রবিবার, ৬ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
১১:০০ পি.এম
বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) নতুন অফিসিয়াল ওয়েবসাইট চালু করেছে, যা বিনিয়োগকারী, শেয়ারবাজারের অংশীজন এবং সাধারণ জনগণের জন্য তথ্য ও সেবা প্রদানে আরও সহজতর হবে।
নতুন ওয়েবসাইটটি আনুষ্ঠানিকভাবে রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) উদ্বোধন করা হয়। বিএসইসির পরিচালক ও মুখপাত্র মো. আবুল কালাম স্বাক্ষরিত একটি বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়।
নতুন ওয়েবসাইটের মাধ্যমে বিএসইসির আইন-কানুন, অ্যানফোর্সমেন্ট অ্যাকশন, প্রেস বিজ্ঞপ্তি, টেন্ডার বিজ্ঞপ্তি, জনগুরুত্বপূর্ণ অফিস আদেশ, নিবন্ধিত বিভিন্ন স্টেকহোল্ডারের তালিকা এবং আইপিও ও আরপিও প্রসপেক্টাসসহ কমিশনের সঙ্গে সম্পর্কিত বিভিন্ন তথ্য সহজে পাওয়া যাবে।
এছাড়া, বিএসইসির বিভিন্ন সেবা এবং সেবা-সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় তথ্যও নতুন ওয়েবসাইটের মাধ্যমে সহজেই পাওয়া যাবে। এর ফলে বিনিয়োগকারী, পুঁজিবাজারের অংশীজন এবং সাধারণ সেবাগ্রহীতারা প্রয়োজনীয় তথ্য দ্রুত সংগ্রহ করতে সক্ষম হবেন।
বিএসইসির প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, নতুন ওয়েবসাইটটি বিশ্বের স্বনামধন্য শেয়ারবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর আধুনিক ওয়েবসাইটের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে তৈরি করা হয়েছে। এতে উন্নত সাইবার নিরাপত্তা ব্যবস্থা, আধুনিক ও ব্যবহারবান্ধব ইন্টারফেস এবং তথ্য ও সেবা সহজে পাওয়ার সুবিধা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
কমিশন জানিয়েছে, চেয়ারম্যান মাসুদ খানের নেতৃত্বে এবং কমিশনার (আইসিটি) তানভীর হাবিব রহমানের তত্ত্বাবধানে কমিশনের আইসিটি ডিভিশনের উদ্যোগে প্রযুক্তি অংশীদার প্রতিষ্ঠানের কারিগরি সহায়তায় ওয়েবসাইটটি ডেভেলপ করা হয়েছে। বিএসইসি আশা করছে, নতুন ওয়েবসাইটটি শেয়ারবাজারে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বৃদ্ধি, তথ্যের অবাধ প্রবাহ নিশ্চিতকরণ এবং বিনিয়োগকারীবান্ধব সেবা সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। একই সঙ্গে কমিশনের চলমান ডিজিটাল রূপান্তর কার্যক্রমও নতুন ওয়েবসাইটের মাধ্যমে আরও গতিশীল হবে বলে তারা প্রত্যাশা করছে। পূর্ববর্তী অফিসিয়াল ওয়েবসাইটের কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে নতুন ওয়েবসাইট চালুর সঙ্গে সঙ্গে।
নতুন ওয়েবসাইটের ঠিকানা sec.gov.bd। ওয়েবসাইট সম্পর্কে মতামত, পরামর্শ বা ফিডব্যাক [email protected] ই-মেইলে পাঠানো যাবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
বাগেরহাটের কচুয়ায় ঘটে যাওয়া তিনটি হত্যাকাণ্ডের রহস্য পুলিশ উদঘাটন করেছে।
এই ঘটনায় তিনজন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের কাছ থেকে একটি কালো রঙের মোবাইল ফোন এবং একটি মোবাইল ফোনের চার্জার উদ্ধার করা হয়েছে।
রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বাগেরহাটের পুলিশ সুপার হাসান মোহাম্মদ নাছের রিকাবদার তার কার্যালয়ে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য প্রকাশ করেন।
তিনি জানান, কচুয়া থানার চান্দেরকোলা গ্রামের চন্দ্রসেকোনা এলাকায় ২ আগস্ট রাত থেকে ৪ আগস্ট ভোরের মধ্যে একই পরিবারের তিন সদস্যকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়। এই হত্যাকাণ্ডের পর ৪ আগস্ট বেলা ১১টা ৫০ মিনিটে কচুয়া থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে এবং ময়নাতদন্তের জন্য বাগেরহাট সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। এ ঘটনার পর কচুয়া থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়।
হত্যাকাণ্ডের পর বাগেরহাট জেলা গোয়েন্দা শাখার একটি দক্ষ দল এবং কচুয়া থানা পুলিশ যৌথভাবে তদন্ত শুরু করে। তদন্তের এক পর্যায়ে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় জাহিদুল ইসলাম নামের একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্য এবং অন্যান্য তদন্তের ভিত্তিতে আরও দুই আসামি আসাদুল শেখ এবং মো. আরিফ হাওলাদার ওরফে বাবুকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ জানায়, আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যায়। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত মোবাইল ফোন এবং মোবাইল ফোনের চার্জার উদ্ধার করা হয়।
ঘটনার পর থেকে পুলিশ বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনে কাজ করে আসছিল। প্রযুক্তিগত তথ্য বিশ্লেষণ এবং মাঠপর্যায়ের তদন্তের মাধ্যমে আসামিদের শনাক্ত করা হয়।
গ্রেপ্তার হওয়া তিন আসামির মধ্যে জাহিদুল ইসলামের পিতার নাম মৃত মজিদ হাওলাদার, আসাদুল শেখের পিতার নাম মৃত সুলতান শেখ এবং মো. আরিফ হাওলাদার ওরফে বাবুর পিতার নাম বারিক হাওলাদার। তারা বাগেরহাটের কচুয়া উপজেলার চান্দেরকোলা এলাকার বাসিন্দা।
পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, পরকীয়া প্রেমের কারণে এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) অন্যতম প্রধান সড়কের উন্নয়নকাজ দুই মাসেরও বেশি সময় ধরে বন্ধ রয়েছে। এই দীর্ঘ সময় ধরে চলমান উন্নয়নকাজের কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং পথচারীরা ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। বিশেষ করে সামান্য বৃষ্টির কারণে সড়কের বিভিন্ন স্থানে পানি জমে চলাচল আরও কঠিন হয়ে যাচ্ছে।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, সড়কটি ব্যবহার করে প্রতিদিন সাড়ে চার হাজারের বেশি শিক্ষার্থী একাডেমিক কার্যক্রমে যাতায়াত করেন। পাশাপাশি শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং অন্যান্যদেরও নিয়মিত চলাচল করতে হয়। যদিও দীর্ঘ সময় ধরে উন্নয়নকাজ চলমান রয়েছে, তবে এর অগ্রগতি ধীর গতির কারণে সড়কটি কবে নাগাদ স্বাভাবিক ও নিরাপদভাবে ব্যবহার উপযোগী হবে, তা নিয়ে অনেকের মনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, সড়কের বিভিন্ন অংশের পুরোনো পিচ উঠে গেছে। সড়কের মাঝখানে ছোট-বড় একাধিক গর্ত সৃষ্টি হয়েছে। বৃষ্টির পানি জমে এসব গর্ত অনেকটাই পূর্ণ হয়ে আছে। ফলে পথচারীদের জন্য গর্তের অবস্থান বুঝে চলাচল করা কঠিন হয়ে পড়ছে। এতে শিক্ষার্থীসহ পথচারীদের দুর্ঘটনার আশঙ্কাও তৈরি হচ্ছে।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, উন্নয়নকাজ শুরু হওয়ার পরও দীর্ঘ সময় ধরে সড়কটি পুরোপুরি ব্যবহার উপযোগী হয়নি। ফলে প্রতিদিন তাদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষার্থী বলেন, "দীর্ঘদিন ধরে এই রাস্তার বেহাল অবস্থা। বৃষ্টি হলে এই রাস্তা দিয়ে হাঁটাও কঠিন হয়ে পড়ে। কাজ শুরু হলেও বর্তমানে আবার বন্ধ রয়েছে। কেন কাজ বন্ধ আছে, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান, অর্থায়ন, নকশা বা অন্য কোনো প্রশাসনিক জটিলতা রয়েছে কি না তা জানি না। কয়েক দিন আগে বিকেলে আমি ও আমার কয়েকজন বন্ধু রাস্তা দিয়ে হাঁটার সময় দেখি, ডরমিটরি থেকে আসা এক শিক্ষক এর মোটরসাইকেলের চাকা গর্তে পড়ে যায়। এতে তিনি মোটরসাইকেলসহ পড়ে যাওয়ার মতো পরিস্থিতিতে পড়েন।"
এ বিষয়ে যবিপ্রবির প্রধান প্রকৌশলী (অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত) অধ্যাপক ড. মো. মোখলেসুর রহমান বলেন, "আবহাওয়ার কারণেই মূলত কাজটি নিয়ে সমস্যা তৈরি হয়েছে।" তিনি আরও জানান, বিষয়টি নিয়ে তিনি ঠিকাদার ও সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীদের সঙ্গে আলোচনা করেছেন।
কাজের জন্য প্রয়োজনীয় সব মালামাল আগেই এনে প্রস্তুত রাখা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, "নির্দেশ দিলেই ঠিকাদার কাজ শুরু করতে পারবেন। তবে ভেজা আবহাওয়ায় কাজ করলে যানবাহন চলাচলের সময় পিচ উঠে গিয়ে রাস্তা নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। কাজের গুণগত মান ঠিক রাখতেই আপাতত অপেক্ষা করা হচ্ছে।"
উপপ্রধান প্রকৌশলী ও প্রকল্প পরিচালক মো. নাজমুস সাকিব বলেন, "কাজের অগ্রগতি থেমে থাকার পেছনে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বা ঠিকাদারের কোনো অবহেলা নেই। রাস্তার পাশে রড, পিচসহ প্রয়োজনীয় উন্নতমানের নির্মাণসামগ্রী এনে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। মূলত বৈরী আবহাওয়া ও টানা বৃষ্টির কারণে কাজ সাময়িকভাবে বন্ধ রাখতে হয়েছে।"
তিনি আরও বলেন, "রাস্তার স্থায়িত্ব ও দীর্ঘমেয়াদি গুণগত মান নিশ্চিত করতে টানা ১০ থেকে ১৫ দিন শুষ্ক আবহাওয়া প্রয়োজন। তাই খারাপ আবহাওয়ার মধ্যে কাজ শুরু করে ঝুঁকি নেওয়া যুক্তিসঙ্গত হবে না। আবহাওয়া অনুকূলে এলে পুরোদমে কাজ শুরু করা হবে এবং কাজ শুরু করার পর দুই থেকে তিন দিনের মধ্যেই সড়কের কাজ সম্পন্ন করা সম্ভব হবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
কারও কাছে তিনি স্বপ্নের নায়ক, আবার কারও কাছে আদর্শ। এখনও অনেকেই তাকে অনুসরণ করেন এবং তার স্টাইল ধারণ করে নিজেদের সাজান। মৃত্যুর ৩০ বছর পরেও তার জনপ্রিয়তায় কোনো ভাটা পড়েনি, বরং তা বেড়েছে। তিনি হচ্ছেন সালমান শাহ। রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) তার ৩০তম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত হয়েছে।
১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের উত্তাল সময়ে ১৯ সেপ্টেম্বর জন্মগ্রহণ করেন এই জনপ্রিয় অভিনেতা, যার নাম ছিল চৌধুরী মোহাম্মদ শাহরিয়ার ইমন। মাত্র ২৫ বছর বয়সে ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর তিনি মারা যান।
সালমান শাহ মাত্র চার বছরের ক্যারিয়ারে নব্বইয়ের দশকের বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের অন্যতম তারকা হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন। ১৯৯৩ সালে ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে তার অভিষেক ঘটে। এরপর ‘সত্যের মৃত্যু নেই’, ‘সুজন সখী’, ‘এই ঘর এই সংসার’, ‘আনন্দ অশ্রু’সহ বিভিন্ন চলচ্চিত্রে অভিনয় করে তিনি দর্শকদের হৃদয়ে স্থান করে নেন।
শাবনূরের সঙ্গে তার জুটি বিশেষভাবে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। ঢালিউডে তার অভিষেক হয়েছিল মৌসুমীসহ শাবনাজ, লিমা ও শাহনাজের মতো শীর্ষ অভিনেত্রীদের সঙ্গে, যা তাকে রোমান্টিক নায়ক হিসেবে আরও প্রতিষ্ঠিত করে।
সালমান শাহর পোশাক, চুলের স্টাইল ও পর্দায় সাবলীল উপস্থিতি তাকে অনুসরণীয় তারকায় পরিণত করেছে। জনপ্রিয় সংস্কৃতিতে তার প্রভাব এখনো অনুভূত হয়।
তবে এই তারকার প্রতি দীর্ঘস্থায়ী ভালোবাসার পাশাপাশি তার মৃত্যু নিয়ে প্রশ্নগুলো তিন দশক ধরে অমীমাংসিত রয়ে গেছে। ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর নিউ ইস্কাটনের বাসায় সালমান শাহকে অচেতন অবস্থায় পাওয়া যায় এবং পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়।
পরবর্তী তদন্তগুলোতে তাকে হত্যার কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) এটি আত্মহত্যা বলে সিদ্ধান্তে পৌঁছায়। ২০২০ সালে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) তদন্তেও একই সিদ্ধান্ত আসে।
তবে সালমান শাহর পরিবার বরাবরই এসব সিদ্ধান্ত প্রত্যাখ্যান করে দাবি করে আসছে যে, তাকে হত্যা করা হয়েছে।
২০২৫ সালের অক্টোবরে ঢাকার একটি আদালত সালমান শাহর মৃত্যুর ঘটনায় হত্যা মামলা করার নির্দেশ দিলে বিষয়টি নতুন মোড় নেয়। পরে তার প্রাক্তন স্ত্রী সামিরা হক, ব্যবসায়ী আজিজ মোহাম্মদ ভাই, অভিনেতা আশরাফুল হক ডনসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়।
মামলাটি এখনও তদন্তাধীন রয়েছে। চলতি বছরের আগস্টে ডনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের সময়সীমা কয়েক দফা পেছানো হয়েছে। সর্বশেষ ২৯ সেপ্টেম্বর প্রতিবেদন দাখিলের দিন ধার্য করা হয়েছে।
সালমান শাহর মৃত্যুর তিন দশক পরেও তার জনপ্রিয়তা একটুও কমেনি। তাকে দেখে বড় হওয়া দর্শকদের কাছে তিনি এখনও সেই তরুণ নায়ক, যার আকর্ষণ আজও অমলিন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোতেও এই কিংবদন্তি অভিনেতার অগণিত ভক্তের শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় ভরে উঠেছে।
ঢালিউডের সবচেয়ে বড় ‘যদি-কিন্তু’র গল্পগুলোর একজন সালমান শাহ। তিনি কখনোই সত্যিকার অর্থে পর্দা কিংবা তাকে কিংবদন্তিতে পরিণত করা মানুষের হৃদয় থেকে বিদায় নেননি।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
মানুষের চাওয়ার কোনো শেষ নেই। জীবনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত, মানুষ তার প্রয়োজন, আশা ও আকাঙ্ক্ষা নিয়ে মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করে। বান্দার সেই চাওয়া পূরণের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হলো দোয়া। নতচিত্তে ও অবনত মাথায় রবের কাছে করা দোয়া মুমিনের জন্য অন্যতম বড় আশ্রয়। মহান আল্লাহ বলেন, ‘আমি দোয়া কবুল করি, যখন সে আমার কাছে দোয়া করে।’ (সুরা বাকারা: ১৮৬)।
নবীজি (সা.) দোয়ার গুরুত্ব তুলে ধরে বলেছেন, ‘দোয়া সব ইবাদতের মূল।’ (তিরমিজি)। তবে দোয়া কবুল হওয়ার জন্য কিছু গুরুত্বপূর্ণ শর্ত রয়েছে। এর মধ্যে একটি হলো হারাম উপার্জন, হারাম খাদ্য ও পানীয় থেকে নিজেকে বিরত রাখা। মহান আল্লাহ বলেন, ‘হে রাসুলগণ, তোমরা পবিত্র বস্তু (হালাল) হতে ভক্ষণ করো এবং নেক কাজ করো।’ (সুরা মুমিন: ৫১)।
অন্য আয়াতে, তিনি মুমিনদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘হে মুমিনগণ, আমি তোমাদেরকে যে হালাল রিজিক দিয়েছি তা থেকে আহার কর এবং আল্লাহর জন্য শোকর কর, যদি তোমরা শুধু তারই ইবাদাত কর।’ (সুরা বাকারা: ১৭২)।
ওলামায়ে কেরাম এসব আয়াতের ব্যাখ্যায় উল্লেখ করেন যে, হারাম উপার্জন ও হারাম খাদ্য-পানীয় মানুষের দোয়া কবুলের পথে বড় বাধা। অর্থাৎ, বান্দা যতই দোয়া করুক, তার জীবন ও উপার্জনে হারামের সংমিশ্রণ থাকলে, সেই দোয়া কবুল না হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
হাদিসে কিছু শ্রেণির মানুষের কথা উল্লেখ করা হয়েছে, যাদের দোয়া কখনোই কবুল হয় না। চলুন জেনে নিই, তারা কারা।
হারাম খাওয়া থেকে বিরত
হারাম খাবার খাওয়া ব্যক্তির দোয়া আল্লাহর দরবারে কবুল হয় না। রাসুল (সা.) বলেছেন, হারাম খাবার, পানীয় ও বস্ত্র অর্থাৎ হারাম উপার্জনে যাপিত জীবন দোয়া কবুলের অন্তরায়। যে ব্যক্তি হারাম পরিহার করতে পারে না, তার দোয়া কবুল হওয়ার আশা করা যায় না। বিপরীতে, যার জীবিকা পবিত্র, তার দোয়া কবুল হওয়ার কথা জানিয়েছেন নবীজি (সা.)। তিনি (সা.) একদিন সাদকে (রা.) বলেন, হে সাদ, তোমার খাদ্য পবিত্র করো, তাহলে মুস্তাজাবুদ দাওয়াত (যার দোয়া কবুল হয়) হতে পারবে। (আল মুজামুল আওসাত: ৬৪৯৫)
নিরাশ না হওয়া ব্যক্তি
যে ব্যক্তি দোয়া করে হতাশ হয়ে যায়, তার দোয়াও আল্লাহুর দরবারে কবুল হয় না। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী করিম (সা.) বলেন, তোমাদের প্রত্যেক ব্যক্তির দোয়া কবুল হয়ে থাকে; যদি-না সে তাড়াহুড়ো করে আর বলে, আমি দোয়া করলাম, কিন্তু আমার দোয়া তো কবুল হলো না। (বোখারি: ৬৩৪০)
তাহলে রাসুল (সা.) বলেছেন, দোয়ার পর আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস রাখতে হবে যে, আল্লাহ আমার দোয়া কবুল করবেন।
আল্লাহ প্রদত্ত দায়িত্ব ছেড়ে দেওয়া
হুজাইফা ইবনুল ইয়ামান (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী করিম (সা.) বলেন, সেই সত্তার শপথ, যার হাতে আমার প্রাণ। নিশ্চয়ই তোমরা সৎ কাজের জন্য আদেশ করবে এবং অন্যায় কাজের প্রতিরোধ করবে। তা না হলে আল্লাহ তায়ালা শিগগির তোমাদের ওপর তার শাস্তি অবতীর্ণ করবেন। তোমরা তখন তার কাছে দোয়া করলেও তিনি তোমাদের সেই দোয়া গ্রহণ করবেন না (তিরমিজি: ২১৬৯)। তাই আল্লাহ যেসব কাজের আদেশ দিয়েছেন তা যথাযথভাবে পালন না করলে, ওই ব্যক্তির দোয়া কবুল হয় না।
আত্মীয়তার সম্পর্ক নষ্ট না করা
হাদিসে আছে, আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্নকারী জান্নাতে প্রবেশ করবে না। যে ব্যক্তি আত্মীয়তার সম্পর্ক নষ্ট করে, সে এই পাপের শাস্তি দুনিয়া ও আখিরাত উভয় জায়গায়ই ভোগ করতে হবে বলে সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে। বলা হয়েছে, ‘কোনো মুসলিম দোয়া করার সময় কোনো গোনাহের অথবা আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্নের দোয়া না করলে অবশ্যই আল্লাহ তাকে এ তিনটির কোনো একটি দান করবেন—হয়তো তাকে তার কাঙ্ক্ষিত সুপারিশ দুনিয়ায় দান করবেন, অথবা তা তার পরকালের জন্য জমা রাখেন, কিংবা অথবা তার কোনো অকল্যাণ বা বিপদ থেকে তাকে রক্ষা করবেন।
এ কথা শুনে সাহাবিরা বলেন, তাহলে তো আমরা অনেক বেশি লাভ করব। তিনি (রাসুল সা.) বলেন, আল্লাহ এর চেয়েও বেশি দেন। (আত-তারগীব: ১৬৩৩)
এই হাদিসের আলোকে ইসলামি স্কলাররা বলেন, রক্তের বন্ধন ছিন্নকারীর (শরয়ি করণ ছাড়া) দোয়া কখনোই কবুল হয় না, যতক্ষণ না তারা পূর্বের অবস্থায় ফিরে আসেন।
এ ছাড়া অবচেতন মনের দোয়া আল্লাহ গ্রহণ করেন না বলেও হাদিসে উল্লেখ রয়েছে। এ ব্যাপারে রাসুল (সা.) বলেন, তোমরা কবুল হওয়ার পূর্ণ আস্থা নিয়ে আল্লাহর কাছে দোয়া করো। জেনে রেখো, আল্লাহ অমনোযোগী ও অসাড় মনের দোয়া কবুল করেন না। (তিরমিজি: ৩৪৭৯)
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ