বৃহস্পতিবার, ২৩শে জুলাই, ২০২৬ ইং
১০:৪৩ এম
মালয়েশিয়ার জোহর রাজ্যে অভিযান চালিয়ে ১০৮ অভিবাসীকে আটক করেছে দেশটির ইমিগ্রেশন বিভাগ (জেআইএম)। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে ৩২ জন বাংলাদেশি রয়েছেন।
বুধবার (২২ জুলাই) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জোহর ইমিগ্রেশন বিভাগের পরিচালক দাতুক মোহদ রুসদি মোহদ দারুস এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
তিনি বলেন, সোমবার রাত ৮টার দিকে জোহরের তামান শ্রী বাহাগিয়া এলাকার বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানের মূল উদ্দেশ্য ছিল অভিবাসন আইন মেনে বিদেশিদের অবস্থান ও কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা এবং ভিজিট পাস, কর্মসংস্থান পাস ও অন্যান্য অভিবাসন-সংক্রান্ত সুবিধার অপব্যবহার রোধ করা।
অভিযান চলাকালে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে অবস্থানরত ব্যক্তিদের পাসপোর্ট, ভিসা, ওয়ার্ক পারমিটসহ বিভিন্ন নথিপত্র যাচাই করা হয়। এতে ১৮ থেকে ৪৯ বছর বয়সী ১০৮ জন বিদেশিকে বিভিন্ন অভিবাসন অপরাধে আটক করা হয়।
আটকদের মধ্যে ৩২ জন বাংলাদেশি, ২২ জন মিয়ানমারের, ১৬ জন পাকিস্তানের, ১৫ জন নেপালের, ১২ জন ইন্দোনেশিয়ার, চারজন ভারতের, তিনজন মিয়ানমারের নারী, দুজন ইন্দোনেশিয়ার নারী ও দুজন নেপালের নারী রয়েছেন।
জোহর ইমিগ্রেশন বিভাগের পরিচালক জানান, আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ইমিগ্রেশন আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। তাদের পরবর্তী তদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়ার জন্য সেতিয়া ট্রপিকা ইমিগ্রেশন ডিপোতে পাঠানো হয়েছে।
তিনি সাধারণ জনগণকে অভিবাসন আইন লঙ্ঘনকারী বিদেশিদের বিষয়ে তথ্য দিয়ে কর্তৃপক্ষকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হত্যা মামলার আলোচিত আসামি মেজর (অব.) মোজাফফর হোসেনকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) সকালে তাকে ট্রাইব্যুনালে আনা হয়। এই দিন ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন বিচারিক প্যানেলে এ বিষয়ে শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে।
প্রসিকিউশন জানায়, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের সঙ্গে সম্পৃক্ততা থাকার অভিযোগে মোজাফফরের বিরুদ্ধে প্রোডাকশন ওয়ারেন্ট জারি হয়। এই ধারাবাহিকতায় তাকে বৃহস্পতিবার হাজির করার জন্য নির্দেশ দেন ট্রাইব্যুনাল। মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর পাশাপাশি জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আবেদন করবে প্রসিকিউশন।
এর আগে, ২১ জুলাই জিয়াউর রহমান হত্যা মামলার অন্যতম আসামি মোজাফফরের বিরুদ্ধে প্রোডাকশন ওয়ারেন্ট চেয়ে আবেদন করে প্রসিকিউশন।
উল্লেখ্য, প্রায় ৪৫ বছর পলাতক থাকার পর গত ১৫ জুলাই রাতে রাজধানীর বনানীর একটি বাসা থেকে মোজাফফর হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরদিন তাকে ঢাকা সেনানিবাসের মিলিটারি পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
এদিকে, চব্বিশের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে ফেনীতে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি মামলায় লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীর বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য ২১ জুলাই দিন ধার্য ছিল। ওই দিন আরও দুই মাস সময় চেয়েছে প্রসিকিউশন। কিন্তু মোজাফফরের সঙ্গে তার যোগসাজশের অভিযোগ থাকায় নতুন তারিখ দেননি আদালত। এজন্য তাকেও বৃহস্পতিবার ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
চাঁদপুরের শাহরাস্তি উপজেলার ওয়ারুক মুরাদবাড়ি জামে মসজিদের ওয়াক্ফ সম্পত্তি নিয়ে অনিয়ম, দুর্নীতি ও তছরুপের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়ে মুতাওয়াল্লি মো. নুরুন্নবীর বিরুদ্ধে মানববন্ধন করেছেন স্থানীয় মুসল্লি এবং এলাকাবাসী।
এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে বুধবার (২২ জুলাই) বিকেলে শাহরাস্তি উপজেলার ওয়ারুক বাজারে।
এ সময় মসজিদ কমিটির সভাপতি ইসমাইল হোসেন জানিয়েছেন যে, ১৯৫৮ সালে মসজিদের নামে প্রায় ৪ দশমিক ৫০ শতাংশ ওয়াক্ফ সম্পত্তি নিবন্ধিত হয়। এটি দলিলের শর্ত মোতাবেক, ওই সম্পত্তি থেকে প্রাপ্ত আয় মসজিদের পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য ব্যয় হওয়া উচিত বলে তিনি উল্লেখ করেন। এ কথার পাশাপাশি তিনি বলেন যে, আয় বৃদ্ধি পেলে সেই অনুযায়ী একটি অংশ দাতার ওয়ারিশদের এবং বাকি অংশ মসজিদের উন্নয়নে ব্যয় করার বিধান রয়েছে।
কিন্তু দীর্ঘকাল ধরে ওয়াক্ফ সম্পত্তির আয়-ব্যয়ের সঠিক হিসাব দেওয়া হয়নি। এটি মসজিদের জন্য আর্থিক সংকট সৃষ্টি করেছে বলে তিনি জানান। বর্তমানে ইমাম, খতিব, মুয়াজ্জিনের সম্মানী, বিদ্যুৎ বিল ও অন্যান্য ব্যয়সহ প্রতি মাসে প্রায় ২৫ হাজার টাকার প্রয়োজন হচ্ছে। তবে আয় হচ্ছে মাত্র ১৪ হাজার ২০০ টাকা। ফলে, প্রতি মাসে প্রায় ১০ হাজার ৮০০ টাকার ঘাটতি স্পষ্ট হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, বিগত বছরগুলোতে এ বিষয়ে একাধিকবার জেলা প্রশাসন, উপজেলা প্রশাসন এবং থানায় অভিযোগ করা হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে মুতাওয়াল্লি অঙ্গীকার করেছেন, উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড মসজিদ কমিটির সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা করে করা হবে এবং মসজিদের স্থায়ী-অস্থায়ী সম্পত্তির আয়-ব্যয় কমিটির কাছে উপস্থাপন করা হবে। কিন্তু অভিযোগ রয়েছে যে, তিনি কোনো হিসাব না দিয়ে দোকানের ভাড়া তুলে নিয়ে যাচ্ছেন এবং সামান্য পরিমাণ অর্থ মসজিদে দান করেছেন। ফলে মসজিদের কার্যক্রম পরিচালনা করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
এ মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা অভিযোগ করেন, ওয়াক্ফ সম্পত্তির সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা না হওয়ার কারণে মসজিদের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। তারা দাবি করেন, বিষয়টি তদন্ত করে সম্পত্তি রক্ষা, আয়-ব্যয়ের স্বচ্ছতা নিশ্চিত এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।
যখন অভিযুক্ত মুতাওয়াল্লি মো. নুরুন্নবী থেকে এই বিষয়ে জানতে চাওয়া হয়, তিনি জানান, নিয়ম মেনেই ওয়াক্ফ সম্পত্তি পরিচালনা করা হচ্ছে এবং কোনো অনিয়ম হয়নি। তবে, মসজিদের ওয়াকফকৃত জায়গায় ভাড়া দেওয়া দোকানদারদেরকে রসিদ ছাড়া কেন ভাড়া তোলা হয়, তা জানতে চাইলে তিনি কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি। এরপর তিনি জানান, প্রতি মাসে ৪টি দোকান থেকে ১৫ হাজার টাকা ভাড়া তুলে নিজের অ্যাকাউন্টে জমা করেন এবং সেখান থেকে প্রতি মাসে ৫ হাজার টাকা করে মসজিদ কমিটিকে প্রদান করেন।
মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন কমিটির সভাপতি মো. ইসমাইল হোসেন, সম্পাদক মো. হারুন পাটোয়ারি, মোহাম্মদ রফিক মিয়া, সদস্য মোশারফ হোসেন, সহসভাপতি মোহাম্মদ ইউনুস মিয়া, সহসভাপতি মোশাররফ পাটোয়ারী, সদস্য হুমায়ুন কবির মজুমদার, সদস্য বিল্লাল হোসেন, থানার বিএনপির সদস্য রফিকুল ইসলাম, ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মো. মোশারফ হোসেন, ওয়ার্ড জামায়াতের সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদকসহ আরও অনেক নেতা এবং এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
২০২৭ সালের হজের প্রাথমিক নিবন্ধন আগামী ২৭ জুলাই থেকে শুরু হতে যাচ্ছে। সরকারি এবং বেসরকারি—উভয় ব্যবস্থাপনায় হজে যেতে আগ্রহী ব্যক্তিরা আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রাথমিক নিবন্ধন করতে পারবেন। এই নিবন্ধনের জন্য প্রাথমিক নিবন্ধন ফি নির্ধারণ করা হয়েছে ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা। আগামী বছরেও ১৫ বছরের কম বয়সী ব্যক্তিরা হজে যেতে পারবেন না।
বুধবার (২২ জুলাই) ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে প্রকাশিত প্রাথমিক নিবন্ধন বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে উল্লিখিত হয়েছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রাথমিক নিবন্ধন সম্পন্ন করা প্রয়োজন। যাদের আগে থেকেই প্রাক-নিবন্ধন রয়েছে, তারা চাইলে ঘোষিত হজ প্যাকেজের পূর্ণ অর্থ পরিশোধ করে একসাথে চূড়ান্ত নিবন্ধনও করতে সক্ষম হবেন। অন্যথায়, আগামী ১০ ডিসেম্বরের মধ্যে প্যাকেজের বাকি অর্থ পরিশোধ করে চূড়ান্ত নিবন্ধন সম্পন্ন করতে হবে।
সরকারি ব্যবস্থাপনায় নিবন্ধন করার সময় নিজে ই-হজ ব্যবস্থা ব্যবহার করা যাবে অথবা ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টার, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের বিভাগীয় ও জেলা কার্যালয়, মডেল মসজিদ, বায়তুল মোকাররম কার্যালয় এবং আশকোনার হজ কার্যালয় থেকে নিবন্ধন করা যাবে। এছাড়াও অনুমোদিত যেকোনো হজ এজেন্সির মাধ্যমে নিবন্ধনের সুযোগ থাকবে।
এ বছর সরকারি ব্যবস্থাপনায় দুটি হজ প্যাকেজ ঘোষণা করা হয়েছে, যেগুলো হলো হজ প্যাকেজ-১ এবং সাশ্রয়ী হজ প্যাকেজ-২। বেসরকারি ব্যবস্থানাতেও একটি সাধারণ হজ প্যাকেজের পাশাপাশি এজেন্সিগুলো অতিরিক্ত তিনটি প্যাকেজ দিতে পারে, যা হজ পোর্টালে দেখা যাবে।
প্রাথমিক নিবন্ধনের জন্য বৈধ প্রাক-নিবন্ধন সনদ এবং আগামী বছরের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত মেয়াদ আছে এমন পাসপোর্ট থাকা বাধ্যতামূলক। নিবন্ধনের সময় হজযাত্রীকে প্রশিক্ষণ এবং টিকা গ্রহণের জেলা, হজের ধরন এবং প্যাকেজ নির্বাচন করতে হবে।
সরকারি ব্যবস্থাপনায় নিবন্ধনের জন্য সোনালী ব্যাংকের যেকোনো শাখায় নির্ধারিত হিসাবে ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা জমা দেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে। অন্যদিকে, বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় একই পরিমাণ অর্থ সংশ্লিষ্ট হজ এজেন্সির নির্ধারিত ব্যাংক হিসাবে জমা দিয়ে নিবন্ধন সম্পন্ন করতে হবে।
ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, মানসিক এবং শারীরিকভাবে সুস্থ এবং ১৫ বছর বা তার বেশি বয়সী ব্যক্তিরাই হজে যেতে পারবেন। হৃদযন্ত্র, ফুসফুস, লিভার অথবা কিডনির গুরুতর সমস্যা, স্নায়বিক বা মানসিক রোগ, স্মৃতিভ্রংশ, সক্রিয় ক্যানসারের চিকিৎসাধীন রোগী, যক্ষ্মা এবং রক্তক্ষরণজনিত জ্বরের মতো সংক্রামক রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিরা হজে যেতে পারবেন না।
এছাড়া, গর্ভাবস্থার শেষ দুই মাসে থাকা নারীদের এবং ঝুঁকিপূর্ণ গর্ভাবস্থার নারীদের হজের জন্য উপযুক্ত বলে সনদ দেওয়া হবে না।
নিবন্ধনের পরে সরকারি হাসপাতাল অথবা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের নির্ধারিত বেসরকারি রোগ নির্ণয় কেন্দ্রে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করাতে হবে। পাশাপাশি নির্ধারিত কেন্দ্রে টিকা গ্রহণ এবং সিভিল সার্জন অথবা নির্ধারিত চিকিৎসকের কাছ থেকে শারীরিক সক্ষমতার সনদ সংগ্রহ করতে হবে।
এদিকে, প্রাথমিক নিবন্ধনের আগে ৩০ হাজার টাকা জমা দিয়ে প্রাক-নিবন্ধন সম্পন্ন করা বাধ্যতামূলক। হজ-সংক্রান্ত যেকোনো তথ্য জানতে ১৬১৩৬ নম্বরে কল করে যোগাযোগ করা যাবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
ভালো জীবনের আশায় ইতালি পাড়ি দেওয়ার স্বপ্ন দেখেছিলেন কুমিল্লার মনোহরগঞ্জ উপজেলার ছয় তরুণ। অথচ সেই স্বপ্ন বর্তমানে পরিণত হয়ে গেছে দুঃস্বপ্নে। অবৈধ পথে লিবিয়ায় যাওয়ার পর প্রায় আট মাস ধরে তাঁরা মানব পাচারকারী চক্রের কাছে জিম্মি হয়ে রয়েছেন। মুক্তিপণের টাকা আদায়ে তাঁদের ওপর নির্মম নির্যাতন চালানো হচ্ছে। এই নির্যাতনের ভিডিও ও ছবি ইমো, হোয়াটসঅ্যাপ এবং ভিডিও কলের মাধ্যমে পরিবারের সদস্যদের কাছে পাঠিয়ে জনপ্রতি ২৭ লাখ টাকা দাবি করছে চক্রটি।
জিম্মি হওয়া তরুণদের মধ্যে রয়েছেন- খিলা ইউনিয়নের দিশাবন্দ গ্রামের আনোয়ার হোসেনের ছেলে শাহাদাত হোসেন (২০), মাহবুবুর রহমানের ছেলে মানিকুল ইসলাম (২০), হারুনুর রশিদের ছেলে মো. সোহেল (২৭), ছবু মিয়ার ছেলে তাজ মোহাম্মদ (২৫), সিদ্দিকুর রহমানের ছেলে ফয়সাল (২০) এবং লক্ষ্মণপুর ইউনিয়নের বেতিয়াপাড়া গ্রামের শাহ আলমের ছেলে মেহেদী হাসান (২১)।
শাহাদাত হোসেন খিলা ইউনিয়ন পরিষদের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য হারুনুর রশিদের ভাগনে। অপরদিকে মেহেদী হাসান তার শ্যালক। হারুনুর রশিদ জানান, প্রতিদিনই জিম্মি হওয়া ছয় তরুণের ওপর নিয়মিত শারীরিক নির্যাতন চালানো হচ্ছে। সেই ভয়াবহ দৃশ্য ভিডিও করে তাদের স্বজনদের কাছে পাঠানো হচ্ছে। একইসঙ্গে জানানো হয়েছে, প্রত্যেকের জন্য ২৭ লাখ টাকা দিলে তাঁদের দেশে ফেরত পাঠানো যাবে। অন্যথায় তাদেরকে হত্যা করে মরদেহ সমুদ্রে ফেলে দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, সপ্তাহখানেক আগে ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে লিখিত অভিযোগ প্রদান করেছেন। তবে এখন পর্যন্ত তাঁদের কাছে কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপের খবর আসেনি।
পরিবারগুলোর মতে, কেউ আট মাস আগে, আবার কেউ ৯ মাস আগে স্থানীয় দালালের মাধ্যমে ইতালি যাওয়ার উদ্দেশ্যে দেশ ছেড়েছিলেন। চুক্তি অনুযায়ী লিবিয়া থেকে সমুদ্রপথে তাঁদের ইতালিতে পাঠানোর কথা ছিল। এজন্য প্রত্যেকের কাছ থেকে ১৮ থেকে ২০ লাখ টাকা নেওয়া হয়। কিন্তু তারা প্রায় ২০ দিন আগে মাফিয়া চক্রের হাতে তুলে দেওয়া হয়। পরিবারের সদস্যরা ধারণা করছেন, দালালদের যোগসাজশেই এই ঘটনা ঘটেছে।
স্বজনদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন লিবিয়ার বিভিন্ন স্থানে আটকে রাখার পর সম্প্রতি ছয় তরুণকে আরেকটি মানব পাচারকারী চক্রের কাছে তুলে দেওয়া হয়। এরপর থেকেই তাদের ওপর শুরু হয় অমানবিক নির্যাতন। মুক্তিপণের টাকা আদায়ের উদ্দেশ্যে প্রতিদিন তাঁদের নির্যাতনের ভিডিও এবং ছবি পরিবারের কাছে পাঠানো হচ্ছে। কখনো ভিডিও কল চালু রেখে স্বজনদের সামনে তাঁদের ওপর নির্যাতনের ঘটনা দেখানো হচ্ছে।
হারুনুর রশিদ বলেন, ছয় পরিবারের কেউ নতুন করে এত বিপুল পরিমাণ অর্থ জোগাড় করার সামর্থ্য রাখে না। আগেই ঋণ, ধারদেনা ও জমিজমা বিক্রি করে দালালদের টাকা দেওয়া হয়েছিল। এখন তারা চরম অসহায় অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন।
মানিকুল ইসলামের বাবা মাহবুবুর রহমান অভিযোগ করে জানান, গ্রামের বেলাল হোসেনের ছেলে মানিক ইতালিতে পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে তার ভাই সামছুল আলমের মাধ্যমে প্রায় ৯ মাস আগে ২০ লাখ টাকা নেন। একই গ্রামের মানুষ হওয়ায় তারা বিশ্বাস করেছিলেন। কিন্তু এরপর তাকে লিবিয়ায় নিয়ে মাফিয়াদের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। প্রতিদিন ছেলের নির্যাতনের ভিডিও দেখে পরিবারের সদস্যরা ভেঙে পড়ছেন।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত মানিক বর্তমানে লিবিয়ায় অবস্থান করছেন। দেশে তার হয়ে বিদেশে লোক পাঠানোর কার্যক্রম পরিচালনা করেন তার ভাই সামছুল আলম।
এদিকে নির্যাতনের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ও এলাকায় ছড়িয়ে পড়ার পর সামছুল আলমসহ অভিযুক্তদের পরিবারের সদস্যরা এলাকা ছেড়ে আত্মগোপনে চলে গেছেন। তাদের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনও বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে।
মেহেদী হাসানের বাবা শাহ আলম জানান, ১৮ লাখ টাকা খরচ করে ছেলেকে ইতালি পাঠানোর ব্যবস্থা করেছিলেন। সব লেনদেন ছিল সামছুল আলমের মাধ্যমে। এখন মুক্তিপণের দাবিতে তার ছেলেকে উলঙ্গ করে নির্যাতন করা হচ্ছে। পরিবারের সুখের আশায় বিদেশে পাঠানো ছেলেকে এভাবে নির্যাতিত হতে হবে, তা কখনো তিনি ভাবেননি।
মনোহরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাকসুদ আহমেদ জানান, বিষয়টি তিনি বিভিন্ন মাধ্যম থেকে জেনেছেন। তবে এখন পর্যন্ত থানায় কেউ লিখিত অভিযোগ করেননি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ