মেডিকেল কলেজে পাঠানো হয়। ঘটনার সময় অভিনেতার সঙ্গে পরিবারের কেউ ছিলেন না; কয়েকজন বন্ধু ও পরিচর্যাকারী তার পাশে ছিলেন। এ ঘটনায় চিকিৎসা-সংক্রান্ত আইনি মামলা হয়েছে।

নানা পাটেকর স্ত্রী নীলকান্তি, ছেলে মল্লার পাটেকর এবং দুই ভাই অশোক ও দিলীপ পাটেকরকে রেখে গেছেন। তার মৃত্যুতে অক্ষয় কুমার, শাহরুখ খান, রিতেশ দেশমুখ, কিয়ারা আদভানি ও রাকুল প্রীত সিংসহ ভারতীয় চলচ্চিত্র অঙ্গনের অনেক তারকা শোক প্রকাশ করেছেন।

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে মুক্তি পাওয়া বিশাল ভরদ্বাজের ‘ও রোমিও’ ছবিতে শাহিদ কাপুর ও তৃপ্তি ডিমরির সঙ্গে অভিনয় করেছিলেন নানা পাটেকর। ছবিটি বক্স অফিসে প্রত্যাশা পূরণ করতে না পারলেও তার অভিনয় সমালোচকদের প্রশংসা পেয়েছিল।

আরও পড়ুন: যুক্তরাষ্ট্রে গান গাইতে গিয়ে চরম হেনস্তার শিকার ইমন

এছাড়া প্রাইম ভিডিওর সুবেদার ছবিতে বিশেষ উপস্থিতি এবং এমএক্স প্লেয়ারে প্রকাশ ঝা পরিচালিত সামাজিক-রাজনৈতিক ধারাবাহিক সংকল্প-এও তাকে দেখা গেছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ব্রাহ্মণবাড়িয়া হাসপাতালে প্রসূতির মাথায় হাত বুলিয়ে নবজাতক চুরি করে পালালেন নারী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ৯ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৪:১১ পি.এম


ব্রাহ্মণবাড়িয়া হাসপাতালে প্রসূতির মাথায় হাত বুলিয়ে নবজাতক চুরি করে পালালেন নারী

ব্রাহ্মণবাড়িয়া ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল থেকে এক দুর্বৃত্ত নারী তিন দিন বয়সী একটি নবজাতক ছেলেশিশুকে চুরি করে নিয়ে গেছে।

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) বিকেলে হাসপাতালের গাইনি ওয়ার্ডে এই চুরির ঘটনা ঘটে।

এই ঘটনার ফলে শহরজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। চুরি হওয়া শিশুটি বিজয়নগর উপজেলার চান্দুরা গ্রামের শামীম মিয়া ও মরিয়ম বেগমের প্রথম সন্তান।

শিশুটির পরিবার জানিয়েছে, গত সোমবার প্রসবব্যথা নিয়ে মরিয়ম জেলা সদর হাসপাতালের গাইনি বিভাগে ভর্তি হন। পরদিন, মঙ্গলবার দুপুরে তিনি একটি পুত্রসন্তান জন্ম দেন। বিয়ের তিন বছর পর প্রথম সন্তান ছেলে হওয়ায় পরিবারটি অত্যন্ত খুশি ছিল।

তবে বৃহস্পতিবার দুপুরে, অজ্ঞাতপরিচয় এক নারী রোগীর স্বজনের ছদ্মবেশে মরিয়ম ও তার মায়ের সঙ্গে সখ্য গড়ে তোলেন। কিছুক্ষণ পর, নবজাতকের মায়ের ব্যথা অনুভূত হলে ওই নারী সহযোগিতার কথা বলে শিশুটিকে কোলে নেন। একপর্যায়ে, তিনি শিশুটিকে নিয়ে সেখান থেকে পালিয়ে যান।

ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা হাসপাতালে এসে তদন্ত শুরু করেন।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খাইরুল ইসলাম জানান, ঘটনার খবর পেয়ে ভুক্তভোগী শিশুটির পরিবার ও আশপাশের লোকজনের সঙ্গে কথা বলা হয়েছে। হাসপাতালের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে পর্যালোচনা করা হচ্ছে। ওই নারীকে শনাক্ত করা এবং শিশুটিকে উদ্ধারে পুলিশের একাধিক দল কাজ করছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

আজ ৯ অক্টোবর পালিত হচ্ছে বিশ্ব ডিম দিবস, দাম বেড়ে ক্রেতাদের সমস্যা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ৯ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৪:১২ পি.এম


আজ ৯ অক্টোবর পালিত হচ্ছে বিশ্ব ডিম দিবস, দাম বেড়ে ক্রেতাদের সমস্যা

আজ ৯ অক্টোবর বিশ্ব ডিম দিবস। প্রতিবছর অক্টোবরের দ্বিতীয় শুক্রবার বিশ্বজুড়ে এই দিবসটি পালিত হয়, যার উদ্দেশ্য হল ডিমের পুষ্টিগুণ সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করা। তবে বাংলাদেশে ডিমের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় ক্রেতাদের জন্য পুষ্টিকর এই খাদ্যটি কিনতে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে।

বিশ্ব ডিম দিবসের সূচনা ১৯৯৬ সালে অস্ট্রিয়ার ভিয়েনায় হয়েছিল। সেই সময় থেকে প্রতিবছর অক্টোবরের দ্বিতীয় শুক্রবার দিবসটি পালন করা হচ্ছে। এবছর দিবসটির ৩০ বছর পূর্তি হচ্ছে। এবারের আয়োজনের মূল লক্ষ্য হল ডিমের পুষ্টিগুণ ও এর বহুমুখী ব্যবহারের বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি করা।

একটি ডিম থেকে সাধারণত প্রায় ৭৭ কিলোক্যালরি শক্তি পাওয়া যায়। ডিম উচ্চমানের আমিষের পাশাপাশি আয়রন, ক্যালসিয়াম, পটাশিয়াম, ফলেট, দস্তা এবং ভিটামিন ডির উৎস হিসেবে পরিচিত। এতে চোখের সুস্থতার জন্য প্রয়োজনীয় লুটিন ও জিয়াজ্যানথিনের মতো উপাদানও বিদ্যমান।

ডিম শরীরের প্রয়োজনীয় পুষ্টি জোগাতে সহায়তা করে, দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা রাখতে সক্ষম এবং বিপাকীয় কার্যক্রমে সহায়তা প্রদান করে। এতে ওমেগা-৩-এর মতো প্রয়োজনীয় চর্বিও রয়েছে। সহজলভ্য ও তুলনামূলক সাশ্রয়ী হওয়ায় বিশ্বের কোটি কোটি মানুষের খাদ্যতালিকায় ডিমের একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান রয়েছে। যদিও মুরগির ডিম সবচেয়ে বেশি খাওয়া হয়, হাঁস, কোয়েল এবং রাজহাঁসের ডিমও জনপ্রিয়।

এদিকে, বিশ্ব ডিম দিবসের এই দিনে দেশে ডিমের বাজারে স্বস্তি নেই। সরকারি তথ্যমতে, গত এক মাসে ডিমের দাম প্রায় ৮ শতাংশ বেড়ে গেছে।

ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) বৃহস্পতিবারের (৮ অক্টোবর) প্রতিবেদনে প্রতি ডজন ডিমের সর্বোচ্চ দাম ১৬২ টাকা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। গত ৮ সেপ্টেম্বর এই দাম ছিল ১৫০ টাকা। অন্যদিকে, পাড়া-মহল্লার খুচরা বাজারে বাদামি ডিম প্রতি ডজন ১৬০ থেকে ১৬৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে বাজার ও দোকানের ওপর ভিত্তি করে দামে পার্থক্য রয়েছে।

সূত্র: ওয়ার্ল্ড এ্যাগ অর্গানাইজেশন , ন্যাশনাল ডে কেলেন্ডার

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

আজ দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ থাকবে না মুন্সিগঞ্জের ৪১ এলাকায়

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ৯ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৪:১২ পি.এম


আজ দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ থাকবে না মুন্সিগঞ্জের ৪১ এলাকায়

মুন্সিগঞ্জ সদর উপজেলার ৪১টি এলাকায় শুক্রবার (৯ অক্টোবর) সকাল ৭টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত টানা ৬ ঘণ্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকবে। জরুরি লাইন রক্ষণাবেক্ষণ ও রাইট অব ওয়ে কাজের জন্য সাময়িকভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখা হবে। এ তথ্য মুন্সিগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার মো. সানোয়ার হোসেন স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে পঞ্চসার ৩৩ কেভি ফিডারের জরুরি লাইন রক্ষণাবেক্ষণ ও রাইট অব ওয়ে কাজের জন্য বিদ্যুৎ সরবরাহ সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হবে।

বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকবে যেসব এলাকায়- মিরেশ্বর, পঞ্চসার (ইটখোলা), বাস্তুহারা, গোসাইবাগ, বাগবাড়ী, মুক্তারপুর, খালাসীবাড়ী, নতুনগাঁও, নয়াগাঁও মধ্যপাড়া, মানিকপুর, ইদ্রাকপুর, উত্তর কোটগাঁও, হাসপাতাল, সুপারমার্কেট, পুলিশ ফাঁড়ি, পঞ্চসার, মানিকপুর দশতলা, গনকপাড়া, কোটগাঁও, সরদারপাড়া, মধ্য কোটগাঁও, দেওভোগ, ভিটিশীল মন্দির, মুন্সিগঞ্জ সরকারি বালক ও বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, মুন্সিগঞ্জ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, দুর্গাবাড়ী, রামেরগাঁও, জোড়পুকুরপাড়, আধারিয়াতলা, সরকারপাড়া, দক্ষিণ রামগোপালপুর (বাঁশপট্টি), দশকানি, মুক্তারপুর চৌধুরীবাড়ী, দয়াল বাজার, বৈখর, চম্পাতলা, রনছ রুহিতপুর, রনছ পারুলপাড়া, মুক্তারপুর বিসিক, ডিঙ্গাভাঙ্গা ও সড়ক ভবন এলাকা।

বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকার বিষয়ে আরও জানানো হয়েছে যে, কাজের প্রয়োজনে নির্ধারতি সময়সূচির ক্ষেত্রে কিছুটা পরিবর্তন হতে পারে। একইসঙ্গে কারিগরি প্রয়োজনে যেকোনো সময় বিদ্যুৎ সরবরাহ আবার চালুও করা হতে পারে। এ কারণে সবাইকে বিদ্যুৎ লাইনের কাছাকাছি অবস্থান না করে নিরাপদ দূরত্বে থাকার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।

এছাড়া সাময়িকভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকার কারণে গ্রাহকদের কাছে আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করে বিদ্যুৎ সংক্রান্ত কাজ সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার জন্য সবার সহযোগিতাও কামনা করেছে কর্তৃপক্ষ।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বিশ্ব ডাক দিবস: চিঠির যুগ পেরিয়ে ডাকসেবায় নতুন সম্ভাবনার আলোচনা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ৯ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৪:১৪ পি.এম


বিশ্ব ডাক দিবস: চিঠির যুগ পেরিয়ে ডাকসেবায় নতুন সম্ভাবনার আলোচনা

একসময় মানুষ প্রিয়জনের চিঠির জন্য দিন গুনত। ডাকপিয়ন যখন চিঠি নিয়ে আসত, তখন আনন্দে ভরে উঠত মন। তবে সময়ের পরিবর্তনের সাথে সেই চিঠির স্থান দখল করে নিয়েছে মোবাইল ফোন, ই-মেইল এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম। তবুও, চিঠি, প্রয়োজনীয় নথি, টাকা এবং পণ্য পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে ডাকসেবার গুরুত্ব এখনও বিদ্যমান রয়েছে।

আজ ৯ অক্টোবর, বিশ্ব ডাক দিবস। এই দিবসটি বিশ্বজুড়ে পালিত হচ্ছে ডাকসেবার ঐতিহাসিক অবদান, বর্তমান ভূমিকা এবং ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা তুলে ধরার জন্য।

১৮৭৪ সালের ৯ অক্টোবর সুইজারল্যান্ডের বার্নে জেনারেল পোস্টাল ইউনিয়ন প্রতিষ্ঠিত হয়, যা পরবর্তীতে ইউনিভার্সাল পোস্টাল ইউনিয়ন নামে পরিচিতি লাভ করে। আন্তর্জাতিক ডাকব্যবস্থার সমন্বয় ও উন্নয়নে এই সংস্থাটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ১৯৬৯ সালে জাপানের টোকিওতে অনুষ্ঠিত সংস্থাটির কংগ্রেসে ৯ অক্টোবরকে বিশ্ব ডাক দিবস হিসেবে পালনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এরপর থেকে প্রতিবছর এই দিনটি পালিত হয়ে আসছে।

মানুষের সাথে মানুষের যোগাযোগ স্থাপন, সরকারি ও ব্যবসায়িক নথি, বই এবং প্রয়োজনীয় সামগ্রী পৌঁছে দিতে ডাকব্যবস্থার দীর্ঘদিনের গুরুত্ব রয়েছে। বিশেষ করে প্রত্যন্ত অঞ্চলে সেবা পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে এবং পার্সেল পরিবহনে ডাকসেবার প্রয়োজনীয়তা এখনও বিদ্যমান।

বিশ্ব ডাক দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের এবারের প্রতিপাদ্য হলো: সমন্বিত ডাক নেটওয়ার্ক, সীমাহীন সম্ভাবনা।

বাংলাদেশ ডাক বিভাগ সাধারণত দুই ধরনের সেবা প্রদান করে: মূল ডাকসেবা এবং এজেন্সি সেবা। মূল ডাকসেবার মধ্যে রয়েছে সাধারণ ও রেজিস্টার্ড চিঠি, দ্রুত ডাক, দেশি-বিদেশি পার্সেল, টাকা পাঠানো এবং ডাকটিকিট বিক্রি। রেজিস্টার্ড চিঠির মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ চিঠি ও নথি পাঠানো সম্ভব। গ্যারান্টিযুক্ত দ্রুত ডাক এবং দ্রুত ডাকসেবার মাধ্যমে চিঠি ও ছোট প্যাকেট দ্রুত পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। আন্তর্জাতিক ও দেশীয় দ্রুত ইএমএস (EMS - Express Mail Service) ডাকসেবায় নির্দিষ্ট ওজনের পার্সেল (২০ গ্রাম থেকে ২০ কেজি পর্যন্ত) ও দলিল পাঠানো এবং সেগুলোর অবস্থান অনুসরণের সুযোগ রয়েছে।

ডাক বিভাগের মাধ্যমে সাধারণ ও ইলেকট্রনিক মানি অর্ডারে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে টাকা পাঠানো যায়। পোস্টাল ক্যাশ কার্ডের মাধ্যমে টাকা লেনদেন ও সংরক্ষণের সুবিধাও রয়েছে। এছাড়া, মূল্যে আদায়যোগ্য পার্সেল ও রেজিস্টার্ড চিঠি, জেলা শহরগুলোতে দ্রুত চিঠি ও পার্সেল বিলি, স্মারক ডাকটিকিট বিক্রি এবং অনলাইন ব্যবসার পণ্য সংরক্ষণ ও সরবরাহে সহায়তার জন্য পণ্য ব্যবস্থাপনা কেন্দ্রের মতো সেবাও রয়েছে।

মূল ডাকসেবার পাশাপাশি ডাক বিভাগ বিভিন্ন সরকারি আর্থিক ও দাপ্তরিক সেবাও প্রদান করে। এসবের মধ্যে রয়েছে ডাক জীবনবিমা, ডাকঘর সঞ্চয় ব্যাংক, সঞ্চয়পত্র কেনাবেচা, বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রাইজ বন্ড কেনা ও ভাঙানো, বিড়ির ব্যান্ডারোল মুদ্রণ ও বিক্রি এবং বিভিন্ন সরকারি ফি ও স্ট্যাম্পের জন্য ডাকবহির্ভূত টিকিট মুদ্রণ ও বিতরণ।

তবে, প্রযুক্তির দ্রুত বিস্তারের ফলে ডাকসেবার সামনে নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে। চিঠির ব্যবহার কমে যাওয়ায় মানুষ এখন দ্রুত যোগাযোগের জন্য ই-মেইল, মোবাইল ফোন এবং বিভিন্ন বার্তা আদান-প্রদানের মাধ্যম ব্যবহার করছে। এই পরিস্থিতিতে ডাকসেবাকে আরও কার্যকর করতে প্রযুক্তির ব্যবহার, উন্নত গ্রাহকসেবা এবং দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য পার্সেল সরবরাহব্যবস্থা গড়ে তোলা জরুরি হয়ে পড়েছে।

বাংলাদেশে ডাকব্যবস্থার একটি দীর্ঘ ঐতিহ্য রয়েছে। শহর থেকে প্রত্যন্ত গ্রাম পর্যন্ত যোগাযোগের অন্যতম মাধ্যম ছিল ডাকঘর। চিঠিপত্র আদান-প্রদানের পাশাপাশি বিভিন্ন আর্থিক ও জনসেবামূলক কাজেও ডাকব্যবস্থা ভূমিকা রেখেছে।

বর্তমানে কুরিয়ার সেবা, অনলাইন কেনাকাটা এবং ডিজিটাল যোগাযোগের প্রসারে ডাকসেবার ধরন পরিবর্তিত হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ ডাক বিভাগের সামনে সেবার মান বাড়ানো, প্রযুক্তিনির্ভর কার্যক্রম সম্প্রসারণ এবং গ্রাহকের আস্থা অর্জনের চ্যালেঞ্জ রয়েছে। বিশেষ করে প্রত্যন্ত অঞ্চলে সেবা পৌঁছে দেওয়ার সক্ষমতা কাজে লাগিয়ে দেশের ডিজিটাল ও অর্থনৈতিক অন্তর্ভুক্তিতে ডাকব্যবস্থা আরও অবদান রাখতে পারে।

বিশ্ব ডাক দিবস কেবল অতীতের ঐতিহ্য স্মরণের দিন নয়, বরং ভবিষ্যতের ডাকসেবা নিয়ে ভাবারও উপলক্ষ। যদি প্রযুক্তির সাথে সমন্বয়, দক্ষ ব্যবস্থাপনা এবং মানুষের চাহিদা অনুযায়ী সেবা নিশ্চিত করা যায়, তবে ডাকব্যবস্থা নতুন সম্ভাবনা তৈরি করতে সক্ষম হবে। চিঠির আবেগময় দিন বদলে গেলেও, দূরত্ব কমিয়ে মানুষকে কাছে আনার ডাকসেবার মূল উদ্দেশ্য আজও গুরুত্বপূর্ণ।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%