০৯:৩৩ পি.এম
টানা ৬ দিনের বন্যায় পাহাড়ি জেলা বান্দরবানে প্রায় লক্ষাধিক মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পাহাড়ধসে ৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। বিভিন্ন স্থানে সড়ক, কালভার্ট ও ব্রিজ ভেঙে পড়েছে। অসংখ্য পুকুর জলাশয়ের মাছ ভেসে গেছে। শত শত একর ফসলি জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
এ ছাড়াও, পানির স্রোতে শত শত মানুষের ঘরবাড়ি ভেসে গেছে, जिसके ফলে অনেক পরিবার আশ্রয়হীন অবস্থায় রয়েছে। বন্যার পানি কমার পর এই ক্ষয়ক্ষতির চিত্র ফুটে উঠেছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, খোলা আকাশের নিচে বাড়ির আসবাবপত্র ও প্রয়োজনীয় জিনিষপত্র পড়ে রয়েছে। বন্যার পানিতে ডুবে সব নষ্ট হয়ে গেছে। বন্যার্তরা নতুন করে সব পরিষ্কার করছে। টানা ৬ দিনের বন্যায় পাহাড়ি জেলা বান্দরবান বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। পানিতে তলিয়ে গেছে লামা, আলিকদম, রুমা, নাইক্ষ্যংছড়িসহ জেলার সব নিম্নাঞ্চল। বন্যায় রাস্তাঘাট, ব্রিজ, কালভার্ট, ফসলি জমি, কৃষি ক্ষেত, মাছের ঘের ও মুরগির খামার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
আরও পড়ুন: রংপুরে ২৬ মামলার পলাতক আসামি শীর্ষ সন্ত্রাসী ‘মেরিল সুমন’ গ্রেপ্তার
নষ্ট হয়ে গেছে আসবাবপত্র, টিভি, ফ্রিজসহ বিভিন্ন ইলেকট্রনিক্স যন্ত্রপাতি। পুকুর জলাশয়ের মাছ ভেসে গেছে। পাশাপাশি পাহাড়ধস ও বন্যার পানিতে প্রাণ হারিয়েছে ৬ জন। ৪ দিন ধরে যোগাযোগ ব্যবস্থা অচল হয়ে পড়েছে। কিছু কিছু এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগও নেই। দেখা দিয়েছে বিশুদ্ধ পানির তীব্র সংকট। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে নদীর তীরবর্তী মানুষ।
বন্যার পানিতে ঘরবাড়ি ভেসে যাওয়ার কারণে অনেক পরিবার আশ্রয়হীন হয়ে পড়েছে।
শহরের বরিশাল পাড়া এলাকার বাসিন্দা আসাদুল্লাহ জানিয়েছেন, "বন্যার পানিতে আমার ঘরটি ভেসে গেছে। আমার সহায় সম্বল বলতে ওই কাঠের ঘরটি ছিল। এখন আমার থাকার কোনো জায়গা নেই। আপাতত আশ্রয় কেন্দ্রে আছি। তবে ওখানে আর কয়দিন থাকার পর তো আমি চলে আসতে হবে। তখন খোলা আকাশের নিচে কোনো আশ্রয় নেই।"
একই এলাকার আরেক বাসিন্দা রুপালী দাশ জানিয়েছেন, "মানুষের বাড়িতে কাজ করে কোনো রকম সংসার চালাই, নদীর পাশে ছোট ঘরটাতে দুই সন্তান নিয়ে থাকতাম কিন্তু পানিতে সব কিছু নিয়ে গেছে। এখন কোথায় থাকবো? কি করবো? কিছুই বুঝতে পারছি না। কেউ এখনো কোনো খবর নেয়নি, কিছু পাবো কিনা জানি না।"
আরও পড়ুন: একুশে বইমেলার তারিখ ৭ জানুয়ারি ২০২৭ ঘোষণা
তবে জেলাপ্রশাসক সানিউল ফেরদৌস জানিয়েছেন, "বন্যায় ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ ও ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা প্রণয়নের কাজ চলছে। খুব দ্রুত ক্ষতি নিরূপণ করে তাদের সহায়তা করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।"
উল্লেখ্য, টানা বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ি ঢলে গত ৬ জুলাই থেকে বন্যা কবলিত হয় পাহাড়ি জেলা বান্দরবান। এতে পানিবন্দি হয়ে পড়ে জেলার কয়েক লাখ মানুষ।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন