ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

তানোরে খাদ্যগুদামে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে ধান সংগ্রহের নামে বাণিজ্য


তানোরে খাদ্যগুদামে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে ধান সংগ্রহের নামে বাণিজ্য

রাজশাহীর তানোর উপজেলার কামারগাঁ সরকারি খাদ্যগুদামে রাজনৈতিক পরিচয়ের এক প্রভাবশালী কর্মকর্তা, জুয়েল নামের, যোগসাজশে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে ধান সংগ্রহ করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ফলে প্রকৃত কৃষকরা সরকারের নির্ধারিত ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন এবং খাদ্যগুদামে ধান দেওয়া থেকে তারা দূরে রয়েছেন। এবারের অভ্যন্তরীণ বোরো সংগ্রহ অভিযানে কৃষকদের অংশগ্রহণ নেই। তাদের নাম ব্যবহার করে, রাজনৈতিক পরিচয়ের প্রভাবশালী জুয়েল নামের এক নেতা ধান সংগ্রহ করছেন। খাদ্যগুদাম কর্মকর্তার নেপথ্যে মদদে কৃষকের কার্ড ভাড়া নিয়ে, অনেক ক্ষেত্রেই কৃষকের অজান্তে ধান সংগ্রহ করা হচ্ছে। অন্যদিকে, সাধারণ কৃষক ধান দিতে গেলে আর্দ্রতাসহ নানা অজুহাতে তাদের ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে কৃষকরা তাদের কৃষি কার্ড ভাড়া দিতে বাধ্য হচ্ছেন। কৃষক রুবেল, শহিদুল, গনেশ এবং ফারুক জানিয়েছেন যে, তারা একাধিকবার গুদামে ধান দিতে গিয়েছেন। কিন্তু তাদের ধানের আর্দ্রতা ঠিক নাই বলে ফেরত পাঠানো হয়েছে। অথচ একই ধান কিনে জুয়েল গুদামে সরবরাহ করছেন। এটি অবশ্য নীতিমালা অনুযায়ী সম্ভব নয়, কেননা কার্ডধারী কৃষকদের উপস্থিতিতে ধান কেনা উচিত। তবে সিন্ডিকেট চক্র বিভিন্ন কৃষকের কার্ড ব্যবহার করে ধান সংগ্রহ করছে। এই অবস্থা আরও প্রকট হয়ে উঠছে, যেহেতু যারা ধান দিতে পারবেন না, তাদের নামও তালিকায় রয়েছে। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই শর্ত পূরণ না করে এসব ধান সংগ্রহ করা হচ্ছে এবং স্থানীয় এলাকার পরিবর্তে বাইরের এলাকার ধান গুদামে প্রবেশ করছে। পাশাপাশি, এলএসডির মাধ্যমে প্রতি টন ধানে দেড় থেকে ৩ হাজার টাকার আর্থিক সুবিধা নিচ্ছেন। সরেজমিনে সিসি ক্যামেরা এবং কৃষকের মোবাইল নম্বর যাচাই ও গুদামে কেনা ধানের আর্দ্রতা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হলে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যাবে বলেও জানিয়েছে একাধিক সূত্র। স্থানীয় সূত্র থেকে জানা যাচ্ছে, বাজারে মোটা ধানের দাম সাড়ে ৭০০ টাকা থেকে ৮০০ টাকা। সেই হিসাবে সাড়ে ২৮ টাকা কেজি হিসেবে দাম পড়ে। অপরদিকে, সরকার ৩৬ টাকা প্রতি কেজি ধান ক্রয় করার ঘোষণা দিয়েছে। ফলে কৃষক প্রতিটি মণে ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা হারাচ্ছেন। অভিযোগ উঠেছে যে পাবনা, নাটোর ও নওগাঁর বিভিন্ন এলাকা থেকে মোটা ধান এনে গুদামে প্রদান করা হচ্ছে। তবে খাদ্যগুদাম কর্মকর্তার সঙ্গে যোগসাজশ করে এই অবৈধ কার্যক্রম চলছে। এর ফলে সরকারী সুনাম ক্ষুণ্ন হচ্ছে সাধারণ কৃষকদের মাঝে। জানা গিয়েছে, তানোরে চলতি বছরের ১৯ মে মঙ্গলবার ধান সংগ্রহের কার্যক্রম উদ্বোধন করা হয়েছে। ২০২৬ সালের অভ্যন্তরীণ খাদ্যশস্য সংগ্রহ কার্যক্রমের আওতায় ৪৯ টাকা কেজি দরে অটো ও হাস্কিং মিল থেকে মোট ৪০৬ মেট্রিক টন সিদ্ধ চাল এবং ৩০০ মেট্রিক টন গমের পাশাপাশি ৩৬ টাকা কেজি দরে এক হাজার ৫৬০ মেট্রিক টন ধান সংগ্রহ করার পরিকল্পনা রয়েছে। আগামী ৩১ আগস্ট পর্যন্ত এই কার্যক্রম চলবে। এই পরিকল্পনার আওতায়, উপজেলা কামারগাঁ সরকারি খাদ্যগুদামে কামারগাঁ এবং কলমা ইউনিয়ন থেকে ৫৫৫ মেট্রিক টন ধান কেনা হবে। প্রান্তিক কৃষকদের সুবিধার্থে চলতি বোরো মৌসুমে সরকার দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল এক হাজার ৪৪০ টাকা মণ দরে, কিন্তু বাজারে ধান বিক্রি হচ্ছে সাড়ে ৭০০ থেকে ৮০০ টাকায়। সরকারি গুদামে তা বিক্রি করে রাজনৈতিক প্রভাবশালীরা মণে ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত লাভের সুবিধা নিচ্ছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক স্থানীয় জৈষ্ঠ নেতা মন্তব্য করেছেন যে, দুঃখজনক হলেও সত্যি, কামারগাঁয়ের কিছু রাজনৈতিক পরিচয়ের প্রভাবশালী নেতা এই পরিস্থিতির সৃষ্টি করছেন। তারা নিজেদের পছন্দের ইউনিয়নগুলো ভাগ করে নিজেদের বিশ্বাসভাজন লোকদের মাধ্যমে কৃষকদের ভোটার আইডি সংগ্রহ করে তালিকা তৈরি করেছেন। কৃষকদের সঙ্গে যে প্রতারণা করা হয়েছে, তা অত্যন্ত দুঃখজনক। তিনি বলেছেন, শুরুতে তিনি সাধারণ কৃষক ছিলেন এবং বিগত সময়ে যেসব কৃষক বঞ্চিত হয়েছেন, তাদের তালিকা করে ধান দেওয়ার প্রস্তাব করেছিলেন। কিন্তু একজন প্রভাবশালী নেতার লোভের কারণে তা সম্ভব হয়নি। তিনি দলের হাইকমান্ডের নেতাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, প্রধানমন্ত্রী কৃষকদের উন্নয়নে ধানের সন্তোষজনক মূল্য দিয়েছেন, কিন্তু এক শ্রেণির প্রভাবশালী তা লুটে নিচ্ছেন; ফলে সরকারের সুনাম নষ্ট হচ্ছে। এই ঘটনার সঙ্গে যারা জড়িত, তাদের শাস্তির আওতায় আনা উচিত। এ বিষয়ে উপজেলার কামারগাঁ খাদ্যগুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসিএলএসডি) আতিকুর রহমান আতিক বলেছেন, তারা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি জানান, ২০২৬ সালের অভ্যন্তরীণ খাদ্যশস্য সংগ্রহ কার্যক্রমের আওতায় চাল ও ধান-গম ক্রয়ের অভিযান চলছে। আগামী ৩১ আগস্ট এই কার্যক্রম চলবে এবং প্রকৃত কৃষকের কাছ থেকেই ধান কেনা হচ্ছে। তানোর উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা (টিসিএফ) পারভীন খাতুন জানিয়েছে, তিনি কোনও লিখিত অভিযোগ পাননি। তবে এই বিষয়ে বিস্তারিত খোঁজখবর নেওয়া হবে। কামারগাঁ ইউপির হরিপুর, ছাঐড়, মালশিরা, কচুয়া ও কাদিরপুর এলাকার প্রায় অর্ধশতাধিক কৃষকের সঙ্গে সরকারি ধান সংগ্রহ অভিযানের বিষয়ে কথা হলে, তাদের প্রায় সবার বক্তব্য কাছাকাছি ছিল। তারা জানিয়েছে, সরকার ধান কেনে বলে শুনেছি কিন্তু কীভাবে এবং কখন ধান নেয়, সেই বিষয়ে তাদের কোনও ধারণা নেই। এ বিষয়ে তাদের কাছে কোনও প্রচার চোখে পড়েনি। বেশিরভাগ কৃষক জানেন না, সরকার কত টাকা মূল্যে ধান কিনছে। সরকারি গুদামে কতটুকু পর্যন্ত ধান দেওয়ার অধিকার রয়েছে একজন কৃষকের, তা নিয়েও তাদের মধ্যে আক্ষেপ রয়েছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সভাপতি পদ না পেয়ে মসজিদে তালা দেওয়ার হুমকি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

সোমবার, ১৩ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৯:২৩ পি.এম


সভাপতি পদ না পেয়ে মসজিদে তালা দেওয়ার হুমকি

গাজীপুরের টঙ্গী গুটিয়া গ্রামের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ কমিটিতে সভাপতি পদ না পেয়ে যার বিরুদ্ধে মসজিদে তালা মেরে দেওয়ার হুমকির অভিযোগ এসেছে, তিনি বিএনপির সমর্থক। অভিযুক্তের নাম হলো এডভোকেট জালাল খান, যিনি সারোয়ার নামেও পরিচিত (৩৩)। এ ঘটনার কারণে টঙ্গী পশ্চিম থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে। জানা গেছে, গত শুক্রবার (৩ জুলাই) রাতে গুটিয়া কেন্দ্রীয় শাহী জামে মসজিদে নতুন পরিচালনা কমিটি গঠনের উদ্দেশ্যে পূর্বঘোষিত আহ্বায়ক কমিটির সভা চলছিল। এই সময় এডভোকেট জালাল খান অবৈধভাবে মসজিদে প্রবেশ করেন এবং কমিটিতে তার নাম না থাকার কারণে ক্ষোভ প্রকাশ করেন, এরপর তিনি উপস্থিত মুরুব্বিদের গালমন্দ করতে শুরু করেন। এর এক পর্যায় তিনি সভা পরিচালনায় মারাত্মকভাবে বাধা দেন এবং মসজিদের অত্যাবশ্যকীয় নথিপত্র ছুঁড়ে ফেলেন। এরপর তিনি হুমকি দিয়ে বলেন, যদি তাকে কমিটিতে না রাখা হয় তাহলে মসজিদে তালা মেরে দেবেন। এই ঘটনার ফলে এলাকাবাসীর মধ্যে আতঙ্ক ও অস্থিরতা সৃষ্টি হয়েছে। তারা যে কোন সময় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কা করছেন। এই ক্ষেত্রে নতুন মসজিদ কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া স্থির হয়ে গেছে, যা মসজিদের প্রশাসনিক কার্যক্রমেও অচলাবস্থা সৃষ্টি করেছে। এ ঘটনার পর শনিবার রাতে (১১ জুলাই) টঙ্গী পশ্চিম থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে। যদি এব্যাপারে কথা বলার চেষ্টা করা হয়, তবে এডভোকেট জালাল খান ওরফে সারোয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমি মসজিদে তালা মারার হুমকি দেইনি। তিনি আরো বলেন, ১৭ বছর যাবত একটি মহল মসজিদ কমিটির পদ দখল করে আছে, আমি সামাজিকভাবে আয়-ব্যয়ের হিসাব চেয়েছিলাম। গুটিয়া কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের মুতাওয়াল্লি হাজী তাইজুল ইসলাম বলেন, মসজিদের মতো পবিত্র প্রতিষ্ঠানে এই ধরনের রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ অনাকাঙ্ক্ষিত এবং এসব কারণে সমাজের শান্তিশৃঙ্খলা ও সহাবস্থান বিঘ্ন ঘটে। তিনি বলেন, দিন যত যাচ্ছে এই সংকট আরও ঘনীভূত হচ্ছে এবং সুষ্ঠু সমাধানের অভাবে মসজিদের প্রশাসনিক কার্যক্রমে অচলাবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। টঙ্গী পশ্চিম থানার ওসি আরিফুর রহমান বলেন, এ ঘটনায় থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি হয়েছে এবং বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সশস্ত্র পাহারায় ঢাকায় ঢুকছিল মাদক, ডিবির অভিযানে আটক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

সোমবার, ১৩ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৯:২৭ পি.এম


সশস্ত্র পাহারায় ঢাকায় ঢুকছিল মাদক, ডিবির অভিযানে আটক

দেশের বিভিন্ন সীমান্তগুলির মাধ্যমে একটি প্রাইভেটকারের সাহায্যে ঢাকায় মাদক আনা হচ্ছিল। গাড়িটির গন্তব্যে পৌঁছানোর জন্য অস্ত্রসহ পাহাড়ায় আরেকটি প্রাইভেটকার প্রস্তুত ছিল। অবশেষে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) এর অভিযানে মাদকটির চালানটি ধরা পড়েছে। উদ্ধার করা হয়েছে তিনটি অস্ত্র।

সোমবার (১৩ জুলাই) এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এ তথ্য জানিয়েছেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের ডিবি প্রধান মো. শফিকুল ইসলাম।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়েছে, চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে ঢাকায় আসছিল একটি মাদকের বড় চালান, এই গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে রাজধানীর গাবতলীতে অভিযানে যায় ডিবি। অভিযানের সময় দুটি প্রাইভেটকারকে দাঁড়াতে সংকেত দিলে গাড়ি রেখে পালিয়ে যায় দুইজন। এ সময় ডিবির সদস্যরা দৌড়ে তাদের একজনকে আটক করেন।

এরপর একটি গাড়ি তল্লাশি করার পর বের হয়ে আসে দুটি বন্দুক, একটি বিদেশি এলজি পিস্তল, ১৫ রাউন্ড গুলি ও ১০০ বোতল ভারতীয় এস্কাপ সিরাপ। এছাড়াও আরেকটি গাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে উদ্ধার করা হয় আরও ৪০০ বোতল সিরাপ।

জানা গেছে, উদ্ধারকৃত বন্দুক দুটি বেলজিয়ামের তৈরি। এই অস্ত্র আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর থানা থেকে লুট হতে পারে, এমন ধারণা করেছেন ডিবির সদস্যরা। চক্রটি মাদকের চালান ঢাকায় আনতে অস্ত্রসহ এসকর্ট গাড়ি ব্যবহার করতো।

ডিবি জানায়, গত ২৪ তারিখেও আরও দুটি অভিযান চালানো হয় গোয়েন্দা পুলিশের পক্ষ থেকে। উত্তরার আজমপুরে একটি প্রাইভেটকার ও পিকআপে তল্লাশি চালিয়ে ১ হাজার ২০০ বোতল এস্কাপ সিরাপ উদ্ধার করা হয়েছে এবং তিনজনকে আটক করা হয়েছে। এ ছাড়া ডিবির আরেকটি দল কাফরুল এলাকায় অভিযান চালিয়ে এক্স নোয়া গাড়িসহ তিনজনকে আটক করে। সেই তল্লাশিতে বেরিয়ে এসেছে ২ হাজার পিস ইয়াবা।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়েছে, তিনটি সংঘবদ্ধ চক্রের বাকি সদস্যদের ধরতে ডিবির অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মালয়েশিয়ায় ইমিগ্রেশনের অভিযানে ২৯০ বাংলাদেশিসহ আটক ৫০৩ জন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সোমবার, ১৩ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৯:৩০ পি.এম


মালয়েশিয়ায় ইমিগ্রেশনের অভিযানে ২৯০ বাংলাদেশিসহ আটক ৫০৩ জন

মালয়েশিয়ার অভিবাসন বিভাগের বিশাল সাঁড়াশি অভিযানে ২৯০ জন বাংলাদেশিসহ অন্তত ৫০৩ জন বিদেশি নাগরিককে আটক করা হয়েছে।

এই অভিযানটি দেশটির ১৮টি ভিন্ন স্থানে একযোগে পরিচালিত হয়েছে এবং মূলত অবৈধভাবে বিদেশি কর্মী নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান এবং বিদেশিদের দ্বারা পরিচালিত ব্যবসাগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।

ইমিগ্রেশন বিভাগের মহাপরিচালক জাকারিয়া শাবান সোমবার (১৩ জুলাই) এক বিবৃতিতে জানান, যৌথ অভিযানে ইমিগ্রেশন বিভাগ, জাতীয় নিবন্ধন বিভাগ, পুলিশ ও স্থানীয় সরকারের মোট ৮৭৬ জন কর্মকর্তা অংশগ্রহণ করেন। অভিযানের সময় নিয়োগকর্তা ও বিদেশি নাগরিকসহ মোট ২ হাজার ২৬০ জনের কাগজপত্র পরীক্ষা করে অভিবাসন আইন লঙ্ঘনের দায়ে এই ৫০৩ জনকে গ্রেফতার করা হয়।

আটকদের মধ্যে বেশিরভাগ বাংলাদেশি হলেও মিয়ানমারের ১০১ জন, ইন্দোনেশিয়ার ৬৬ জন, নেপালের ৩৮ জন, ভারতের ৩৬ জন এবং অন্যান্য দেশের ১০ জন নাগরিক রয়েছেন। ২১ থেকে ৫২ বছর বয়সী এই গ্রুপটিতে ৯৫ জন নারীও অন্তর্ভুক্ত আছেন, যাদের সবাইকে পরবর্তী তদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়ার জন্য বিভিন্ন ইমিগ্রেশন ডিপোতে স্থানান্তরিত করা হয়েছে।

এছাড়া, সংশ্লিষ্ট তদন্তে সাক্ষী হিসেবে সহায়তা করার জন্য আরও ১২০ জন ব্যক্তিকে বিশেষ নোটিশ (বোরং ২৯) দেওয়া হয়েছে, যা অভিবাসন বিভাগের পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে।

ইমিগ্রেশন বিভাগ জানিয়েছে, আটকদের বিরুদ্ধে প্রধানত বৈধ কাগজপত্র না থাকা, ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পর অবস্থান করা (ওভারস্টে) এবং ভিসার শর্তগুলো অপব্যবহার করার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, অনেকের কাছে নির্মাণ খাতের ভিসা থাকলেও তারা কাপড়ের দোকানে কাজ করছিলেন। এছাড়া, কয়েকজন ইউএনএইচসিআর কার্ডধারীর কার্ডের সত্যতা যাচাইয়ের জন্যও তাদের আটক করা হয়েছে। মহাপরিচালক আরও জানান, পুরো মালয়েশিয়াজুড়ে দুই শতাধিক 'হটস্পট' চিহ্নিত করা হয়েছে, যাদের অর্ধেকই ক্লাং ভ্যালি এলাকায় অবস্থিত।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বন্যায় বিপর্যস্ত বান্দরবান, খোলা আকাশের নিচে লাখো মানুষ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

সোমবার, ১৩ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৯:৩৩ পি.এম


বন্যায় বিপর্যস্ত বান্দরবান, খোলা আকাশের নিচে লাখো মানুষ

টানা ৬ দিনের বন্যায় পাহাড়ি জেলা বান্দরবানে প্রায় লক্ষাধিক মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পাহাড়ধসে ৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। বিভিন্ন স্থানে সড়ক, কালভার্ট ও ব্রিজ ভেঙে পড়েছে। অসংখ্য পুকুর জলাশয়ের মাছ ভেসে গেছে। শত শত একর ফসলি জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

এ ছাড়াও, পানির স্রোতে শত শত মানুষের ঘরবাড়ি ভেসে গেছে, जिसके ফলে অনেক পরিবার আশ্রয়হীন অবস্থায় রয়েছে। বন্যার পানি কমার পর এই ক্ষয়ক্ষতির চিত্র ফুটে উঠেছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, খোলা আকাশের নিচে বাড়ির আসবাবপত্র ও প্রয়োজনীয় জিনিষপত্র পড়ে রয়েছে। বন্যার পানিতে ডুবে সব নষ্ট হয়ে গেছে। বন্যার্তরা নতুন করে সব পরিষ্কার করছে। টানা ৬ দিনের বন্যায় পাহাড়ি জেলা বান্দরবান বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। পানিতে তলিয়ে গেছে লামা, আলিকদম, রুমা, নাইক্ষ্যংছড়িসহ জেলার সব নিম্নাঞ্চল। বন্যায় রাস্তাঘাট, ব্রিজ, কালভার্ট, ফসলি জমি, কৃষি ক্ষেত, মাছের ঘের ও মুরগির খামার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

নষ্ট হয়ে গেছে আসবাবপত্র, টিভি, ফ্রিজসহ বিভিন্ন ইলেকট্রনিক্স যন্ত্রপাতি। পুকুর জলাশয়ের মাছ ভেসে গেছে। পাশাপাশি পাহাড়ধস ও বন্যার পানিতে প্রাণ হারিয়েছে ৬ জন। ৪ দিন ধরে যোগাযোগ ব্যবস্থা অচল হয়ে পড়েছে। কিছু কিছু এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগও নেই। দেখা দিয়েছে বিশুদ্ধ পানির তীব্র সংকট। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে নদীর তীরবর্তী মানুষ।

বন্যার পানিতে ঘরবাড়ি ভেসে যাওয়ার কারণে অনেক পরিবার আশ্রয়হীন হয়ে পড়েছে।

শহরের বরিশাল পাড়া এলাকার বাসিন্দা আসাদুল্লাহ জানিয়েছেন, "বন্যার পানিতে আমার ঘরটি ভেসে গেছে। আমার সহায় সম্বল বলতে ওই কাঠের ঘরটি ছিল। এখন আমার থাকার কোনো জায়গা নেই। আপাতত আশ্রয় কেন্দ্রে আছি। তবে ওখানে আর কয়দিন থাকার পর তো আমি চলে আসতে হবে। তখন খোলা আকাশের নিচে কোনো আশ্রয় নেই।"

একই এলাকার আরেক বাসিন্দা রুপালী দাশ জানিয়েছেন, "মানুষের বাড়িতে কাজ করে কোনো রকম সংসার চালাই, নদীর পাশে ছোট ঘরটাতে দুই সন্তান নিয়ে থাকতাম কিন্তু পানিতে সব কিছু নিয়ে গেছে। এখন কোথায় থাকবো? কি করবো? কিছুই বুঝতে পারছি না। কেউ এখনো কোনো খবর নেয়নি, কিছু পাবো কিনা জানি না।"

তবে জেলাপ্রশাসক সানিউল ফেরদৌস জানিয়েছেন, "বন্যায় ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ ও ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা প্রণয়নের কাজ চলছে। খুব দ্রুত ক্ষতি নিরূপণ করে তাদের সহায়তা করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।"

উল্লেখ্য, টানা বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ি ঢলে গত ৬ জুলাই থেকে বন্যা কবলিত হয় পাহাড়ি জেলা বান্দরবান। এতে পানিবন্দি হয়ে পড়ে জেলার কয়েক লাখ মানুষ।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%