প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
মাগুরা জেলা থেকে ৬ শিক্ষার্থী প্রশিক্ষণ কর্মশালায় অংশ নিতে ফরিদপুরে আসেন। বাড়ি ফেরার সময় সড়ক দুর্ঘটনায় তিন জনের প্রাণহানি ঘটে। আহত তিন জনকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অন্যদিকে, বালু বাহী ট্রাকের চাপায় মা-ছেলে সহ তিন জনের মৃত্যু ঘটে। এ দুর্ঘটনায় ৫ জন আহত হয়েছেন। তাদেরও উদ্ধার করে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
জানা যায়, শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সকালে মাগুরা জেলা সদর থেকে ফরিদপুরে কর্মশালায় অংশ নিতে আসেন ৬ শিক্ষার্থী। কর্মশালা শেষে বিকাল ৩টার দিকে অ্যাম্বুলেন্সযোগে মাগুরার উদ্দেশ্যে রওনা দেন তারা। সাড়ে ৩টার দিকে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের মধুখালী উপজেলার আরকান্দী এলাকায় পৌঁছালে, সাতক্ষীরা থেকে ঢাকা গামী কিং ফিসার নামের যাত্রীবাহি বাসটির সাথে অ্যাম্বুলেন্সটির মুখোমুখি সংঘর্ষ ঘটে। এতে ঘটনাস্থলেই অ্যাম্বুলেন্সে থাকা তিন শিক্ষার্থী নিহত হন। গুরুতর আহত ৩ শিক্ষার্থীকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
নিহত শিক্ষার্থীরা হলেন, মাগুরা সরকারি কলেজের রসায়ন বিভাগের অনার্স শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী তামান্না তাবাচ্ছুম ঐশি (২৪), বুজরুক শ্রীকন্ডি মহাবিদ্যালয়ের এইচএসসি পরীক্ষার্থী রাব্বি মোল্যা (১৯) এবং মাগুরা সরকারি কলেজের অনার্স ১ম বর্ষের শিক্ষার্থী নূর মোহাম্মদ (২২)। তাদের সকলের বাড়ি মাগুর পৌর সদর এলাকায়।
আহত শিক্ষার্থীরা হলেন, বুজরুক শ্রীকন্ডি মহাবিদ্যালয়ের এইচএসসি পরীক্ষার্থী সাগর বিশ্বাস (২০), এইচএসসি পরীক্ষার্থী রিয়া (১৮) এবং মাগুরা সরকারি কলেজের অনার্স ১ম বর্ষের শিক্ষার্থী জয় (১৯)। তারা বর্তমানে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
ভলেন্টিয়ার ডেভোলপমেন্ট ফোরামের (ভিডিএফ) মাগুরা জেলা শাখার সভাপতি ইব্রাহিম শেখ জানান, নিহত ও আহত ৬ শিক্ষার্থীর বাড়ি মাগুরা পৌর সদরে। পড়ালেখার পাশাপাশি তারা বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের সাথে জড়িত ছিলেন। শুক্রবার সকালে ফরিদপুরের ব্র্যাক লার্নিং সেন্টারে সমতায় তারুণ্য শীর্ষক কর্মশালায় অংশ নিতে যান তারা।
তিনি আরো জানান, কর্মশালা শেষে বাড়ি ফেরার জন্য সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে ছিলেন শিক্ষার্থীরা। এসময় একটি ফাঁকা অ্যাম্বুলেন্স মাগুরার উদ্দেশ্যে যাচ্ছিল। অ্যাম্বুলেন্সটি ফাঁকা থাকায় ৬ শিক্ষার্থী ওই অ্যাম্বুলেন্সে ওঠেন। পথিমধ্যে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের মধুখালী উপজেলার আড়কান্দী নামক স্থানে পৌঁছালে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
মধুখালী ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার শামিম রেজা জানান, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে এসে দেখেন তিন জন মারা গেছেন। গুরুতর আহত তিন জনকে উদ্ধার করে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
এদিকে, বালুবাহী ট্রাক চাপায় ইজিবাইকের তিন যাত্রী নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে আরো ৫ জন। নিহত তিন জনের মধ্যে দুই জন মা-ছেলে এবং এক জনের পরিচয় এখনও পাওয়া যায়নি। আহতদের উদ্ধার করে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) পৌনে ৪টার দিকে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের সদর উপজেলার তেতুলতলা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
জানা যায়, ফরিদপুর থেকে বালুবোঝাই একটি ট্রাক তেতুলতলা এলাকায় পৌঁছালে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের উপর উল্টে যায়। এসময় ট্রাকে থাকা বালুর নিচে চাপা পড়ে একটি ইজিবাইক ও একটি প্রাইভেটকার। গুরুতর আহত হয় ইজিবাইকে থাকা ৪ জন ও প্রাইভেটকারে থাকা ৪ জন। গুরুতর আহতদের উদ্ধার করে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক সুমী আক্তার (৩২) ও তার ছেলে শাওন (০৭) কে মৃত ঘোষণা করেন। নিহতদের বাড়ি মাগুরা জেলার মহম্মদপুর উপজেলায়।
এদিকে, এ দুর্ঘটনায় বালির নিচে চাপা পড়া অবস্থায় দুই ঘণ্টা চেষ্টার পর আরো এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করে ফায়ার সার্ভিস ও হাইওয়ে পুলিশ। তবে তার পরিচয় এখনো পাওয়া যায়নি।
ফরিদপুর ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার শ্রীবাস বাড়ৈ জানান, আহতদের উদ্ধার করে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মা-ছেলে দুই জনকে মৃত ঘোষণা করেন। এছাড়া দুই ঘণ্টা চেষ্টার পর আরো এক জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
করিমপুর হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুস সালাম জানান, ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের জেলার মধুখালী উপজেলার আরকান্দী এলাকায় যাত্রীবাহি বাসের সাথে অ্যাম্বুলেন্সের মুখোমুখি সংঘর্ষে ঘটনাস্থলেই অ্যাম্বুলেন্সে থাকা তিন শিক্ষার্থী নিহত হন। গুরুতর আহত তিন শিক্ষার্থীকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তবে অ্যাম্বুলেন্সের চালকের সন্ধান পাওয়া যায়নি।
তিনি আরো জানান, দুর্ঘটনা কবলিত বাস ও অ্যাম্বুলেন্সটি জব্দ করে থানায় আনা হয়েছে। নিহত শিক্ষার্থীদের পরিবারের সদস্যদের খবর দেয়া হয়েছে, তারা আসলে মরদেহ হস্তান্তর করা হবে।
এ দুর্ঘটনায় বালির নিচে চাপা পড়া অবস্থায় দুই ঘণ্টা চেষ্টার পর আরো এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করে ফায়ার সার্ভিস ও হাইওয়ে পুলিশ। তবে তার পরিচয় এখনো পাওয়া যায়নি। মরদেহ থানায় এনে রাখা হয়েছে। দুইটি ঘটনায় মামলার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন