শুক্রবার, ২৩শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০৯:৪৩ পি.এম
হুতিরা সৌদি আরবে একাধিক স্থানে হামলা চালিয়েছে। এই হামলায় ২ বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন এবং অনেক মানুষ আহত হয়েছেন। বাংলাদেশ এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে।
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ এ ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করেছে। একই সঙ্গে সৌদি সরকারের প্রতি এবং জনগণের প্রতি সংহতি জানানো হয়েছে।
বাংলাদেশ সব ধরনের হামলা অবিলম্বে বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছে। এছাড়া কূটনৈতিক উদ্যোগের মাধ্যমে শান্তিপূর্ণ সমাধানের ওপর গুরুত্বারোপ করার কথাও বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যদি ইরানে নতুন করে হামলা চালায়, তাহলে উপসাগরীয় অঞ্চলের সাতটি দেশের তেল স্থাপনা, সমুদ্রতলের যোগাযোগ ক্যাবল, ডেটা সেন্টার এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) সংশ্লিষ্ট অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করা হতে পারে বলে ইরান সতর্ক করেছে। এই সতর্কবার্তা দিয়েছেন দেশটির জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব মোহসিন রেজায়ি।
ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সংঘাত নিরসনে আলোচনায় যুক্ত দেশটির পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফের উপদেষ্টা মেহদি মোহাম্মদি সম্ভাব্য নতুন যুদ্ধ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি দাবি করেছেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু নীতিগতভাবে নতুন হামলার বিষয়ে একমত হয়েছেন। তবে তিনি মন্তব্য করেছেন, এমন অভিযানে কাঙ্ক্ষিত সাফল্য নিশ্চিত নয়।
মোহাম্মদি জানিয়েছেন, ইরান পরবর্তী সংঘাতকে অস্তিত্বের জন্য হুমকি হিসেবে বিবেচনা করছে। যদি দুই বছরের মধ্যে তৃতীয়বারের মতো যুদ্ধ শুরু হয়, তাহলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠবে। এ কারণে ইরানের কৌশলে প্রচলিত সীমারেখা মেনে চলার বাধ্যবাধকতা থাকবে না বলেও তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, নতুন সংঘাত শুরু হলে যুদ্ধের সময়কাল এবং ভৌগোলিক বিস্তৃতি; দুই ক্ষেত্রেই প্রচলিত ধারণা পরিবর্তিত হতে পারে। শত্রুপক্ষের প্রত্যাশার চেয়ে যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার পাশাপাশি তা আরও বিস্তৃত অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
রেজায়ি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, নতুন করে যুদ্ধ শুরু হলে যোগাযোগ ক্যাবল, ডেটা সেন্টার এবং এআই-সংশ্লিষ্ট স্থাপনাও হামলার লক্ষ্যবস্তু হবে। তার মতে, ইরানের অর্থনৈতিক অবকাঠামোতে হামলা চালানো হলে সেই হামলায় সহায়তাকারী অর্থনৈতিক স্থাপনাগুলোকে নিরাপদ রাখার নিশ্চয়তা দেওয়া সম্ভব নয়।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সুনামগঞ্জের দিরাইয়ে একটি স্থানীয় গোষ্ঠীর আপত্তি ও অভিযোগকে উপেক্ষা করে বাউল গানের আসর অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই আসরে একাধিক নারী শিল্পীও সংগীত পরিবেশন করেছেন।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) রাতে কুলঞ্জ ইউনিয়নের হাতিয়া গ্রামে শওকত আলী নামের একজন যুক্তরাজ্যপ্রবাসীর উদ্যোগে তার বাড়ির আঙিনায় ‘ছোট পরিসরে’ এই গানের আসর বসে।
যদিও নারী শিল্পীদের অংশগ্রহণে গানের অনুষ্ঠান বন্ধের দাবি জানিয়ে ‘এলাকাবাসীর পক্ষে’ থানায় লিখিত আবেদন করেছিলেন ওই গ্রামের দুই বাসিন্দা আতাহার আলী রাহাত ও কামরুল হাসান মিটু। আতাহার আলী রাহাত জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দিরাই উপজেলা শাখার আহ্বায়ক। তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন যে, নারী শিল্পীরা গান পরিবেশন করলে অশ্লীলতা ও বেহায়াপনা হতে পারে। তাই ‘ধর্মীয় ও সামাজিক মূল্যবোধ রক্ষায়’ অনুষ্ঠানটি বন্ধের দাবি জানানো হয়েছিল।
এমন আবেদন পাওয়ার পর দিরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিনুল ইসলাম গানের আয়োজক প্রবাসী শওকত আলীকে নিয়ে আলোচনা করেন।
এই বিষয়ে ওসি আমিনুল ইসলাম বৃহস্পতিবার বলেছিলেন, গানের অনুষ্ঠানের ব্যাপারে আপত্তি পাওয়ার পর তারা আয়োজকদের সঙ্গে কথা বলেছেন। আয়োজকেরা তাদের আশ্বস্ত করেছিলেন যে, তারা গান-বাজনা করবেন না।
তবে আপত্তি ও বাধা উপেক্ষা করে বৃহস্পতিবার রাতে শওকত আলী তার নিজ বাড়ির আঙিনায় বাউল গানের আয়োজন করেন। জানা গেছে, এতে স্থানীয়রা তাকে সহযোগিতা করেছেন। এই গানের আসরে একাধিক নারী শিল্পীও গান পরিবেশন করেন।
শুক্রবার এ ব্যাপারে ওসি আমিনুল ইসলাম বলেন, কুলঞ্জ গ্রামে ধর্মীয় অনুভূতি বিনষ্ট হওয়ার আশঙ্কায় প্রবাসীর বাড়িতে গানের আসর না করার ব্যাপারে একটি পক্ষ থানায় আবেদন করেছে। এ বিষয়ে আয়োজক ও অভিযোগকারীদের সঙ্গে তারা আলোচনা করেছেন। আপত্তির কারণে আয়োজক শওকত আলী প্রথমে গান করতে না চাইলেও রাতে তার নিজ বাড়িতে গানের আয়োজন করেন। যতদূর তিনি জানেন, সেখানে নারী শিল্পীরাও গান করেছেন। এ নিয়ে কোনো সমস্যা হয়নি বলেও জানান তিনি।
বৃহস্পতিবার রাতে গানের অনুষ্ঠানের শুরুতে বক্তব্য দেন প্রবাসী শওকত আলী। তিনি বলেন, একটি পক্ষ অপপ্রচার করেছে যে, তিনি যাত্রা ও ঘাটু গান করবেন। তারা শিক্ষিত হলেও তাদের উদ্দেশ্য ভালো নয়। তারা অনুষ্ঠান বানচাল করতে পারেননি। মানুষ দেখেছে, তিনি কী আয়োজন করেছেন। যারা গানের আসর বন্ধ করতে চেয়েছিলেন, তাদের সমালোচনা করেন তিনি।
গানের নামে অশালীনতার বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ করলেও গানের অনুষ্ঠানে বাধা দেননি বলে জানিয়েছেন থানায় অভিযোগকারী কামরুল হাসান মিটু। তিনি বলেন, তাদের গ্রামে শতভাগ মানুষ মুসলমান। গ্রামে মসজিদ, মাদরাসা ও একজন ওলির মাজার রয়েছে। গ্রামে কখনোই মেয়েদের দিয়ে গান হয়নি।
তিনি আরও বলেন, "আমরা গানের বিরুদ্ধে নয়, আমরা চেয়েছি মেয়েদের দিয়ে যাতে অশালীন গান না হয়। তাই অভিযোগ করেছি। রাতে মেয়েদের দিয়ে গান হয়েছে। আমরা পুলিশকে জানিয়েছি। আমরা আইনকে শ্রদ্ধা করি। তাদের গানের কোনো ঝামেলা কেউ করেনি। তাদের অনুষ্ঠান সুন্দরভাবে শেষ হয়েছে।"
স্থানীয় কুলঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান একরার হোসেন বলেন, তিনি ছোটকাল থেকে দেখেছেন, ওই প্রবাসী দেশে এলে বাড়িতে গানের ঘরোয়া আসর করেন। তিনি শৌখিন মানুষ। বৃহস্পতিবার দিনে শুনছিলেন, গান হবে না। এখন তিনিও শুনছেন, রাতে সেখানে গান হয়েছে। নারী শিল্পীরাও গান করেছেন। এ নিয়ে কোনো বিশৃঙ্খলা হয়নি। তবে এ ব্যাপারে থানায় একটি আপত্তি ছিল বলে জানান তিনি।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
২০২৬ সালের বিশ্ব ক্ষুধা সূচকে ১২২টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ৮৪তম। বাংলাদেশের স্কোর এই বছর ১৯ দশমিক ২। এই স্কোর নির্দেশ করে যে, বাংলাদেশ মাঝারি মাত্রার ক্ষুধা পরিস্থিতির সম্মুখীন রয়েছে।
গ্লোবাল হাঙ্গার ইনডেক্স-২৬ (জিএইচআই) এর প্রতিবেদনে এই তথ্য প্রকাশিত হয়েছে। এই র্যাংকিং সংস্থাটির অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়।
১২২টি দেশের মধ্যে ভারতের অবস্থান ১০০ তম, যেখানে তাদের স্কোর ২৪ দশমিক ১। পাকিস্তান ১০৬ তম স্থানে রয়েছে, তাদের স্কোর ২৫ দশমিক ৫।
দক্ষিণ এশিয়ার গড় স্কোরের তুলনায় বাংলাদেশ তুলনামূলকভাবে ভালো অবস্থানে রয়েছে। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর গড় স্কোর ২৩ দশমিক ৫, কিন্তু বাংলাদেশের স্কোর ১৯ দশমিক ২। দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশের চেয়ে ভালো অবস্থানে রয়েছে শ্রীলংকা ও নেপাল। তবে বৈশ্বিক গড় স্কোর (১৮ দশমিক ১) এর তুলনায় বাংলাদেশ কিছুটা পিছিয়ে রয়েছে।
বৈশ্বিক ক্ষুধা সূচকে স্কোর শূন্য থেকে ১০০-এর মধ্যে নির্ধারিত হয়। স্কোর ১০-এর নিচে হলে ক্ষুধার মাত্রা কম, ১০ থেকে ১৯ দশমিক ৯ হলে মাঝারি, ২০ থেকে ৩৪ দশমিক ৯ হলে গুরুতর, ৩৫ থেকে ৪৯ দশমিক ৯ হলে আশঙ্কাজনক এবং ৫০ বা তার বেশি হলে অত্যন্ত আশঙ্কাজনক বলে বিবেচনা করা হয়। এই হিসাবে, বাংলাদেশের ১৯ দশমিক ২ স্কোর মাঝারি মাত্রার ক্ষুধা পরিস্থিতির নির্দেশ করে।
জিএইচআই স্কোর মূলত চারটি সূচকের ওপর ভিত্তি করে নির্ধারণ করা হয়। এই সূচকগুলো হলো— জনসংখ্যার মধ্যে অপুষ্টির হার, শিশুমৃত্যুর হার, বয়সের তুলনায় শিশুদের উচ্চতা কম হওয়া এবং উচ্চতার তুলনায় শিশুদের ওজন কম হওয়া।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৬ সালের সূচকে বাংলাদেশে মোট জনসংখ্যার ৮ দশমিক ২ শতাংশ মানুষ অপুষ্টির শিকার। পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের মধ্যে বয়স অনুযায়ী উচ্চতা না বাড়া বা খর্বকায়তার হার ২৪ দশমিক ০ শতাংশ। এটি একটি বড় অগ্রগতি, কারণ ২০০০ সালে এই হার ছিল ৫৪ দশমিক ৯ শতাংশ। গত ২৬ বছরে এই হার ৩০ দশমিক ৯ শতাংশ পয়েন্ট কমেছে।
পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের মধ্যে উচ্চতা অনুযায়ী ওজন না বাড়া বা কৃশতার হার ১২ দশমিক ৯ শতাংশ। দেশের ৩ দশমিক ০ শতাংশ শিশু পাঁচ বছর বয়স পূর্ণ হওয়ার আগেই মারা যাচ্ছে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
রাজধানীর যমুনা ফিউচার পার্কে অনুষ্ঠিত ‘রক এন রিদম ৫: নো লিমিটস ইন দ্য জোন’ কনসার্টে দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। কিছু দর্শক ব্যারিয়ার ভেঙে ভেতরে প্রবেশের ঘটনাও ঘটেছে।
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সন্ধ্যায় জনপ্রিয় ব্যান্ড তারকা মাহফুজ আনাম জেমস এবং তার দল নগরবাউলের পরিবেশনা শুরু হওয়ার সময় হাজারো ভক্ত-অনুরাগী কনসার্ট প্রাঙ্গণে প্রবেশ করেন।
দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম বৃহৎ শপিং কমপ্লেক্স যমুনা ফিউচার পার্কের কার্নিভ্যাল অ্যারেনায় এই কনসার্টের আয়োজন করা হয়। প্রিয় শিল্পীর গান সরাসরি শুনতে দুপুর থেকেই ভক্তরা অ্যারেনার সামনে জড়ো হতে শুরু করেন। সন্ধ্যা গড়ানোর সাথে সাথে অনুরাগী ও সঙ্গীতপ্রেমীদের উপস্থিতি পুরো চত্বরকে কানায় কানায় পূর্ণ করে তোলে।
এক পর্যায়ে, প্রিয় তারকা মঞ্চে ওঠার আগে অ্যারেনার নিরাপত্তা ব্যারিয়ার ভেঙে যায় এবং হাজার হাজার দর্শক ভেতরের প্রাঙ্গণে প্রবেশ করতে সক্ষম হয়।
দর্শকদের উপস্থিতি বেড়ে যাওয়ার কারণে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। এক পর্যায়ে কর্তৃপক্ষ বাধ্য হয়ে প্রধান গেটগুলো খুলে দিতে বাধ্য হন।
কনসার্টটির অন্যতম আকর্ষণ ছিল, দীর্ঘ ১২ বছর পর গিটারিস্ট ও সংগীতশিল্পী অনি হাসান ওয়ারফেজের সঙ্গে স্টেজে পারফর্ম করেন। এছাড়াও, নগর বাউল জেমস, এআরকে (হাসান), ওয়ারফেজ, অর্থহীন, শূন্য এবং এ কে রাহুলও পারফর্ম করেন।
এর আগে সংবাদ সম্মেলনে আয়োজন সম্পর্কে অ্যাডভেনটর কমিউনিকেশন্সের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোজাম্মেল হক জনি বলেন, "রক এন রিদম’র পঞ্চম সিজনে আমরা এমন কিছু নতুনত্ব নিয়ে আসছি, যা বাংলাদেশের কনসার্টের অভিজ্ঞতায় নতুন মাত্রা যোগ করবে। আমাদের লক্ষ্য শুধু একটি কনসার্ট আয়োজন করা নয়, বরং দর্শকদের জন্য সম্পূর্ণ নতুন একটি অ্যাম্বিয়েন্স ও অভিজ্ঞতা তৈরি করা।"
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সরকার পরিবেশবান্ধব নবায়নযোগ্য জ্বালানি সম্প্রসারণের জন্য অত্যন্ত আন্তরিক এবং সেই লক্ষ্যে রামপালে ৪৪২ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন একটি সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়ার কথা খুলনা সিটি করপোরেশনের (কেসিসি) প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু জানিয়েছেন।
তিনি শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) বিকেলে মোংলা উপজেলার নারিকেলতলা মাঠে আয়োজিত এক সমাবেশে এই তথ্য প্রকাশ করেন।
নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, "রামপালে ৪৪২ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের উদ্যোগই প্রমাণ করে বর্তমান সরকার পরিবেশবান্ধব ও টেকসই জ্বালানি সম্প্রসারণে কতটা সুদৃঢ়।"
তিনি সরকারের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার চিত্র তুলে ধরে জানান, আগামী ৫ বছরে দেশে ১০ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে ২০৩০ সালের মধ্যে মোট বিদ্যুৎ চাহিদার ২০ শতাংশ এবং ২০৪০ সালের মধ্যে ৩০ শতাংশ নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে উৎপাদনের রূপরেখা নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে সাধারণ মানুষের মধ্যে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারে ব্যাপক আগ্রহের সৃষ্টি হয়েছে এবং এই ধারা অব্যাহত রাখতে সরকারি ভবন, স্কুল-কলেজের ছাদসহ স্থানীয় সরকারের ভবনে সৌর প্যানেল বসানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
জ্বালানি নিরাপত্তা বিষয়ে তিনি আরও বলেন, "নবায়নযোগ্য জ্বালানির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করা গেলে জ্বালানি খাতে আমাদের আমদানি-নির্ভরতা বহুগুণে কমবে। এতে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হওয়ার পাশাপাশি সামগ্রিক অর্থনৈতিক ও বিদ্যুৎ খাতের ওপর আর্থিক চাপ অনেকটাই কমে আসবে।"
‘নবায়নযোগ্য জ্বালানি, এখনই’ শীর্ষক স্লোগানে বিশ্ব ঐতিহ্য সুন্দরবন রক্ষা ও দ্রুত পরিবেশবান্ধব জ্বালানি সম্প্রসারণের দাবিতে এ জনসমাবেশের আয়োজন করে ‘ধরিত্রী রক্ষায় আমরা’ (ধরা), ‘ওয়াটারকিপার্স বাংলাদেশ’ এবং ‘পশুর রিভার ওয়াটারকিপার’।
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন ‘ধরা’র কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্যসচিব ও ওয়াটারকিপার্স বাংলাদেশের সমন্বয়কারী শরীফ জামিল। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গবেষক ও শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মীর মোহাম্মদ আলী, রিভার বাংলা সম্পাদক ফয়সাল আহমেদ, মোংলা পৌর বিএনপির সভাপতি ও সাবেক মেয়র মো. জুলফিকার আলী, উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবদুল মান্নান হাওলাদার, সাধারণ সম্পাদক আবু হোসেন পনি, পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও শ্রমিকনেতা মাহবুবুর রহমান মানিক এবং কৃষকনেতা বদরুল আলমসহ আরও অনেকে।
এ ছাড়া সুন্দরবন ও উপকূল সুরক্ষা আন্দোলনের নিখিল চন্দ্র ভদ্র, সচেতন ফাউন্ডেশনের মো. হাবিবুর রহমান, মিশন গ্রিন বাংলাদেশের আহসান রনি, হাওর অঞ্চলবাসীর জাকিয়া শিশির, কসমস সংস্থার মেহনাজ মালা, ব্রাইটার্সের সাইদুর রহমান সিয়াম, বেঙ্গল পিস ফাউন্ডেশনের মাসফিকুল হাসান টনি, ক্লাইমেট ফ্রন্টিয়ারের জুবায়ের ইসলাম এবং ওয়েব ফাউন্ডেশনের আসাদুজ্জামান তুহিন অনুষ্ঠানে সংহতি প্রকাশ করে বক্তব্য দেন।
সভাপতির বক্তব্যে শরীফ জামিল সরকারের রামপাল সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প অনুমোদনকে স্বাগত জানিয়ে ধন্যবাদ জানান। সমাবেশ সঞ্চালনা করেন ‘সুন্দরবন রক্ষায় আমরা’র সমন্বয়কারী ও পশুর রিভার ওয়াটারকিপার মো. নূর আলম শেখ।
সমাবেশের শেষাংশে জলবায়ু পরিবর্তন ও সচেতনতার বার্তা ছড়িয়ে দিতে বাঘের মহড়া, পুতুলখেলা, বাউলগান ও ঐতিহ্যবাহী গাজীর গানের আয়োজন করা হয়, যা উপস্থিত দর্শনার্থীদের মাঝে ব্যাপক সাড়া ফেলে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ