ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

ঝিনাইদহের প্রধান শিক্ষক পিয়ার মোহাম্মদের বিরুদ্ধে অভিযোগের ঝড়


ঝিনাইদহের প্রধান শিক্ষক পিয়ার মোহাম্মদের বিরুদ্ধে অভিযোগের ঝড়

ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার বড় বায়সা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষা কার্যক্রম ও প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। প্রধান শিক্ষক পিয়ার মোহাম্মদের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে, পুকুর ইজারায় নিয়ম না মানা, আয়-ব্যয়ের হিসাব যথাযথভাবে সংরক্ষণ না করে তছরুপ, মুভমেন্ট রেজিস্টার না থাকা, অনলাইন ও শ্রেণিভিত্তিক রেজিস্টার খাতায় শিক্ষার্থীর সংখ্যার অমিল, একাধিক শ্রেণির শিক্ষার্থীকে একই কক্ষে পাঠদান, নিয়মিত পাঠদান ও শ্রেণি পর্যবেক্ষণ না করা, স্লিপের অর্থ ভুয়া বিল-ভাউচারে উত্তোলন এবং ভারতীয় সনদ ব্যবহার করে চাকরিতে যোগদানের অভিযোগ।

বিদ্যালয়ে প্রকৃত শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৪৪ জন হলেও মাসিক রিটার্নে ৫৯ জন দেখানো হয়েছে। কাগজে-কলমে ভুয়া ১৫ জন শিক্ষার্থী দেখানো হলেও বাস্তবে তাদের কোনো অস্তিত্ব নেই। অর্থাৎ, বিদ্যালয়ে প্রায় ৯ জন শিক্ষার্থীর জন্য একজন করে মোট পাঁচজন শিক্ষক রয়েছেন।

জানা গেছে, প্রাক্-প্রাথমিক শ্রেণিতে আটজন শিক্ষার্থী থাকার পরও রিটার্নে ১৪ জন দেখানো হয়েছে। প্রথম শ্রেণিতে ১৩ জন শিক্ষার্থী রয়েছে, কিন্তু রিটার্নে ১৩ জনই দেখানো হয়েছে। দ্বিতীয় শ্রেণিতে পাঁচজন শিক্ষার্থী থাকলেও রিটার্নে সাতজন দেখানো হয়েছে। তৃতীয় শ্রেণিতে রিটার্নে ১০ জন দেখানো হলেও বাস্তবে আছে আটজন। চতুর্থ শ্রেণিতে রিটার্নে নয়জন দেখানো হলেও বাস্তবে সাতজন শিক্ষার্থী রয়েছে। সর্বশেষ পঞ্চম শ্রেণিতে রিটার্নে ছয়জন উল্লেখ আছে, কিন্তু বাস্তবে মাত্র তিনজন শিক্ষার্থী রয়েছে।

আরও পড়ুন: ‘আল্লাহর বাড়ি মানুষ যায় পবিত্র নিয়তে, ওখানে এ ধরনের কর্মকাণ্ড ঠিক না’ হুমায়ুন কবিরের মন্তব্য

প্রাক্-প্রাথমিক শ্রেণির ইয়ামিন এবং প্রথম শ্রেণির ইয়াসিন ও রমজান নামের দুই শিক্ষার্থী মাদ্রাসায় ভর্তি হলেও সরকারি বিদ্যালয়ের উপবৃত্তির তালিকা থেকে তাদের নাম বাদ দেওয়া হয়নি। অভিযোগ রয়েছে, সরকারি বিধি উপেক্ষা করে শিক্ষার্থী কম থাকলেও বেশি দেখিয়ে এবং নানা অনিয়মের মাধ্যমে বিদ্যালয়টি পরিচালনা করছেন প্রধান শিক্ষক পিয়ার মোহাম্মদ। এদিকে, দায়িত্বপ্রাপ্ত উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক হিসেবে পিয়ার মোহাম্মদ ৫ সেপ্টেম্বর ১৯৯০ সালে যোগদান করেন। চাকরিতে যোগদানের সময় তিনি পার্শ্ববর্তী রাষ্ট্র ভারতের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে পাশের সনদ ব্যবহার করেছেন বলে জানা গেছে। পশ্চিমবঙ্গের মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ১৯৮৮ সালে আলিম এবং ১৯৯০ সালে ফাজিল পরীক্ষার সনদের কপি জমা দিয়েছিলেন তিনি। বাংলাদেশের সরকারি চাকরির ক্ষেত্রে তার ব্যবহৃত ভারতীয় সনদের সত্যতা এবং তা যথাযথ নিয়ম অনুসারে ও বৈধভাবে ব্যবহার করা হয়েছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

চাকরির বিধিমালা অনুযায়ী, কোনো বিদেশি ডিগ্রিধারী চাকরিপ্রার্থী যদি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ (ইউজিসি বা শিক্ষা বোর্ড) থেকে সমতা সনদ বা ‘ইকুইভ্যালেন্সি সার্টিফিকেট’ জমা দিতে পারেন, তবে তিনি সরকারি চাকরির জন্য যোগ্য বলে বিবেচিত হবেন। এ ক্ষেত্রে পিয়ার মোহাম্মদ সমতা সনদ জমা দিয়েছেন কি না, তা খতিয়ে দেখার দাবি উঠেছে।

অনুসন্ধানে আরও জানা গেছে, ২০২৪ সালের পুকুর ইজারা বাবদ পাওয়া অর্থের যথাযথ হিসাব না থাকা এবং ২০২৬ সালে পুকুর ইজারা দেওয়ার ক্ষেত্রেও যথাযথ নিয়ম অনুসরণ না করে পছন্দের ব্যক্তিকে ইজারা দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। ইজারা দেওয়ার পর বিষয়টি বৈধতা দেওয়ার জন্য পরবর্তী সময়ে ব্যাকডেটে রেজুলেশন তৈরি করে অর্থ ব্যাংকে জমা রাখা হয়েছিল বলে অভিযোগ। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট রেজুলেশন, ব্যাংক হিসাব, ইজারা-সংক্রান্ত কাগজপত্র ও অর্থ জমার সময় যাচাই করা হলে প্রকৃত ঘটনা বেরিয়ে আসবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করেন।

আরও পড়ুন: জলবায়ু ও উন্নয়ন কাজে তুরস্কের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার চায় বাংলাদেশ

বিদ্যালয়ের আর্থিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে স্লিপের টাকা খরচ দেখিয়ে বিভিন্ন ভুয়া বিল-ভাউচারে প্রধান শিক্ষক নিজের হাতে লিখে টাকা উত্তোলন করেছেন বলে অভিযোগ। ওইসব বিল-ভাউচার পর্যালোচনা করে দেখা যায়, কালীগঞ্জে অবস্থিত তুষার ইলেকট্রিক থেকে পেপার ও প্রিন্টার মেশিনের টোনার কেনা হয়েছে। অথচ ওই দোকানে এ ধরনের মালামাল বিক্রি হয় না বলে অভিযোগ রয়েছে।

সম্প্রতি বিদ্যালয়ে এক ছাত্রীকে জড়িয়ে সহকারী শিক্ষক শাহ আলমকে কর্মরত অবস্থায় মারধরের ঘটনায় তিনি সাময়িক বরখাস্ত হন এবং ওই পরিবারের একজন তাঁর নামে থানায় মামলা করেন। উক্ত ঘটনায় শাহ আলম নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন এবং জামিনে মুক্ত হয়ে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে আদালতে দ্রুত সিআর ৫২/২০২৬ নম্বর মামলা দায়ের করেন। ঝিনাইদহের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত মামলাটি উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে তদন্ত করে ১৪ ডিসেম্বর প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন।

বিদ্যালয়ের নানা অনিয়ম এবং চাকরিতে যোগদানের সময় ভারতীয় সনদ ব্যবহারের বিষয়ে প্রধান শিক্ষক পিয়ার মোহাম্মদের সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন, "বিদ্যালয় টিকিয়ে রাখতে অল্প কয়েকজন শিক্ষার্থী বেশি দেখানো হয়েছে। স্লিপের টাকা নিয়ম মেনে খরচ করা হয়েছে। পুকুর ইজারা দেওয়া এবং সেখান থেকে আয় হওয়া অর্থ ব্যয়ে কোনো অনিয়ম করা হয়নি। বাংলাদেশের সরকারি চাকরিতে আমার শিক্ষাগত যোগ্যতার ভারতীয় সনদ যথাযথ নিয়ম মেনেই ব্যবহার করা হয়েছে। ইতিপূর্বে তা কর্তৃপক্ষ একাধিকবার যাচাই-বাছাই করলেও কোনো ত্রুটি পায়নি। সহকারী শিক্ষক শাহ আলম ও একজন শিক্ষার্থীকে কেন্দ্র করে ঘটে যাওয়া ঘটনার প্রেক্ষিতেই শাহ আলম কোর্টে মামলা করেছেন, যে বিষয়টি ইতিমধ্যে আমি জেনেছি। আশা করছি, কয়েক দিনের মধ্যে ওই বিষয়েও সুষ্ঠু মীমাংসা হয়ে যাবে।"

কালীগঞ্জ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা রোকনুজ্জামানের কাছে অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, "বড় বায়সা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় নিয়ে যেসব অভিযোগের কথা বলা হয়েছে, সেগুলো গুরুত্বসহকারে খতিয়ে দেখা হবে। শিক্ষার্থীর সংখ্যা, রিটার্ন, পুকুর ইজারা, আয়-ব্যয়ের হিসাব, স্লিপের অর্থ ব্যয় এবং অন্যান্য প্রশাসনিক বিষয় সংশ্লিষ্ট নথিপত্র যাচাই করে দেখা হবে। কোনো অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আর আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী তদন্তের বিষয়টিও যথাযথভাবে সম্পন্ন করা হবে।"

আরও পড়ুন: ক্ষমা চাইলেন ‘পাপের লাশ বাংলাদেশে আসুক চাই না’ বলা এমপি রতন

ঝিনাইদহ জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আমজাদ হোসেন বলেন, "সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী-সংক্রান্ত তথ্য, আর্থিক লেনদেন ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে নিয়ম মেনে চলা বাধ্যতামূলক। বড় বায়সা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় নিয়ে উত্থাপিত অভিযোগগুলো যাচাই করে দেখা হবে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ছাড়া প্রধান শিক্ষকের শিক্ষাগত সনদ ও চাকরিতে যোগদানের সময় ব্যবহৃত কাগজপত্র নিয়েও যদি কোনো প্রশ্ন থাকে, তাহলে সংশ্লিষ্ট নথি যাচাই করে প্রকৃত বিষয়টি নিশ্চিত করা হবে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

হিলিতে শিয়ালের কামড়ে নারী-শিশুসহ ৮ জন আহত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৬ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৪:২৪ পি.এম


হিলিতে শিয়ালের কামড়ে নারী-শিশুসহ ৮ জন আহত

দিনাজপুরের হিলির সাদুরিয়া এলাকায় শিয়ালের কামড়ে নারী ও শিশুসহ আটজন আহত হয়েছেন।

এটি ঘটে সোমবার (৫ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৭টার দিকে।

আহতদের মধ্যে রয়েছেন সাদুরিয়া গ্রামের শেফালী বেগম (৩০), শিউলি (২৭), দেবাশী (৪৩), ডলি বেগম (৩০), ইয়াসিন আরাফাত (১১), সুফিয়ান (৩৯), মমতাজ (৫৫) এবং রাহুল আমিন (৯)।

আহতরা জানান, সন্ধ্যা ৭টার দিকে সাদুরিয়া গ্রামের একটি মুদি দোকানের সামনে স্থানীয় কয়েকজন মানুষ বসে সময় কাটাচ্ছিলেন। হঠাৎ করে একটি শিয়াল ধানখেত থেকে বের হয়ে এসে তাদের ওপর হামলে পড়ে এবং কামড় দেয়। স্থানীয় লোকজন শিয়ালটিকে প্রতিরোধ করার চেষ্টা করলে শিয়ালটি তাদেরকেও কামড় দেয়। এভাবে বেশ কয়েকজন নারী, পুরুষ ও শিশুকে কামড়ে আহত করে শিয়ালটি।

আহতদের উদ্ধার করে দ্রুত হাকিমপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। জরুরি বিভাগে চিকিৎসা শেষে তাদের বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।

হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. তৌহিদ হোসেন জামান জানান, রাত ১০টা পর্যন্ত নারী, পুরুষ ও শিশুসহ মোট আটজন শিয়ালের কামড়ে আহত রোগীকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, সম্প্রতি গ্রামের পাড়া-মহল্লাগুলোতে শিয়ালের উপদ্রব বেড়েছে। এতে তারা আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের ১৮০ কর্মকর্তাকে বিশেষ নির্দেশনা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৬ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৪:২৪ পি.এম


প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের ১৮০ কর্মকর্তাকে বিশেষ নির্দেশনা

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের ১৮০ কর্মকর্তাকে দেশের বিভিন্ন উপজেলা ও থানায় পাঠানোর নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে, যা প্রাথমিক শিক্ষার মাঠপর্যায়ের কার্যক্রম সরেজমিনে পরিদর্শন, পর্যালোচনা ও পর্যবেক্ষণের জন্য।

এই নির্দেশনা প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের আগস্ট মাসের মাসিক সমন্বয় সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী জারি করা হয়েছে। গত ২৮ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত অফিস আদেশে কর্মকর্তাদের নামের পাশে নির্ধারিত উপজেলা বা থানার তালিকা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

অফিস আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে, কর্মকর্তাদের আগামী ৫ নভেম্বরের মধ্যে নির্ধারিত এলাকায় সরেজমিন পরিদর্শন সম্পন্ন করে প্রতিবেদন দাখিল করতে হবে।

এছাড়া, মহাপরিচালক, অতিরিক্ত মহাপরিচালক, পরিচালকসহ অধিদপ্তরের শীর্ষ কর্মকর্তাদের দেশের যেকোনো উপজেলা পরিদর্শন করার অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

বিভিন্ন বিভাগের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের নির্দিষ্ট উপজেলা ও থানায় পাঠানোর জন্যও তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে। তালিকায় জয়পুরহাট, বগুড়া, নওগাঁ, রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নাটোর, সিরাজগঞ্জ, পাবনা, কুষ্টিয়া, মেহেরপুর, চুয়াডাঙ্গা, ঝিনাইদহসহ দেশের বিভিন্ন জেলার উপজেলা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

নির্দেশনা অনুযায়ী, কর্মকর্তাদের কর্মস্থল ত্যাগের আগে নিজ নিজ বিভাগের পরিচালকের পূর্বানুমতি গ্রহণ করতে হবে। পরিচালকরা তাদের আওতাধীন কর্মকর্তাদের পর্যায়ক্রমে মাঠপর্যায়ে পরিদর্শনের জন্য কর্মস্থল ত্যাগের অনুমতি প্রদান করবেন।

অফিস আদেশে বলা হয়েছে, উপবৃত্তি বিভাগের কর্মকর্তারা নির্ধারিত ট্যুর ব্যবস্থার মাধ্যমে তাদের নামের পাশে উল্লেখিত উপজেলা বা থানার প্রাথমিক শিক্ষা অফিস এবং সংশ্লিষ্ট এলাকার তিনটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শন করবেন।

এসব বিদ্যালয়ের মধ্যে একটি শহর ও দুটি গ্রাম থেকে বিক্ষিপ্ত নমুনায়নের ভিত্তিতে নির্বাচন করতে হবে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সরেজমিনে দুই দিন অবস্থান করে পরিদর্শন, পর্যালোচনা ও পর্যবেক্ষণ করতে হবে।

অন্যদিকে, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের অন্যান্য বিভাগের কর্মকর্তাদের নির্ধারিত উপজেলা বা থানার দুটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শন করতে হবে।

এর মধ্যে একটি শহর ও একটি গ্রামীণ বিদ্যালয় বিক্ষিপ্ত নমুনায়নের ভিত্তিতে নির্বাচন করে সরেজমিনে এক দিন অবস্থান করে পরিদর্শন, পর্যালোচনা ও পর্যবেক্ষণ করতে বলা হয়েছে।

পরিদর্শন শেষে নির্ধারিত ছকে বিস্তারিত প্রতিবেদন তৈরি করে পরিদর্শন সম্পন্ন হওয়ার পরবর্তী পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের উপবৃত্তি বিভাগে জমা দিতে হবে।

প্রতিবেদন দাখিলের প্রমাণক কপি টিএ/ডিএ বিলের সঙ্গে সংযুক্ত করাও বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

অফিস আদেশে আরও বলা হয়েছে, কর্মকর্তারা নিজ নিজ বেতন খাত থেকে প্রচলিত বিধি-বিধান অনুযায়ী টিএ/ডিএ প্রাপ্য হবেন। অধিদপ্তরে সংযুক্তিতে কর্মরত কর্মকর্তাদের টিএ/ডিএ বিল মাঠপর্যায়ের সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে সংগ্রহ করতে হবে।

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের উপবৃত্তি বিভাগের পরিচালক (যুগ্ম সচিব) মো. মাসুদ হোসেন সোমবার (৫ অক্টোবর) অফিস আদেশে স্বাক্ষর করেছেন। সূত্র: বাসস

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সব সংস্করণের অধিনায়কত্ব ছাড়লেন হারমানপ্রীত কৌর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৬ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৪:২৫ পি.এম


সব সংস্করণের অধিনায়কত্ব ছাড়লেন হারমানপ্রীত কৌর

ভারতীয় নারী ক্রিকেট দলের দীর্ঘদিনের অধিনায়ক হারমানপ্রীত কৌর সব সংস্করণের নেতৃত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি বিবৃতির মাধ্যমে তিনি জানান, অধিনায়ক হিসেবে দলের জন্য তিনি যথাসাধ্য দায়িত্ব পালন করেছেন। এখন তিনি আবার শুধুমাত্র ক্রিকেটের প্রতি ভালোবাসা থেকে খেলায় মনোযোগ দিতে চান।

গুয়াহাটিতে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিসিআই) পর্যালোচনা বৈঠকের পর হারমানপ্রীতের নেতৃত্ব ছাড়ার বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। বৈঠকে ভারতীয় নারী দলের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করা হয়। এতে উপস্থিত ছিলেন বিসিসিআইয়ের সচিব দেবজিৎ সাইকিয়া, সহ-অধিনায়ক স্মৃতি মান্ধানা এবং প্রধান কোচ আমোল মুজুমদার।

২০১২ সালে গুয়াংজু এশিয়ান গেমসে পাকিস্তানের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি ম্যাচে প্রথমবার ভারতীয় দলের নেতৃত্ব দেন হারমানপ্রীত। ২০১৬ সালে তিনি টি-টোয়েন্টি দলের পূর্ণকালীন অধিনায়ক হন। মিতালি রাজের অবসর নেওয়ার পর ২০২২ সালে ওয়ানডে দলের নেতৃত্বও পান তিনি। এরপর ২০২৩ সালে তিন সংস্করণেই ভারতের অধিনায়কত্বের দায়িত্ব তার কাঁধে উঠে।

অধিনায়কত্ব ছাড়ার ঘোষণা দিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হারমানপ্রীত লেখেন, "আজ আমি সব ফরম্যাটে ভারতীয় নারী ক্রিকেট দলের অধিনায়কত্ব থেকে সরে দাঁড়াচ্ছি।"

নিজের সিদ্ধান্তকে কঠিন উল্লেখ করে তিনি বলেন, অধিনায়কত্বের সঙ্গে জড়িয়ে আছে বহু বছরের স্মৃতি, আবেগ, ত্যাগ এবং এমন অনেক মুহূর্ত, যা সারা জীবন তার সঙ্গে থাকবে।

হারমানপ্রীত বলেন, ভারতীয় নারী ক্রিকেট ও দলের জন্য তিনি নিজের সর্বোচ্চটা দিয়েছেন। দলের স্বার্থে অনেক সময় নিজের পারফরম্যান্স, উন্নতি ও ব্যক্তিগত আকাঙ্ক্ষাকেও পাশে সরিয়ে রাখতে হয়েছে।

অধিনায়ক হিসেবে অনেক কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে বলেও জানান তিনি। সব সিদ্ধান্ত সবাই বুঝতে পারেননি এবং কিছু সিদ্ধান্তের ব্যক্তিগত মূল্যও দিতে হয়েছে। তবে প্রতিটি সিদ্ধান্তের পেছনে দলের স্বার্থই প্রধান ছিল বলে জানান হারমানপ্রীত।

তিনি বলেন, "আমার মনে হচ্ছে, আমি আমার দায়িত্ব পালন করেছি। আমি এই দলকে আমার সবটুকু দিয়েছি এবং গর্বের সঙ্গে দায়িত্বটি বহন করেছি। ভারতীয় নারী ক্রিকেটের নেতৃত্ব দেওয়ার সুযোগ পাওয়ার জন্য আমি সবসময় কৃতজ্ঞ থাকব।"

অধিনায়কত্ব ছাড়লেও ভারতীয় দলের হয়ে খেলতে থাকবেন হারমানপ্রীত। নেতৃত্বের চাপ থেকে সরে এবার ব্যাটিং ও ক্রিকেটের প্রতি নিজের ভালোবাসার দিকেই আরও বেশি মনোযোগ দিতে চান তিনি।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

যমুনা সার কারখানায় ৮ মাস পর উৎপাদন শুরু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৬ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৪:২৫ পি.এম


যমুনা সার কারখানায় ৮ মাস পর উৎপাদন শুরু

জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলার তারাকান্দিতে অবস্থিত দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম ইউরিয়া সার উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান যমুনা সার কারখানায় উৎপাদন আবার শুরু হয়েছে।

মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) রাত ৩টা ১০ মিনিটে এই সার কারখানা উৎপাদনে ফিরে আসে। গ্যাস সংকটের কারণে দীর্ঘ আট মাস ধরে কারখানাটিতে সার উৎপাদন বন্ধ ছিল।

কারখানা সূত্রে জানা যায়, ১৯৯০ সালে জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে দৈনিক ১ হাজার ৭০০ মেট্রিক টন ইউরিয়া উৎপাদনক্ষমতাসম্পন্ন দানাদার ইউরিয়া সার উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান যমুনা সার কারখানা প্রতিষ্ঠা করা হয়। প্রতিষ্ঠার পর থেকে এই কারখানায় যমুনা সার উৎপাদন অব্যাহত ছিল। কিন্তু গত কয়েক বছরে যান্ত্রিক ত্রুটি ও গ্যাস সরবরাহের অভাবে উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়।

২০২৩ সালের ১৫ জানুয়ারি থেকে তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি কারখানাটির গ্যাসের চাপ কমিয়ে দেয়। এর ফলে অ্যামোনিয়া ও ইউরিয়া সার উৎপাদন সম্পূর্ণরূপে বন্ধ হয়ে যায়। এতে শ্রমিকদের কর্মহীন হয়ে পড়তে হয়।

গত বছর ২৩ ডিসেম্বর ইউরিয়া সার উৎপাদন শুরু হলেও অ্যামোনিয়া প্ল্যান্টে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেওয়ায় ৫ জানুয়ারি রাত থেকে আবার উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়।

সর্বশেষ ১৫ জানুয়ারি গ্যাস সংকটের কারণে যমুনা সার কারখানায় উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। অবশেষে দীর্ঘ আট মাস পর মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) রাত ৩টা ১০ মিনিটে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম যমুনা সার কারখানাটি ফের উৎপাদনে যায়।

জামালপুর, শেরপুর, ময়মনসিংহ ও টাঙ্গাইলসহ উত্তরবঙ্গের ১৯ জেলায় প্রায় আড়াই হাজার সার ডিলারের মাধ্যমে কৃষক পর্যায়ে সার সরবরাহ করা হয়।

যদি উৎপাদন অব্যাহত থাকে, তবে দেশের ১৯ জেলায় সার সরবরাহ সম্ভব হবে। ফলে সার সংকট অনেকটাই কমে আসবে।

এ ব্যাপারে কারখানার উপমহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন জানান, চলতি বছরের ১৫ জানুয়ারি থেকে দেশের অন্যতম বৃহৎ যমুনা সার কারখানায় সার উৎপাদন বন্ধ ছিল। তবে গ্যাস সরবরাহ থাকায় মঙ্গলবার রাত থেকে ফের উৎপাদন শুরু হয়েছে। ফলে দেশের বিভিন্ন জেলায় সার সরবরাহ নিশ্চিত করা যাবে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%