প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
চাঁদপুরের শাহরাস্তি উপজেলার ওয়ারুক মুরাদবাড়ি জামে মসজিদের ওয়াক্ফ সম্পত্তি নিয়ে অনিয়ম, দুর্নীতি ও তছরুপের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়ে মুতাওয়াল্লি মো. নুরুন্নবীর বিরুদ্ধে মানববন্ধন করেছেন স্থানীয় মুসল্লি এবং এলাকাবাসী।
এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে বুধবার (২২ জুলাই) বিকেলে শাহরাস্তি উপজেলার ওয়ারুক বাজারে।
এ সময় মসজিদ কমিটির সভাপতি ইসমাইল হোসেন জানিয়েছেন যে, ১৯৫৮ সালে মসজিদের নামে প্রায় ৪ দশমিক ৫০ শতাংশ ওয়াক্ফ সম্পত্তি নিবন্ধিত হয়। এটি দলিলের শর্ত মোতাবেক, ওই সম্পত্তি থেকে প্রাপ্ত আয় মসজিদের পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য ব্যয় হওয়া উচিত বলে তিনি উল্লেখ করেন। এ কথার পাশাপাশি তিনি বলেন যে, আয় বৃদ্ধি পেলে সেই অনুযায়ী একটি অংশ দাতার ওয়ারিশদের এবং বাকি অংশ মসজিদের উন্নয়নে ব্যয় করার বিধান রয়েছে।
কিন্তু দীর্ঘকাল ধরে ওয়াক্ফ সম্পত্তির আয়-ব্যয়ের সঠিক হিসাব দেওয়া হয়নি। এটি মসজিদের জন্য আর্থিক সংকট সৃষ্টি করেছে বলে তিনি জানান। বর্তমানে ইমাম, খতিব, মুয়াজ্জিনের সম্মানী, বিদ্যুৎ বিল ও অন্যান্য ব্যয়সহ প্রতি মাসে প্রায় ২৫ হাজার টাকার প্রয়োজন হচ্ছে। তবে আয় হচ্ছে মাত্র ১৪ হাজার ২০০ টাকা। ফলে, প্রতি মাসে প্রায় ১০ হাজার ৮০০ টাকার ঘাটতি স্পষ্ট হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, বিগত বছরগুলোতে এ বিষয়ে একাধিকবার জেলা প্রশাসন, উপজেলা প্রশাসন এবং থানায় অভিযোগ করা হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে মুতাওয়াল্লি অঙ্গীকার করেছেন, উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড মসজিদ কমিটির সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা করে করা হবে এবং মসজিদের স্থায়ী-অস্থায়ী সম্পত্তির আয়-ব্যয় কমিটির কাছে উপস্থাপন করা হবে। কিন্তু অভিযোগ রয়েছে যে, তিনি কোনো হিসাব না দিয়ে দোকানের ভাড়া তুলে নিয়ে যাচ্ছেন এবং সামান্য পরিমাণ অর্থ মসজিদে দান করেছেন। ফলে মসজিদের কার্যক্রম পরিচালনা করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
এ মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা অভিযোগ করেন, ওয়াক্ফ সম্পত্তির সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা না হওয়ার কারণে মসজিদের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। তারা দাবি করেন, বিষয়টি তদন্ত করে সম্পত্তি রক্ষা, আয়-ব্যয়ের স্বচ্ছতা নিশ্চিত এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।
যখন অভিযুক্ত মুতাওয়াল্লি মো. নুরুন্নবী থেকে এই বিষয়ে জানতে চাওয়া হয়, তিনি জানান, নিয়ম মেনেই ওয়াক্ফ সম্পত্তি পরিচালনা করা হচ্ছে এবং কোনো অনিয়ম হয়নি। তবে, মসজিদের ওয়াকফকৃত জায়গায় ভাড়া দেওয়া দোকানদারদেরকে রসিদ ছাড়া কেন ভাড়া তোলা হয়, তা জানতে চাইলে তিনি কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি। এরপর তিনি জানান, প্রতি মাসে ৪টি দোকান থেকে ১৫ হাজার টাকা ভাড়া তুলে নিজের অ্যাকাউন্টে জমা করেন এবং সেখান থেকে প্রতি মাসে ৫ হাজার টাকা করে মসজিদ কমিটিকে প্রদান করেন।
মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন কমিটির সভাপতি মো. ইসমাইল হোসেন, সম্পাদক মো. হারুন পাটোয়ারি, মোহাম্মদ রফিক মিয়া, সদস্য মোশারফ হোসেন, সহসভাপতি মোহাম্মদ ইউনুস মিয়া, সহসভাপতি মোশাররফ পাটোয়ারী, সদস্য হুমায়ুন কবির মজুমদার, সদস্য বিল্লাল হোসেন, থানার বিএনপির সদস্য রফিকুল ইসলাম, ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মো. মোশারফ হোসেন, ওয়ার্ড জামায়াতের সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদকসহ আরও অনেক নেতা এবং এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন