শুক্রবার, ২৩শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০৮:৫৪ পি.এম
মাগুরা জেলা থেকে ৬ শিক্ষার্থী প্রশিক্ষণ কর্মশালায় অংশ নিতে ফরিদপুরে আসেন। বাড়ি ফেরার সময় সড়ক দুর্ঘটনায় তিন জনের প্রাণহানি ঘটে। আহত তিন জনকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অন্যদিকে, বালু বাহী ট্রাকের চাপায় মা-ছেলে সহ তিন জনের মৃত্যু ঘটে। এ দুর্ঘটনায় ৫ জন আহত হয়েছেন। তাদেরও উদ্ধার করে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
জানা যায়, শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সকালে মাগুরা জেলা সদর থেকে ফরিদপুরে কর্মশালায় অংশ নিতে আসেন ৬ শিক্ষার্থী। কর্মশালা শেষে বিকাল ৩টার দিকে অ্যাম্বুলেন্সযোগে মাগুরার উদ্দেশ্যে রওনা দেন তারা। সাড়ে ৩টার দিকে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের মধুখালী উপজেলার আরকান্দী এলাকায় পৌঁছালে, সাতক্ষীরা থেকে ঢাকা গামী কিং ফিসার নামের যাত্রীবাহি বাসটির সাথে অ্যাম্বুলেন্সটির মুখোমুখি সংঘর্ষ ঘটে। এতে ঘটনাস্থলেই অ্যাম্বুলেন্সে থাকা তিন শিক্ষার্থী নিহত হন। গুরুতর আহত ৩ শিক্ষার্থীকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
নিহত শিক্ষার্থীরা হলেন, মাগুরা সরকারি কলেজের রসায়ন বিভাগের অনার্স শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী তামান্না তাবাচ্ছুম ঐশি (২৪), বুজরুক শ্রীকন্ডি মহাবিদ্যালয়ের এইচএসসি পরীক্ষার্থী রাব্বি মোল্যা (১৯) এবং মাগুরা সরকারি কলেজের অনার্স ১ম বর্ষের শিক্ষার্থী নূর মোহাম্মদ (২২)। তাদের সকলের বাড়ি মাগুর পৌর সদর এলাকায়।
আহত শিক্ষার্থীরা হলেন, বুজরুক শ্রীকন্ডি মহাবিদ্যালয়ের এইচএসসি পরীক্ষার্থী সাগর বিশ্বাস (২০), এইচএসসি পরীক্ষার্থী রিয়া (১৮) এবং মাগুরা সরকারি কলেজের অনার্স ১ম বর্ষের শিক্ষার্থী জয় (১৯)। তারা বর্তমানে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
ভলেন্টিয়ার ডেভোলপমেন্ট ফোরামের (ভিডিএফ) মাগুরা জেলা শাখার সভাপতি ইব্রাহিম শেখ জানান, নিহত ও আহত ৬ শিক্ষার্থীর বাড়ি মাগুরা পৌর সদরে। পড়ালেখার পাশাপাশি তারা বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের সাথে জড়িত ছিলেন। শুক্রবার সকালে ফরিদপুরের ব্র্যাক লার্নিং সেন্টারে সমতায় তারুণ্য শীর্ষক কর্মশালায় অংশ নিতে যান তারা।
তিনি আরো জানান, কর্মশালা শেষে বাড়ি ফেরার জন্য সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে ছিলেন শিক্ষার্থীরা। এসময় একটি ফাঁকা অ্যাম্বুলেন্স মাগুরার উদ্দেশ্যে যাচ্ছিল। অ্যাম্বুলেন্সটি ফাঁকা থাকায় ৬ শিক্ষার্থী ওই অ্যাম্বুলেন্সে ওঠেন। পথিমধ্যে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের মধুখালী উপজেলার আড়কান্দী নামক স্থানে পৌঁছালে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
মধুখালী ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার শামিম রেজা জানান, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে এসে দেখেন তিন জন মারা গেছেন। গুরুতর আহত তিন জনকে উদ্ধার করে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
এদিকে, বালুবাহী ট্রাক চাপায় ইজিবাইকের তিন যাত্রী নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে আরো ৫ জন। নিহত তিন জনের মধ্যে দুই জন মা-ছেলে এবং এক জনের পরিচয় এখনও পাওয়া যায়নি। আহতদের উদ্ধার করে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) পৌনে ৪টার দিকে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের সদর উপজেলার তেতুলতলা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
জানা যায়, ফরিদপুর থেকে বালুবোঝাই একটি ট্রাক তেতুলতলা এলাকায় পৌঁছালে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের উপর উল্টে যায়। এসময় ট্রাকে থাকা বালুর নিচে চাপা পড়ে একটি ইজিবাইক ও একটি প্রাইভেটকার। গুরুতর আহত হয় ইজিবাইকে থাকা ৪ জন ও প্রাইভেটকারে থাকা ৪ জন। গুরুতর আহতদের উদ্ধার করে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক সুমী আক্তার (৩২) ও তার ছেলে শাওন (০৭) কে মৃত ঘোষণা করেন। নিহতদের বাড়ি মাগুরা জেলার মহম্মদপুর উপজেলায়।
এদিকে, এ দুর্ঘটনায় বালির নিচে চাপা পড়া অবস্থায় দুই ঘণ্টা চেষ্টার পর আরো এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করে ফায়ার সার্ভিস ও হাইওয়ে পুলিশ। তবে তার পরিচয় এখনো পাওয়া যায়নি।
ফরিদপুর ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার শ্রীবাস বাড়ৈ জানান, আহতদের উদ্ধার করে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মা-ছেলে দুই জনকে মৃত ঘোষণা করেন। এছাড়া দুই ঘণ্টা চেষ্টার পর আরো এক জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
করিমপুর হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুস সালাম জানান, ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের জেলার মধুখালী উপজেলার আরকান্দী এলাকায় যাত্রীবাহি বাসের সাথে অ্যাম্বুলেন্সের মুখোমুখি সংঘর্ষে ঘটনাস্থলেই অ্যাম্বুলেন্সে থাকা তিন শিক্ষার্থী নিহত হন। গুরুতর আহত তিন শিক্ষার্থীকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তবে অ্যাম্বুলেন্সের চালকের সন্ধান পাওয়া যায়নি।
তিনি আরো জানান, দুর্ঘটনা কবলিত বাস ও অ্যাম্বুলেন্সটি জব্দ করে থানায় আনা হয়েছে। নিহত শিক্ষার্থীদের পরিবারের সদস্যদের খবর দেয়া হয়েছে, তারা আসলে মরদেহ হস্তান্তর করা হবে।
এ দুর্ঘটনায় বালির নিচে চাপা পড়া অবস্থায় দুই ঘণ্টা চেষ্টার পর আরো এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করে ফায়ার সার্ভিস ও হাইওয়ে পুলিশ। তবে তার পরিচয় এখনো পাওয়া যায়নি। মরদেহ থানায় এনে রাখা হয়েছে। দুইটি ঘটনায় মামলার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আসন্ন জাপান সফরে ঢাকা ও টোকিওর মধ্যে চারটির বেশি সমঝোতা স্মারক সইয়ের সম্ভাবনা রয়েছে। সফরের সময় দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের অগ্রগতি, সহযোগিতার বিভিন্ন ক্ষেত্র এবং ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরে একটি যৌথ বিবৃতিও প্রকাশ করা হবে।
প্রস্তাবিত সমঝোতা স্মারকগুলোতে কৃষি, মৎস্য, মানবসম্পদ উন্নয়ন, দক্ষতা বৃদ্ধি, বেসামরিক বিমান চলাচল, বাণিজ্য, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার আধুনিকায়নসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা সম্প্রসারণের বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির আমন্ত্রণে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ২৬ থেকে ২৯ অক্টোবর চার দিনের সরকারি সফরে জাপান যাবেন।
সফরকে সামনে রেখে দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতার বিষয়ে প্রায় ৮টি দলিল চূড়ান্ত করার প্রস্তুতি চলছে। তবে আলোচনা শেষ হওয়ার ওপর নির্ভর করবে শেষ পর্যন্ত কতটি দলিল সই হবে।
পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম বলেন, ‘আমরা আশা করছি, সফরকালে এসব সমঝোতা স্মারকের অনেকগুলোই সই হবে।’
প্রত্যাশিত যৌথ বিবৃতিতে দ্বিপক্ষীয় আলোচনার ফলাফল এবং বাংলাদেশ-জাপান কৌশলগত অংশীদারত্ব এগিয়ে নেয়ার অগ্রাধিকারগুলো তুলে ধরা হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আনোয়ারউল্লাহ চৌধুরী বলেন,
প্রস্তাবিত চুক্তিগুলো বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রাধিকারের সঙ্গে জাপানের শিল্প-অভিজ্ঞতা, প্রযুক্তি ও প্রাতিষ্ঠানিক দক্ষতার সংযোগ ঘটিয়ে দুই দেশের সম্পর্ককে আরও বিস্তৃত করতে পারে।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এ সফর জাপানের সঙ্গে আমাদের দীর্ঘদিনের অংশীদারত্বে নতুন গতি সঞ্চারের গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ। প্রস্তাবিত সমঝোতা স্মারকগুলো উৎপাদন, কর্মসংস্থান ও মানুষের জীবিকার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত খাতগুলোতে সহযোগিতার আরও শক্তিশালী ভিত্তি তৈরি করতে পারে।
ড. আনোয়ারউল্লাহ বলেন, কৃষি ও মৎস্য খাতে সহযোগিতার ক্ষেত্রে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, প্রক্রিয়াজাতকরণ, সংরক্ষণ এবং গুণগত মান ব্যবস্থাপনায় গুরুত্ব দেয়া উচিত। অন্যদিকে, দক্ষতা উন্নয়ন কর্মসূচি নিয়োগদাতাদের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়া প্রয়োজন।
তিনি বলেন, ভাষা শিক্ষা ও কারিগরি প্রশিক্ষণ পাশাপাশি এগিয়ে নিতে হবে। আমাদের লক্ষ্য হওয়া উচিত, কর্মীদের জন্য উন্নত কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা এবং একই সঙ্গে বাংলাদেশের শিল্প খাতের প্রয়োজনীয় দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলা।
জাপানি বিনিয়োগ উদ্যোগে স্থানীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে সম্পৃক্ত করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, এতে দেশীয় সরবরাহকারী ও ক্ষুদ্র ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোও সুফল পাবে।
তিনি বলেন, বড় বিনিয়োগের পাশাপাশি জাপানের মাঝারি আকারের কোম্পানি ও বাংলাদেশের উদ্যোক্তাদের মধ্যে অংশীদারত্ব উৎসাহিত করা উচিত। এ ধরনের সহযোগিতা আমাদের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে উৎপাদন পদ্ধতি, মান নিয়ন্ত্রণ ও ব্যবস্থাপনার উন্নয়নে সহায়তা করতে পারে।
সাবেক এ উপাচার্য সফর শেষে একটি বাস্তবায়ন পরিকল্পনা প্রণয়নের পরামর্শ দেন। এতে দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থা, সময়সীমা এবং অগ্রগতি পর্যালোচনার ব্যবস্থা নির্ধারণের ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
তিনি বলেন, সমঝোতা স্মারক সই একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচনা। এর দীর্ঘমেয়াদি মূল্য নির্ভর করবে পরবর্তী সময়ে বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান, দক্ষতা এবং প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা কতটা বাড়ে, তার ওপর।
ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ২৭ অক্টোবর জাপানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সানায়ে তাকাইচির সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবেন। দুই নেতা নিজ নিজ প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেবেন।
জাপানের প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সম্মানে মধ্যাহ্নভোজের আয়োজন করবেন।
তারেক রহমান জাপান-বাংলাদেশ অর্থনৈতিক ফোরামে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন। এ ছাড়া তিনি জাপানের ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করে বিনিয়োগের সুযোগ ও বাণিজ্যিক অংশীদারত্ব নিয়ে আলোচনা করবেন।
প্রধানমন্ত্রীর সম্ভাব্য কর্মসূচিতে জাপান-বাংলাদেশ পার্লামেন্টারি ফ্রেন্ডশিপ লীগের প্রতিনিধি এবং জাপান-বাংলাদেশ বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা কমিটির চেয়ারম্যানের সঙ্গে বৈঠকও রয়েছে।
জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থার (জাইকা) প্রেসিডেন্ট, জাপান ব্যাংক ফর ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশনের (জেবিআইসি) গভর্নর এবং জাপান এক্সটার্নাল ট্রেড অর্গানাইজেশনের (জেট্রো) প্রেসিডেন্টের সঙ্গেও বৈঠকের পরিকল্পনা রয়েছে।
সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যানের সঙ্গে বৈঠকের বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে।
প্রস্তাবিত সফরসূচিতে চিবা অঞ্চলের একটি তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) টার্মিনাল ও বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং নাগোয়ার একটি টয়োটা কারখানা পরিদর্শনের কর্মসূচিও রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তারদ স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান, মন্ত্রী, উপদেষ্টা, জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা এবং প্রতিনিধিদলের অন্যান্য সদস্য সফর করবেন। প্রতিনিধিদল বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ফ্লাইটে জাপান যাবে।
সমঝোতা স্মারক সইয়ের বাইরেও এ সফরে চলতি বছরের ৬ ফেব্রুয়ারি সই হওয়া অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (ইপিএ) বাস্তবায়ন এগিয়ে নেয়া এবং বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণের বাস্তব চ্যালেঞ্জগুলো নিয়ে আলোচনা হবে।
পররাষ্ট্র সচিব সিয়াম বলেন,
আলোচনায় চুক্তি বাস্তবায়ন, জাপানের বাজারে বাংলাদেশের পণ্যের প্রবেশাধিকার বাড়ানো এবং ব্যবসায়িক যোগাযোগ জোরদারের বিষয়গুলো গুরুত্ব পাবে।
ঢাকার এমআরটি লাইন-১ প্রকল্পের ব্যয় ৮৩ শতাংশ এবং এমআরটি লাইন-৫ প্রকল্পের ব্যয় ১১৩ শতাংশ বেড়ে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে অবকাঠামো প্রকল্পের ব্যয় ও অর্থায়নের শর্তও আলোচনায় আসবে।
ব্যয় বৃদ্ধি এবং জাপানি ঋণের সুদের হার কমানোর বিষয়ে আলোচনা হবে কি না-- এমন প্রশ্নের জবাবে সিয়াম বলেন, বাংলাদেশ অবকাঠামো উন্নয়নে অর্থায়ন ও কারিগরি সহায়তা চেয়েছে।
তিনি বলেন, দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে অবকাঠামো সহযোগিতার এসব বিষয় অবশ্যই আলোচনায় আসবে। আলোচনা শুধু মেট্রোরেল প্রকল্পের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না।
সিয়াম বলেন, ‘আমরা সব দেশ থেকেই কম সুদে ঋণ পেতে চাই। বৈশ্বিক অর্থায়নব্যবস্থা এবং সংশ্লিষ্ট দেশভিত্তিক বিভিন্ন বিষয় আলোচনার ফলাফলকে প্রভাবিত করবে।’
জাপান বাংলাদেশে মেট্রোরেল, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল এবং মাতারবাড়ী অবকাঠামো উন্নয়নসহ বেশ কয়েকটি বড় প্রকল্পে সহায়তা করছে।
২০১৪ সালে চালু হওয়া ‘বে অব বেঙ্গল ইন্ডাস্ট্রিয়াল গ্রোথ বেল্ট’ বা ‘বিগ-বি’ উদ্যোগ অবকাঠামো, শিল্প ও আঞ্চলিক যোগাযোগব্যবস্থার মধ্যে সংযোগ স্থাপনের একটি কাঠামো হিসেবে কাজ করছে।
ড. আনোয়ারউল্লাহ বলেন,
মাতারবাড়ী ও আড়াইহাজারে অবকাঠামো বিনিয়োগের সঙ্গে শিল্প উৎপাদন, স্থানীয় সরবরাহকারী এবং কর্মসংস্থানের সংযোগ ঘটানোর সুযোগ রয়েছে।
তিনি বলেন, প্রস্তুত জমি, নির্ভরযোগ্য বিদ্যুৎ ও পানি সরবরাহ, পরিবহন যোগাযোগ এবং অনুমোদন পাওয়ার পূর্বানুমেয় প্রক্রিয়া বিনিয়োগকারীদের আগ্রহকে কার্যকর ব্যবসায় রূপ দিতে সহায়তা করবে।
পররাষ্ট্র সচিব জানান, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, ডিজিটাল রূপান্তর এবং মানবসম্পদ উন্নয়নও আলোচনায় স্থান পাবে।
দ্বিপক্ষীয় বিষয়গুলোর পাশাপাশি দুই দেশ আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা, জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সহযোগিতা এবং রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই ও শান্তিপূর্ণ সমাধান নিয়ে আলোচনা করবে।
দীর্ঘদিনের সম্পর্কের ভিত্তিতে নতুন সহযোগিতা কাঠামো, প্রাতিষ্ঠানিক যোগাযোগ জোরদার এবং অর্থনৈতিক সুযোগ সম্প্রসারণের মাধ্যমে দুই দেশের অংশীদারত্বকে আরও এগিয়ে নেয়াই এ সফরের লক্ষ্য।
সূত্র: বাসস
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরও শক্তিশালী করার জন্য, জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলা এবং পুলিশের দীর্ঘমেয়াদী যানবাহন সংকট সমাধানের লক্ষ্যে সরকার ৫ হাজার ৮৩০টি নতুন যানবাহন ক্রয়ের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। এই উদ্দেশ্যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ৬ হাজার ৬০৮ কোটি ১৪ লাখ টাকার দুটি প্রকল্প প্রস্তাব করেছে।
পরিকল্পনা কমিশনে আগামী ২৫ অক্টোবর (রোববার) জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় প্রকল্প দুটি অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হবে। সভায় সভাপতিত্ব করবেন একনেক চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
প্রস্তাবিত মোট ব্যয়ের মধ্যে ৪ হাজার ৮২৯টি অপারেশনাল (ডিউটি) যানবাহন কেনার জন্য ৪ হাজার ৩২৮ কোটি টাকা ব্যয় হবে। অন্যদিকে, ১ হাজার ১টি বিশেষায়িত যানবাহন ক্রয়ের জন্য ব্যয় ধরা হয়েছে ২ হাজার ২৮০ কোটি ১৪ লাখ টাকা। সম্পূর্ণ সরকারি অর্থায়নে প্রকল্প দুটি অক্টোবর ২০২৬ থেকে জুন ২০২৯ মেয়াদে বাস্তবায়নের জন্য প্রস্তাবিত হয়েছে।
পুলিশের বিদ্যমান যানবাহনের ঘাটতির পটভূমিতে এই উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। প্রকল্প প্রস্তাবনায় উল্লেখ করা হয়েছে, দেশের ৬৩৯টি থানায় ১ লাখ ৪৭ হাজার বর্গকিলোমিটার এলাকা পাহারা দেওয়ার জন্য বর্তমানে মাত্র ১ হাজার ২৩৭টি সচল যানবাহন রয়েছে। এই হিসাবে প্রতিটি থানায় গড়ে দুটি যানবাহনও নেই। তাছাড়া, বিদ্যমান যানবাহনের প্রায় ৬৪ শতাংশই ১০ বছরের বেশি পুরোনো। ফলে নিয়মিত টহল বজায় রাখা, জরুরি সাড়া প্রদান ও দ্রুত ফোর্স মোতায়েনের ক্ষেত্রে পুলিশ বাহিনী নানা জটিলতায় পড়ছে।
মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বিশেষায়িত যানবাহন প্রকল্পের আওতায় কেনা হবে দাঙ্গা নিয়ন্ত্রণ যান, দুর্গম এলাকায় চলাচলের উপযোগী বিশেষ গাড়ি, ভ্রাম্যমাণ কমান্ড সেন্টার এবং অপরাধস্থল পরিদর্শনের ভ্যান। এছাড়া, নৌপথের নিরাপত্তা, টহল ও উদ্ধারকাজে গতি আনতে স্পিডবোট ও দেশীয় জলযান কেনার পরিকল্পনাও রয়েছে।
যানবাহন কেনার পাশাপাশি, দুটি প্রকল্পেই চালক ও মেকানিকদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এর মধ্যে অপারেশনাল প্রকল্পের আওতায় ১ হাজার এবং বিশেষায়িত প্রকল্পের আওতায় ৯৬০ জন পুলিশ সদস্যকে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ প্রদান করা হবে।
প্রকল্প দুটির অর্থনৈতিক সম্ভাব্যতা যাচাই করেছে ‘হকস বে’ নামক প্রতিষ্ঠান। তাদের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, সম্ভাব্য আর্থিক হিসাব অনুযায়ী প্রকল্প দুটির অর্থনৈতিক সুফল খরচের তুলনায় বেশি। ১৫ অক্টোবর প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির সভায় অপারেশনাল প্রকল্পের বিষয়ে পর্যালোচনা করা হয়, যেখানে কিছু বিদেশি প্রশিক্ষণ বাতিলসহ পরিকল্পনা ও অর্থ বিভাগের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রস্তাবনা সংশোধনের সুপারিশ করা হয়েছে।
প্রকল্প দুটি বাস্তবায়িত হলে পুলিশ বাহিনীর সক্ষমতা বহুগুণ বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে, তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এর সুফল সুষ্ঠু ক্রয়প্রক্রিয়া, চাহিদা অনুযায়ী বণ্টন ও নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের ওপর নির্ভর করবে।
সূত্র: বাসস
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
গ্যাস পাইপলাইনের জরুরি মেরামত কাজের কারণে আগামীকাল শনিবার রাজধানীর নতুন বাজার থেকে কুড়িল বিশ্বরোড পর্যন্ত বিস্তীর্ণ এলাকায় গ্যাস সরবরাহ চার ঘণ্টা বন্ধ থাকবে।
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড এই তথ্য জানায়।
বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, পাইপলাইনের জরুরি লিকেজ মেরামতকাজের জন্য শনিবার (২৪ অক্টোবর) দুপুর ২টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত মোট ৪ ঘণ্টা নতুন বাজার থেকে কুড়িল বিশ্বরোড পর্যন্ত রাস্তার উভয় পাশে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকবে।
এ কারণে নর্দা, কালাচাঁদপুর, বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা, জোয়ার সাহারা, ভাটারা, বারিধারা ‘জে’ ব্লকসহ পার্শ্ববর্তী এলাকাগুলোতে সব ধরনের গ্রাহকের (আবাসিক, বাণিজ্যিক ও শিল্প) গ্যাস সরবরাহ সম্পূর্ণরূপে বন্ধ থাকবে।
এছাড়া, ওই সময়ে আশপাশের এলাকাগুলোতেও গ্যাসের স্বল্পচাপ বিরাজ করতে পারে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে। গ্রাহকদের সাময়িক এই অসুবিধার জন্য তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ দুঃখ প্রকাশ করেছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
কক্সবাজারের সৈকতপাড়ের হোটেল সি প্রিন্সেসে আগুনের ঘটনা ঘটেছে, টুপটুপ রিসোর্টে আগুনের জের কাটতে না কাটতেই।
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) বিকেলে হোটেলের বেজমেন্টে অবস্থিত জেনারেটর রুমে আগুনের সূত্রপাত ঘটে।
এই ঘটনার ফলে পর্যটকদের মধ্যে ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
হোটেল কর্তৃপক্ষের দাবি, তাদের নিজস্ব অগ্নিনির্বাপণ দলের দ্রুত পদক্ষেপের ফলে ৫ মিনিটের মধ্যে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়।
পরে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি পরিদর্শন করে।
এই ঘটনায় হতাহতের কোনো খবর নেই। তবে আতঙ্কিত অনেক পর্যটক লাগেজ নিয়ে হোটেল ত্যাগ করেন।
হোটেল কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, আগুন লাগার সময় সেখানে ৪৫০ জন অতিথি অবস্থান করছিলেন।
বিদ্যুৎ সরবরাহে সাময়িক বিঘ্ন ঘটার পর জেনারেটর চালু হলে এর ফিল্টার থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা জানান, জেনারেটরের অতিরিক্ত গরম হয়ে যাওয়াকে আগুন লাগার সম্ভাব্য কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
হোটেল সি প্রিন্সেসের সিকিউরিটি ইনচার্জ মো. মিজান বলেন, "প্রাথমিকভাবে বৈদ্যুতিক লাইনে অতিরিক্ত তাপ সৃষ্টির কারণে আগুন লাগতে পারে।"
আগুনের ঘটনা নজরে আসার সঙ্গে সঙ্গে হোটেলের নিজস্ব নিরাপত্তা ও অগ্নিনির্বাপণ দলের সদস্যরা দ্রুত কাজ শুরু করেন।
ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের কক্সবাজার কার্যালয়ের পরিদর্শক মো. শফিকুল ইসলাম জানান, বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। সেখানে পৌঁছে দেখা যায়, হোটেল কর্তৃপক্ষ তাদের নিজস্ব অগ্নিনির্বাপণ সরঞ্জাম ব্যবহার করে আগুন নিয়ন্ত্রণে এনেছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ