বুধবার, ২৩শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০১:৪৪ পি.এম
সরকার ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) কার্ডধারী নিম্ন আয়ের পরিবারের জন্য ভর্তুকি মূল্যে বিক্রির উদ্দেশ্যে ১০ হাজার মেট্রিক টন মসুর ডাল ক্রয় করবে। এই ডাল স্থানীয়ভাবে উন্মুক্ত দরপত্র (জাতীয়) পদ্ধতিতে কেনা হবে।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এই প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়।
মসুর ডাল কেনার এই উদ্যোগটি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে নেওয়া হয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের কাউন্টার গ্যারান্টির আওতায় এই ক্রয়ের জন্য ৭৬ কোটি ৮৯ লাখ টাকার পরিমাণ অর্থ নির্ধারণ করা হয়েছে।
প্রস্তাব অনুযায়ী, ১০ হাজার মেট্রিক টন মসুর ডাল কেনার জন্য স্থানীয়ভাবে উন্মুক্ত দরপত্র আহ্বান করা হলে চারটি দরপত্র জমা পড়ে। যাচাই-বাছাইয়ের পর চারটি দরপ্রস্তাবকেই কারিগরিভাবে রেসপনসিভ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
পরে দরপত্রের সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে টেন্ডার ইভ্যালুয়েশন কমিটি (টিইসি) সর্বনিম্ন রেসপনসিভ দরদাতা হিসেবে খুলনার জয়তুন অটো রাইস অ্যান্ড ডাল মিলস লিমিটেডকে নির্বাচনের সুপারিশ করে।
টিইসির সুপারিশ অনুযায়ী, নির্বাচিত প্রতিষ্ঠানটির কাছ থেকে টিসিবির গুদাম পর্যন্ত পরিবহন খরচসহ প্রতি কেজি ৭৬ টাকা ৮৯ পয়সা দরে ১০ হাজার মেট্রিক টন মসুর ডাল কেনা হবে। এতে মোট ব্যয় হবে প্রায় ৭৬ কোটি ৮৯ লাখ টাকা।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে টিসিবির মসুর ডাল কেনার লক্ষ্যমাত্রা ২ লাখ ২০ হাজার মেট্রিক টন নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে ইতোমধ্যে ১৭ হাজার ৫২৮ মেট্রিক টন মসুর ডাল ক্রয় করা হয়েছে। নতুন করে ১০ হাজার মেট্রিক টন ডাল কেনার মাধ্যমে টিসিবির মসুর ডালের মজুত বৃদ্ধি পাবে। এই ডাল পরবর্তীতে টিসিবির কার্ডধারী নিম্ন আয়ের পরিবারের কাছে নির্ধারিত ভর্তুকি মূল্যে বিক্রি করা হবে।
সরকারের খাদ্য সহায়তা কার্যক্রমের আওতায় টিসিবি নিয়মিতভাবে কার্ডধারী নিম্ন আয়ের পরিবারের কাছে বিভিন্ন নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য ভর্তুকি মূল্যে বিক্রি করে থাকে। এর অংশ হিসেবেই চলতি অর্থবছরে মসুর ডাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
ভারতীয় রুপির বিপরীতে বাংলাদেশি টাকার উল্লেখযোগ্য শক্তিশালীকরণের ঘটনা গত দুই বছরে ঘটেছে। এই সময়ের মধ্যে ভারতীয় মুদ্রার তুলনায় টাকার মূল্য ১১.৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষভাবে গত এক বছরে এই বৃদ্ধি ৭.৬ শতাংশ হয়েছে।
বিনিময় হার সম্পর্কিত তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ২২ সেপ্টেম্বর এক টাকার মূল্য ছিল প্রায় ০.৭৮ ভারতীয় রুপি। এক বছর আগে, ২০২৫ সালের ২২ সেপ্টেম্বর, এক টাকার মূল্য ছিল প্রায় ০.৭২ রুপি। ২০২৪ সালের একই দিনে এক টাকার মূল্য ছিল প্রায় ০.৭০ রুপি। এই হিসাব অনুযায়ী, এক বছরের ব্যবধানে ভারতীয় রুপির বিপরীতে টাকার মূল্য বেড়েছে ৫.৫ পয়সা। ফলে, ভারতীয় মুদ্রার বিপরীতে টাকার ক্রয়ক্ষমতা ৭.৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
টাকার শক্তিশালী হওয়ার বিষয়টি বিপরীত হিসাবেও প্রতিফলিত হচ্ছে। চলতি বছরের ২২ সেপ্টেম্বর এক ভারতীয় রুপির মূল্য ছিল প্রায় ১.২৮ টাকা। এক বছর আগে এর মূল্য ছিল প্রায় ১.৩৮ টাকা। এর মানে হলো, এক ভারতীয় রুপি কিনতে বর্তমানে এক বছর আগে তুলনায় ৯.৭২ পয়সা কম টাকা প্রয়োজন হচ্ছে। এই হিসেবে টাকার মূল্য বেড়েছে ৭.১ শতাংশ।
২০২৪ সালের ২২ সেপ্টেম্বর এক ভারতীয় রুপির মূল্য ছিল ১.৪৩ টাকা। সেই সময়ের তুলনায় গত দুই বছরে রুপির বিপরীতে টাকার মূল্য বেড়েছে ১১.৬ শতাংশ।
বিশেষ করে গত এক বছরের পরিবর্তনটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। ২০২৫ সালের ২২ সেপ্টেম্বর যেখানে এক টাকার বিনিময়ে ০.৭২ রুপি পাওয়া যেত, সেখানে ২০২৬ সালের ২২ সেপ্টেম্বর পাওয়া যাচ্ছে ০.৭৮ রুপি। অর্থাৎ, এক বছরের ব্যবধানে ভারতীয় মুদ্রার বিপরীতে টাকার মূল্য বেড়েছে ৭.৬ শতাংশ।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ভারতীয় রুপির বিপরীতে টাকার শক্তিশালী অবস্থান অব্যাহত রয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২১ সেপ্টেম্বর ভারতীয় রুপির বিপরীতে টাকার ক্রস রেট ছিল ১.২৭৮৯ টাকা থেকে ১.২৭৯৬ টাকা। অর্থাৎ, এক টাকার বিপরীতে পাওয়া গেছে ০.৭৮১ থেকে ০.৭৮২ ভারতীয় রুপি।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা-বাসস’কে বলেছেন, ভারতীয় রুপির বিপরীতে টাকার শক্তিশালী অবস্থান বাংলাদেশ-ভারতের অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্কে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে ভারত থেকে পণ্য আমদানিতে স্থানীয় মুদ্রায় ব্যয় কমতে পারে।
তিনি আরও বলেন, টাকার মূল্য বৃদ্ধি পেলে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যের দাম, পরিবহন ব্যয় ও বাণিজ্য সংক্রান্ত অন্যান্য খরচ অপরিবর্তিত থাকলে একই পরিমাণ ভারতীয় পণ্য ও সেবা কিনতে বাংলাদেশি আমদানিকারকদের তুলনামূলক কম টাকা ব্যয় করতে হবে। এর ফলে ভারতীয় পণ্য ও সেবা আমদানিতে বাংলাদেশি ব্যবসায়ীরা কিছুটা স্বস্তি পেতে পারেন। একই সঙ্গে ভারতে ভ্রমণকারী বাংলাদেশিদেরও স্থানীয় মুদ্রায় ব্যয়ের পরিমাণ কমতে পারে।
আরিফ হোসেন খান আরও বলেন, বাংলাদেশ-ভারত বাণিজ্যের ক্ষেত্রে বিনিময় হারের এই পরিবর্তন ভারত থেকে আমদানির সামগ্রিক স্থানীয় মুদ্রার ব্যয়েও প্রভাব ফেলবে। ভারতীয় রুপির বিপরীতে টাকা তুলনামূলক শক্তিশালী থাকলে ভারতীয় মুদ্রায় পরিশোধযোগ্য আমদানি ব্যয় মেটাতে আমদানিকারকদের কম টাকা প্রয়োজন হবে।
তিনি উল্লেখ করেন, ভারত থেকে কাঁচামাল, শিল্পের বিভিন্ন উপকরণ, যন্ত্রপাতি ও অন্যান্য পণ্য আমদানিকারক ব্যবসায়ীরাও এর সুফল পেতে পারেন। কারণ, এসব পণ্য আমদানিতে ব্যয়ের মুদ্রা-সংক্রান্ত অংশ তুলনামূলকভাবে কমে আসতে পারে।
তবে এর প্রকৃত প্রভাব বাজারদরে কতটা পড়বে, তা নির্ভর করবে আরও কয়েকটি বিষয়ের ওপর। এর মধ্যে রয়েছে আমদানি করা পণ্যের আন্তর্জাতিক বাজারমূল্য, পণ্য পরিবহন ও লজিস্টিক ব্যয়, শুল্ক ও কর এবং আমদানিকারক ও ব্যবসায়ীদের মূল্য নির্ধারণের সিদ্ধান্ত।
বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র বলেন, আন্তঃসীমান্ত বাণিজ্যের ব্যয় নির্ধারণে বিনিময় হার একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। তাই টাকা-রুপির বিনিময় হারের পরিবর্তনকে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও বৈদেশিক মুদ্রাবাজারের সামগ্রিক পরিস্থিতির আলোকে দেখতে হবে।
ভারতে ভ্রমণকারী বাংলাদেশিরাও টাকার শক্তিশালী অবস্থান থেকে সুবিধা পেতে পারেন বলে তিনি জানান। তার মতে, প্রচলিত বাজারদর অনুযায়ী টাকার বিপরীতে রুপির মূল্য কম থাকলে ভারতে বাংলাদেশিদের আবাসন, খাবার, যাতায়াত ও অন্যান্য স্থানীয় খরচের টাকায় হিসাব করা মূল্য কমবে।
তবে তিনি বলেন, শুধু বিনিময় হারের পরিবর্তনই আমদানি পণ্যের চূড়ান্ত মূল্য কিংবা বিদেশ ভ্রমণের মোট ব্যয় নির্ধারণ করে না। এ ক্ষেত্রে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বাজারের অন্যান্য বিষয়ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
আরিফ হোসেন খান বলেন, বৈদেশিক মুদ্রাবাজার ও বিনিময় হারের গতিবিধি বাংলাদেশ ব্যাংক নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করছে। বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং একটি সুশৃঙ্খল বাজার নিশ্চিত করতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক প্রয়োজনীয় নজরদারি অব্যাহত রেখেছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন যে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি বা অসৎ উপায়ের মাধ্যমে বিদেশ থেকে বাংলাদেশে সরকার পতনের স্বপ্ন কখনোই বাস্তবায়িত হবে না।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) বিকালে চট্টগ্রামের হাটহাজারীর ধলই কাটিরহাট বাজারে আয়োজিত পতিত স্বৈরাচার ও নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী সন্ত্রাসীদের নৈরাজ্যের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ সমাবেশ ও গণমিছিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই মন্তব্য করেন।
প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর হেলাল বলেন, পলাতক দোসররা নিজেদের পরিবার-পরিজন নিয়ে বিদেশে পালিয়ে গিয়ে দেশের দরিদ্র ও অসহায় যুবকদের ভুল বুঝিয়ে জীবন বিপন্ন করছে। তিনি এ ধরনের অপকর্ম থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, "এই অন্যায়ের বিচার যেমন মহান সৃষ্টিকর্তা করবেন, তেমনি এ দেশের জনগণ ও বঞ্চিত কর্মীরাই এর বিচার নিশ্চিত করবে।" তিনি আরও বলেন, "যদি সৎ সাহস থাকে এবং নিজেদের নির্দোষ মনে করেন, তবে দেশে ফিরে এসে আইনের কাছে আত্মসমর্পণ করে বিচারের মুখোমুখি হন।"
হাটহাজারীতে কোনো ধরনের প্রতিহিংসার রাজনীতি চান না উল্লেখ করে ব্যারিস্টার মীর হেলাল বলেন, "কোনো দরিদ্র ঘরের সন্তান যেন অনর্থক হয়রানির শিকার না হয়।" তিনি সকলকে আহ্বান জানান, এসব চিহ্নিত অপরাধীদের সঙ্গে সব ধরনের সম্পর্ক ছিন্ন করে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার জন্য। তিনি জানান, "আমরা আপনাদের পুনর্বাসনে সহায়তা করব।" তবে তিনি সতর্ক করেন যে, পলাতক ও পরাজিত শক্তির পেছনে হেঁটে কোনো লাভ হবে না।
ভূমি প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, "তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশে যে অগ্রযাত্রা শুরু হয়েছে, মহান রাব্বুল আলামিন ছাড়া আর কারও পক্ষে তা রুখে দেওয়া সম্ভব নয়।"
আওয়ামী দোসর ও ৭১-এর পরাজিত শক্তির কঠোর সমালোচনা করে প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর হেলাল বলেন, "যারা ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর দেশ থেকে পালিয়ে গেছে, তাদের বক্তব্যের সঙ্গে ৭১-এর পরাজিত শক্তির বক্তব্যের হুবহু মিল রয়েছে।" তিনি জানান, "তাদের স্বপ্ন যে অলীক, তা তারা বুঝতে পারছে না।" প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং তার সরকারের দুই-তৃতীয়াংশ সংসদ সদস্য জনগণের সরাসরি সমর্থনে রাজপথের লড়াই-সংগ্রামের মাধ্যমে নির্বাচিত হয়েছেন—"কোনো ‘আমি-ডামি’ বা রাতের ভোটের মাধ্যমে নয়।"
দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি তুলে ধরে তিনি বলেন, "বিগত সরকারের ৩০ লাখ কোটি টাকার ঋণের বোঝা ও বিপর্যস্ত অর্থনীতিকে টেনে তুলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে এনেছেন এবং নতুন করে বৈশ্বিক বিনিয়োগ আকর্ষণ করছেন।" তিনি উল্লেখ করেন, "ঠিক এমন মুহূর্তে একাত্তরের পরাজিত শক্তি ও ২০২৪-এর পলাতক গোষ্ঠী এক হয়ে দেশে অরাজকতা সৃষ্টির পাঁয়তারা চালাচ্ছে।" তারা হতদরিদ্র যুবকদের সামান্য অর্থের প্রলোভন দেখিয়ে ঝটিকা মিছিল ও ভিডিও বানিয়ে জনমনে বিভ্রান্তি ছড়ানোর অপচেষ্টা করছে। তিনি বলেন, "জনগণকে সাথে নিয়ে রাজপথেই এ ধরনের অপচেষ্টা প্রতিহত করা হবে।"
ব্যারিস্টার মীর হেলাল দলের নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, "প্রতিটি এলাকাকে সুপ্ত, গুপ্ত ও পলাতক অপরাধীদের প্রভাব থেকে মুক্ত রাখতে ঐক্যবদ্ধভাবে সজাগ ও সতর্ক থাকতে হবে।"
ধলই ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক আজম মাস্টারের সভাপতিত্বে এবং জাসাস চট্টগ্রাম উত্তর জেলার সভাপতি ও ফরহাদাবাদ ইউনিয়ন বিএনপির সদস্য সচিব কাজী সাইফুল ইসলাম টুটুল এবং ধলই ইউনিয়ন বিএনপির সদস্য সচিব নাসিম মেম্বারের যৌথ পরিচালনায় অনুষ্ঠানে উপজেলা ও জেলা পর্যায়ের নেতারা বক্তব্য প্রদান করেন।
সমাবেশে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব গিয়াস উদ্দিন চেয়ারম্যান, যুগ্ম আহ্বায়ক সেলিম চেয়ারম্যান, ডা. রফিকুল আলম, উত্তর জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব আকবর আলী, আলহাজ্ব রহমত উল্লাহ, উত্তর জেলা যুবদলের যুগ্ম সম্পাদক সাখাওয়াত হোসেন শিমুল, জেলা ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মনিরুল আলম জনি, উত্তর জেলা ছাত্রদলের সভাপতি তকিবুল ইসলাম তকি এবং উত্তর জেলা কৃষক দলের সিনিয়র যুগ্ম-আহ্বায়ক আনোয়ার হোসেন উজ্জ্বলসহ স্থানীয় অন্যান্য রাজনৈতিক নেতারা।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
ঢাকায় সৌদি আরবের দূতাবাস কর্তৃক আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান।
সৌদি আরবের ৯৬তম জাতীয় দিবস উপলক্ষে মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় রাজধানীর বনানীর শেরাটন ঢাকার গ্র্যান্ড বলরুমে এই সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে ডা. শফিকুর রহমান সৌদি আরবের ৯৬তম জাতীয় দিবস উপলক্ষে সৌদি বাদশাহ সালমান বিন আবদুল আজিজ আল সৌদের প্রতি অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানিয়ে একটি চিঠি সৌদি আরবের রাষ্ট্রদূত ড. আবদুল্লাহ জাফর বিন আবিয়াহর হাতে তুলে দেন।
চিঠিতে তিনি বাংলাদেশ ও বাংলাদেশের জনগণের পক্ষ থেকে সৌদি বাদশাহ, রাজপরিবার, সৌদি সরকার এবং সৌদি জনগণের প্রতি আন্তরিক অভিনন্দন ও উষ্ণ শুভেচ্ছা জানান।
এছাড়া, চিঠিতে সৌদি আরবের প্রতি বিশ্বের মুসলমানদের গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার বিষয়টি তুলে ধরে মক্কা আল-মুকাররমার মসজিদুল হারাম এবং মদিনা আল-মুনাওয়ারার মসজিদে নববী (সা.)-এর সেবা ও ব্যবস্থাপনায় সৌদি আরবের মহান দায়িত্বের কথা উল্লেখ করা হয়।
বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত মুসলমানদের হজ ও ওমরাহ পালনে সৌদি আরবের সহযোগিতা ও সেবার বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরা হয়।
এতে আরও উল্লেখ করা হয় যে, বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের সম্পর্ক প্রচলিত দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের গণ্ডি ছাড়িয়ে গভীর ধর্মীয়, সাংস্কৃতিক ও জনগণের সঙ্গে জনগণের সম্পর্কের ওপর প্রতিষ্ঠিত।
সৌদি আরবে বসবাসরত বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি দুই দেশের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ মানবিক সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করছেন বলেও উল্লেখ করা হয়।
এছাড়া, দুই দেশের মধ্যকার দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও জোরদার করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করা হয়।
জামায়াতের আমির ও বিরোধী দলীয় নেতা এ সময় বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক ও অনুষ্ঠানে আগত অতিথিদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা এটিএম মাসুম, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা মোহাম্মদ আবদুল হালিম, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের এবং বিরোধীদলীয় নেতার পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা কমিটির সদস্য আলী আহমাদ মাবরুর।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
রাজশাহীর পবা উপজেলায় ‘পবা সার ডটকম’ নামে একটি ডিজিটাল সেবা চালু করা হয়েছে, যা কৃষকদের মধ্যে সারের সুষম বণ্টন নিশ্চিত করার পাশাপাশি কৃত্রিম সংকট ঠেকাতে সহায়তা করবে। এই সেবার মাধ্যমে উপজেলার বিভিন্ন ডিলারের কাছে সারের মজুত, বিক্রি ও অবশিষ্টের তথ্য অনলাইনে দেখা যাবে।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে পবা উপজেলা পরিষদ সভাকক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার মো. ইউসুফ আলী এ সেবার উদ্বোধন করেন। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম। সভাপতিত্ব করেন পবা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ইবনুল আবেদীন এবং সঞ্চালনা করেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা এম এ মান্নান।
ইউএনও মো. ইবনুল আবেদীন জানান, সরকার কৃষিতে ভর্তুকি দিয়ে পর্যাপ্ত পরিমাণ সার বরাদ্দ দিচ্ছে। তবে মাঠপর্যায়ে তদারকি করতে গিয়ে দেখা গেছে, পর্যাপ্ত বরাদ্দ থাকার পরও সারের সুষম বণ্টন না হওয়ায় অনেক কৃষক তাদের ন্যায্য পরিমাণ সার পাচ্ছেন না। আবার কিছু কৃষক প্রয়োজনের তুলনায় বেশি সার নেওয়ার কারণে অন্য কৃষকরা তাদের প্রাপ্য সার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
এসব সমস্যা মোকাবিলার জন্য ‘পবা সার ডটকম’ চালু করা হয়েছে। ইউএনও বলেন, কৃষকদের নতুন কোনো প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে না। তারা আগের মতোই ডিলারের কাছ থেকে সার কিনবেন। শুধু ডিলারদের তাদের মজুত ও বিক্রির তথ্য ওয়েবসাইটে হালনাগাদ করতে হবে। এর ফলে প্রশাসন অনলাইনে জানতে পারবে, কোন ডিলারের কাছে কত পরিমাণ সার মজুত রয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, পবা উপজেলার ২৫ জন ডিলারের মজুতের তথ্য ওয়েবসাইটের ড্যাশবোর্ডে দেখা যাবে। যদি কোনো এলাকায় প্রয়োজনের তুলনায় অস্বাভাবিক পরিমাণ সার বিক্রি হয়, তাহলে ওয়েবসাইটে সতর্কতামূলক বার্তা আসবে। তখন সংশ্লিষ্ট এলাকায় তদন্তকারী কর্মকর্তা পাঠিয়ে বিষয়টি যাচাই করা হবে।
এছাড়া উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা মাঠপর্যায়ে কৃষকদের সার পাওয়ার বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করবেন। তাদের পরিদর্শন জিপিএস লোকেশনের মাধ্যমে নথিভুক্ত হবে। এরপর উপজেলার বিভিন্ন দপ্তরের ১০ জন ট্যাগ কর্মকর্তা তাদের কার্যক্রম তদারকি করবেন। উপজেলা প্রশাসনও পুরো ব্যবস্থাটি পর্যবেক্ষণ করবে।
সংশ্লিষ্টরা আরও জানান, ‘পবা সার ডটকম’ মূলত একটি প্রগ্রেসিভ ওয়েব অ্যাপ। এটি ওয়েবসাইট হিসেবে ব্যবহারের পাশাপাশি মোবাইল ফোনে অ্যাপের মতো যুক্ত করা যাবে। বর্তমানে এটি পাইলট ভিত্তিতে চালু করা হয়েছে। ব্যবহারকারীদের মতামতের ভিত্তিতে পর্যায়ক্রমে এতে পরিবর্তন ও নতুন সুবিধা যুক্ত করা হবে।
অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম বলেন, প্রান্তিক কৃষকের কাছে সঠিক সময়ে সার পৌঁছে দেওয়া প্রশাসনের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ। ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে সেই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা সম্ভব হবে। পর্যাপ্ত সার মজুত থাকার পরও কখনো কখনো কৃত্রিম সংকট তৈরির চেষ্টা করা হয়। এ উদ্যোগের মাধ্যমে তা ঠেকানোর পাশাপাশি কৃষকের কাছে সার পৌঁছে দেওয়া সহজ হবে। বর্তমানে পবায় পাইলট ভিত্তিতে এটি চালু করা হয়েছে। সফল হলে পর্যায়ক্রমে রাজশাহী জেলার অন্যান্য উপজেলায়ও এ ব্যবস্থা চালু করা হবে।
বিভাগীয় কমিশনার মো. ইউসুফ আলী বলেন, কৃষি উৎপাদনের গুরুত্বপূর্ণ উপকরণগুলোর একটি সার। ফসলের বৃদ্ধি, ফুল ও ফল ধারণের জন্য সারের প্রয়োজন রয়েছে। তাই সারের সঠিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা জরুরি।
তিনি বলেন, শুধু ডিলারদের কাছে কী পরিমাণ সার মজুত আছে, সেই তথ্য থাকলেই হবে না। কোন এলাকায় কতজন কৃষক আছেন, তাদের কতটুকু চাষযোগ্য জমি রয়েছে, কোন মৌসুমে তারা কী ফসল চাষ করছেন এবং ওই ফসলের জন্য কী পরিমাণ সার প্রয়োজন-এসব তথ্যও ডিজিটাল ব্যবস্থায় যুক্ত করা প্রয়োজন।
‘পবা সার’ প্রকল্পটির নকশা, পরিচালনা ও কারিগরি উন্নয়ন করেছে সিল্কোরা কনসালটেন্সি লিমিটেড। প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, এ ডিজিটাল ব্যবস্থায় সার বরাদ্দ, মজুত, বিক্রি ও বিতরণের তথ্য একই প্ল্যাটফর্মে আনা হয়েছে। এতে কৃষক, ডিলার ও প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা প্রয়োজনীয় তথ্য সহজে দেখতে পারবেন। অনিয়ম শনাক্ত করা এবং সঠিক সময়ে সঠিক কৃষকের কাছে সার পৌঁছানোও সহজ হবে।
এ সময় উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সারের ডিলার, কৃষক ও সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ