বুধবার, ২৩শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০১:৪৩ পি.এম
ময়মনসিংহের ফুলপুর ও তারাকান্দা উপজেলায় বর্তমান সরকারের তিনটি উন্নয়ন কাজের শুভ উদ্বোধন করেছেন ময়মনসিংহ-২ (ফুলপুর-তারাকান্দা) আসনের তদারকির দায়িত্বপ্রাপ্ত সংরক্ষিত নারী আসনের এমপি নিলোফার চৌধুরী মনি। তিনি এ সময় সরকারের উন্নয়ন কর্মকান্ড তুলে ধরার জন্য সকলের প্রতি আহবান জানান।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে এবং বিকালে পৃথক আয়োজনে নবনির্মিত এসব উন্নয়ন কাজের উদ্বোধন করেন সংরক্ষিত নারী আসনের এই এমপি।
উন্নয়ন কাজগুলোর মধ্যে রয়েছে, তারাকান্দায় ফজলুল হক চৌধুরী মহিলা কলেজের নবনির্মিত ভবনের ভিত্তি প্রস্থর, ডোহাতলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নবনির্মিত ভবন এবং ফুলপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিসের নতুন ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর।
এছাড়াও, তিনি তারাকান্দা উপজেলা প্রশাসনের অর্থায়নে নবনির্মিত মিনি লাইব্রেরী উদ্বোধন করে পুষ্পকানন পরিদর্শন করেন এমপি নিলোফার চৌধুরী মনি। পরবর্তীতে তিনি ফুলপুর উপজেলা প্রশাসনের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় মিলিত হন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন ময়মনসিংহ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (মউক) চেয়ারম্যান ও উত্তর জেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক মোতাহার হোসেন তালুকদার, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো: আমিনুল ইসলাম, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাধনা ত্রিপুরা, ফজলুল হক চৌধুরী মহিলা কলেজের সভাপতি রাকিব তালুকদারসহ বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
হাইকোর্ট জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) ১৩টি শিক্ষক পদে নিয়োগ কার্যক্রম স্থগিত করার নির্দেশনা প্রদান করেছে।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) আদালত একটি রিটের প্রাথমিক শুনানি শেষে এই আদেশ দেন, যেখানে অভিযোগ করা হয়েছিল যে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে স্নাতক ও স্নাতকোত্তরের ফলাফলের তুলনায় এসএসসি ও এইচএসসির ফলাফলকে অধিক গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি শেখ তাহসিন আলীর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই আদেশের পাশাপাশি একটি রুলও জারি করেছেন।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ২৫ আগস্ট জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগে সহকারী অধ্যাপকের দুটি এবং প্রভাষকের ১১টি পদে নিয়োগের জন্য বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। পরে, ওই বিজ্ঞপ্তির বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে ঢাকার আদালতের আইনজীবী বিজয়া রানী টিকাদার হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন।
রিটে বলা হয়, নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে এসএসসি ও এইচএসসির ফলাফলকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তরের ফলাফলের তুলনায় বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, যা উচ্চশিক্ষায় ভালো ফল করা অনেক যোগ্য প্রার্থীকে শিক্ষক পদে আবেদনের সুযোগ থেকে বঞ্চিত করতে পারে।
আইনজীবী আবেদা গুলরুখ রিটকারীর পক্ষে শুনানি করেন। তিনি আদালতে বলেন, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগ ও পদোন্নতির ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) ২০২১ সালের নির্দেশিকা রয়েছে। তিনি দাবি করেন যে, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ওই নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি সংশ্লিষ্ট নির্দেশিকার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
শুনানি শেষে আদালত ২৫ আগস্ট প্রকাশিত নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি এবং এর ভিত্তিতে নেওয়া পরবর্তী কার্যক্রম কেন আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেন। একই সঙ্গে ওই বিজ্ঞপ্তির আওতাভুক্ত ১৩টি শিক্ষক পদে নিয়োগ কার্যক্রম স্থগিত রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়।
রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল জসীম সরকার, মোহাম্মদ ইমাম হোসেন তারেক ও শিহাব উদ্দিন খান। এদিকে, হাইকোর্টের দেওয়া এ আদেশের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছে রাষ্ট্রপক্ষ। ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ ইমাম হোসেন তারেক বলেন, ‘এ আদেশের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে আবেদন করা হবে।’
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ের কৃষি উদ্যোক্তা মুসলিম উদ্দীন একই জমিতে একসঙ্গে তিন ধরনের ফসল চাষ করে সফলতার মুখ দেখছেন। তিনি উপজেলার কাটাছরা ইউনিয়নে ৩৩ শতক জমিতে ‘সর্জন’ পদ্ধতিতে পেঁপে চাষের পাশাপাশি মরিচ ও কচু আবাদ করে ইতোমধ্যে লাভবান হয়েছেন। তার এই উদ্যোগে স্থানীয় অন্যান্য কৃষকরাও আগ্রহী হয়ে উঠছেন।
মুসলিম উদ্দীনের জমিতে সারি সারি পেঁপে গাছ দেখা যাচ্ছে। গাছের গোড়া থেকে আগা পর্যন্ত ঝুলছে পাকা ও আধাপাকা পেঁপে। পেঁপে গাছের সাথে সাথী ফসল হিসেবে চাষ করা হয়েছে বারোমাসি মরিচ। আর জমির নিচু নালায় রোপণ করা হয়েছে কাঠকচু। ফলে একই জমি থেকে তিনটি ফসল উৎপাদন করছেন তিনি।
কৃষক মুসলিম উদ্দীন জানান, উপজেলা কৃষি অফিসের সহযোগিতা নিয়ে ৩৩ শতক জমিতে স্বজন পদ্ধতিতে চাষাবাদ শুরু করেন। জমির উঁচু বেডে পেঁপে, বেড়ের দুপাশে মরিচ এবং নিচু নালায় কচু চাষ করছেন। ইতোমধ্যে মরিচ ও কচু বিক্রি করে ভালো আয় হয়েছে। পেঁপের ফলনও ভালো হয়েছে। সব মিলিয়ে পেঁপে থেকে প্রায় ৫ লাখ টাকা বিক্রির আশা করছেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, ‘একটি জমিতে তিনটি ফসল চাষ করতে পারায় উৎপাদন খরচ কমছে এবং জমির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত হচ্ছে। এই পদ্ধতিতে ভালো ফলন পাওয়ায় আমি খুবই আশাবাদী।’
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা প্রতাপ চন্দ্র রায় জানান, মিরসরাই উপজেলায় সর্জন পদ্ধতিতে চাষাবাদের জন্য চারটি প্রদর্শনী দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে মুসলিম উদ্দীনের জমিটিও একটি। তিনি পেঁপের সঙ্গে সহফসল হিসেবে মরিচ ও কচু চাষ করছেন।
তিনি আরও বলেন, সর্জন পদ্ধতিতে নিচু জমিকে উঁচু করে বেড তৈরি করা হয় এবং মাঝখানে নিচু নালা রাখা হয়। এতে বেডে বিভিন্ন সবজি বা ফসল এবং নালায় কচু ও মাছ চাষের সুযোগ থাকে। একই জমিতে একাধিক ফসল উৎপাদন হওয়ায় কৃষকের আয় বাড়ানোর পাশাপাশি জমিরও সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করা সম্ভব।
মুসলিম উদ্দীনের এই উদ্যোগ দেখে মিরসরাইয়ের অন্যান্য কৃষকরাও সর্জন পদ্ধতিতে চাষাবাদে আগ্রহী হবেন বলে আশা করছেন কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সরকার ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) কার্ডধারী নিম্ন আয়ের পরিবারের জন্য ভর্তুকি মূল্যে বিক্রির উদ্দেশ্যে ১০ হাজার মেট্রিক টন মসুর ডাল ক্রয় করবে। এই ডাল স্থানীয়ভাবে উন্মুক্ত দরপত্র (জাতীয়) পদ্ধতিতে কেনা হবে।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এই প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়।
মসুর ডাল কেনার এই উদ্যোগটি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে নেওয়া হয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের কাউন্টার গ্যারান্টির আওতায় এই ক্রয়ের জন্য ৭৬ কোটি ৮৯ লাখ টাকার পরিমাণ অর্থ নির্ধারণ করা হয়েছে।
প্রস্তাব অনুযায়ী, ১০ হাজার মেট্রিক টন মসুর ডাল কেনার জন্য স্থানীয়ভাবে উন্মুক্ত দরপত্র আহ্বান করা হলে চারটি দরপত্র জমা পড়ে। যাচাই-বাছাইয়ের পর চারটি দরপ্রস্তাবকেই কারিগরিভাবে রেসপনসিভ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
পরে দরপত্রের সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে টেন্ডার ইভ্যালুয়েশন কমিটি (টিইসি) সর্বনিম্ন রেসপনসিভ দরদাতা হিসেবে খুলনার জয়তুন অটো রাইস অ্যান্ড ডাল মিলস লিমিটেডকে নির্বাচনের সুপারিশ করে।
টিইসির সুপারিশ অনুযায়ী, নির্বাচিত প্রতিষ্ঠানটির কাছ থেকে টিসিবির গুদাম পর্যন্ত পরিবহন খরচসহ প্রতি কেজি ৭৬ টাকা ৮৯ পয়সা দরে ১০ হাজার মেট্রিক টন মসুর ডাল কেনা হবে। এতে মোট ব্যয় হবে প্রায় ৭৬ কোটি ৮৯ লাখ টাকা।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে টিসিবির মসুর ডাল কেনার লক্ষ্যমাত্রা ২ লাখ ২০ হাজার মেট্রিক টন নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে ইতোমধ্যে ১৭ হাজার ৫২৮ মেট্রিক টন মসুর ডাল ক্রয় করা হয়েছে। নতুন করে ১০ হাজার মেট্রিক টন ডাল কেনার মাধ্যমে টিসিবির মসুর ডালের মজুত বৃদ্ধি পাবে। এই ডাল পরবর্তীতে টিসিবির কার্ডধারী নিম্ন আয়ের পরিবারের কাছে নির্ধারিত ভর্তুকি মূল্যে বিক্রি করা হবে।
সরকারের খাদ্য সহায়তা কার্যক্রমের আওতায় টিসিবি নিয়মিতভাবে কার্ডধারী নিম্ন আয়ের পরিবারের কাছে বিভিন্ন নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য ভর্তুকি মূল্যে বিক্রি করে থাকে। এর অংশ হিসেবেই চলতি অর্থবছরে মসুর ডাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
ভারতীয় রুপির বিপরীতে বাংলাদেশি টাকার উল্লেখযোগ্য শক্তিশালীকরণের ঘটনা গত দুই বছরে ঘটেছে। এই সময়ের মধ্যে ভারতীয় মুদ্রার তুলনায় টাকার মূল্য ১১.৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষভাবে গত এক বছরে এই বৃদ্ধি ৭.৬ শতাংশ হয়েছে।
বিনিময় হার সম্পর্কিত তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ২২ সেপ্টেম্বর এক টাকার মূল্য ছিল প্রায় ০.৭৮ ভারতীয় রুপি। এক বছর আগে, ২০২৫ সালের ২২ সেপ্টেম্বর, এক টাকার মূল্য ছিল প্রায় ০.৭২ রুপি। ২০২৪ সালের একই দিনে এক টাকার মূল্য ছিল প্রায় ০.৭০ রুপি। এই হিসাব অনুযায়ী, এক বছরের ব্যবধানে ভারতীয় রুপির বিপরীতে টাকার মূল্য বেড়েছে ৫.৫ পয়সা। ফলে, ভারতীয় মুদ্রার বিপরীতে টাকার ক্রয়ক্ষমতা ৭.৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
টাকার শক্তিশালী হওয়ার বিষয়টি বিপরীত হিসাবেও প্রতিফলিত হচ্ছে। চলতি বছরের ২২ সেপ্টেম্বর এক ভারতীয় রুপির মূল্য ছিল প্রায় ১.২৮ টাকা। এক বছর আগে এর মূল্য ছিল প্রায় ১.৩৮ টাকা। এর মানে হলো, এক ভারতীয় রুপি কিনতে বর্তমানে এক বছর আগে তুলনায় ৯.৭২ পয়সা কম টাকা প্রয়োজন হচ্ছে। এই হিসেবে টাকার মূল্য বেড়েছে ৭.১ শতাংশ।
২০২৪ সালের ২২ সেপ্টেম্বর এক ভারতীয় রুপির মূল্য ছিল ১.৪৩ টাকা। সেই সময়ের তুলনায় গত দুই বছরে রুপির বিপরীতে টাকার মূল্য বেড়েছে ১১.৬ শতাংশ।
বিশেষ করে গত এক বছরের পরিবর্তনটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। ২০২৫ সালের ২২ সেপ্টেম্বর যেখানে এক টাকার বিনিময়ে ০.৭২ রুপি পাওয়া যেত, সেখানে ২০২৬ সালের ২২ সেপ্টেম্বর পাওয়া যাচ্ছে ০.৭৮ রুপি। অর্থাৎ, এক বছরের ব্যবধানে ভারতীয় মুদ্রার বিপরীতে টাকার মূল্য বেড়েছে ৭.৬ শতাংশ।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ভারতীয় রুপির বিপরীতে টাকার শক্তিশালী অবস্থান অব্যাহত রয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২১ সেপ্টেম্বর ভারতীয় রুপির বিপরীতে টাকার ক্রস রেট ছিল ১.২৭৮৯ টাকা থেকে ১.২৭৯৬ টাকা। অর্থাৎ, এক টাকার বিপরীতে পাওয়া গেছে ০.৭৮১ থেকে ০.৭৮২ ভারতীয় রুপি।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা-বাসস’কে বলেছেন, ভারতীয় রুপির বিপরীতে টাকার শক্তিশালী অবস্থান বাংলাদেশ-ভারতের অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্কে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে ভারত থেকে পণ্য আমদানিতে স্থানীয় মুদ্রায় ব্যয় কমতে পারে।
তিনি আরও বলেন, টাকার মূল্য বৃদ্ধি পেলে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যের দাম, পরিবহন ব্যয় ও বাণিজ্য সংক্রান্ত অন্যান্য খরচ অপরিবর্তিত থাকলে একই পরিমাণ ভারতীয় পণ্য ও সেবা কিনতে বাংলাদেশি আমদানিকারকদের তুলনামূলক কম টাকা ব্যয় করতে হবে। এর ফলে ভারতীয় পণ্য ও সেবা আমদানিতে বাংলাদেশি ব্যবসায়ীরা কিছুটা স্বস্তি পেতে পারেন। একই সঙ্গে ভারতে ভ্রমণকারী বাংলাদেশিদেরও স্থানীয় মুদ্রায় ব্যয়ের পরিমাণ কমতে পারে।
আরিফ হোসেন খান আরও বলেন, বাংলাদেশ-ভারত বাণিজ্যের ক্ষেত্রে বিনিময় হারের এই পরিবর্তন ভারত থেকে আমদানির সামগ্রিক স্থানীয় মুদ্রার ব্যয়েও প্রভাব ফেলবে। ভারতীয় রুপির বিপরীতে টাকা তুলনামূলক শক্তিশালী থাকলে ভারতীয় মুদ্রায় পরিশোধযোগ্য আমদানি ব্যয় মেটাতে আমদানিকারকদের কম টাকা প্রয়োজন হবে।
তিনি উল্লেখ করেন, ভারত থেকে কাঁচামাল, শিল্পের বিভিন্ন উপকরণ, যন্ত্রপাতি ও অন্যান্য পণ্য আমদানিকারক ব্যবসায়ীরাও এর সুফল পেতে পারেন। কারণ, এসব পণ্য আমদানিতে ব্যয়ের মুদ্রা-সংক্রান্ত অংশ তুলনামূলকভাবে কমে আসতে পারে।
তবে এর প্রকৃত প্রভাব বাজারদরে কতটা পড়বে, তা নির্ভর করবে আরও কয়েকটি বিষয়ের ওপর। এর মধ্যে রয়েছে আমদানি করা পণ্যের আন্তর্জাতিক বাজারমূল্য, পণ্য পরিবহন ও লজিস্টিক ব্যয়, শুল্ক ও কর এবং আমদানিকারক ও ব্যবসায়ীদের মূল্য নির্ধারণের সিদ্ধান্ত।
বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র বলেন, আন্তঃসীমান্ত বাণিজ্যের ব্যয় নির্ধারণে বিনিময় হার একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। তাই টাকা-রুপির বিনিময় হারের পরিবর্তনকে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও বৈদেশিক মুদ্রাবাজারের সামগ্রিক পরিস্থিতির আলোকে দেখতে হবে।
ভারতে ভ্রমণকারী বাংলাদেশিরাও টাকার শক্তিশালী অবস্থান থেকে সুবিধা পেতে পারেন বলে তিনি জানান। তার মতে, প্রচলিত বাজারদর অনুযায়ী টাকার বিপরীতে রুপির মূল্য কম থাকলে ভারতে বাংলাদেশিদের আবাসন, খাবার, যাতায়াত ও অন্যান্য স্থানীয় খরচের টাকায় হিসাব করা মূল্য কমবে।
তবে তিনি বলেন, শুধু বিনিময় হারের পরিবর্তনই আমদানি পণ্যের চূড়ান্ত মূল্য কিংবা বিদেশ ভ্রমণের মোট ব্যয় নির্ধারণ করে না। এ ক্ষেত্রে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বাজারের অন্যান্য বিষয়ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
আরিফ হোসেন খান বলেন, বৈদেশিক মুদ্রাবাজার ও বিনিময় হারের গতিবিধি বাংলাদেশ ব্যাংক নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করছে। বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং একটি সুশৃঙ্খল বাজার নিশ্চিত করতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক প্রয়োজনীয় নজরদারি অব্যাহত রেখেছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ