১২:৫৪ পি.এম
মাঝ আকাশে হঠাৎ প্রায় ৩০০ ফুট নিচে নেমে যাওয়ার ঘটনার পর ভারতের এয়ার ইন্ডিয়ার এক পাইলটের শরীরে গাঁজার উপাদান শনাক্ত হওয়ার খবর নিয়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে। তবে পরীক্ষা করে শুধু গাঁজার উপস্থিতি পাওয়া গেলেই সঠিকভাবে বলা যাবে না যে, পাইলট বিমানে নেশাগ্রস্ত ছিলেন বা তার কারণেই বিমানটি হঠাৎ নিচে চলে গিয়েছিল। এ বিষয়ে বিশেষজ্ঞদের মতামত হতে দেখা যাচ্ছে।
এমন তথ্য প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম বিবিসি।
গত ৪ আগস্ট থাইল্যান্ডের ফুকেট থেকে ভারতের দিল্লিগামী একটি যাত্রীবাহী বিমান মাঝ আকাশে হঠাৎ প্রায় ৩০০ ফুট নিচে নেমে যায়। এই ঘটনার ফলে ১৩ জন যাত্রী ও চারজন কর্মী আহত হন। পরে বিমানটি নিরাপদে দিল্লিতে অবতরণ করে।
আরও পড়ুন: জলবায়ু ও উন্নয়ন কাজে তুরস্কের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার চায় বাংলাদেশ
ঘটনার পর দুই পাইলটের মানসিক প্রভাব ফেলে এমন মাদক গ্রহণের পরীক্ষা করা হয়। ভারতের বেসামরিক বিমান চলাচল মন্ত্রণালয় জানায়, প্রধান পাইলটের প্রাথমিক পরীক্ষার ফল আসতে পারে এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে, যার উপর ভিত্তি করে আরও নিশ্চিত পরীক্ষার প্রয়োজন হয়ে পড়েছে। তদন্ত সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত দুই পাইলটকেই বিমান পরিচালনার দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
বিভিন্ন গণমাধ্যমে সূত্রের বরাত দিয়ে দাবি করা হয়েছে, পরবর্তী পরীক্ষায় প্রধান পাইলটের শরীরে গাঁজার উপাদান পাওয়া গেছে। তবে আনুষ্ঠানিকভাবে এয়ার ইন্ডিয়া এখনও এ ফলটি নিশ্চিত করেনি।
শুধু পরীক্ষায় গাঁজা মিললেই কি প্রমাণ হয় যে পাইলট নেশাগ্রস্ত ছিলেন? বিশেষজ্ঞদের মতে, শরীরে গাঁজার উপাদান পাওয়া মানেই তা নিশ্চিতভাবে প্রতিস্থাপন করা যায় না যে ওই ব্যক্তি পরীক্ষার কয়েক ঘণ্টা আগে বা বিমানে থাকার সময় নেশাগ্রস্ত ছিলেন।
গবেষণায় দেখা গেছে, গাঁজা গ্রহণের পর কিছু সময় মানুষের মনোযোগ, সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা, শরীরের সূক্ষ্ম নিয়ন্ত্রণ এবং জটিল কাজ করার দক্ষতা কমে যেতে পারে। পুরোনো কয়েকটি গবেষণার মধ্যে দেখা গেছে, পাইলটদের উড্ডয়ন অনুশীলনে গাঁজা গ্রহণের পর উচ্চতা নিয়ন্ত্রণ, দিক ঠিক রাখা এবং অবতরণের সময় ভুল বেড়ে যেতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে সেই প্রভাব ২৪ ঘণ্টা পর্যন্ত স্থায়ী হওয়ার বিষয়টি লক্ষ্য করা গেছে।
আরও পড়ুন: অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের প্রতিবাদে গ্রাহক ফখরুল ইসলাম সোহেলের মামলা
তবে মনে রাখতে হবে, শরীরে গাঁজার উপাদান কতদিন শনাক্ত হবে তা নির্ভর করে কতটা গ্রহণ করা হয়েছে, কীভাবে গ্রহণ করা হয়েছে, কত ঘন ঘন নেওয়া হয় এবং ব্যক্তির শারীরিক অবস্থার ওপর। ফলে পরীক্ষার ফল দেখে ঠিক কবে গাঁজা গ্রহণ করা হয়েছিল বা ঘটনার মুহূর্তে পাইলট নেশাগ্রস্ত ছিলেন কি না, তা নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে দাঁড়ায়।
বিশেষজ্ঞরা বর্তমান তদন্তে তিনটি প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে হবে—পাইলট গাঁজা গ্রহণ করেছিলেন কি না, বিমান চালানোর সময় তিনি এর প্রভাবে ছিলেন কি না এবং এই প্রভাবে বিমানটির হঠাৎ নিচে নেমে যাওয়ার ঘটনায় কি ভূমিকা রেখেছিল।
বিমান দুর্ঘটনা তদন্তকারীরা এখন কারিগরি ত্রুটি, পরিচালনাগত বিষয়, শারীরিক ও মানসিক অবস্থা এবং অন্যান্য মানবিক কারণসহ সব দিক খতিয়ে দেখছেন। তদন্ত শেষ হওয়ার আগে পাইলটের পরীক্ষার ফল এবং বিমানটির আকস্মিক নিচে নেমে যাওয়ার ঘটনার সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে বলে নিশ্চিতভাবে বলা যাবে না।
ঘটনার পর এয়ার ইন্ডিয়া তাদের সকল পাইলটের মাদক পরীক্ষার উদ্যোগ নিয়েছে। বর্তমানে নিয়ম অনুযায়ী নির্দিষ্টসংখ্যক পাইলটের ওপর আকস্মিক পরীক্ষা করা হচ্ছে, তবে এবার এটি আরও বিস্তৃত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন: ফ্লোরিডার মহাসড়কে পাঁচ গাড়ির সংঘর্ষে অন্তঃসত্ত্বা নারী ও তার সন্তান নিহত
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন