বৃহস্পতিবার, ৮ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০৪:৪০ পি.এম
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) ১৬ জন গবেষক বিশ্বসেরা ২ শতাংশ বিজ্ঞান গবেষকের তালিকায় স্থান পেয়েছেন। এই তালিকা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় এবং নেদারল্যান্ডসভিত্তিক চিকিৎসা ও বিজ্ঞানবিষয়ক প্রকাশনা সংস্থা ‘এলসেভিয়ার’-এর সমন্বয়ে প্রকাশিত হয়।
গবেষকদের গবেষণাপত্র, সাইটেশন, এইচ-ইনডেক্স, কনসিস্টেন্সি এবং সহ-লেখকদের প্রভাবের ভিত্তিতে এই তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে। এই স্বীকৃতি বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক গবেষণাক্ষেত্রে শক্তিশালী অবস্থান এবং বৈশ্বিক জ্ঞানচর্চায় ক্রমবর্ধমান প্রভাবের প্রতিফলন ঘটায়।
তালিকায় স্থান পাওয়া গবেষকদের মধ্যে রয়েছেন ফলিত রসায়ন ও রসায়ন প্রকৌশল বিভাগের অধ্যাপক মো. ইব্রাহিম হোসাইন মন্ডল, ফলিত গণিত বিভাগের অধ্যাপক ড. মোঃ আলী আকবর, ম্যাটেরিয়াল সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক মির্জা হুমায়ুন কবির রুবেল, গণিত বিভাগের অধ্যাপক আব্দুল কুদ্দুস, পপুলেশন সায়েন্স অ্যান্ড হিউম্যান রিসোর্স ডেভেলপমেন্ট বিভাগের অধ্যাপক মশিউর রহমান, কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রভাষক ড. আবু সালেহ মুছা মিয়া, এবং ইলেক্ট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং (ইইই) বিভাগের অধ্যাপক জাকের হোসাইন।
সাবেক উপাচার্য ও পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক সালেহ্ হাসান নকীব, ফার্মেসি বিভাগের অধ্যাপক মো. আব্দুল আলিম আল-বারি, ফিসারিজ বিভাগের অধ্যাপক মো. ইয়ামিন হোসাইন, ফার্মেসি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মহিতোষ বিশ্বাস, মো. আতিকুর রহমান, রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক হাসান আহমাদ, পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের ইমেরিটাস প্রফেসর এ কে এম আজহারুল ইসলাম, মোহাম্মদ আনোয়ার হোসাইন, এবং ইলেক্ট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং (ইইই) বিভাগের অধ্যাপক আতোয়ার রহমানও তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. ফরিদুল ইসলাম মন্তব্য করেন, "এটা খুবই পজেটিভ দিক আমাদের জন্য। শুধু পজেটিভই না এটা একটা সৌভাগ্যের ব্যাপার, যে এত গুণীজন ব্যক্তি, এত স্কলার ব্যক্তি এই বিশ্ববিদ্যালয়ে আছে।" তিনি আরও জানান, "আমরা চেষ্টা করব সামনে রিসার্চের ক্ষেত্রে এইসব ব্যক্তিগুলোকে আরও বেশি বেশি উদ্ভাবনী কাজে সহায়তা করা আর্থিকভাবে।"
তিনি যোগ করেন, "পাশাপাশি তাদেরকে দেখে যেন আমাদের তরুণ বিজ্ঞানীরা অনুপ্রাণিত হয় সেই ব্যবস্থাও আমরা করব। এই বিজ্ঞানীগুলো আসলে প্রচারবিমুখ। একটা বিশ্ববিদ্যালয়ে ১৬ জন এই র্যাংকের বিজ্ঞানী থাকা সত্যি সৌভাগ্যের আমাদের জন্য। তাদের জন্য শুভকামনা রইল।"
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
দেশের ১৭ জন বিচারক ও ৬ জন আইনজীবী জাপানে প্রশিক্ষণ নিতে যাচ্ছেন, যা বিচারপ্রাপ্যতা নিশ্চিতকরণ এবং আইনি সেবা সম্প্রসারণ সংক্রান্ত একটি কর্মসূচির অংশ। আগামী ১ নভেম্বর থেকে ১৪ নভেম্বর পর্যন্ত জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থার (জাইকা) অর্থায়নে এই উচ্চতর প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হবে।
এ তথ্য বুধবার (৭ অক্টোবর) আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগের পরিকল্পনা শাখা থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে নিশ্চিত করা হয়েছে।
প্রজ্ঞাপনের তথ্য অনুযায়ী, প্রতিনিধি দলের মধ্যে বিচারক, মন্ত্রণালয়ের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন, লিগ্যাল এইড কর্মকর্তা এবং জেলা বার অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিনিধিরা আইনজীবী হিসেবে রয়েছেন।
জাপানগামী দলের সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন— নরসিংদীর জেলা ও দায়রা জজ শেখ হুমায়ুন কবীর, কুমিল্লার জেলা ও দায়রা জজ মো. হেমায়েত উদ্দিন, বাংলাদেশ আইনগত সহায়তা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. মঞ্জুরুল হোসেন, আইন ও বিচার বিভাগের যুগ্ম সচিব মো. মাসুম বিল্লাহ, হাইকোর্ট বিভাগের অতিরিক্ত রেজিস্টার এএইচএম তোয়াহা, হাইকোর্ট বিভাগের স্পেশাল অফিসার মো. মাজহারুল হক, আইন ও বিচার বিভাগের সিনিয়র সহকারী সচিব মো. সাইফুদ্দীন হোসাইন, মো. মঈনউদ্দিন কাদির এবং মুহাম্মদ আশেকুর রহমান।
এছাড়াও তালিকায় রয়েছেন বিচার প্রশাসন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের সহকারী পরিচালক মো. ফরিদুজ্জামান, বাংলাদেশ আইনগত সহায়তা অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. আশরাফুজ্জামান, কুমিল্লার চিফ লিগ্যাল এইড অফিসার মনিকা খান, বরিশালের যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ মনিরুজ্জামান, নরসিংদীর যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ মো. তৌহিদ আল আজাদ, ঝিনাইদহের সিনিয়র দেওয়ানি জজ অনুশ্রী রায়, বগুড়ার দেওয়ানি জজ মো. রকিবুল হাসান এবং বরিশালের দেওয়ানি জজ মো. জাহিদুল ইসলাম।
আইনজীবীদের মধ্যে রয়েছেন— নরসিংদী জেলা বার অ্যাসোসিয়েশনের আইনজীবী মোহাম্মদ আলী, মোহাম্মদ কাইয়ুম ও আফরোজা বেগম এবং কুমিল্লা জেলা বার অ্যাসোসিয়েশনের আইনজীবী আয়েশা বেগম, সরকার গিয়াস উদ্দিন মাহমুদ ও শাহিদা আনোয়ার।
প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে, প্রশিক্ষণ ও ভ্রমণের সময়কালকে অংশগ্রহণকারীদের কর্মকালীন (অন ডিউটি) হিসেবে গণ্য করা হবে। সফরের সব ব্যয়ভার জাইকা বহন করবে, ফলে বাংলাদেশ সরকারের স্থানীয় বা বৈদেশিক মুদ্রার কোনো খরচ হবে না। প্রতিনিধি দলটি ১ নভেম্বর বা তার নিকটবর্তী সুবিধাজনক সময়ে জাপানের উদ্দেশ্যে দেশ ত্যাগ করবে এবং প্রশিক্ষণ শেষে ১৪ নভেম্বর দেশে ফিরবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
বিশ্বকাপের পর প্রথম আন্তর্জাতিক উইন্ডোতে তিনটি ম্যাচের মধ্যে দুটিতে বড় জয় পেলেও ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে কোনো সুফল পায়নি পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল। অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে প্রথম ম্যাচে ১-১ গোলে ড্র করার খেসারত হিসেবে তারা এক ধাপ পিছিয়ে ষষ্ঠ স্থানে নেমে গেছে। অপরদিকে, চারটি ম্যাচে চারটি জয় নিয়ে দুই ধাপ এগিয়ে পঞ্চম স্থানে উঠে এসেছে পর্তুগাল।
বুধবার (৭ অক্টোবর) ফিফা পুরুষ ফুটবলের সর্বশেষ র্যাঙ্কিং প্রকাশিত হয়। নতুন তালিকায় শীর্ষ চারটি স্থানে কোনো পরিবর্তন হয়নি। বিশ্বচ্যাম্পিয়ন স্পেন শীর্ষে অবস্থান করছে। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে আর্জেন্টিনা, তৃতীয় স্থানে ফ্রান্স এবং চতুর্থ স্থানে ইংল্যান্ড।
তবে পঞ্চম এবং ষষ্ঠ স্থানে পরিবর্তন এসেছে। আগের পঞ্চম অবস্থান থেকে এক ধাপ পিছিয়ে ষষ্ঠ স্থানে নেমেছে ব্রাজিল। অন্যদিকে, দুই ধাপ এগিয়ে পঞ্চম স্থানে জায়গা করে নিয়েছে পর্তুগাল।
বিশ্বকাপের শেষ ষোলো থেকে বিদায়ের পর ব্রাজিলের দায়িত্ব গ্রহণ করেন অভিজ্ঞ কোচ কার্লো আনচেলত্তি। তার অধীনে প্রথম আন্তর্জাতিক উইন্ডোতে তিনটি প্রীতি ম্যাচ খেলে দলটি। প্রথম ম্যাচে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে ১-১ গোলে ড্র করার পর একই প্রতিপক্ষকে ৪-২ এবং ভারতকে ৪-০ গোলে পরাজিত করে ব্রাজিল।
তবে প্রথম ম্যাচের ড্রয়ের ক্ষতি পরবর্তী দুই ম্যাচের জয় দিয়ে পুরোপুরি পুষিয়ে নিতে পারেনি আনচেলত্তির দল। ফিফার হিসাব অনুযায়ী, অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ওই ড্রয়ের কারণে ব্রাজিল ২.০২ র্যাঙ্কিং পয়েন্ট হারিয়েছে।
নতুন তালিকায় ব্রাজিলের পয়েন্ট দাঁড়িয়েছে ১৮০৬.৫১। ফলে তারা এক ধাপ পিছিয়ে ষষ্ঠ স্থানে অবস্থান করছে।
ব্রাজিলের পতনের সুযোগ নিয়ে পঞ্চম স্থানে উঠে এসেছে পর্তুগাল। এবারের আন্তর্জাতিক উইন্ডোতে তারা দুর্দান্ত ছন্দে ছিল। উয়েফা নেশন্স লিগে চারটি ম্যাচ খেলে প্রতিটি ম্যাচেই জয় পেয়েছে পর্তুগিজরা। ওয়েলসকে ১-০, নরওয়েকে দুই ম্যাচে ২-১ ও ২-১ এবং ডেনমার্ককে ৪-২ গোলে পরাজিত করেছে তারা।
এই ধারাবাহিক সাফল্যের জন্য পর্তুগাল র্যাঙ্কিংয়ে উন্নতি করেছে। তারা দুই ধাপ এগিয়ে ১৮০৭.৬৯ পয়েন্টে পৌঁছেছে। ব্রাজিলের চেয়ে তারা মাত্র ১.১৮ পয়েন্ট এগিয়ে রয়েছে।
ব্রাজিলের পেছনে সপ্তম স্থানে রয়েছে মরক্কো। মালির বিরুদ্ধে ১-১ গোলে ড্র করার কারণে আফ্রিকার দলটি এক ধাপ পিছিয়েছে। যদিও আন্তর্জাতিক উইন্ডোতে গ্যাবন ও লেসেথোকে ২-০ গোলে হারিয়েছে তারা। মরক্কোর সংগ্রহ ১৮০৫.৩৪ পয়েন্ট, যা ব্রাজিলের চেয়ে মাত্র ১.১৭ পয়েন্ট কম।
এদিকে, পর্তুগালের চার ম্যাচের চার জয় নিয়ে আলোচনা চলছে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোরও। কোচের সঙ্গে মতবিরোধের কারণে তার দলের ক্যাম্প ছাড়ার খবর সামনে এলেও মাঠের পারফরম্যান্সে তার কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়েনি। বরং, পর্তুগাল আন্তর্জাতিক উইন্ডোটি দারুণ সাফল্যের সঙ্গে শেষ করেছে।
র্যাঙ্কিংয়ের অষ্টম থেকে একাদশ অবস্থানে কোনো পরিবর্তন আসেনি। বেলজিয়াম, নেদারল্যান্ডস, মেক্সিকো ও কলম্বিয়া যথাক্রমে এই চারটি স্থানে রয়েছে।
তবে ১২তম স্থানে উঠে এসেছে সুইজারল্যান্ড। তারা দুই ধাপ উন্নতি করেছে। অপরদিকে, এক ধাপ পিছিয়েছে জার্মানি ও ক্রোয়েশিয়া। জার্মানি ১৩তম এবং ক্রোয়েশিয়া ১৪তম স্থানে রয়েছে।
সব মিলিয়ে, অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে প্রথম ম্যাচের ড্রয়ের ক্ষতিটাই বড় হয়ে দেখা দিয়েছে ব্রাজিলের জন্য। পরবর্তী দুই ম্যাচে বড় জয় পেলেও সেই ধাক্কা সামলে পঞ্চম স্থান ধরে রাখতে পারেনি আনচেলত্তির দল। বিপরীতে, টানা চার জয়ের সুবাদে ব্রাজিলকে টপকে পঞ্চম স্থানে উঠে এসেছে পর্তুগাল।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রুয়েট) ১৫ জন শিক্ষক ও গবেষক বিশ্বের শীর্ষ ২ শতাংশ বিজ্ঞানীর তালিকায় স্থান পেয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় ও নেদারল্যান্ডস ভিত্তিক প্রকাশনা সংস্থা এলসেভিয়ারের প্রকাশিত ২০২৬ সালের একক বছরের গবেষণার ভিত্তিতে তৈরি তালিকায় তাদের নাম অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। বাংলাদেশের ৮৮টি বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান থেকে মোট ৩৪৭ জন গবেষক এ বছর তালিকায় স্থান পেয়েছেন।
প্রকাশিত তালিকায় রুয়েটের অবস্থান পঞ্চম। এলসেভিয়ারের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, তালিকায় থাকা গবেষকদের মধ্যে কয়েকজন বর্তমানে বিদেশের বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত। গবেষকদের প্রকাশিত গবেষণাপত্র, সাইটেশন, এইচ-ইনডেক্স, গবেষণার ধারাবাহিকতা এবং সহ-লেখকদের প্রভাবের মতো সূচকগুলো বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।
তালিকাভুক্ত রুয়েটের ১৫ জন গবেষক হলেন—মহিউদ্দিন আহমেদ, ফয়সাল রহমান বাদল, সজল কুমার দাস, মো. আহসান হাবিব, মো. আল মেহেদী হাসান, মো. রবিউল হাসান, মোহাম্মদ উজ্জল হোসেন জোয়ার্দ্দার, আবদুল্লাহ আল কাফি, আবদুল খালেক, মো. গোলাম কিবরিয়া, মো. আসলাম মোল্লা, মনজুর মোরশেদ, মো. নাহিদুজ্জামান, মো. মাসুদ রানা ও তুষার কান্তি রায়।
মহিউদ্দিন আহমেদ অস্ট্রেলিয়ার এডিথ কোয়ান বিশ্ববিদ্যালয়ে, মো. নাহিদুজ্জামান অস্ট্রেলিয়ার আরএমআইটি বিশ্ববিদ্যালয়ে, আবদুল্লাহ আল কাফি যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব টেক্সাস অ্যাট অস্টিন, মো. মাসুদ রানা ইউনিভার্সিটি অব ফ্রন্টিয়ার টেকনোলজি এবং তুষার কান্তি রায় অস্ট্রেলিয়ার ম্যাককুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত। অন্যদিকে, বাকিদের অনেকেই রুয়েটে অবস্থান করছেন।
গবেষণার ক্ষেত্রের দিক থেকে রুয়েটের এসব গবেষকদের কাজ বেশ বৈচিত্র্যময়। তারা নবায়নযোগ্য শক্তি, জ্বালানি ব্যবস্থাপনা, রোবোটিকস, নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা, যোগাযোগপ্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, তথ্য বিশ্লেষণ, ন্যানোপ্রযুক্তি এবং সামাজিক বিজ্ঞানের পরিসংখ্যান ভিত্তিক বিষয়ে কাজ করছেন।
মেকাট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ড. সজল কুমার দাস রোবোটিকস, অরৈখিক নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা এবং মেকাট্রনিকসের বিভিন্ন প্রয়োগ নিয়ে কাজ করছেন। এসব ক্ষেত্রে যন্ত্র ও স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থার কার্যকারিতা বাড়ানো এবং নিয়ন্ত্রণপ্রযুক্তির উন্নয়নের সুযোগ রয়েছে। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি ব্যবস্থা কেন্দ্রিক গবেষণায় রয়েছেন তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. মাসুদ রানা।
গবেষণার ক্ষেত্রে সংকেত প্রক্রিয়াকরণ, স্মার্ট গ্রিড ও নবায়নযোগ্য শক্তির নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা নিয়েও কাজ করছেন ড. মো. মাসুদ রানা। যোগাযোগ প্রযুক্তি ও ইলেকট্রনিক্সের ক্ষেত্রেও রুয়েটের গবেষকদের কাজ রয়েছে। ড. মো. নাহিদুজ্জামানের গবেষণার বিষয় বেতার যোগাযোগ, ইন্টারনেট অব থিংস (আইওটি) ও সংকেত প্রক্রিয়াকরণ। ড. মো. রবিউল হাসান অপটিক্যাল ফাইবার যোগাযোগ ও ফটোনিকস নিয়ে কাজ করেন। তুষার কান্তি রায়ের গবেষণার ক্ষেত্র বেতার নেটওয়ার্ক এবং পঞ্চম ও ষষ্ঠ প্রজন্মের (৫জি ও ৬জি) যোগাযোগ ব্যবস্থা।
কম্পিউটার বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তির ক্ষেত্রে ড. আবদুল্লাহ আল কাফির গবেষণার বিষয় কম্পিউটার বিজ্ঞান, তথ্য বিশ্লেষণ এবং যন্ত্রশিক্ষার প্রয়োগ। অন্যদিকে, ড. মো. আল মেহেদী হাসানের গবেষণার ক্ষেত্র পদার্থবিজ্ঞান ও ন্যানো প্রযুক্তি সংশ্লিষ্ট বিষয়। মানবিক ও সামাজিক বিজ্ঞানেও গবেষণা করছেন রুয়েটের শিক্ষকরা। ড. মো. আহসান হাবিবের গবেষণার ক্ষেত্র ফলিত অর্থনীতি এবং সামাজিক বিজ্ঞানের পরিসংখ্যানভিত্তিক গবেষণা।
স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় ও এলসেভিয়ারের তালিকা অনুযায়ী, ২০২৬ সালের একক বছরের গবেষণার ভিত্তিতে বাংলাদেশ থেকে ৩৪৭ জন গবেষক স্থান পেয়েছেন। ২০২৫ সালে এ সংখ্যা ছিল ২৮৬। এক বছরের ব্যবধানে তালিকায় বাংলাদেশের গবেষকের সংখ্যা বেড়েছে ৬১ জন বা ২১ দশমিক ৩ শতাংশ। গবেষকের সংখ্যার হিসাবে বিশ্বে বাংলাদেশের অবস্থান ৪৫তম, যা আগের বছরের তুলনায় এক ধাপ এগিয়েছে।
একই সময়ে তালিকায় বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যাও বেড়েছে। ২০২৫ সালে ৭৪টি প্রতিষ্ঠান থেকে গবেষকেরা তালিকায় স্থান পেয়েছিলেন। ২০২৬ সালে এ সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮৮টিতে, অর্থাৎ এক বছরে বৃদ্ধি ১৪টি (১৮ দশমিক ৯ শতাংশ)।
প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানভিত্তিক তালিকায় প্রথম অবস্থানে রয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়; প্রতিষ্ঠানটির ২২ জন শিক্ষক ও গবেষক তালিকায় স্থান পেয়েছেন। দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র, বাংলাদেশে (আইসিডিডিআর,বি) রয়েছেন ২০ জন গবেষক। তৃতীয় অবস্থানে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় এবং চতুর্থ অবস্থানে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়—উভয় প্রতিষ্ঠানের ১৬ জন করে গবেষক তালিকায় রয়েছেন। পঞ্চম অবস্থানে যৌথভাবে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) এবং রুয়েটের ১৫ জন করে গবেষক স্থান পেয়েছেন।
এছাড়াও ষষ্ঠ অবস্থানে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ১১ জন গবেষক রয়েছেন। শীর্ষ ১০ প্রতিষ্ঠানের তালিকায় ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়, গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় এবং জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে। ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয় ও গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০ জন করে এবং জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়েরও ১০ জন গবেষক তালিকায় স্থান পেয়েছেন।
বিশ্বসেরা গবেষকদের এ তালিকায় রুয়েটের বিজ্ঞানীদের অন্তর্ভুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়টির গবেষণা কার্যক্রমের আন্তর্জাতিক পরিচিতি তুলে ধরছে। জ্বালানি, প্রকৌশল, যোগাযোগপ্রযুক্তি, কম্পিউটারবিজ্ঞান ও সামাজিক বিজ্ঞানের মতো বিভিন্ন ক্ষেত্রে তাদের গবেষণা দেশের উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার পরিসরকে আরও বিস্তৃত করার সম্ভাবনা তৈরি করছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
বিশ্বের শীর্ষ ২ শতাংশ বিজ্ঞানীর তালিকায় স্থান করে নিয়েছেন যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) ১১ জন শিক্ষক। চলতি বছরের তালিকায় দেশের বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে গবেষকের সংখ্যা অনুযায়ী ষষ্ঠ অবস্থানে রয়েছে যবিপ্রবি।
যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় এবং নেদারল্যান্ডসভিত্তিক গবেষণা ও প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান এলসেভিয়ারের যৌথ উদ্যোগে স্কোপাস-ভিত্তিক তথ্যের ভিত্তিতে এই তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে। গবেষকদের প্রকাশিত গবেষণাপত্র, সাইটেশন, এইচ-ইনডেক্স, সহ-লেখকদের প্রভাবসহ বিভিন্ন সূচকের মাধ্যমে ২০টি বৈজ্ঞানিক ক্ষেত্র ও ১৭৪টি উপক্ষেত্রে তাদের ক্যারিয়ার-লং এবং সাম্প্রতিক এক বছরের গবেষণা-প্রভাব মূল্যায়ন করা হয়েছে।
তালিকায় যবিপ্রবির শিক্ষকদের মধ্যে অ্যানালিটিক্যাল কেমিস্ট্রি ক্যাটাগরিতে কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. জাভেদ হোসাইন খান ১১৩তম অবস্থানে রয়েছেন। এনার্জি ক্যাটাগরিতে পেট্রোলিয়াম অ্যান্ড মাইনিং ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ আমিনুল ইসলাম ৪৩৩তম এবং ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. ইঞ্জিনিয়ার ইমরান খান ৮১১তম অবস্থানে রয়েছেন। অপটোইলেকট্রনিক্স অ্যান্ড ফোটোনিক্স ক্যাটাগরিতে একই বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ বিপ্লব হোসাইন ৩৩৮তম এবং অধ্যাপক ড. ইঞ্জিনিয়ার আমজাদ হোসাইন ২ হাজার ৩২৯তম অবস্থানে রয়েছেন।
এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স ক্যাটাগরিতে জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড বায়োটেকনোলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. মশিয়ার রহমান ২ হাজার ৩৩৬তম এবং পরিবেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিভাগের অধ্যাপক ড. সাইবুর রহমান মোল্লা ৩ হাজার ৭৬তম অবস্থানে রয়েছেন। এছাড়া ন্যানোসায়েন্স অ্যান্ড ন্যানোটেকনোলজি ক্যাটাগরিতে গণিত বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মো. সাইফুল ইসলাম ৬৫৬তম, পলিমার ক্যাটাগরিতে টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক তারিকুল ইসলাম ২ হাজার ৪৯তম, মেডিসিনাল অ্যান্ড বায়োমলিকিউলার কেমিস্ট্রি ক্যাটাগরিতে পার্থ কুমার বিশ্বাস ১ হাজার ৪০৪তম এবং অ্যাপ্লায়েড ফিজিক্স ক্যাটাগরিতে পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক মোহাম্মদ তানভীর আহমেদ ৭ হাজার ৫০৯তম অবস্থানে রয়েছেন।
উল্লেখ্য, গত ৭ অক্টোবর প্রকাশিত ২০২৬ সালের তালিকায় বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ২২ জন শিক্ষক ও গবেষক স্থান পেয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের। এরপর রয়েছে আইসিডিডিআরবি, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট)। এসব প্রতিষ্ঠানের পরবর্তী অবস্থানে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ