প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরও শক্তিশালী করার জন্য, জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলা এবং পুলিশের দীর্ঘমেয়াদী যানবাহন সংকট সমাধানের লক্ষ্যে সরকার ৫ হাজার ৮৩০টি নতুন যানবাহন ক্রয়ের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। এই উদ্দেশ্যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ৬ হাজার ৬০৮ কোটি ১৪ লাখ টাকার দুটি প্রকল্প প্রস্তাব করেছে।
পরিকল্পনা কমিশনে আগামী ২৫ অক্টোবর (রোববার) জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় প্রকল্প দুটি অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হবে। সভায় সভাপতিত্ব করবেন একনেক চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
প্রস্তাবিত মোট ব্যয়ের মধ্যে ৪ হাজার ৮২৯টি অপারেশনাল (ডিউটি) যানবাহন কেনার জন্য ৪ হাজার ৩২৮ কোটি টাকা ব্যয় হবে। অন্যদিকে, ১ হাজার ১টি বিশেষায়িত যানবাহন ক্রয়ের জন্য ব্যয় ধরা হয়েছে ২ হাজার ২৮০ কোটি ১৪ লাখ টাকা। সম্পূর্ণ সরকারি অর্থায়নে প্রকল্প দুটি অক্টোবর ২০২৬ থেকে জুন ২০২৯ মেয়াদে বাস্তবায়নের জন্য প্রস্তাবিত হয়েছে।
পুলিশের বিদ্যমান যানবাহনের ঘাটতির পটভূমিতে এই উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। প্রকল্প প্রস্তাবনায় উল্লেখ করা হয়েছে, দেশের ৬৩৯টি থানায় ১ লাখ ৪৭ হাজার বর্গকিলোমিটার এলাকা পাহারা দেওয়ার জন্য বর্তমানে মাত্র ১ হাজার ২৩৭টি সচল যানবাহন রয়েছে। এই হিসাবে প্রতিটি থানায় গড়ে দুটি যানবাহনও নেই। তাছাড়া, বিদ্যমান যানবাহনের প্রায় ৬৪ শতাংশই ১০ বছরের বেশি পুরোনো। ফলে নিয়মিত টহল বজায় রাখা, জরুরি সাড়া প্রদান ও দ্রুত ফোর্স মোতায়েনের ক্ষেত্রে পুলিশ বাহিনী নানা জটিলতায় পড়ছে।
মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বিশেষায়িত যানবাহন প্রকল্পের আওতায় কেনা হবে দাঙ্গা নিয়ন্ত্রণ যান, দুর্গম এলাকায় চলাচলের উপযোগী বিশেষ গাড়ি, ভ্রাম্যমাণ কমান্ড সেন্টার এবং অপরাধস্থল পরিদর্শনের ভ্যান। এছাড়া, নৌপথের নিরাপত্তা, টহল ও উদ্ধারকাজে গতি আনতে স্পিডবোট ও দেশীয় জলযান কেনার পরিকল্পনাও রয়েছে।
যানবাহন কেনার পাশাপাশি, দুটি প্রকল্পেই চালক ও মেকানিকদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এর মধ্যে অপারেশনাল প্রকল্পের আওতায় ১ হাজার এবং বিশেষায়িত প্রকল্পের আওতায় ৯৬০ জন পুলিশ সদস্যকে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ প্রদান করা হবে।
প্রকল্প দুটির অর্থনৈতিক সম্ভাব্যতা যাচাই করেছে ‘হকস বে’ নামক প্রতিষ্ঠান। তাদের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, সম্ভাব্য আর্থিক হিসাব অনুযায়ী প্রকল্প দুটির অর্থনৈতিক সুফল খরচের তুলনায় বেশি। ১৫ অক্টোবর প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির সভায় অপারেশনাল প্রকল্পের বিষয়ে পর্যালোচনা করা হয়, যেখানে কিছু বিদেশি প্রশিক্ষণ বাতিলসহ পরিকল্পনা ও অর্থ বিভাগের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রস্তাবনা সংশোধনের সুপারিশ করা হয়েছে।
প্রকল্প দুটি বাস্তবায়িত হলে পুলিশ বাহিনীর সক্ষমতা বহুগুণ বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে, তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এর সুফল সুষ্ঠু ক্রয়প্রক্রিয়া, চাহিদা অনুযায়ী বণ্টন ও নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের ওপর নির্ভর করবে।
সূত্র: বাসস
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন