ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

হাইকোর্টের আদেশে জবির ১৩ শিক্ষক পদে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির কার্যক্রম স্থগিত


হাইকোর্টের আদেশে জবির ১৩ শিক্ষক পদে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির কার্যক্রম স্থগিত

হাইকোর্ট জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) ১৩টি শিক্ষক পদে নিয়োগ কার্যক্রম স্থগিত করার নির্দেশনা প্রদান করেছে।

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) আদালত একটি রিটের প্রাথমিক শুনানি শেষে এই আদেশ দেন, যেখানে অভিযোগ করা হয়েছিল যে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে স্নাতক ও স্নাতকোত্তরের ফলাফলের তুলনায় এসএসসি ও এইচএসসির ফলাফলকে অধিক গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি শেখ তাহসিন আলীর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই আদেশের পাশাপাশি একটি রুলও জারি করেছেন।

আরও পড়ুন: জলবায়ু ও উন্নয়ন কাজে তুরস্কের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার চায় বাংলাদেশ

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ২৫ আগস্ট জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগে সহকারী অধ্যাপকের দুটি এবং প্রভাষকের ১১টি পদে নিয়োগের জন্য বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। পরে, ওই বিজ্ঞপ্তির বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে ঢাকার আদালতের আইনজীবী বিজয়া রানী টিকাদার হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন।

রিটে বলা হয়, নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে এসএসসি ও এইচএসসির ফলাফলকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তরের ফলাফলের তুলনায় বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, যা উচ্চশিক্ষায় ভালো ফল করা অনেক যোগ্য প্রার্থীকে শিক্ষক পদে আবেদনের সুযোগ থেকে বঞ্চিত করতে পারে।

আইনজীবী আবেদা গুলরুখ রিটকারীর পক্ষে শুনানি করেন। তিনি আদালতে বলেন, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগ ও পদোন্নতির ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) ২০২১ সালের নির্দেশিকা রয়েছে। তিনি দাবি করেন যে, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ওই নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি সংশ্লিষ্ট নির্দেশিকার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

শুনানি শেষে আদালত ২৫ আগস্ট প্রকাশিত নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি এবং এর ভিত্তিতে নেওয়া পরবর্তী কার্যক্রম কেন আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেন। একই সঙ্গে ওই বিজ্ঞপ্তির আওতাভুক্ত ১৩টি শিক্ষক পদে নিয়োগ কার্যক্রম স্থগিত রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়।

আরও পড়ুন: অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের প্রতিবাদে গ্রাহক ফখরুল ইসলাম সোহেলের মামলা

রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল জসীম সরকার, মোহাম্মদ ইমাম হোসেন তারেক ও শিহাব উদ্দিন খান। এদিকে, হাইকোর্টের দেওয়া এ আদেশের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছে রাষ্ট্রপক্ষ। ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ ইমাম হোসেন তারেক বলেন, ‘এ আদেশের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে আবেদন করা হবে।’

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মিরসরাইয়ের মুসলিম উদ্দীনের সর্জন পদ্ধতিতে এক জমিতে তিন ফসলের সফলতা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

বুধবার, ২৩শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০১:৪৪ পি.এম


মিরসরাইয়ের মুসলিম উদ্দীনের সর্জন পদ্ধতিতে এক জমিতে তিন ফসলের সফলতা

চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ের কৃষি উদ্যোক্তা মুসলিম উদ্দীন একই জমিতে একসঙ্গে তিন ধরনের ফসল চাষ করে সফলতার মুখ দেখছেন। তিনি উপজেলার কাটাছরা ইউনিয়নে ৩৩ শতক জমিতে ‘সর্জন’ পদ্ধতিতে পেঁপে চাষের পাশাপাশি মরিচ ও কচু আবাদ করে ইতোমধ্যে লাভবান হয়েছেন। তার এই উদ্যোগে স্থানীয় অন্যান্য কৃষকরাও আগ্রহী হয়ে উঠছেন।

মুসলিম উদ্দীনের জমিতে সারি সারি পেঁপে গাছ দেখা যাচ্ছে। গাছের গোড়া থেকে আগা পর্যন্ত ঝুলছে পাকা ও আধাপাকা পেঁপে। পেঁপে গাছের সাথে সাথী ফসল হিসেবে চাষ করা হয়েছে বারোমাসি মরিচ। আর জমির নিচু নালায় রোপণ করা হয়েছে কাঠকচু। ফলে একই জমি থেকে তিনটি ফসল উৎপাদন করছেন তিনি।

কৃষক মুসলিম উদ্দীন জানান, উপজেলা কৃষি অফিসের সহযোগিতা নিয়ে ৩৩ শতক জমিতে স্বজন পদ্ধতিতে চাষাবাদ শুরু করেন। জমির উঁচু বেডে পেঁপে, বেড়ের দুপাশে মরিচ এবং নিচু নালায় কচু চাষ করছেন। ইতোমধ্যে মরিচ ও কচু বিক্রি করে ভালো আয় হয়েছে। পেঁপের ফলনও ভালো হয়েছে। সব মিলিয়ে পেঁপে থেকে প্রায় ৫ লাখ টাকা বিক্রির আশা করছেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, ‘একটি জমিতে তিনটি ফসল চাষ করতে পারায় উৎপাদন খরচ কমছে এবং জমির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত হচ্ছে। এই পদ্ধতিতে ভালো ফলন পাওয়ায় আমি খুবই আশাবাদী।’

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা প্রতাপ চন্দ্র রায় জানান, মিরসরাই উপজেলায় সর্জন পদ্ধতিতে চাষাবাদের জন্য চারটি প্রদর্শনী দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে মুসলিম উদ্দীনের জমিটিও একটি। তিনি পেঁপের সঙ্গে সহফসল হিসেবে মরিচ ও কচু চাষ করছেন।

তিনি আরও বলেন, সর্জন পদ্ধতিতে নিচু জমিকে উঁচু করে বেড তৈরি করা হয় এবং মাঝখানে নিচু নালা রাখা হয়। এতে বেডে বিভিন্ন সবজি বা ফসল এবং নালায় কচু ও মাছ চাষের সুযোগ থাকে। একই জমিতে একাধিক ফসল উৎপাদন হওয়ায় কৃষকের আয় বাড়ানোর পাশাপাশি জমিরও সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করা সম্ভব।

মুসলিম উদ্দীনের এই উদ্যোগ দেখে মিরসরাইয়ের অন্যান্য কৃষকরাও সর্জন পদ্ধতিতে চাষাবাদে আগ্রহী হবেন বলে আশা করছেন কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সরকার ৭৭ কোটি টাকার মসুর ডাল কিনবে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

বুধবার, ২৩শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০১:৪৪ পি.এম


সরকার ৭৭ কোটি টাকার মসুর ডাল কিনবে

সরকার ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) কার্ডধারী নিম্ন আয়ের পরিবারের জন্য ভর্তুকি মূল্যে বিক্রির উদ্দেশ্যে ১০ হাজার মেট্রিক টন মসুর ডাল ক্রয় করবে। এই ডাল স্থানীয়ভাবে উন্মুক্ত দরপত্র (জাতীয়) পদ্ধতিতে কেনা হবে।

বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এই প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়।

মসুর ডাল কেনার এই উদ্যোগটি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে নেওয়া হয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের কাউন্টার গ্যারান্টির আওতায় এই ক্রয়ের জন্য ৭৬ কোটি ৮৯ লাখ টাকার পরিমাণ অর্থ নির্ধারণ করা হয়েছে।

প্রস্তাব অনুযায়ী, ১০ হাজার মেট্রিক টন মসুর ডাল কেনার জন্য স্থানীয়ভাবে উন্মুক্ত দরপত্র আহ্বান করা হলে চারটি দরপত্র জমা পড়ে। যাচাই-বাছাইয়ের পর চারটি দরপ্রস্তাবকেই কারিগরিভাবে রেসপনসিভ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

পরে দরপত্রের সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে টেন্ডার ইভ্যালুয়েশন কমিটি (টিইসি) সর্বনিম্ন রেসপনসিভ দরদাতা হিসেবে খুলনার জয়তুন অটো রাইস অ্যান্ড ডাল মিলস লিমিটেডকে নির্বাচনের সুপারিশ করে।

টিইসির সুপারিশ অনুযায়ী, নির্বাচিত প্রতিষ্ঠানটির কাছ থেকে টিসিবির গুদাম পর্যন্ত পরিবহন খরচসহ প্রতি কেজি ৭৬ টাকা ৮৯ পয়সা দরে ১০ হাজার মেট্রিক টন মসুর ডাল কেনা হবে। এতে মোট ব্যয় হবে প্রায় ৭৬ কোটি ৮৯ লাখ টাকা।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে টিসিবির মসুর ডাল কেনার লক্ষ্যমাত্রা ২ লাখ ২০ হাজার মেট্রিক টন নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে ইতোমধ্যে ১৭ হাজার ৫২৮ মেট্রিক টন মসুর ডাল ক্রয় করা হয়েছে। নতুন করে ১০ হাজার মেট্রিক টন ডাল কেনার মাধ্যমে টিসিবির মসুর ডালের মজুত বৃদ্ধি পাবে। এই ডাল পরবর্তীতে টিসিবির কার্ডধারী নিম্ন আয়ের পরিবারের কাছে নির্ধারিত ভর্তুকি মূল্যে বিক্রি করা হবে।

সরকারের খাদ্য সহায়তা কার্যক্রমের আওতায় টিসিবি নিয়মিতভাবে কার্ডধারী নিম্ন আয়ের পরিবারের কাছে বিভিন্ন নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য ভর্তুকি মূল্যে বিক্রি করে থাকে। এর অংশ হিসেবেই চলতি অর্থবছরে মসুর ডাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

টাকার রুপির বিপরীতে বড় উত্থান, দুই বছরে শক্তিশালী হয়েছে ১১.৬ শতাংশ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

বুধবার, ২৩শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০১:৪৪ পি.এম


টাকার রুপির বিপরীতে বড় উত্থান, দুই বছরে শক্তিশালী হয়েছে ১১.৬ শতাংশ

ভারতীয় রুপির বিপরীতে বাংলাদেশি টাকার উল্লেখযোগ্য শক্তিশালীকরণের ঘটনা গত দুই বছরে ঘটেছে। এই সময়ের মধ্যে ভারতীয় মুদ্রার তুলনায় টাকার মূল্য ১১.৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষভাবে গত এক বছরে এই বৃদ্ধি ৭.৬ শতাংশ হয়েছে।

বিনিময় হার সম্পর্কিত তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ২২ সেপ্টেম্বর এক টাকার মূল্য ছিল প্রায় ০.৭৮ ভারতীয় রুপি। এক বছর আগে, ২০২৫ সালের ২২ সেপ্টেম্বর, এক টাকার মূল্য ছিল প্রায় ০.৭২ রুপি। ২০২৪ সালের একই দিনে এক টাকার মূল্য ছিল প্রায় ০.৭০ রুপি। এই হিসাব অনুযায়ী, এক বছরের ব্যবধানে ভারতীয় রুপির বিপরীতে টাকার মূল্য বেড়েছে ৫.৫ পয়সা। ফলে, ভারতীয় মুদ্রার বিপরীতে টাকার ক্রয়ক্ষমতা ৭.৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

টাকার শক্তিশালী হওয়ার বিষয়টি বিপরীত হিসাবেও প্রতিফলিত হচ্ছে। চলতি বছরের ২২ সেপ্টেম্বর এক ভারতীয় রুপির মূল্য ছিল প্রায় ১.২৮ টাকা। এক বছর আগে এর মূল্য ছিল প্রায় ১.৩৮ টাকা। এর মানে হলো, এক ভারতীয় রুপি কিনতে বর্তমানে এক বছর আগে তুলনায় ৯.৭২ পয়সা কম টাকা প্রয়োজন হচ্ছে। এই হিসেবে টাকার মূল্য বেড়েছে ৭.১ শতাংশ।

২০২৪ সালের ২২ সেপ্টেম্বর এক ভারতীয় রুপির মূল্য ছিল ১.৪৩ টাকা। সেই সময়ের তুলনায় গত দুই বছরে রুপির বিপরীতে টাকার মূল্য বেড়েছে ১১.৬ শতাংশ।

বিশেষ করে গত এক বছরের পরিবর্তনটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। ২০২৫ সালের ২২ সেপ্টেম্বর যেখানে এক টাকার বিনিময়ে ০.৭২ রুপি পাওয়া যেত, সেখানে ২০২৬ সালের ২২ সেপ্টেম্বর পাওয়া যাচ্ছে ০.৭৮ রুপি। অর্থাৎ, এক বছরের ব্যবধানে ভারতীয় মুদ্রার বিপরীতে টাকার মূল্য বেড়েছে ৭.৬ শতাংশ।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ভারতীয় রুপির বিপরীতে টাকার শক্তিশালী অবস্থান অব্যাহত রয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২১ সেপ্টেম্বর ভারতীয় রুপির বিপরীতে টাকার ক্রস রেট ছিল ১.২৭৮৯ টাকা থেকে ১.২৭৯৬ টাকা। অর্থাৎ, এক টাকার বিপরীতে পাওয়া গেছে ০.৭৮১ থেকে ০.৭৮২ ভারতীয় রুপি।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা-বাসস’কে বলেছেন, ভারতীয় রুপির বিপরীতে টাকার শক্তিশালী অবস্থান বাংলাদেশ-ভারতের অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্কে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে ভারত থেকে পণ্য আমদানিতে স্থানীয় মুদ্রায় ব্যয় কমতে পারে।

তিনি আরও বলেন, টাকার মূল্য বৃদ্ধি পেলে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যের দাম, পরিবহন ব্যয় ও বাণিজ্য সংক্রান্ত অন্যান্য খরচ অপরিবর্তিত থাকলে একই পরিমাণ ভারতীয় পণ্য ও সেবা কিনতে বাংলাদেশি আমদানিকারকদের তুলনামূলক কম টাকা ব্যয় করতে হবে। এর ফলে ভারতীয় পণ্য ও সেবা আমদানিতে বাংলাদেশি ব্যবসায়ীরা কিছুটা স্বস্তি পেতে পারেন। একই সঙ্গে ভারতে ভ্রমণকারী বাংলাদেশিদেরও স্থানীয় মুদ্রায় ব্যয়ের পরিমাণ কমতে পারে।

আরিফ হোসেন খান আরও বলেন, বাংলাদেশ-ভারত বাণিজ্যের ক্ষেত্রে বিনিময় হারের এই পরিবর্তন ভারত থেকে আমদানির সামগ্রিক স্থানীয় মুদ্রার ব্যয়েও প্রভাব ফেলবে। ভারতীয় রুপির বিপরীতে টাকা তুলনামূলক শক্তিশালী থাকলে ভারতীয় মুদ্রায় পরিশোধযোগ্য আমদানি ব্যয় মেটাতে আমদানিকারকদের কম টাকা প্রয়োজন হবে।

তিনি উল্লেখ করেন, ভারত থেকে কাঁচামাল, শিল্পের বিভিন্ন উপকরণ, যন্ত্রপাতি ও অন্যান্য পণ্য আমদানিকারক ব্যবসায়ীরাও এর সুফল পেতে পারেন। কারণ, এসব পণ্য আমদানিতে ব্যয়ের মুদ্রা-সংক্রান্ত অংশ তুলনামূলকভাবে কমে আসতে পারে।

তবে এর প্রকৃত প্রভাব বাজারদরে কতটা পড়বে, তা নির্ভর করবে আরও কয়েকটি বিষয়ের ওপর। এর মধ্যে রয়েছে আমদানি করা পণ্যের আন্তর্জাতিক বাজারমূল্য, পণ্য পরিবহন ও লজিস্টিক ব্যয়, শুল্ক ও কর এবং আমদানিকারক ও ব্যবসায়ীদের মূল্য নির্ধারণের সিদ্ধান্ত।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র বলেন, আন্তঃসীমান্ত বাণিজ্যের ব্যয় নির্ধারণে বিনিময় হার একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। তাই টাকা-রুপির বিনিময় হারের পরিবর্তনকে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও বৈদেশিক মুদ্রাবাজারের সামগ্রিক পরিস্থিতির আলোকে দেখতে হবে।

ভারতে ভ্রমণকারী বাংলাদেশিরাও টাকার শক্তিশালী অবস্থান থেকে সুবিধা পেতে পারেন বলে তিনি জানান। তার মতে, প্রচলিত বাজারদর অনুযায়ী টাকার বিপরীতে রুপির মূল্য কম থাকলে ভারতে বাংলাদেশিদের আবাসন, খাবার, যাতায়াত ও অন্যান্য স্থানীয় খরচের টাকায় হিসাব করা মূল্য কমবে।

তবে তিনি বলেন, শুধু বিনিময় হারের পরিবর্তনই আমদানি পণ্যের চূড়ান্ত মূল্য কিংবা বিদেশ ভ্রমণের মোট ব্যয় নির্ধারণ করে না। এ ক্ষেত্রে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বাজারের অন্যান্য বিষয়ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

আরিফ হোসেন খান বলেন, বৈদেশিক মুদ্রাবাজার ও বিনিময় হারের গতিবিধি বাংলাদেশ ব্যাংক নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করছে। বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং একটি সুশৃঙ্খল বাজার নিশ্চিত করতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক প্রয়োজনীয় নজরদারি অব্যাহত রেখেছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

এআই প্রযুক্তির অপব্যবহার করে সরকার পতন সম্ভব নয়: পার্বত্য প্রতিমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

বুধবার, ২৩শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০১:৪৫ পি.এম


এআই প্রযুক্তির অপব্যবহার করে সরকার পতন সম্ভব নয়: পার্বত্য প্রতিমন্ত্রী

ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন যে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি বা অসৎ উপায়ের মাধ্যমে বিদেশ থেকে বাংলাদেশে সরকার পতনের স্বপ্ন কখনোই বাস্তবায়িত হবে না।

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) বিকালে চট্টগ্রামের হাটহাজারীর ধলই কাটিরহাট বাজারে আয়োজিত পতিত স্বৈরাচার ও নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী সন্ত্রাসীদের নৈরাজ্যের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ সমাবেশ ও গণমিছিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই মন্তব্য করেন।

প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর হেলাল বলেন, পলাতক দোসররা নিজেদের পরিবার-পরিজন নিয়ে বিদেশে পালিয়ে গিয়ে দেশের দরিদ্র ও অসহায় যুবকদের ভুল বুঝিয়ে জীবন বিপন্ন করছে। তিনি এ ধরনের অপকর্ম থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, "এই অন্যায়ের বিচার যেমন মহান সৃষ্টিকর্তা করবেন, তেমনি এ দেশের জনগণ ও বঞ্চিত কর্মীরাই এর বিচার নিশ্চিত করবে।" তিনি আরও বলেন, "যদি সৎ সাহস থাকে এবং নিজেদের নির্দোষ মনে করেন, তবে দেশে ফিরে এসে আইনের কাছে আত্মসমর্পণ করে বিচারের মুখোমুখি হন।"

হাটহাজারীতে কোনো ধরনের প্রতিহিংসার রাজনীতি চান না উল্লেখ করে ব্যারিস্টার মীর হেলাল বলেন, "কোনো দরিদ্র ঘরের সন্তান যেন অনর্থক হয়রানির শিকার না হয়।" তিনি সকলকে আহ্বান জানান, এসব চিহ্নিত অপরাধীদের সঙ্গে সব ধরনের সম্পর্ক ছিন্ন করে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার জন্য। তিনি জানান, "আমরা আপনাদের পুনর্বাসনে সহায়তা করব।" তবে তিনি সতর্ক করেন যে, পলাতক ও পরাজিত শক্তির পেছনে হেঁটে কোনো লাভ হবে না।

ভূমি প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, "তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশে যে অগ্রযাত্রা শুরু হয়েছে, মহান রাব্বুল আলামিন ছাড়া আর কারও পক্ষে তা রুখে দেওয়া সম্ভব নয়।"

আওয়ামী দোসর ও ৭১-এর পরাজিত শক্তির কঠোর সমালোচনা করে প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর হেলাল বলেন, "যারা ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর দেশ থেকে পালিয়ে গেছে, তাদের বক্তব্যের সঙ্গে ৭১-এর পরাজিত শক্তির বক্তব্যের হুবহু মিল রয়েছে।" তিনি জানান, "তাদের স্বপ্ন যে অলীক, তা তারা বুঝতে পারছে না।" প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং তার সরকারের দুই-তৃতীয়াংশ সংসদ সদস্য জনগণের সরাসরি সমর্থনে রাজপথের লড়াই-সংগ্রামের মাধ্যমে নির্বাচিত হয়েছেন—"কোনো ‘আমি-ডামি’ বা রাতের ভোটের মাধ্যমে নয়।"

দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি তুলে ধরে তিনি বলেন, "বিগত সরকারের ৩০ লাখ কোটি টাকার ঋণের বোঝা ও বিপর্যস্ত অর্থনীতিকে টেনে তুলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে এনেছেন এবং নতুন করে বৈশ্বিক বিনিয়োগ আকর্ষণ করছেন।" তিনি উল্লেখ করেন, "ঠিক এমন মুহূর্তে একাত্তরের পরাজিত শক্তি ও ২০২৪-এর পলাতক গোষ্ঠী এক হয়ে দেশে অরাজকতা সৃষ্টির পাঁয়তারা চালাচ্ছে।" তারা হতদরিদ্র যুবকদের সামান্য অর্থের প্রলোভন দেখিয়ে ঝটিকা মিছিল ও ভিডিও বানিয়ে জনমনে বিভ্রান্তি ছড়ানোর অপচেষ্টা করছে। তিনি বলেন, "জনগণকে সাথে নিয়ে রাজপথেই এ ধরনের অপচেষ্টা প্রতিহত করা হবে।"

ব্যারিস্টার মীর হেলাল দলের নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, "প্রতিটি এলাকাকে সুপ্ত, গুপ্ত ও পলাতক অপরাধীদের প্রভাব থেকে মুক্ত রাখতে ঐক্যবদ্ধভাবে সজাগ ও সতর্ক থাকতে হবে।"

ধলই ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক আজম মাস্টারের সভাপতিত্বে এবং জাসাস চট্টগ্রাম উত্তর জেলার সভাপতি ও ফরহাদাবাদ ইউনিয়ন বিএনপির সদস্য সচিব কাজী সাইফুল ইসলাম টুটুল এবং ধলই ইউনিয়ন বিএনপির সদস্য সচিব নাসিম মেম্বারের যৌথ পরিচালনায় অনুষ্ঠানে উপজেলা ও জেলা পর্যায়ের নেতারা বক্তব্য প্রদান করেন।

সমাবেশে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব গিয়াস উদ্দিন চেয়ারম্যান, যুগ্ম আহ্বায়ক সেলিম চেয়ারম্যান, ডা. রফিকুল আলম, উত্তর জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব আকবর আলী, আলহাজ্ব রহমত উল্লাহ, উত্তর জেলা যুবদলের যুগ্ম সম্পাদক সাখাওয়াত হোসেন শিমুল, জেলা ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মনিরুল আলম জনি, উত্তর জেলা ছাত্রদলের সভাপতি তকিবুল ইসলাম তকি এবং উত্তর জেলা কৃষক দলের সিনিয়র যুগ্ম-আহ্বায়ক আনোয়ার হোসেন উজ্জ্বলসহ স্থানীয় অন্যান্য রাজনৈতিক নেতারা।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%