১০:৪৪ পি.এম
কুড়িগ্রামে তিস্তা, ধরলা, দুধকুমার ও ব্রহ্মপুত্রসহ সব নদ-নদীর পানি কমা সত্ত্বেও বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত রয়েছে। গত ৪ দিন ধরে নতুন করে এসব নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছিল, তবে এখন সেগুলো আবার কমতে শুরু করেছে। শুক্রবার দুপুরের পর থেকে তিস্তা নদীতে ফের পানি বাড়তে শুরু করেছে। თუმცა, তিস্তার পানি বিপৎসীমার নিচ দিয়েই প্রবাহিত হচ্ছে।
স্থানীয় পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় রাজারহাটের তিস্তা নদীর কাউনিয়া পয়েন্টে পানির স্তর ৫ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার ৪৪ সেন্টিমিটার নিচে অবস্থান করছে। অন্যদিকে, ধরলা নদীর শিমুলবাড়ি ও সেতু পয়েন্টে পানি বেড়ে বিপৎসীমার ৪০ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ব্রহ্মপুত্র নদের হাতিয়া, চিলমারী ও নুনখাওয়া পয়েন্টে পানির স্তর কমে গিয়ে পরিস্থিতি অপরিবর্তিত আছে। ফলে, এসব নদ-নদীর অববাহিকার নিম্নাঞ্চলে পানি উঠে প্লাবিত হয়েছে এবং সেখানে নতুন নতুন ফসল তলিয়ে গেছে।
এদিকে, তিস্তা, ধরলা ও ব্রহ্মপুত্র নদীর পানি কমা ও বাড়ার ফলে নদী ভাঙন তীব্র রূপ নিয়েছে। চিলমারী উপজেলার রানীগঞ্জে কাচকল এলাকায় প্রায় ৬০ মিটার বাঁধ আবারও ভেঙে গেছে, যা স্থানীয়দের মধ্যে নদী ভাঙন আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। এর পাশাপাশি, জেলার রাজারহাট উপজেলার ঘড়িয়াল ডাঙার রামহরি, খিতাবখা ও বুড়িরহাট বাজার, উলিপুরের হাতিয়া, দাগারকুটি, জলাঙরকুটি সহ অন্যান্য অনেক এলাকায় প্রবল স্রোত নদী ভাঙনের সৃষ্টি করছে। স্থানীয় পানি উন্নয়ন বোর্ড অস্থায়ী ভিত্তিতে জিওব্যাগ ফেলে ভাঙন প্রতিরোধের চেষ্টা করছে, তবে তা এখনও কার্যকর হচ্ছে না।
আরও পড়ুন: রংপুরে ২৬ মামলার পলাতক আসামি শীর্ষ সন্ত্রাসী ‘মেরিল সুমন’ গ্রেপ্তার
মোগলবাসা এলাকার বাসিন্দা কুদরত আলী জানিয়েছেন, তারা নয়ার চর থেকে নৌকায় এসে মোগলবাসায় নদী ভাঙন ঠেকাতে কাজ করছেন, কিন্তু নয়ারহাটে ঘরবাড়ি, ফসলি জমি ও স্থাপনা ভাঙছে। তিনি দাবি করেছেন, তাঁদের এলাকায়ও ভাঙন প্রতিরোধে বোল্ডার ফেলার ব্যবস্থা হোক।
চিলমারী উপজেলার কাচকল এলাকার বাসিন্দা জলিল মিয়া জানিয়েছেন, কয়েক দিন ধরে বাঁধের রাস্তায় তিনটি ভাঙন দেখা দিয়েছে। কিন্তু ওয়াপদা জিওব্যাগ ফেলে যে প্রতিরোধের চেষ্টা করছে, তার সুফল মিলছে না। তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন যে, যদি বাড়িগুলো তলিয়ে যায়, তবে তাঁরা কোথায় যাবেন।
কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নিবাহী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান জানিয়েছেন, নদী ও নদীর পানি কমা-বাড়ার প্রভাবে তীব্র ভাঙন ঘটছে। জেলার ৩৮টি স্থানে নদী ভাঙন দেখা দিয়েছে। চিলমারীর কাচকল এলাকায় জিওব্যাগ ফেলে ভাঙন প্রতিরোধের চেষ্টা করা হলেও সেগুলোও আবার ভেঙে যাচ্ছে। তিনি মন্তব্য করেছেন যে, শুকনো মৌসুমে এসব এলাকায় স্থায়ীভাবে ব্যবস্থা গ্রহণ করা সম্ভব হবে।
আরও পড়ুন: একুশে বইমেলার তারিখ ৭ জানুয়ারি ২০২৭ ঘোষণা
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন