০৩:৩৪ পি.এম
সিলেট সিটি করপোরেশন (সিসিক) সড়ক নির্মাণ ও অবকাঠামো উন্নয়নে একটি নতুন যুগে প্রবেশ করতে যাচ্ছে। দক্ষিণ সুরমার তেতলি এলাকায় আধুনিক অ্যাসফল্ট ও রেডিমিক্স কংক্রিট প্ল্যান্ট নির্মাণ করা হচ্ছে প্রায় ১০০ কোটি টাকার ব্যয়ে। সংশ্লিষ্টদের মতে, প্রকল্পটি চালু হলে রাস্তা নির্মাণে ঠিকাদার বা বাইরের সরবরাহকারীর ওপর নির্ভরতা অনেকটা কমে যাবে।
সিসিক সূত্রে জানা গেছে, ৮ দশমিক ২০ একর জায়গাজুড়ে স্থাপিত এই প্ল্যান্টে নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় হটমিক্স অ্যাসফল্ট ও রেডিমিক্স কংক্রিট উৎপাদন করা হবে। এর ফলে সড়ক, ড্রেন, কালভার্টসহ বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে দ্রুত ও মানসম্মত নির্মাণসামগ্রী সরবরাহের নিশ্চয়তা মিলবে।
প্রকল্পের আওতায় ঘণ্টায় ১০০ টন উৎপাদনক্ষমতার অ্যাসফল্ট মিক্সিং প্ল্যান্ট এবং ঘণ্টায় ৬০ ঘনমিটার উৎপাদনক্ষমতার রেডিমিক্স কংক্রিট ব্যাচিং প্ল্যান্ট স্থাপন করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে সিটি করপোরেশন প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি সংগ্রহের জন্য দরপত্র আহ্বান করেছে। বিদ্যমান প্রকল্প এলাকায় প্রশাসনিক ভবনসহ দুটি স্থাপনার নির্মাণ কাজও চলমান রয়েছে।
আরও পড়ুন: রংপুরে ২৬ মামলার পলাতক আসামি শীর্ষ সন্ত্রাসী ‘মেরিল সুমন’ গ্রেপ্তার
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, প্ল্যান্টটি চালু হলে নির্ধারিত অনুপাতে পাথর, বালু ও বিটুমিন মিশিয়ে দ্রুত অ্যাসফল্ট উৎপাদনের সুযোগ থাকবে। উন্নতমানের কংক্রিট সরবরাহের মাধ্যমে সড়ক ও অবকাঠামো নির্মাণে গুণগত মান নিশ্চিত করা সম্ভব হবে এবং জরুরি সড়ক সংস্কার কার্যক্রমও দ্রুত সম্পন্ন হবে।
সিলেট সিটি করপোরেশনের ভারপ্রাপ্ত প্রধান প্রকৌশলী প্রকৌশলী মোহাম্মদ আলী আকবর জানিয়েছেন, নিজস্ব প্ল্যান্ট চালু হলে উন্নয়নকাজ বাস্তবায়নে গতি আসবে এবং নির্মাণসামগ্রীর মান নিয়ন্ত্রণ সহজ হবে।
সিসিকের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেছেন, নগরীর টেকসই অবকাঠামো উন্নয়নে এই প্রকল্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বাইরের কোম্পানি থেকে না এনে নিজেরা নির্মাণ করলে অর্থ ও সময় দুইটাই সাশ্রয় হবে। তিনি জানান, শিগগিরই স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় (এলজিআরডি) মন্ত্রীর মাধ্যমে প্রকল্পটির উদ্বোধনের পরিকল্পনা রয়েছে।
শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সিভিল অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. বশিরুল হক মন্তব্য করেন, ঠিকভাবে পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ হলে প্ল্যান্টটি শুধু সিসিকের নয়, ভবিষ্যতে অন্যান্য সরকারি সংস্থারও সেবা প্রদান করতে সক্ষম হবে। এতে সিটি করপোরেশনের রাজস্ব আয় বাড়ার পাশাপাশি নির্মাণসামগ্রীর মানোন্নয়নও হবে।
আরও পড়ুন: একুশে বইমেলার তারিখ ৭ জানুয়ারি ২০২৭ ঘোষণা
বাংলাদেশ স্থপতি ইনস্টিটিউট, সিলেট সেন্টারের সদস্য সচিব স্থপতি রাজন দাস দক্ষ ও অভিজ্ঞ জনবল নিয়োগের মাধ্যমে প্ল্যান্ট পরিচালনার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী বছরের শেষ দিকে এই প্ল্যান্ট উৎপাদনে যাওয়ার কথা রয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে সিলেটের সড়ক উন্নয়ন ও নগর অবকাঠামো ব্যবস্থাপনায় একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের সূচনা হবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন