০২:২০ পি.এম
মানবদেহের ভেতর থেকে ধীরে ধীরে খেয়ে ফেলার মতো এক ধরনের প্রাণঘাতী ছত্রাকের সংক্রমণ বিশ্বজুড়ে বাড়ছে। বৈশ্বিক উষ্ণায়নের প্রভাবে ভবিষ্যতে এই বিপদ আরও ব্যাপক ও ভয়ানক রূপ নিতে পারে, জানিয়েছেন বিজ্ঞানীরা। খবর সিএনএন।
ম্যানচেস্টার বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গবেষণায় দেখা গেছে, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে ‘অ্যাসপারজিলাস’ নামের ছত্রাকটি উত্তর আমেরিকা, ইউরোপ, চীন এবং রাশিয়ার নতুন অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়তে পারে। এই ছত্রাক ফুসফুসে সংক্রমণ ঘটিয়ে প্রাণঘাতী রোগ ‘অ্যাসপারজিলোসিস’ সৃষ্টি করে।
গবেষকদের মতে, সাধারণত এই ছত্রাকের স্পোর সুস্থ মানুষের শরীর ধ্বংস করে দিতে পারে। তবে হাঁপানি, সিওপিডি, ক্যানসার, অঙ্গ প্রতিস্থাপন করেন এমন রোগী বা যাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল, তাদের জন্য এটি মারাত্মক হয়ে ওঠে।
আরও পড়ুন: জলবায়ু ও উন্নয়ন কাজে তুরস্কের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার চায় বাংলাদেশ
গবেষণার সহ-লেখক নর্মান ভ্যান রেইন বলেন, শরীরের প্রতিরোধ ব্যবস্থা ব্যর্থ হলে ছত্রাক শরীরের অভ্যন্তরে বৃদ্ধি পেয়ে কার্যত ‘ভেতর থেকে খেতে শুরু করে’। অ্যাসপারজিলোসিসে মৃত্যুহার ২০ থেকে ৪০ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে।
গবেষণায় আরও বলা হয়েছে, বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধির কারণে ‘অ্যাসপারজিলাস ফিউমিগেটাস’ ২১০০ সালের মধ্যে প্রায় ৭৭ শতাংশ বেশি এলাকায় ছড়িয়ে পড়তে পারে। এতে শুধু ইউরোপে প্রায় ৯০ লাখ মানুষ ঝুঁকির মুখে পড়তে পারেন।
অন্যদিকে অ্যাসপারজিলাস ফ্ল্যাভাস উত্তর আমেরিকা, উত্তর চীন এবং রাশিয়ার নতুন অঞ্চলে বিস্তার লাভ করতে পারে। এই ছত্রাক শুধুমাত্র মানুষের শরীরেই নয়, খাদ্যশস্যেও সংক্রমণ ঘটায় এবং অনেক অ্যান্টিফাঙ্গাল ওষুধের বিরুদ্ধেও প্রতিরোধ গড়ে তুলতে সক্ষম।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) ইতিমধ্যে অ্যাসপারজিলাস ফ্ল্যাভাসকে জনস্বাস্থ্যের জন্য গুরুতর ঝুঁকিপূর্ণ ছত্রাক হিসেবে তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেছে।
আরও পড়ুন: অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের প্রতিবাদে গ্রাহক ফখরুল ইসলাম সোহেলের মামলা
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রে ১০ কোটির বেশি রোগীর তথ্য বিশ্লেষণ করে পরিচালিত এক গবেষণায় দেখা গেছে, ২০১৩-২৩ সালের মধ্যে ২০ হাজারের বেশি অ্যাসপারজিলোসিসের সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে। গবেষণার প্রধান অধ্যাপক জাস্টিন রেমেইস জানান, প্রতি বছর এ রোগের সংক্রমণ গড়ে প্রায় ৫ শতাংশ হারে বাড়ছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ছত্রাকজনিত রোগ সম্পর্কে এখনো জনগণের সচেতনতা কম। কিন্তু জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে এ ধরনের সংক্রমণ বৃদ্ধি পেতে পারে। তাই দ্রুত গবেষণা, নজরদারি এবং কার্যকর চিকিৎসা ব্যবস্থা জোরদার করা প্রয়োজন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন