ঢাকা সোমবার, ০২ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৭ই কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২১শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
সোমবার, ০২ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ১৭ই কার্তিক, ১৪৩২বাং

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হল থেকে ছাত্রলীগ নেতা অর্ক সাহা আটক


ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হল থেকে ছাত্রলীগ নেতা অর্ক সাহা আটক

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) জগন্নাথ হল থেকে ছাত্রলীগের বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাবেক সমাজসেবা সম্পাদক অর্ক সাহাকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছেন ছাত্রদলের নেতাকর্মী ও শিক্ষার্থীরা।

রোববার (১ নভেম্বর) বিকালে হলের একটি ক্যান্টিন থেকে তাকে আটক করা হয়। পরে মারধরের শিকার অর্ক সাহাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। সেখান থেকে তাকে শাহবাগ থানায় হস্তান্তর করা হয়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, অর্ক সাহা প্রায়ই জগন্নাথ হলে যাতায়াত করতেন। রোববার বিকালে হলের একটি ক্যান্টিনে খাবার খাওয়ার সময় ছাত্রদলের নেতাকর্মী ও শিক্ষার্থীরা তাকে দেখতে পেয়ে আটক করেন। পরে হল প্রশাসন ও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল টিমের উপস্থিতিতে তাকে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়।

আরও পড়ুন: লুৎফুজ্জামান আলিফ হত্যা মামলায় দুই আসামির জবানবন্দিতে চাঞ্চল্যকর তথ্য

জগন্নাথ হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক দেবাশীষ পাল বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ছাত্রলীগের পদধারী কারো নামেই হলে এখন কোনো আসন বরাদ্দ নেই। তাদের সবার আসন আগেই বাতিল করা হয়েছে। অর্ক সাহা মাঝেমধ্যে হলে যাতায়াত করতেন বলে জানা গেছে। রোববার তাকে দেখতে পেয়ে শিক্ষার্থীরা আটক করেন।

তিনি আরও জানান, হলে এ ধরনের অন্য কেউ অবৈধভাবে অবস্থান করছেন কি না, তা গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখবে হল প্রশাসন। অর্ক সাহাকে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও পুলিশ দেখবে।

ঘটনার বিষয়ে জগন্নাথ হল ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ধ্রুব রায় বলেন, দীর্ঘদিন ধরে অর্ক সাহা রাতে হলে লুকিয়ে অবস্থান করছিলেন। রোববার দিনের বেলায় তাকে দেখতে পেয়ে তারা আটক করেন। সম্প্রতি জগন্নাথ হলের সামনে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় অর্ক সাহা জড়িত থাকতে পারেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

এ বিষয়ে শাহবাগ থানার ওসি মো. মনিরুজ্জামান জানান, অর্ক সাহা বর্তমানে থানা হেফাজতে রয়েছেন। এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আরও পড়ুন: গাজীপুরে শ্রমিক আন্দোলনে উসকানির অভিযোগে ছাত্রলীগ-শ্রমিক লীগের ৩০ নেতাকর্মী গ্রেফতার

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

গাজীপুরে শ্রমিক আন্দোলনে উসকানির অভিযোগে ছাত্রলীগ-শ্রমিক লীগের ৩০ নেতাকর্মী গ্রেফতার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

সোমবার, ২ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৪:৪৩ এম


গাজীপুরে শ্রমিক আন্দোলনে উসকানির অভিযোগে ছাত্রলীগ-শ্রমিক লীগের ৩০ নেতাকর্মী গ্রেফতার

বেতন বৃদ্ধির দাবিতে পোশাকশ্রমিকদের আন্দোলনে অংশগ্রহণ, উসকানি প্রদান এবং ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের মতো কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে পুলিশ গ্রেফতার করেছে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের নয়জন নেতাকর্মীকে।

রোববার (১ নভেম্বর) ভোরে গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালনা করে তাদের আটক করা হয়।

মহানগর পুলিশ ১৩ জন, শিল্প পুলিশ ৮ জনসহ মোট ৩০ জনকে গ্রেফতার করেছে। হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় ইতোমধ্যে শিল্পপুলিশ দুটি মামলা দায়ের করেছে, মহানগর পুলিশও মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে।

গ্রেফতারকৃত ৯ জনের মধ্যে রয়েছেন: গাজীপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের দফতর সম্পাদক ইউসুফ সিকদার, গাজীপুর শ্রমিক লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সানোয়ার হোসেন, সাবেক ছাত্রলীগের সহসভাপতি আরিফুল হোসেন, নম্বর ওয়ার্ড কৃষক লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মাসুম মিয়া, যুবলীগের সক্রিয় সদস্য মোহাম্মদ মেহেদী হাসান মিজান, আওয়ামী লীগের সক্রিয় সদস্য সাইফুল ইসলাম, মোহাম্মদ রাসেল, সৈকত শেখ ও মিজানুর রহমান।

পুলিশের সূত্রে জানা গেছে, গাজীপুরের বিভিন্ন এলাকায় গত কয়েক দিন ধরে ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে পোশাকশ্রমিকদের আন্দোলন চলছে। এই আন্দোলনের প্রেক্ষিতে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ, শ্রমিক লীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে শ্রমিকদের সঙ্গে যুক্ত হয়ে ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগসহ বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শনিবার দিবাগত মধ্যরাত থেকে রোববার ভোর পর্যন্ত কালিয়াকৈর থানার পুলিশ বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করে।

এদিকে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের রাজনৈতিক সহকারী ও গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মো. রাশেদ খান তার ফেসবুক পোস্টে অভিযোগ করেছেন যে, গাজীপুরের শ্রমিক আন্দোলনে নেতৃত্ব দিচ্ছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সাজবুল ইসলাম। তিনি বলেন, আন্দোলন উসকে দিয়ে রাষ্ট্রকে অশান্ত করার সুযোগ জামায়াত ও এনসিপি দিচ্ছে। পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন, ডিসেম্বর মাসকে লক্ষ্য করে এ ধরনের আরও আন্দোলন গড়ে তোলার চেষ্টা চলছে।

কালিয়াকৈর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সহিদুল ইসলাম জানিয়েছেন, শুধুমাত্র শ্রমিকদের আন্দোলনে যুক্ত থাকার অভিযোগে নয়, বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ পাওয়ার পর অভিযান চালিয়ে আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের নয়জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

প্রতিবন্ধীদের বন্ধু শিক্ষক আলী তানভীরের মানবিক উদ্যোগ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

সোমবার, ২ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৪:৪৪ এম


প্রতিবন্ধীদের বন্ধু শিক্ষক আলী তানভীরের মানবিক উদ্যোগ

মানবিকতা পেশা কিংবা ব্যক্তিগত ব্যস্ততার সীমারেখা অতিক্রম করে, এর একটি অনুকরণীয় উদাহরণ হলেন চকরিয়ার তরুণ শিক্ষক আলী তানভীর। শিক্ষকতার পাশাপাশি তিনি প্রতিবন্ধী শিশু ও অসহায় পরিবারের কল্যাণে নিরলসভাবে কাজ করে চলেছেন। ব্যক্তিগত উদ্যোগ ও মানুষের সম্মিলিত সহযোগিতার মাধ্যমে ইতোমধ্যে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের পাঁচ শতাধিক প্রতিবন্ধী পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছেন।

তার উদ্যোগের ফলে ১১০ প্রতিবন্ধী শিশু বিভিন্ন ধরনের সহায়ক উপকরণ, যেমন কৃত্রিম পা ও হুইলচেয়ার পেয়েছে। মানবিক কর্মকাণ্ডের স্বীকৃতিস্বরূপ অনেকেই তাকে ভালোবেসে ডাকেন ‘প্রতিবন্ধীদের বন্ধু’ বলে।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগ থেকে স্নাতক সম্পন্ন করা আলী তানভীর বর্তমানে বান্দরবানের লামা আদর্শ গার্লস হাই স্কুলে ইংরেজি শিক্ষক হিসেবে কর্মরত আছেন। শ্রেণিকক্ষে পাঠদানের পাশাপাশি অসহায় মানুষের মুখে হাসি ফোটানো এবং প্রতিবন্ধী শিশুদের স্বাভাবিক জীবনযাপনের সুযোগ তৈরির চেষ্টা তার দৈনন্দিন জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে।

করোনা মহামারিতে শুরু মানবিক পথচলা

২০২০ সালে করোনা মহামারির সময় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে অনার্স দ্বিতীয় বর্ষে অধ্যয়নকালে আলী তানভীর নিজ এলাকা চকরিয়ায় মানবিক কার্যক্রম শুরু করেন। প্রথমে তিনি এলাকার অসহায় ও প্রতিবন্ধী শিশুদের খোঁজখবর নেওয়া এবং তাদের প্রয়োজন অনুযায়ী সহযোগিতার চেষ্টা করতেন। সময়ের সাথে সাথে তার উদ্যোগের পরিধি বেড়েছে এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষও যুক্ত হয়েছেন।

এখন পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন প্রান্তের পাঁচ শতাধিক প্রতিবন্ধী পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছেন তিনি। কিছু পরিবারকে আর্থিক সহায়তা ও খাদ্যসামগ্রী প্রদান করেছেন, আবার কিছু পরিবারের জন্য প্রয়োজনীয় পরামর্শ এবং চিকিৎসাসেবা পেতে সহযোগিতা করেছেন। তার উদ্যোগে ১১০ প্রতিবন্ধী শিশু কৃত্রিম পা, হুইলচেয়ারসহ বিভিন্ন ধরনের সহায়ক উপকরণ পেয়েছে।

ফেনীর বন্যায় সহায়ক উপকরণ হারিয়ে ফেলা ১০ প্রতিবন্ধী ব্যক্তির জন্যও নতুন করে প্রয়োজনীয় উপকরণের ব্যবস্থা করেছেন আলী তানভীর। এছাড়া, সীতাকুণ্ডের ডিপোতে অগ্নিকাণ্ডের সময় লাশ বহনের কাজে সহযোগিতা করেছেন তিনি। পরবর্তী সময়ে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের পুনর্বাসন কার্যক্রমেও যুক্ত ছিলেন। মানুষের বিপদে পাশে দাঁড়ানোর এই মানসিকতা তার মানবিক উদ্যোগকে আরও বিস্তৃত করেছে।

রূপসী ও তামান্নার স্বপ্নপূরণের চেষ্টা

আলী তানভীরের সহযোগিতায় নতুন করে স্বপ্ন দেখার সুযোগ পেয়েছে রূপসী ও তামান্নার মতো শিশুরা। ২০২১ সালে সড়ক দুর্ঘটনায় পায়ের গোড়ালি হারায় রূপসী। দুর্ঘটনার পর তার চিকিৎসা ও পড়াশোনা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। এমন পরিস্থিতিতে রূপসীর পাশে দাঁড়ান আলী তানভীর। চিকিৎসার পাশাপাশি তার শিক্ষাজীবন এগিয়ে নিতেও সহযোগিতা করে যাচ্ছেন তিনি।

রূপসীর মা জানান, মেয়ের চিকিৎসা ও পড়াশোনার ক্ষেত্রে তানভীর সহযোগিতা করে যাচ্ছেন। বর্তমানে রূপসী ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ছে।

অন্যদিকে, জন্মগতভাবে দুই হাত ও এক পা নিয়ে জন্ম নেওয়া তামান্নার জন্য ২০২২ সালে কৃত্রিম পায়ের ব্যবস্থা করেন আলী তানভীর। তবে বিদ্যালয় দূরে হওয়া এবং যাতায়াত ও ওঠানামার অসুবিধার কারণে তামান্নার পক্ষে মাধ্যমিক পর্যায়ে পড়াশোনা শুরু করা সম্ভব হয়নি।

তামান্নার বাস্তবতা তুলে ধরে আলী তানভীরের উদ্যোগের পাশাপাশি উঠে এসেছে প্রতিবন্ধী শিশুদের শিক্ষা ও চলাচলের সুযোগ নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তা। চিকিৎসা কিংবা সহায়ক উপকরণ দিলেই তাদের সব সমস্যা সমাধান হয় না। প্রয়োজন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সহজ প্রবেশাধিকার, নিরাপদ যাতায়াত এবং প্রতিবন্ধীবান্ধব পরিবেশ। এসব সুযোগ নিশ্চিত করা না গেলে অনেক শিশুর শিক্ষাজীবন শুরুতেই বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সহযোগিতার হাত

কীভাবে শুরু হয়েছিল এই মানবিক উদ্যোগ? জানতে চাইলে আলী তানভীর বলেন, ‘প্রথমে প্রতিবন্ধী শিশুদের বাড়িতে গিয়ে তাদের খোঁজখবর নিই। যেসব পরিবারের আর্থিক অবস্থা খুবই খারাপ, তাদের স্থানীয় অর্থোপেডিক সেন্টারে নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করি। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সহায়ক উপকরণ দেওয়ার চেষ্টা করি।’

তিনি জানান, অনেক পরিবারের পক্ষে সন্তানের চিকিৎসার ব্যয় বহন করা সম্ভব হয় না। এমন পরিস্থিতিতে শিশুটির ছবি ও চিকিৎসার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে ফেসবুকে পোস্ট করেন তিনি। তার ফেসবুক বন্ধুরা সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিলে সেই অর্থ দিয়ে চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় সহায়ক উপকরণের ব্যবস্থা করা হয়।

এভাবেই ব্যক্তিগত উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে অসংখ্য মানুষের সম্মিলিত সহযোগিতা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচিত ব্যক্তিদের কাছ থেকে পাওয়া সহায়তা কাজে লাগিয়ে অসহায় পরিবারগুলোর কাছে প্রয়োজনীয় সেবা পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করছেন তিনি। তার এই উদ্যোগের ফলে একদিকে যেমন সহায়তাবঞ্চিত পরিবারগুলো উপকৃত হচ্ছে, অন্যদিকে সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষও মানবিক কাজে যুক্ত হওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন।

আলী তানভীরের মানবিক কর্মকাণ্ডে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন ব্যাংক কর্মকর্তা সাথীর মতো অনেকেই। ২০২০ সাল থেকে ফেসবুকের মাধ্যমে তানভীরের সঙ্গে পরিচয় সাথীর। সরাসরি সব সময় অসহায় মানুষের কাছে পৌঁছানো সম্ভব না হলেও তানভীরের মাধ্যমে তাদের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেন তিনি।

সাথী বলেন, ব্যস্ততার কারণে সরাসরি যেতে না পারলেও আমি তানভীরের মাধ্যমে সমাজের এই মানুষগুলোর পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করি। প্রতিবন্ধীদের প্রতি তার ভালোবাসা দেখে আমি তাকে ‘প্রতিবন্ধীদের বন্ধু’ বলে ডাকি।

সাথীর দেওয়া এই নাম যেন আলী তানভীরের মানবিক কর্মকাণ্ডের পরিচয় হয়ে উঠেছে। তার উদ্যোগে শুধু একজন ব্যক্তি নন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচিত অনেক মানুষও অসহায় পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়ানোর সুযোগ পাচ্ছেন। ব্যক্তিগত সামর্থ্যের সঙ্গে অন্যদের সহযোগিতাকে যুক্ত করে তিনি গড়ে তুলেছেন মানবিক সহমর্মিতার একটি পরিসর।

সহায়তার পাশাপাশি প্রয়োজন অধিকার নিশ্চিত করা

প্রতিবন্ধী শিশুদের চিকিৎসা, শিক্ষা ও চলাচলের সুযোগ নিশ্চিত করা এখনো সমাজের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ। আর্থিক অসচ্ছলতা, প্রয়োজনীয় সহায়ক উপকরণের অভাব, চিকিৎসাসেবায় সীমিত প্রবেশাধিকার এবং যাতায়াতের প্রতিবন্ধকতা অনেক শিশুর স্বাভাবিক জীবনযাপন ও শিক্ষার পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায়। এসব সীমাবদ্ধতার মধ্যেও আলী তানভীরের মতো মানুষের উদ্যোগ অসহায় পরিবারগুলোকে নতুন করে আশার আলো দেখাচ্ছে।

শিক্ষকতার দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি নিজের সামর্থ্য ও মানুষের সহযোগিতাকে কাজে লাগিয়ে আলী তানভীর যে পথচলা শুরু করেছেন, তা কেবল আর্থিক সহায়তা কিংবা প্রয়োজনীয় উপকরণ বিতরণের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। তার কর্মকাণ্ড প্রতিবন্ধী শিশুদের বাস্তব সমস্যা সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করার পাশাপাশি তাদের পাশে দাঁড়ানোর মানসিকতাও তৈরি করছে।

রূপসীর পড়াশোনা এগিয়ে চলা যেমন আশার গল্প, তেমনি তামান্নার বিদ্যালয়ে যেতে না পারার বাস্তবতা মনে করিয়ে দেয়—প্রতিবন্ধী শিশুদের জন্য সহায়তার পাশাপাশি প্রয়োজন সমান সুযোগ ও উপযোগী পরিবেশ।

প্রতিবন্ধীদের নিয়ে কেমন ভবিষ্যৎ দেখতে চান আলী তানভীর?

প্রতিবন্ধী শিশুদের নিয়ে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও প্রত্যাশা সম্পর্কে জানতে চাইলে আলী তানভীর বলেন, আমি এমন একটি সমাজ দেখতে চাই, যেখানে প্রতিবন্ধী শিশুরা নিজেদের অসহায় মনে করবে না। তাদের পরিবারকে সন্তানের চিকিৎসা, পড়াশোনা কিংবা চলাচলের ব্যবস্থা করতে গিয়ে অসহনীয় কষ্টের মুখোমুখি হতে হবে না। প্রতিটি প্রতিবন্ধী শিশু যেন প্রয়োজনীয় চিকিৎসা, সহায়ক উপকরণ ও শিক্ষার সুযোগ পায় এবং নিজের যোগ্যতা অনুযায়ী সামনে এগিয়ে যেতে পারে। শুধু সহানুভূতি দেখানো নয়, তাদের অধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিত করাও জরুরি। সরকার, সমাজের বিত্তবান মানুষ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন সম্মিলিতভাবে এগিয়ে এলে প্রতিবন্ধী শিশুদের জন্য সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়ে তোলা সম্ভব। আমি চাই, আমার এই উদ্যোগের মাধ্যমে আরও মানুষ অনুপ্রাণিত হোক এবং প্রতিবন্ধী শিশুদের পাশে দাঁড়াতে এগিয়ে আসুক।

ব্যক্তিগত উদ্যোগ, মানুষের ভালোবাসা আর সম্মিলিত সহযোগিতাকে পুঁজি করে আলী তানভীরের এই পথচলা প্রমাণ করে, সমাজের ইতিবাচক পরিবর্তনে সব সময় বড় আয়োজনের প্রয়োজন হয় না। প্রয়োজন আন্তরিক ইচ্ছা, মানুষের প্রতি দায়বদ্ধতা এবং কাজ করে যাওয়ার মানসিকতা।

পাঁচ শতাধিক প্রতিবন্ধী পরিবারের পাশে দাঁড়ানো এবং ১১০ শিশুর চলার পথ সহজ করতে ভূমিকা রাখা এই তরুণ শিক্ষক তাই অনেকের কাছে কেবল একজন সহায়তাকারী নন; তিনি ভরসা, সহমর্মিতা ও নতুন করে স্বপ্ন দেখার অনুপ্রেরণা। ভালোবেসে যাকে তারা ডাকেন ‘প্রতিবন্ধীদের বন্ধু’।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর
সাংবাদিক আলিফ হত্যা

লুৎফুজ্জামান আলিফ হত্যা মামলায় দুই আসামির জবানবন্দিতে চাঞ্চল্যকর তথ্য

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

সোমবার, ২ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৪:৪৪ এম


লুৎফুজ্জামান আলিফ হত্যা মামলায় দুই আসামির জবানবন্দিতে চাঞ্চল্যকর তথ্য

নেত্রকোনার দুর্গাপুরে সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান আলিফ হত্যা মামলায় গ্রেফতার হওয়া দুই আসামি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেছেন। পুলিশ তাদের জবানবন্দির ভিত্তিতে জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনার মূল কুশলী ছিলেন তাজুল ইসলাম। এতে সরাসরি অংশগ্রহণ করেন পাঁচজন, যাদের মধ্যে তাজুল নিজেই পিস্তল দিয়ে আলিফকে গুলি করেন।

রোববার (১ নভেম্বর) বিকালে দুর্গাপুর চৌকি আদালতের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট নুরুল আমিন ভূঁইয়ার কাছে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন ইমরান ইসলাম ওরফে ইমন (২৪) এবং সাব্বির আহম্মেদ (২৫)। বিকাল পৌনে ৪টায় শুরু হওয়া জবানবন্দি গ্রহণ শেষ হয় সন্ধ্যা ৭টায়। পরে বিচারক তাদেরকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

দুর্গাপুর থানার ওসি খন্দকার শাকের আহমেদ রোববার রাতে জানান, জবানবন্দিতে দুই আসামি বলেছেন, তাজুল ইসলামের সঙ্গে সাংবাদিক আলিফের পূর্বে বিরোধ ছিল। সেই বিরোধের ফলস্বরূপ তাকে হত্যা করা হয়। আসামিরা তাজুলের সহযোগী হিসেবে বিভিন্ন কাজে নিয়োজিত ছিলেন। সীমান্ত এলাকায় তাদের ব্যবসা ছিল, যেখানে আলিফ বাধা দিতেন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে তথ্য দিতেন। এ কারণে তাদের মধ্যে আলিফের প্রতি ক্ষোভ ছিল।

ওসি আরও বলেন, দুই আসামির বক্তব্য অনুযায়ী, হত্যাকাণ্ডে সরাসরি অংশগ্রহণ করেন পাঁচজন। তাজুল পিস্তল দিয়ে আলিফকে গুলি করেন। আলিফের মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর লোকজন ঘটনাস্থলে আসতে শুরু করলে তারা সেখান থেকে পালিয়ে যান।

জবানবন্দিতে তাজুল ছাড়াও আরও কয়েকজনের নাম এসেছে বলে জানান ওসি। তবে তদন্তের স্বার্থে তাদের পরিচয় প্রকাশ করা হচ্ছে না। হত্যাকাণ্ডে জড়িত সবাইকে গ্রেফতারের স্বার্থে আপাতত তাদের নাম গোপন রাখা হয়েছে।

পুলিশ জানায়, তাজুলের বিরুদ্ধে হত্যা, হত্যাচেষ্টা, অস্ত্র, মাদক, বিস্ফোরক, অপহরণ, চাঁদাবাজি, ডাকাতি ও চুরিসহ বিভিন্ন অপরাধে অন্তত ১৩টি মামলা রয়েছে। সীমান্তকেন্দ্রিক চোরাচালানের সঙ্গেও তার বাহিনীর সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। তিনি এলাকায় নিজ নামে একটি সন্ত্রাসী বাহিনী পরিচালনা করেন।

সাংবাদিক আলিফের স্ত্রী আনন্দিতা সাংমা (খাদিজা আক্তার) এর আগে জানিয়েছিলেন, তাজুলের চোরাচালান ও অস্ত্রের বিষয়ে তথ্য পেয়ে তা র‍্যাবকে দিয়েছিলেন আলিফ। প্রায় চার বছর আগে র‍্যাব (বর্তমানে এসআরবি) তাজুলকে গ্রেফতার করেছিল।

দুর্গাপুর থানার ওসি খন্দকার শাকের আহমেদ গত অক্টোবরের শেষ সপ্তাহে জানিয়েছিলেন, আলিফ তাজুলের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের তথ্য সংগ্রহ করেছিলেন। তিনি তাজুলের বাড়িঘরের ছবি ও ভিডিও ফেসবুকে প্রকাশ করেছিলেন। তাজুলের ধারণা ছিল, আলিফ তার কাছে থাকা অস্ত্রের তথ্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে দিয়েছেন। এ নিয়ে ক্ষোভ থেকেই এর আগেও আলিফের ওপর হামলা হয়েছিল।

গত ১৫ অক্টোবর রাতে দুর্গাপুর উপজেলার শ্যামগঞ্জ-বিরিশিরি সড়কের উত্রাইল বাজারসংলগ্ন তেলনজিয়া এলাকায় গুলিতে নিহত হন সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান আলিফ। তিনি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল রূপসী বাংলার নেত্রকোনা প্রতিনিধি ছিলেন। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘ডিটেকটিভ আর্টিকেল’ নামে একটি ফেসবুক পেজ পরিচালনা করতেন। ওই পেজে সীমান্ত এলাকায় চোরাচালানসহ বিভিন্ন অপরাধ ও অনিয়ম নিয়ে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ করতেন তিনি।

হত্যাকাণ্ডের পরদিন আলিফের স্ত্রী বাদী হয়ে দুর্গাপুর থানায় অজ্ঞাতপরিচয় সাত থেকে আটজনকে আসামি করে হত্যা মামলা করেন।

গত শনিবার ভোরে সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার ধনপুর বাজার এলাকা থেকে ইমরান ও সাব্বিরকে গ্রেফতার করে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) একটি দল। তাদের গ্রেফতারের মাধ্যমে এ মামলায় গ্রেফতারের সংখ্যা দাঁড়াল চারজনে। এর আগে ১৮ অক্টোবর সাজিবুল ইসলাম ওরফে অপূর্ব এবং ২০ অক্টোবর আশিকুর রহমান ওরফে প্রাঙ্গণকে গ্রেফতার করা হয়।

নেত্রকোনার পুলিশ সুপার তরিকুল ইসলাম বলেছেন, মামলার তদন্ত অনেক দূর এগিয়েছে। হত্যাকাণ্ডে আর কারা জড়িত, সে বিষয়ে আমরা নিশ্চিত হয়েছি। আশা করছি, দ্রুত তাদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনতে পারব। এরপর সংবাদ সম্মেলন করে বিস্তারিত জানানো হবে।

ঢাকায় চাকরিতে যোগ দিয়েছেন আলিফের স্ত্রী

এদিকে নিহত সাংবাদিক আলিফের স্ত্রী আনন্দিতা সাংমা (খাদিজা আক্তার) রাজধানীর ধানমন্ডির একটি বেসরকারি হাসপাতালে নার্স হিসেবে চাকরিতে যোগ দিয়েছেন। নেত্রকোনা-১ (কলমাকান্দা-দুর্গাপুর) আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল তার চাকরির ব্যবস্থা করে দিয়েছেন। গত বৃহস্পতিবার তিনি কাজে যোগ দেন। দুই সন্তান ও মাকে নিয়ে ঢাকায় থাকছেন আনন্দিতা।

গারো সম্প্রদায়ের এই নারী আলিফের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে বিয়ে করেন। বিয়ের সময় তিনি ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন। পরে তার নাম রাখা হয় খাদিজা আক্তার।

আনন্দিতা সাংমা বলেন, গণমাধ্যমে খবর প্রকাশের পর একজন নারী আমাকে ফোন করে সহযোগিতার কথা বলেছেন। আমার ব্যাংক হিসাবের নম্বর চেয়েছেন। এরপর আরও অনেকে ফোন করে পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন। চাকরির ব্যবস্থা হওয়ায় আপাতত অন্য কারও আর্থিক সহযোগিতার প্রয়োজন নেই।

তিনি আরও বলেন, আমি চাই, তাজুল ইসলাম, শুটার শামীমসহ এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত প্রত্যেক আসামিকে দ্রুত গ্রেফতার করা হোক। তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। স্বামীকে আর কখনো ফিরে পাব না; কিন্তু যারা তাকে নির্মমভাবে গুলি করে হত্যা করেছে, আমার দুই সন্তানকে এতিম করেছে, আমাকে স্বামীহারা করেছে, তাদের শাস্তি দেখে যেতে চাই। আমি তাদের ফাঁসি চাই।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক শফিকুল, সদস্যসচিব জাহাঙ্গীর মনোনীত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

সোমবার, ২ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৪:৪৫ এম


ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক শফিকুল, সদস্যসচিব জাহাঙ্গীর মনোনীত

ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আওতাধীন নতুন সদস্যবিশিষ্ট আহ্বায়ক কমিটি অনুমোদন করা হয়েছে। এই নবগঠিত কমিটিতে আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন ডিএনসিসি প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন, এবং সদস্যসচিব হিসেবে মনোনীত হয়েছেন সংসদ সদস্য এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন।

রোববার (১ নভেম্বর) বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে এই তথ্য প্রকাশিত হয় একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ আহ্বায়ক কমিটি গঠন সম্পন্ন করা হবে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২১শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৮
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৩
মাগরিব ০৫:১৯
ইশা ০৬:৩১
সূর্যোদয় : ০৬:০৫ সূর্যাস্ত : ০৫:১৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%