ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

কুষ্টিয়ার লালন আখড়াবাড়িতে সাধু-গুরু ও লালন অনুসারীদের মিলনমেলা শেষ হচ্ছে আজ


কুষ্টিয়ার লালন আখড়াবাড়িতে সাধু-গুরু ও লালন অনুসারীদের মিলনমেলা শেষ হচ্ছে আজ

এক বছর দীর্ঘ অপেক্ষার পর আবার। কুষ্টিয়ার ছেঁউড়িয়ার লালন আখড়াবাড়িতে সমবেত হয়েছেন দেশ-বিদেশের হাজারো সাধু-গুরু ও লালন অনুসারী, গুরু-সান্নিধ্য এবং মরমি সাধনায় একাত্ম হওয়ার আকাঙ্ক্ষা নিয়ে।

রোববার (১৮ অক্টোবর) সাধুসঙ্গের আনুষ্ঠানিকতা অধিবাস, বাল্য সেবা ও পূর্ণ সেবার মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে। বিদায় বেলায় ভারাক্রান্ত মন নিয়ে আখড়াবাড়ি ছাড়তে শুরু করেছেন সাধুরা। তবে মূল মঞ্চের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং গ্রামীণ মেলা চলবে সোমবার (১৯ অক্টোবর) পর্যন্ত।

বাউল সম্রাট ফকির লালন সাঁইয়ের ১৩৬তম তিরোধান দিবস উপলক্ষে আয়োজিত তিনদিনের উৎসবের দ্বিতীয় দিন থেকেই ভাঙতে শুরু করেছে সাধুদের মিলন মেলা। লালনের মানবতাবাদী দর্শন, আত্মশুদ্ধি ও মরমি সাধনার চর্চায় একত্রিত হওয়া সাধুরা পূর্ণ সেবার মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে নিজ নিজ গন্তব্যে ফিরছেন। তারা আবারও ফিরে আসার প্রত্যাশা রেখে যাচ্ছেন।

আরও পড়ুন: পূজার ছুটিতে প্রকৃতির অপরূপ দ্বীপ চর হেয়ার ঘুরে আসুন

রোববার সকালে বাল্য সেবা এবং দুপুরে পূর্ণ সেবা অনুষ্ঠিত হয়। এর মাধ্যমে সাধু সঙ্গের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটে। বিকেল থেকেই অধিকাংশ সাধু আখড়াবাড়ি ছেড়ে চলে যান। কিছু সাধু গুরুকার্য সম্পন্ন করে সোমবার সকালে বিদায় নেবেন বলে জানা গেছে।

গাইবান্ধা থেকে আসা নিজাম ফকির বলেন, “আমরা প্রতিবছর সাঁইজির ধামে আসি। এখানে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে সাধু-গুরুরা একত্রিত হয়ে সাধুসঙ্গ করি। অধিবাস, রাখাল সেবা, বাল্য সেবা ও পূর্ণ সেবার মধ্যদিয়ে আমাদের সাধুসঙ্গের আনুষ্ঠানিকতা শেষ হয়েছে। আজ অশ্রুসিক্ত নয়নে সাঁইজির আখড়াবাড়ি ছেড়ে চলে যাচ্ছি। আবারও আগামী বছর আসব। এই মিলন মেলায় সবার সঙ্গে দেখা হবে-এটাই আমাদের প্রত্যাশা।”

মামুন সাধু বলেন, “সাঁইজির ধামে এলে আমরা সবাই এক পরিবারের মতো মিলিত হই। সাধুসঙ্গের মধ্য দিয়ে গুরু-সান্নিধ্য লাভ করি এবং লালন সাঁইয়ের মানবতাবাদী দর্শন ও মরমি ভাবধারার চর্চা করি। পূর্ণ সেবার মধ্য দিয়ে সাধুসঙ্গের আনুষ্ঠানিকতা শেষ হওয়ায় এখন বিদায়ের পালা। মনটা খুব ভারী হয়ে আছে। আবারও আগামী বছর সাঁইজির ধামে ফিরে আসার অপেক্ষায় থাকব।”

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আসা এক নারী শিক্ষার্থী গণমাধ্যমকে বলেন, “আজ এখানে আসার মূল উদ্দেশ্য লালন সাঁইয়ের দার্শনিক ভাবনা সম্পর্কে জানা ও তা উপলব্ধি করা। বিশেষ করে সমাজের বৈষম্যবিরোধী যে বার্তা তিনি দিয়েছেন, তা আমাদের ভীষণভাবে আকৃষ্ট করে। তার দর্শন ও চিন্তাধারা কাছ থেকে অনুভব করা এবং বোঝার সুযোগ পাওয়া সত্যিই গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর কথাগুলোর মতো গানগুলোও মনের গভীরে দাগ কাটে। আশা করি, আজকের এই আয়োজন থেকে আমরা সবাই মানবতা, সাম্য ও ইতিবাচক চিন্তার সুন্দর বার্তা নিয়ে ফিরতে পারব।”

আরও পড়ুন: স্বপ্নের নারীকে বিয়ে করতে ১২০০ মাইল পাড়ি, প্রেমিকা এআই জানালেন

সাধুদের বিদায়ে আখড়াবাড়িতে সাধুসঙ্গের আনুষ্ঠানিকতা শেষ হলেও উৎসবের আমেজ এখনো কাটেনি। মূল মঞ্চে লালন অ্যাকাডেমির শিল্পী ও দেশ বরেণ্য লালন শিল্পীদের পরিবেশনায় চলবে মরমি সংগীত। পাশাপাশি আখড়াবাড়ি প্রাঙ্গণের তিনদিনের গ্রামীণ মেলাও চলবে সোমবার পর্যন্ত। ফলে সাধুদের বড় একটি অংশ ফিরে গেলেও লালন ভক্ত ও দর্শনার্থীদের আনাগোনা অব্যাহত রয়েছে।

দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা দর্শনার্থীদের কেউ লালনের দর্শন জানতে, কেউ তার মানবতাবাদী চিন্তায় জীবনের অর্থ খুঁজতে, আবার কেউ আত্মিক প্রশান্তির আশায় ছুটে এসেছেন এই ধামে। লালনের প্রেম, মানবিকতা ও আত্ম শুদ্ধির বাণীকে ধারণ করেই ভক্ত-অনুসারীদের এই মিলনমেলা।

ঐতিহাসিক এ উৎসব নির্বিঘ্ন করতে জেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে নেয়া হয়েছিল কয়েক স্তরের নিরাপত্তা-ব্যবস্থা।

কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক তৌহিদ বিন হাসান গণমাধ্যমকে বলেন, “লালন সাঁইয়ের তিরোধান দিবস শুধু একটি স্মরণোৎসব নয়, এটি তার মানবতাবাদী দর্শন, অসাম্প্রদায়িক চেতনা ও সম্প্রীতির বার্তা ছড়িয়ে দেওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ আয়োজন। এ উৎসবে দেশ-বিদেশের লালনভক্ত, সাধু-গুরু ও দর্শনার্থীরা একত্রিত হন।”

আরও পড়ুন: আজ নতুন বন্ধু বানানোর দিন, পুরোনো বন্ধুত্বের গুরুত্বও তুলে ধরা হচ্ছে

উৎসবকে শান্তিপূর্ণ, সুশৃঙ্খল ও নির্বিঘ্ন করতে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীসহ সংশ্লিষ্ট সব দপ্তর সমন্বিতভাবে কাজ করছে। দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং উৎসবের পরিবেশ বজায় রাখতে প্রশাসন সতর্ক রয়েছে। লালনের মানবতাবাদী দর্শন ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণে এ ধরনের আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

উল্লেখ্য, ১২৯৭ বঙ্গাব্দের পহেলা কার্তিক ফকির লালন সাঁইয়ের মৃত্যুর পর থেকে তার স্মরণে ভক্ত-অনুসারীরা স্মরণানুষ্ঠানের আয়োজন করে আসছেন। পরবর্তী সময়ে লালন অ্যাকাডেমি ও জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এ আয়োজন বিস্তৃত রূপ পায়। প্রতিবছর তিরোধান দিবসে লালনের দর্শন, মানবতাবাদী ভাবধারা ও মরমি সংগীতের টানে ছেঁউড়িয়ার আখড়াবাড়িতে সমবেত হন দেশ-বিদেশের অসংখ্য ভক্ত, সাধু ও দর্শনার্থী।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রিজভী: উৎসব সামাজিক সীমানায় আবদ্ধ নয়, জাতীয়তাবাদ ও ধর্মীয় অধিকার রক্ষার দায়িত্ব রাষ্ট্রের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৩:৪২ পি.এম


রিজভী: উৎসব সামাজিক সীমানায় আবদ্ধ নয়, জাতীয়তাবাদ ও ধর্মীয় অধিকার রক্ষার দায়িত্ব রাষ্ট্রের

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী মন্তব্য করেছেন, "উৎসব কোনো নির্দিষ্ট ধর্মীয় বা সামাজিক সীমানায় আবদ্ধ নয়; এর সর্বজনীন আহ্বান সব সম্প্রদায়ের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করে এবং ভ্রাতৃত্ববোধ নিয়ে একসঙ্গে বসবাসের অনুপ্রেরণা জোগায়। সমাজে অসত্য ও অশুভ শক্তির বিনাশ করে সত্য, ন্যায় ও শান্তি প্রতিষ্ঠাই দুর্গাপূজার মূল মর্মবাণী।"

তিনি সোমবার (১৯ অক্টোবর) সকালে শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হলের পূজামণ্ডপ পরিদর্শনকালে এই মন্তব্য করেন।

রিজভী আরও বলেন, "শত শত বছর ধরে এ দেশের মানুষ একই ভাষা ও লোকজ সংস্কৃতির বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে মিলেমিশে বসবাস করছে। দেশের অসাম্প্রদায়িক ঐতিহ্য বিনষ্ট করতে দেশি-বিদেশি নানা ষড়যন্ত্র হতে পারে। তবে ধর্মপ্রাণ ও অসাম্প্রদায়িক মানুষ তা কখনও সফল হতে দেবে না।"

তিনি উল্লেখ করেন, "বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ এমন একটি বাগান, যেখানে বিভিন্ন রঙের ও জাতের ফুল একসঙ্গে ফোটে এবং প্রতিটি সম্প্রদায়ের নিজস্ব স্থান সংরক্ষিত রয়েছে।"

তিনি আরও বলেন, "ধর্মীয় বিশ্বাস যার যার ব্যক্তিগত বিষয় হলেও রাষ্ট্রের নাগরিক হিসেবে সবার অধিকার সমান। প্রত্যেকে যাতে নিজ নিজ ধর্মীয় উৎসব নির্বিঘ্নে, শান্তিপূর্ণ ও নিরাপদ পরিবেশে পালন করতে পারেন, তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব।"

হিন্দু সম্প্রদায়ের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে দুর্গাপূজার ছুটি বৃদ্ধি, পূজামণ্ডপে বরাদ্দ বাড়ানো এবং পুরোহিত ও সেবায়েতদের সম্মানী দেওয়ার বিষয়টি বাস্তবায়নে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

অনুষ্ঠানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক দেবাশীষ পাল, স্বেচ্ছাসেবক দলের সহসভাপতি ডা. জাহিদুর রহমান, ছাত্রদলের সহসভাপতি ডা. তৌহিদুর রহমান আউয়ালসহ হিন্দু ধর্মাবলম্বী বিভিন্ন সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

আ.লীগকে ফেরানোর চেষ্টা করলে জুলাই শহীদদের সঙ্গে প্রতারণা হবে: প্রধানমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৩:৪৩ পি.এম


আ.লীগকে ফেরানোর চেষ্টা করলে জুলাই শহীদদের সঙ্গে প্রতারণা হবে: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মন্তব্য করেছেন যে, যদি আওয়ামী লীগকে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করা হয় বিরোধিতা করতে গিয়ে, তাহলে জুলাই শহীদদের সঙ্গে প্রতারণা করা হবে।

তিনি সোমবার (১৯ অক্টোবর) 'জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ' এবং ’ওসমানী উদ্যানের আধুনিকায়ন’ প্রকল্পের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এই কথা বলেন।

বিরোধীদলের সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, "বিরোধীদল বিরোধিতা করার জন্যই বিরোধিতা করছে।" তিনি আরও উল্লেখ করেন, "বিরোধীদল জুলাইকে ধারণ করে না বলেই আজ জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ পেয়েও অংশ নেয়নি।" তিনি বলেন, বিরোধীদল পূর্বের অবস্থায় ফিরে এসেছে।

এ সময় প্রধানমন্ত্রী বিরোধীদলকে গঠনমূলক সমালোচনা করার জন্য আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, "সব ব্যাপারে একমত না হতে পারলেও দেশের মানুষের স্বার্থে দ্বিমত পোষণ করার কোনো সুযোগ নেই।"

প্রধানমন্ত্রী বলেন, "গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠায় ৭১ এবং ২৪ এর জুলাই আন্দোলন। দুই আন্দোলনের লক্ষ্যই ছিল একই।"

জুলাই আন্দোলনের মাধ্যমে বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক অধিকার ফিরে পেয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, "জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে ৮১৩ জন শহীদের নাম লিপিবদ্ধ রয়েছে।" তিনি আরও বলেন, "এসব শহীদের রক্তের বিনিময়ে বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক অধিকার ফিরে পেয়েছে।"

তিনি বলেন, "গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠা হয়েছে। জনগণ তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে জাতীয়তাবাদী দলকে বেছে নিয়েছে দেশ পরিচালনার জন্য।" প্রধানমন্ত্রী বলেন, "যারা আগামী পাঁচ বছর দেশ পরিচালনা করবে।"

বিরোধীদলের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, "এডিস মশা সরকারি কিংবা বিরোধীদল চেনে না।" তাই তিনি ডেঙ্গু সচেতনতা কার্যক্রমে অংশগ্রহণের আহ্বান জানান।

এ সময় প্রধানমন্ত্রী চিকিৎসকদের নির্দেশ দেন হাসপাতালের পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিত করতে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

‘ক্লিন কেয়ার’ অ্যাপে অভিযোগ থেকে সমাধান, নিষ্পত্তির হার ৭৪.৪৫ শতাংশ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৩:৪৩ পি.এম


‘ক্লিন কেয়ার’ অ্যাপে অভিযোগ থেকে সমাধান, নিষ্পত্তির হার ৭৪.৪৫ শতাংশ

রাস্তার পাশে জমে থাকা ময়লা, নির্ধারিত সময়ে বর্জ্য অপসারণ না হওয়া কিংবা কোনো এলাকায় পরিচ্ছন্নতা সংক্রান্ত সমস্যা- নগরজীবনে এমন অভিজ্ঞতা নতুন নয়। এসব সমস্যা জানাতে নাগরিকদের সংশ্লিষ্ট দপ্তরে যেতে হয়, অভিযোগ জানিয়ে প্রতিক্রিয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হয়, অথবা কোন বিভাগ ব্যবস্থা নেবে তা খুঁজে বের করাও অনেক সময় নাগরিকদের জন্য বাড়তি ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। এই বাস্তবতায় ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) ডিজিটাল উদ্যোগ গ্রহণ করেছে, যাতে পরিচ্ছন্নতাসংক্রান্ত অভিযোগ সরাসরি কর্তৃপক্ষের কাছে পৌঁছানো যায়।

‘ক্লিন কেয়ার’ অ্যাপের মাধ্যমে এখন নাগরিকরা পরিচ্ছন্নতাসংক্রান্ত সমস্যাগুলি জানাতে পারছেন। অ্যাপটি চালুর পর স্বল্প সময়ের মধ্যে অভিযোগের সংখ্যা ও ব্যবহারকারীদের ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া উদ্যোগটিকে আলোচনায় এনেছে।

‘ক্লিন কেয়ার’ অ্যাপটি গত ৭ জুলাই ২০২৬ আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয়। ১ আগস্ট থেকে শুরু হয় এর পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রম।

ডিএসসিসির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ১৮ অক্টোবর পর্যন্ত অ্যাপটির মাধ্যমে মোট ২ হাজার ৮১০টি অভিযোগ জমা পড়েছে। এর মধ্যে ১ হাজার ৯০৯টি অভিযোগ নিষ্পত্তি করা হয়েছে। বাকি ৬৫৫টি অভিযোগ নিষ্পত্তির প্রক্রিয়ায় রয়েছে। অর্থাৎ এই সময় পর্যন্ত পাওয়া অভিযোগের প্রায় ৭৪ দশমিক ৪৫ শতাংশের সমাধান হয়েছে।

বাকি ২৪৬টি অভিযোগ সিটি করপোরেশনের কার্যপরিধির বাইরে অন্যান্য সরকারি দপ্তর বা কর্তৃপক্ষের আওতাধীন। এসব অভিযোগের মধ্যে ওয়াসা, রাজউক, রেলওয়ে, ডিপিডিসি এবং আইন ও প্রশাসন সংশ্লিষ্ট বিষয় রয়েছে। সিটি করপোরেশনের নিষ্পত্তির হার গণনার ক্ষেত্রে ওই ২৪৬টি অভিযোগকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা জানিয়েছেন।

অভিযোগ নিষ্পত্তির পাশাপাশি ব্যবহারকারীদের প্রতিক্রিয়াও অ্যাপটির কার্যক্রমের একটি উল্লেখযোগ্য দিক। ডিএসসিসির তথ্য অনুযায়ী, ‘ক্লিন কেয়ার’ অ্যাপে ৪৩৩টি নাগরিক রিভিউ পাওয়া গেছে। এরমধ্যে ৩৬১টি ইতিবাচক অর্থাৎ ব্যবহারকারীদের ৮৩ দশমিক ৩৭ শতাংশ ইতিবাচক মতামত দিয়েছেন। অ্যাপটির গড় রেটিং পাঁচের মধ্যে ৪ দশমিক ৫।

ডিজিটাল মাধ্যমে পরিচ্ছন্নতাসংক্রান্ত সমস্যা জানানোর এই ব্যবস্থায় নাগরিকদের সাড়া পাওয়ার বিষয়টি নগরসেবায় প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর সম্ভাবনাকে সামনে এনেছে।

নগরীর পরিচ্ছন্নতা ব্যবস্থাপনায় নাগরিকদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। কোথাও ময়লা জমে থাকলে, বর্জ্য যথাসময়ে অপসারণ না হলে কিংবা পরিচ্ছন্নতাসংক্রান্ত কোনো সমস্যা দেখা দিলে দ্রুত কর্তৃপক্ষকে জানানো প্রয়োজন। তবে অভিযোগ জানানোর প্রক্রিয়া জটিল হলে অনেকেই তা এড়িয়ে যান।

‘ক্লিন কেয়ার’ অ্যাপের মাধ্যমে অভিযোগ সংশ্লিষ্ট বিভাগের কাছে পৌঁছে দেওয়ার সুযোগ থাকায় এই প্রক্রিয়াকে সহজ করার চেষ্টা করছে ডিএসসিসি।

অ্যাপটির কার্যক্রমের মূল লক্ষ্য শুধু অভিযোগ গ্রহণ নয়, বরং অভিযোগকে সংশ্লিষ্ট বিভাগের কাছে পৌঁছে দিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়াকে গতিশীল করা।

এতে নাগরিকদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে কোথায় পরিচ্ছন্নতাসেবা প্রয়োজন, কোন সমস্যাটি সমাধান করা জরুরি এবং কোন অভিযোগের নিষ্পত্তি বাকি রয়েছে—এসব বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজর দেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়। ফলে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মটি নাগরিক ও সিটি করপোরেশনের মধ্যে যোগাযোগের একটি মাধ্যম হিসেবে কাজ করছে।

ডিএসসিসির প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম এ উদ্যোগের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, পরিচ্ছন্ন নগর গঠনে সিটি করপোরেশনের উদ্যোগের পাশাপাশি নগরবাসীর সক্রিয় অংশগ্রহণ অপরিহার্য। ক্লিন কেয়ার অ্যাপের মাধ্যমে নাগরিকদের মতামত ও পরামর্শ গ্রহণ করে একটি পরিচ্ছন্ন, বাসযোগ্য ও আধুনিক ঢাকা গড়ে তোলার চেষ্টা অব্যাহত থাকবে।

নগরবাসীর অংশগ্রহণকে গুরুত্ব দিয়ে প্রশাসক জানান, অ্যাপটির প্রতি আস্থা রাখার জন্য নাগরিকদের ধন্যবাদ জানাচ্ছে সিটি করপোরেশন। ভবিষ্যতে ডিএসসিসির অন্যান্য নাগরিক সেবাও এই অ্যাপের আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে। সে ক্ষেত্রে পরিচ্ছন্নতাসংক্রান্ত অভিযোগের বাইরেও আরও কিছু সেবা একই ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে যুক্ত হতে পারে। এতে নাগরিকদের একাধিক সেবা গ্রহণের জন্য পৃথক মাধ্যম ব্যবহারের প্রয়োজন কমানোর সুযোগ তৈরি হবে।

বর্তমান সরকারের প্রথম ১৮০ দিনের অগ্রাধিকার কর্মসূচির অংশ হিসেবে জবাবদিহিমূলক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে ‘ক্লিন কেয়ার’ ডিজিটাল ব্যবস্থা চালু করে ডিএসসিসি। এই উদ্যোগের মাধ্যমে পরিচ্ছন্নতা ব্যবস্থাপনায় প্রযুক্তির ব্যবহার ও নাগরিকদের সরাসরি সম্পৃক্ত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

তবে একটি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের সাফল্য কেবল কতটি অভিযোগ পাওয়া গেল বা কতজন ব্যবহারকারী ইতিবাচক রেটিং দিলেন, তা দিয়ে পুরোপুরি নির্ধারণ করা যায় না। অভিযোগ নিষ্পত্তিতে কত সময় লাগছে, একই সমস্যা আবার দেখা দিচ্ছে কি না এবং নাগরিকেরা বাস্তবে কতটা উন্নত সেবা পাচ্ছেন—এসব বিষয়ও গুরুত্বপূর্ণ। ১৮ অক্টোবর পর্যন্ত নিষ্পত্তির অপেক্ষায় থাকা ৬৫৫টি অভিযোগের সমাধান এবং পরবর্তী সময়ে সেবার মান ধরে রাখা তাই উদ্যোগটির কার্যকারিতা মূল্যায়নে তাৎপর্যপূর্ণ হবে।

প্রশাসক আবদুস সালাম বলেন, নগর পরিচ্ছন্নতা একটি ধারাবাহিক কাজ। শুধু নির্দিষ্ট সময়ের অভিযান কিংবা বর্জ্য অপসারণের মধ্যেই এর দায়িত্ব সীমাবদ্ধ নয়; প্রয়োজন নিয়মিত নজরদারি, দ্রুত অভিযোগ গ্রহণ ও কার্যকর সমাধান। এ ক্ষেত্রে নাগরিকদের তথ্য ও মতামত সিটি করপোরেশনের কাজকে আরও সুনির্দিষ্ট করার সুযোগ দিতে পারে।

‘ক্লিন কেয়ার’ অ্যাপের মাধ্যমে অভিযোগ গ্রহণ ও নিষ্পত্তির যে কার্যক্রম শুরু হয়েছে, তা পরিচ্ছন্নতা ব্যবস্থাপনায় ডিজিটাল সেবার একটি সম্ভাবনাময় দিক তুলে ধরেছে। অভিযোগের দ্রুত সমাধান, নিয়মিত অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ ও ভবিষ্যতে আরও নাগরিক সেবা যুক্ত করার পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে, অ্যাপটি নগরবাসী ও সিটি করপোরেশনের মধ্যে যোগাযোগ আরও সহজ করতে পারে। নাগরিক অংশগ্রহণ ও প্রশাসনিক জবাবদিহির সমন্বয়েই এই উদ্যোগ একটি পরিচ্ছন্ন, বাসযোগ্য ও আধুনিক ঢাকা গড়ার প্রচেষ্টায় কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে বলে প্রশাসক মনে করেন। সূত্র: বাসস

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ইলিশের নামে চন্দনা ও সুরমা বিক্রির অভিযোগ, চিনবেন যেভাবে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৩:৪৪ পি.এম


ইলিশের নামে চন্দনা ও সুরমা বিক্রির অভিযোগ, চিনবেন যেভাবে

ইলিশের চড়া দাম এবং বাজারে চাহিদার সুযোগ নিয়ে আসল ইলিশের পরিবর্তে চন্দনা ও সুরমা মাছ বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। দেখতে কিছুটা মিল থাকায় অনেক ক্রেতা এই মাছগুলোকে ইলিশ ভেবে কিনছেন। বিশেষ করে হোটেলে রান্না করা মাছ পরিবেশনের সময় আসল ইলিশ এবং অন্যান্য মাছের মধ্যে পার্থক্য বোঝা কঠিন হয়ে পড়ে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, চন্দনা ইলিশের কাছাকাছি প্রজাতির মাছ হলেও এটি আসল ইলিশ নয়। অন্যদিকে, সুরমা সম্পূর্ণ ভিন্ন পরিবারের মাছ। তাই মাছের গঠন, রং এবং গায়ের দাগ দেখে ক্রেতারা এদের মধ্যে পার্থক্য বোঝার চেষ্টা করতে পারেন।

বাংলাদেশের জাতীয় মাছ ইলিশের বৈজ্ঞানিক নাম Tenualosa ilisha। এই মাছটি মূলত সাগরে বসবাস করে, তবে প্রজননের জন্য নদীতে আসে। পদ্মা, মেঘনা, যমুনাসহ বিভিন্ন নদীতে ইলিশের বিচরণ রয়েছে। ২০১৭ সালে ইলিশ ভৌগোলিক নির্দেশক (জিআই) পণ্যের স্বীকৃতি পায়।

চন্দনার বৈজ্ঞানিক নাম Tenualosa toli। উপকূলীয় এলাকা, মোহনা এবং জোয়ার-ভাটার নদীতে এ মাছের দেখা মেলে। সিলেট ও উত্তরাঞ্চলে এটি ‘চন্দনা ইলিশ’ নামে পরিচিত। চট্টগ্রামে মাছটিকে ‘ফুইট্টা ইলিশ’ বলা হয়। ইংরেজিতে এর নাম টোলি শ্যাড।

চন্দনার গায়ের রং রুপালি, যাতে হলদে আভা থাকতে পারে। ফুলকার পেছনে অস্পষ্ট কালচে ছাপ দেখা যায়। ওপরের চোয়ালের মাঝখানেও ছোট খাঁজ রয়েছে। সাধারণত এটি ইলিশের তুলনায় ছোট হয়। তবে শুধুমাত্র আকার দেখে চন্দনা এবং ইলিশের মধ্যে পার্থক্য নির্ধারণ করা সঠিক নয়।

চন্দনা নামটি নিয়েও বিভ্রান্তি রয়েছে। Sardinella melanura নামের আরেকটি সামুদ্রিক মাছকেও কোথাও কোথাও চন্দনা ইলিশ বলা হয়। এই মাছটি ‘ব্ল্যাকটিপ সার্ডিনেলা’ নামে পরিচিত। বাংলায় একে ‘কালটিপ তাকিয়া’ও বলা হয়। এর লেজের ডগায় কালো রং থাকে, ফলে স্থানীয় নামের ওপর নির্ভর করে মাছটির প্রজাতি শনাক্ত করা কঠিন হতে পারে।

অন্যদিকে, সুরমা মাছের বৈজ্ঞানিক নাম Scomberomorus commerson। এটি ম্যাকেরেল পরিবারের মাছ, যার ইংরেজি নাম কিং ম্যাকেরেল। অঞ্চলভেদে মাছটি ‘ডোরা মাইট্টা’ বা ‘চম্পা’ নামেও পরিচিত।

সুরমার দেহ লম্বাটে এবং দুই পাশ চাপা। পিঠ নীলচে রুপালি এবং পেট সাদাটে। শরীরে সারি সারি কালচে খাড়া দাগ থাকে। এর চোয়ালে শক্ত দাঁত রয়েছে, যেগুলোর কিনারা করাতের মতো খাঁজকাটা। এসব বৈশিষ্ট্য আসল ইলিশ থেকে সুরমাকে আলাদা করতে সহায়তা করে।

ইলিশের উচ্চমূল্যও এ ধরনের প্রতারণার ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। চাঁদপুরের মাছঘাটে এ বছর প্রতি কেজি ইলিশের দাম ২ হাজার ৮০০ থেকে ৩ হাজার টাকা পর্যন্ত উঠেছে বলে জানা গেছে। বাজারে ইলিশের সরবরাহ কমে যাওয়া এবং দাম বেড়ে যাওয়ার সুযোগে অসাধু বিক্রেতারা অন্য মাছকে ইলিশ বলে বিক্রি করতে পারেন বলে আশঙ্কা রয়েছে।

এর আগে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে সার্ডিন, চৌক্কা, চন্দনা, চকোরি এবং টাকিয়াসহ বিভিন্ন মাছকে ইলিশ নামে বিক্রির অভিযোগ উঠে এসেছে। আস্ত মাছ দেখে অভিজ্ঞ ক্রেতারা কিছুটা পার্থক্য বুঝতে পারলেও কাটা বা রান্না করা মাছের ক্ষেত্রে তা কঠিন।

এ ক্ষেত্রে জাটকা নিয়েও বিভ্রান্তি এড়ানো জরুরি। জাটকা হলো ইলিশের কিশোর পর্যায়ের মাছ, আলাদা কোনো প্রজাতি নয়। অন্যদিকে, চন্দনা স্বতন্ত্র প্রজাতির মাছ। তাই ছোট মাছ দেখেই সেটিকে চন্দনা বা জাটকা বলে নিশ্চিত হওয়া যায় না।

বিশেষজ্ঞদের মতে, মাছের বৈজ্ঞানিক নাম ব্যবহারের অন্যতম কারণ হলো স্থানীয় নামের বিভ্রান্তি দূর করা। একই মাছ অঞ্চলভেদে ভিন্ন নামে পরিচিত হতে পারে। আবার একই স্থানীয় নামে একাধিক প্রজাতির মাছও পরিচিত হতে পারে।

আসল ইলিশ চিনবেন যেভাবে

মাছ কেনার সময় সম্ভব হলে আস্ত মাছ বেছে নেওয়া ভালো। মাছের দেহের গঠন, রং এবং গায়ের দাগ খেয়াল করতে হবে। চন্দনা সাধারণত ইলিশের চেয়ে ছোট হয়, আর সুরমার শরীরে স্পষ্ট খাড়া কালচে দাগ থাকে। তবে একটি বৈশিষ্ট্যের ওপর নির্ভর করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত নয়।

হোটেলে ইলিশের অর্ডার দেওয়ার আগে মাছটির পরিচয় সম্পর্কে জেনে নেওয়া যেতে পারে। দাম অস্বাভাবিক কম হলে অথবা বিক্রেতা মাছের পরিচয় স্পষ্ট করতে না চাইলে সতর্ক থাকা দরকার।

ইলিশ বাংলাদেশের নদী, সংস্কৃতি এবং ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। চন্দনা এবং সুরমার নিজস্ব পরিচয় থাকলেও সেগুলোকে ইলিশ বলে বিক্রি করা ক্রেতার সঙ্গে প্রতারণার শামিল। তাই মাছের সঠিক পরিচয় নিশ্চিত করা এবং ভোক্তা সচেতনতা বাড়ানো জরুরি।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%