শনিবার, ২৬শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৭:৫৩ পি.এম
আধুনিকতার প্রভাব পড়ার আগে বরেন্দ্রভূমির মেঠোপথের অবস্থা কেমন ছিল? সন্ধ্যা নামলে চারপাশের নিস্তব্ধতা, বন্যপ্রাণীর ভীতি এবং ডাকাতের উপদ্রব— এমন এক অনিশ্চিত সময়ের মধ্যে ক্লান্ত পথিকদের জন্য আশ্রয় ও খাবারের এক অনন্য মানবিক উদ্যোগ হয়ে দাঁড়িয়েছিল একটি প্রতিষ্ঠান। প্রায় ১২ যুগ বা ১১৮ বছর ধরে নওগাঁর পোরশার ঐতিহাসিক ‘মুসাফিরখানা’ মানবতার ঐতিহ্যকে সযত্নে রক্ষা করে আসছে। সম্পূর্ণ বিনামূল্যে আশ্রয় ও খাবারের এই দৃষ্টান্ত আধুনিক সমাজেও বিরল মানবসেবার বার্তা প্রদান করে।
শতাব্দী আগে উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা বা দ্রুতগতির যানবাহনের অস্তিত্ব ছিল না। মেঠোপথ ধরে হেঁটে অথবা গরুর গাড়িতে চড়ে মানুষ ব্যবসা-বাণিজ্য ও তীর্থযাত্রায় বের হতো। সেই সময় বণিক খাদেম মোহাম্মদ শাহ্ ব্যবসার প্রয়োজনে দূরদূরান্তে ঘুরে বেড়াতেন। কলকাতায় প্রথম মুসাফিরখানা দেখে তিনি নিজের জন্মভূমিতে এমন একটি সেবা প্রতিষ্ঠান গড়ার স্বপ্ন দেখেছিলেন।
১৯০৮ সালে নওগাঁর পোরশার সদর এলাকার মিনা বাজারে নিজের বাসভবনের পাশে মাটির দেওয়াল ও টিনের চালে চার কক্ষের একটি ছোট মুসাফিরখানা গড়ে তোলেন। এই নিঃস্বার্থ সেবা চিরকাল ধরে রাখতে তিনি তার ৮০ বিঘা জমি দান করেন। পরবর্তীতে ১৯৮৮ সালে সেই সম্পত্তির আয় থেকে আধুনিক দ্বিতল ভবন নির্মাণ করা হয়। সময়ের পরিবর্তনে অনেক কিছু বদলে গেলেও এই প্রতিষ্ঠানের অতিথিপরায়ণতার চিত্র অপরিবর্তিত রয়ে গেছে।
পোরশা উপজেলা সদর বা আশপাশে কোনো বাণিজ্যিক আবাসিক হোটেল না থাকায় দূরদূরান্ত থেকে আসা পথচারী ও ব্যবসায়ীদের জন্য এই মুসাফিরখানা একমাত্র আস্থার স্থান। বর্তমানের দ্বিতল ভবনটিতে মোট ১৬টি কক্ষ ও একটি বড় হলরুম রয়েছে, যেখানে একসঙ্গে প্রায় ৬০ জন অতিথির থাকার ব্যবস্থা রয়েছে। এখানে অবস্থান করার ক্ষেত্রে কোনো সামাজিক বা ধর্মীয় ভেদাভেদ নেই। যেকোনো ধর্ম ও বর্ণের যে কেউ সম্পূর্ণ বিনামূল্যে সর্বোচ্চ তিন দিন পর্যন্ত এখানে থাকতে পারেন। অতিথিদের সার্বিক দেখভালের জন্য একজন ম্যানেজার ও দুজন কর্মচারী নিয়োজিত রয়েছেন।
প্রতিষ্ঠার পর থেকে নিয়মিত তিন বেলা খাবারের ব্যবস্থা থাকলেও সময়ের সাথে কিছু পরিবর্তন এসেছে। বর্তমানে প্রতি বুধবার দুপুরে বিনামূল্যে বিশেষ খাবার সরবরাহ করা হয়। এছাড়া প্রতিদিন যারা এখানে রাত যাপন করেন, তাদের খাবার গ্রহণের একটি সুনির্দিষ্ট নিয়ম রয়েছে। মুসাফিরখানায় অবস্থানরতরা দুপুরে খেতে চাইলে সকাল ৯টার মধ্যে এবং রাতে খেতে চাইলে বিকেল ৪টার মধ্যে ম্যানেজারকে জানাতে হয়। তবে অতিথিদের নিজেদের বিছানা নিজেদেরই প্রস্তুত করতে হয় এবং পরিচ্ছন্নতার বিষয়গুলোও তাদের নিজ দায়িত্বে দেখাশোনা করতে হয়।
দীর্ঘ ১৮ বছর ধরে এখানে আগতদের সেবা দিয়ে আসছেন খাদেম মোসলেম উদ্দিন। প্রতিদিন ছায়া খুঁজে পাওয়া ৬-৭ জন পথিকের থাকার পাশাপাশি দুপুর ও রাতের খাবারের নিয়মও বেশ সুনির্দিষ্ট।
তিনি জানান, যারা এখানে থাকেন, তাদের নিজেদের বিছানা প্রস্তুত করতে হয়। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার বিষয়গুলোও তাদেরই দেখভাল করতে হয়। প্রতিদিনই ছয়-সাতজন বিনা খরচে এখানে রাত যাপন করেন। দুপুরে খেতে চাইলে সকাল নয়টা আর রাতে খেতে চাইলে বিকেল চারটার মধ্যে জানাতে হয়।
মুসাফিরখানার প্রতিষ্ঠাতার বংশধর ষাটোর্ধ্ব ফারুকুজ্জামান শাহ বলেন, "খাদেম মোহাম্মদ শাহ্ আমার দাদার আপন বাবা। এই মুসাফিরখানায় যে কেউ থাকতে পারে, যেকোনো ধর্মের, যেকোনো বর্ণের। এখানে তিন দিন থাকা ফ্রি। আগে প্রতিদিন তিন বেলা খাবার দেওয়া হতো, এখন প্রতি বুধবার দুপুরে বিনামূল্যে খাবার খাওয়ানো হয়। এই মুসাফিরখানার সম্পত্তি থেকে যে আয় আসে, সেটা দিয়েই এটি পরিচালিত হয়। অতিথিদের সার্বিক দেখভালের জন্য একজন ম্যানেজার ও দুজন কর্মচারী আছেন।"
স্থানীয় প্রবীণরা জানান, তারা ছোটবেলা থেকেই এই মুসাফিরখানা দেখে আসছেন এবং মুরব্বিদের মুখে এর ইতিহাস শুনেছেন। অতীতে বরেন্দ্রভূমির মেঠোপথে গরুর গাড়িতে যাতায়াতের সময় বিপদের হাত থেকে বাঁচতে মানুষ এখানেই আশ্রয় নিত। দূরদূরান্ত থেকে আসা অতিথিরা জানান, এই প্রত্যন্ত অঞ্চলে ভাড়ায় থাকার মতো কোনো আবাসিক হোটেল না থাকায় বিনা খরচে এমন থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা সত্যিই কল্পনাতীত। এখানকার মানুষের আন্তরিকতা ও সেবার মান অতিথিদের মুগ্ধ করে।
প্রতিষ্ঠাতা খাদেম মোহাম্মদ শাহ্ আজ আর বেঁচে নেই, তবে তার দূরদর্শী চিন্তায় রোপিত মানবতার বীজটি আজও বরেন্দ্রভূমির বুকে ছায়া দিয়ে চলেছে শত শত ক্লান্ত পথিককে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
রাজধানীর মিরপুর ১-এর রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে ঘটে যাওয়া ভাঙচুর ও লুটপাটের বিরুদ্ধে এবং সংশ্লিষ্টদের শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ঢাকা মহানগরের মিরপুর জোনের সদস্যরা।
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) অনুষ্ঠিত এই বিক্ষোভ মিছিলে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য প্রদান করেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের সহকারী সেক্রেটারি মাহফুজুর রহমান।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও মহানগরীর প্রচার-মিডিয়া সম্পাদক আতাউর রহমান সরকার। এছাড়া মহানগরী মজলিসে শূরা সদস্য ডা. মঈন উদ্দিন, আব্দুল্লাহ মুয়াজ ও মনিরুল ইসলাম মৃধা প্রমুখও উপস্থিত ছিলেন।
মাহফুজুর রহমান প্রধান অতিথির বক্তব্যে উল্লেখ করেন যে, সন্ত্রাসীরা রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে রাতের অন্ধকারে লুটপাট করে সন্তুষ্ট হয়নি, বরং তারা ভাঙচুর করে প্রতিষ্ঠানটিকে মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দিয়েছে।
তিনি বলেন, গত এক দশক ধরে অসহায় মানুষের স্বাস্থ্যসেবা প্রদান করে আসা একটি প্রতিষ্ঠানে হামলার ঘটনা অত্যন্ত ন্যক্কারজনক। সভ্য সমাজে রাতের অন্ধকারে একটি মানবিক স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে হামলা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
তিনি প্রশ্ন করেন, সরকারের প্রশাসন কোথায় ছিল? নাকি আমরা মেনে নেব যে, সরকার ও প্রশাসনকে ম্যানেজ করে এই হামলা সংঘটিত হয়েছে?
মাহফুজুর রহমান সরকারের কাছে দাবি জানান যে, সুস্থ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করা হোক এবং জড়িতদের বিচারের মাধ্যমে ন্যায় প্রতিষ্ঠা করা হোক। তিনি সতর্ক করে বলেন, গরিব-দুঃখী মানুষের সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের দিকে নজর দেওয়া উচিত।
তিনি আরও বলেন, ‘১৮ কোটি মানুষের ওপর যারা জুলুম করবে, তাদের হাত ভেঙে দেওয়া হবে।’ মিছিলটি শাহ আলী মাজার গেইট থেকে শুরু হয়ে মিরপুর-১ গোলচত্বরে এসে পথসভার মাধ্যমে শেষ হয়।
উল্লেখ্য, মিরপুর-১-এর রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
আন্তর্জাতিক স্মার্টফোন ব্র্যান্ড রিভারসং (Riversong) বাংলাদেশে আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের কার্যক্রম শুরু করেছে। লিনেক্স ইলেকট্রনিক্স বাংলাদেশ লিমিটেডের সহযোগিতায় রিভারসংয়ের অ্যাস্ট্রো সিরিজের একাধিক স্মার্টফোন পর্যায়ক্রমে দেশের বাজারে উন্মোচিত হবে। এই ধারাবাহিকতায় আজ ‘রিভারসং অ্যাস্ট্রো ৬’ বাজারে এসেছে।
অ্যাস্ট্রো ৬ একটি ‘Made in Bangladesh’ স্মার্টফোন, যা লিনেক্স ইলেকট্রনিক্স বাংলাদেশ লিমিটেডের নিজস্ব কারখানায় তৈরি করা হয়েছে। ফোনটিতে ৬.৫৬ ইঞ্চি LCD ডিসপ্লে, ৮ GB পর্যন্ত Extendable RAM, ৬৪ GB ROM, ৫০০০ mAh ব্যাটারি, ১৬ মেগাপিক্সেল ব্যাক ক্যামেরা, ৮ মেগাপিক্সেল ফ্রন্ট ক্যামেরা, Fingerprint এবং Face Unlock সহ আধুনিক বিভিন্ন ফিচার অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে লিনেক্স ইলেকট্রনিক্স বাংলাদেশ লিমিটেডের COO ইঞ্জিনিয়ার মো. নাহিদুল ইসলাম, রিভারসং বাংলাদেশের কান্ট্রি ম্যানেজার মোহাম্মদ শরিফুল ইসলাম, বেঙ্গল গ্রুপ অব ইন্ডাষ্ট্রিজের চীফ পিপল অফিসার হাসান তৈয়ব ইমাম এবং প্রতিষ্ঠানের অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে লিনেক্স ইলেকট্রনিক্স বাংলাদেশ লিমিটেডের COO উল্লেখ করেন, "নিজস্ব কারখানায় রিভারসং অ্যাস্ট্রো ৬ উৎপাদন করতে পেরে আমরা গর্বিত।" তিনি বলেন, "বাংলাদেশে স্মার্টফোন উৎপাদনের সক্ষমতা আরও শক্তিশালী করতে লিনেক্স ইলেকট্রনিক্স ভবিষ্যতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে চায়।"
তিনি আরও যোগ করেন, "আমাদের নিজস্ব SMT সুবিধা, ল্যাবরেটরি এবং PCBA, চার্জার ও ব্যাটারি উৎপাদনের সক্ষমতা রয়েছে। আন্তর্জাতিক মানের কোয়ালিটি কন্ট্রোলের মাধ্যমে আমরা Made in Bangladesh স্মার্টফোন বাজারজাত করছি।" তিনি ভবিষ্যতে বাংলাদেশের মানুষের জন্য আরও সাশ্রয়ী মূল্যে আধুনিক স্মার্টফোন সহজলভ্য করার লক্ষ্য প্রকাশ করেন।
রিভারসং বাংলাদেশের কান্ট্রি ম্যানেজার মোহাম্মদ শরিফুল ইসলাম জানান, "রিভারসং একটি আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ড এবং বিশ্বের বিভিন্ন দেশে আমাদের কার্যক্রম রয়েছে।" তিনি বলেন, "সেই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশেও আমরা স্মার্টফোন নিয়ে এসেছি।" তিনি বাংলাদেশের মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বিষয়টি বিবেচনায় রেখে আধুনিক প্রযুক্তির স্মার্টফোন বাজারজাত করার লক্ষ্য উল্লেখ করেন।
তিনি আরও জানান, অ্যাস্ট্রো সিরিজের আরও বেশ কয়েকটি মডেল শিগগিরই বাংলাদেশের বাজারে আসবে। পাশাপাশি উচ্চ স্পেসিফিকেশনের স্মার্টফোন ও গেমিং ফোন বাজারজাত করার পরিকল্পনাও রয়েছে।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশে রিভারসংয়ের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা, স্থানীয় উৎপাদন এবং নতুন স্মার্টফোন লাইনআপ নিয়ে আলোচনা করা হয়। অনুষ্ঠানে চীন থেকে আসা রিভারসংয়ের প্রকৌশলী দলও উপস্থিত ছিল। তারা উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের পাশাপাশি রিভারসং অ্যাস্ট্রো ৬-এর প্রযুক্তি ও উৎপাদন প্রক্রিয়া পরিদর্শন করেন এবং ফোনটির মান নিয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন।
এছাড়াও অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জনপ্রিয় অভিনেত্রী সালহা খানম নাদিয়া। তিনি রিভারসংয়ের বাংলাদেশে যাত্রা শুরুর এই আয়োজনে অংশ নেন। সবশেষে একটি সাংস্কৃতিক সন্ধ্যার আয়োজনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের সাইডলাইনে অনুষ্ঠিত দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় বৈঠকের সফল ফলাফল বাংলাদেশের জন্য গর্বের বিষয় হিসেবে উল্লেখ করেছেন জাতিসংঘে বাংলাদেশের উপ-স্থায়ী প্রতিনিধি এ কে এম ওয়াহিদুজ্জামান।
নিউইয়র্কে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার চারদিনের সফর শেষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই মন্তব্য করেন। সফরের সময় বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বৈঠক করেন এবং বাংলাদেশের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।
চারদিনের সফরের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী ১১টি দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক সম্পন্ন করেন। এছাড়া জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশন, উচ্চপর্যায়ের সাইড ইভেন্ট এবং আন্তর্জাতিক সংস্থা ও গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের সঙ্গে বৈঠকসহ প্রতিনিধিদলের প্রায় ৮০টি কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করা হয়।
বৈঠকগুলোতে বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থ, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, জনশক্তি রপ্তানি, জ্বালানি নিরাপত্তা, জলবায়ু পরিবর্তন, রোহিঙ্গা সংকট এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মতো বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দেওয়া হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, নিউইয়র্ক সফরে সীমিত আকারের প্রতিনিধিদল নিয়ে সময়ের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করা হয়েছে। বিভিন্ন দেশের নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে বাংলাদেশের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো তুলে ধরা হয়েছে এবং পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধির ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবীর, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ এবং জাতিসংঘে বাংলাদেশের উপ-স্থায়ী প্রতিনিধি এ কে এম ওয়াহিদুজ্জামানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
এ কে এম ওয়াহিদুজ্জামান বলেন, "বৈশ্বিক পরিমণ্ডলে দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় বৈঠকের সফল আউটপুট বা ফলাফল দেশের জন্য অত্যন্ত গর্বের।" তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, বাংলাদেশের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে এসব আলোচনার মাধ্যমে অগ্রগতি অর্জিত হয়েছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে রোগীর চাপ অব্যাহত রয়েছে, যা হাসপাতালের ধারণক্ষমতার তুলনায় অনেক বেশি। হাসপাতালের দৈনিক রোগী পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২৬ সেপ্টেম্বর তারিখে ১,২০০টি অনুমোদিত শয্যার বিপরীতে মোট ৩,৩০৩ জন রোগী চিকিৎসাধীন আছেন। এর ফলে অনুমোদিত শয্যার অতিরিক্ত রোগীর সংখ্যা ২,১০৩ জনে পৌঁছেছে এবং শয্যা দখলের হার ২৭৫.২৫ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, আগের দিনের রোগী সংখ্যা ছিল ৩,০৯২ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুনভাবে ৭৬৩ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। একই সময়ে ৩২৬ জন রোগী ছাড়পত্র পেয়েছেন এবং ১৮৯ জন রোগী DORB (Discharge on Risk Bond) হয়েছেন। এছাড়া ২৫ জন রোগী Absconded হয়েছেন এবং ৩২ জন রোগী মৃত্যুবরণ করেছেন।
চিকিৎসাসেবার পাশাপাশি হাসপাতালের অস্ত্রোপচার কার্যক্রমও অব্যাহত রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ৩২টি মেজর অপারেশন ও ৪৩টি মাইনর অপারেশন সম্পন্ন হয়েছে। একই দিনে হাসপাতালের বহির্বিভাগে (আউটডোর) চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করেছেন ৫,১৪৭ জন রোগী।
বিশেষ রোগী পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বর্তমানে হাসপাতালে ৯৮ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এছাড়া ২৬ জন হাম (Measles) আক্রান্ত রোগী এবং ৯ জন সাপের কামড়ে আক্রান্ত রোগীও চিকিৎসাধীন রয়েছেন। কারা সেলে ৭ জন এবং ওসিসি (One Stop Crisis Centre)-তে ৩ জন রোগী চিকিৎসাধীন অবস্থায় রয়েছেন।
হাসপাতালটি প্রতিষ্ঠার সময় ৫০০ শয্যার অবকাঠামো নিয়ে যাত্রা শুরু করে। পরবর্তীতে ক্রমবর্ধমান রোগীর চাপ সামাল দিতে দুই শয্যার মাঝে নতুন শয্যা স্থাপন, বারান্দা ও করিডোর ব্যবহার, বিভিন্ন ফাঁকা জায়গায় ওয়ার্ড সম্প্রসারণসহ নানাভাবে রোগী ধারণের ব্যবস্থা বৃদ্ধি করা হয়েছে। বর্তমানে হাসপাতালের অনুমোদিত শয্যার সংখ্যা ১,২০০ হলেও চিকিৎসাধীন রোগীর সংখ্যা এর প্রায় পৌনে তিন গুণ।
একই দিনে ৩,৩০৩ জন ভর্তি রোগীর পাশাপাশি বহির্বিভাগে আরও ৫,১৪৭ জন রোগী চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করেছেন। বিপুলসংখ্যক রোগীর চাপের মধ্যেও হাসপাতালের চিকিৎসক, নার্স, স্বাস্থ্যকর্মী ও সংশ্লিষ্টরা নিয়মিত চিকিৎসাসেবা ও অস্ত্রোপচার কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ