ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

জাবি শিক্ষার্থী মোহাইমিনুল ইসলাম নিখোঁজ, হলের কক্ষে সুইসাইড নোট


জাবি শিক্ষার্থী মোহাইমিনুল ইসলাম নিখোঁজ, হলের কক্ষে সুইসাইড নোট

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) ভূতাত্ত্বিক বিজ্ঞান বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের মো. মোহাইমিনুল ইসলাম নামে এক শিক্ষার্থী নিখোঁজ হয়ে গেছেন। নিখোঁজ হওয়ার আগে তিনি হল থেকে বের হওয়ার সময় নিজের কক্ষে একটি ‘সুইসাইড নোট' লিখে রেখে গেছেন। এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সাভার থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছে।

রোববার (১১ অক্টোবর) বিকেল ৩টা ৮ মিনিটে হলের সামনে থেকে বাসে ওঠার পর মোহাইমিনুল ইসলামের কোনো সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না।

নিখোঁজ শিক্ষার্থী মোহাইমিনুল জামালপুরের মেলান্দহ উপজেলার হাজরা এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫০ তম ব্যাচের শিক্ষার্থী।

আরও পড়ুন: চুয়েটের অচলাবস্থা নিরসনে তদন্ত কমিটি গঠনের উদ্যোগ

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, তিনি হলের ‘এ’ ব্লকের ১১০ নম্বর কক্ষের আবাসিক শিক্ষার্থী। তার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছে। বিষয়টি ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার শামীমা পারভীনকেও জানানো হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয় জনসংযোগ কার্যালয়ের অপর এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, নিখোঁজ শিক্ষার্থীর হলে নিজ কক্ষে একটি ‘সুইসাইড নোট’ পাওয়া গেছে। এ ঘটনার প্রেক্ষিতে জাবি প্রশাসন একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মুহম্মদ নজরুল ইসলাম জানান, নিখোঁজ শিক্ষার্থীকে খুঁজে বের করতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, প্রক্টরিয়াল বডি ও পুলিশ একসঙ্গে কাজ করছে। তার বন্ধু, আত্মীয়স্বজন ও পরিচিতজনদের সঙ্গেও যোগাযোগ করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন: ইবি প্রশাসনের চার পদে নতুন পরিচালক নিয়োগ

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

‘নারীর ক্ষমতায়নে প্রশিক্ষণের পাশাপাশি পরিবারকেও সম্পৃক্ত করতে হবে’

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

সোমবার, ১২ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৩:৩৮ পি.এম


‘নারীর ক্ষমতায়নে প্রশিক্ষণের পাশাপাশি পরিবারকেও সম্পৃক্ত করতে হবে’

নারীর টেকসই ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করতে কেবল পেশাগত প্রশিক্ষণ বা কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করাই যথেষ্ট নয়। এর পাশাপাশি ব্যক্তিগত আত্মবিশ্বাস, যোগাযোগ দক্ষতা, অধিকার সম্পর্কে সচেতনতা এবং পারিবারিক ও সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গির ইতিবাচক পরিবর্তনও অত্যন্ত জরুরি। এই মন্তব্যটি করেছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ।

সোমবার (১২ অক্টোবর) রাজধানীর বনানীর একটি অভিজাত হোটেলে কোরিয়া ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সি (কোইকা) ও ইউনিসেফের যৌথ উদ্যোগে বাস্তবায়িত ‘হার স্কিলস, হার ফিউচার’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রতিষ্ঠানিক শিক্ষার বাইরে থাকা কিশোরী ও তরুণীদের চাহিদাভিত্তিক পেশাগত ও জীবনমুখী দক্ষতা উন্নয়ন এবং আত্মনির্ভরশীল করে তোলাই ছিল এ প্রকল্পের মূল লক্ষ্য।

প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, বাংলাদেশের সামাজিক বাস্তবতায় একজন নারীকে তার পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেখার সুযোগ নেই। বিশেষ করে গ্রামীণ ও পিছিয়ে থাকা জনগোষ্ঠীর নারীদের ক্ষমতায়নের ক্ষেত্রে পরিবারকে সম্পৃক্ত করে কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে। তিনি উল্লেখ করেন, পরিবারকে সাথে নিয়ে কাজ করতে পারলে নারীদের অর্থনৈতিক স্বাধীনতা অর্জনের পথ আরও সুগম হবে।

নারীর ক্ষমতায়নের বহুমুখী মাত্রার কথা উল্লেখ করে ববি হাজ্জাজ বলেন, ব্যক্তিগত, শিক্ষাগত ও অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন আলাদাভাবে চিহ্নিত করে সমন্বিত কর্মসূচি তৈরি করতে হবে। একজন নারীকে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করার আগে তার নিজস্ব অধিকারবোধ ও সিদ্ধান্ত নেওয়ার সক্ষমতা তৈরি করা প্রয়োজন। তিনি উদ্যোক্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হতে যোগাযোগ দক্ষতার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান।

বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, পরিবারের সামাজিক চাপ ও অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা থেকে অনেক সময় মেয়েদের অল্প বয়সে বিয়ে দেওয়ার প্রবণতা দেখা যায়। এ বাস্তবতা মোকাবিলায় মেয়েদের শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন ও অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হওয়ার সুযোগ বাড়িয়ে দৃষ্টিভঙ্গি বদলাতে কাজ করতে হবে।

অনুষ্ঠানে ইউনিসেফ বাংলাদেশের চিফ অব এডুকেশন দীপা শঙ্করের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ইউনিসেফ বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন প্রতিনিধি জিলিয়ান মেলসপ এবং কোইকা বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর জিহুন কিম।

এছাড়া অনুষ্ঠানে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় ও উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং উন্নয়ন সহযোগীদের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

তুরস্কে পর্যটকবাহী বাস-ট্রাক সংঘর্ষে ১১ জন নিহত, ২৭ আহত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সোমবার, ১২ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৪:০৩ পি.এম


তুরস্কে পর্যটকবাহী বাস-ট্রাক সংঘর্ষে ১১ জন নিহত, ২৭ আহত

তুরস্কের পশ্চিমাঞ্চলে একটি পর্যটকবাহী বাসের সাথে টো ট্রাকের সংঘর্ষে অন্তত ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন ২৭ জন। রোববার (১১ অক্টোবর) মানিসা প্রদেশের আখিসার এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরার প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, স্থানীয় সময় সকাল ১১টার দিকে গেবজে-ওরহাঙ্গাজি-ইজমির মহাসড়কের একটি টোল বুথের কাছে বাস ও টো ট্রাকের সংঘর্ষ ঘটে।

মানিসার গভর্নর কার্যালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সকাল ১১টার কিছু পরে দুর্ঘটনার খবর কর্তৃপক্ষের কাছে পৌঁছায়। আহতদের উদ্ধার করে স্থানীয় বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

আহতদের মধ্যে বাসচালকও রয়েছেন। চিকিৎসা শেষে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পাওয়ার পর তাকে পুলিশ আটক করেছে।

দুর্ঘটনাস্থলের ছবিতে দেখা যায়, সংঘর্ষের পর বাসটি উল্টে যায় এবং এর পেছনের অংশ ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সড়কের পাশে সারিবদ্ধভাবে রাখা ছিল মরদেহ বহনের নীল রঙের ব্যাগ। উল্টে যাওয়া টো ট্রাকটি কাঠের তক্তা বহন করছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে।

তুরস্কের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মুস্তফা চিফচি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে একটি পোস্টে জানিয়েছেন, নিহতরা তুরস্কের নাগরিক। তবে হতাহতদের মধ্যে কোনো বিদেশি নাগরিক রয়েছেন কি না, সে বিষয়ে কর্তৃপক্ষ এখনও নিশ্চিত নয়।

দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে মানিসার গভর্নর ভাহদেত্তিন ওজকান মন্তব্য করেন, পাবলিক প্রসিকিউটরের কার্যালয়ের সমন্বয়ে ঘটনাস্থলে কার্যক্রম চলছে। তিনি বলেন, এ দুর্ঘটনা ট্রাফিক আইন মেনে চলার গুরুত্ব আবারও তুলে ধরেছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে কূটনীতির ওপর জোর দিচ্ছে বাংলাদেশ: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সোমবার, ১২ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৪:০৪ পি.এম


রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে কূটনীতির ওপর জোর দিচ্ছে বাংলাদেশ: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানিয়েছেন, বাংলাদেশ বলপূর্বক বাস্তুচ্যুত মিয়ানমারের নাগরিকদের (রোহিঙ্গা) নিরাপদ, স্বেচ্ছায়, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে যোগাযোগের সম্ভাবনা বিবেচনায় রেখে সকল ধরনের কূটনৈতিক পথ খোলা রাখছে।

মন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, পরিবর্তিত ভূ-রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে চীন, জাপান, আসিয়ান, জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক অংশীজনদের সম্পৃক্ত করে সমন্বিত আঞ্চলিক উদ্যোগের মাধ্যমে প্রত্যাবাসনের টেকসই সমাধান খুঁজছে সরকার।

রোববার (১১ অক্টোবর) রাজধানীর হোটেল রেডিসন ব্লু ওয়াটার গার্ডেনের অন্তরা হলে ফাউন্ডেশন ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজের (এফএসডিএস) উদ্যোগে ‘রোহিঙ্গা সংকট: উত্তরণের পথ-টেকসই প্রত্যাবাসন ও স্থায়ী আঞ্চলিক সমাধানের দিকে’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, বাস্তুচ্যুত মিয়ানমারের নাগরিকদের টেকসই প্রত্যাবাসনে বাংলাদেশের একক প্রচেষ্টা যথেষ্ট নয়। এজন্য চীন, আসিয়ান, জাতিসংঘ, জাপানসহ সংশ্লিষ্ট সব অংশীজনকে নিয়ে একটি কৌশলগত আঞ্চলিক জোট ও সমন্বিত দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে তোলা প্রয়োজন। প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সমন্বিত কূটনৈতিক প্রচেষ্টা আরও জোরদার করা হচ্ছে।

রাখাইন রাজ্যের পরিবর্তিত রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি তুলে ধরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সংকট সমাধানে আনুষ্ঠানিক কূটনীতির পাশাপাশি অনানুষ্ঠানিক যোগাযোগসহ বিভিন্ন কূটনৈতিক মাধ্যম কাজে লাগিয়ে সম্ভাব্য পথ খোঁজা হচ্ছে। তবে রোহিঙ্গাদের শান্তিপূর্ণ প্রত্যাবাসনই বাংলাদেশের মূল লক্ষ্য। এ লক্ষ্য অর্জনে সব সম্ভাব্য পথ বিবেচনায় রেখে কূটনৈতিক সংলাপ অব্যাহত থাকবে।

তিনি জানান, সম্প্রতি জাপান সরকারের মিয়ানমার বিষয়ক জাতীয় পুনর্মিলন-সংক্রান্ত বিশেষ দূত ও নিপ্পন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান সাসাকাওয়ার বাংলাদেশ সফরকালে প্রধানমন্ত্রী ও তিনি নিজে তার সঙ্গে প্রত্যাবাসন ইস্যুতে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন। এ বিষয়ে জাপান সরকার সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে।

চলতি মাসের শেষ দিকে প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফরের কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ওই সফরে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করার বিষয়টি নিয়ে আরও আলোচনা হবে।

সেমিনারের সভাপতি এফএসডিএসের চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল ফজলে এলাহী আকবর (অব.)-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় বিষয়ক উপদেষ্টা মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ।

তিনি বলেন, রোহিঙ্গা সংকট কেবল মানবিক সমস্যা বা দ্বিপক্ষীয় বিষয় নয়; এটি বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থ, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনীতির সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত। মিয়ানমারের পরিবর্তিত রাজনৈতিক ও সামরিক বাস্তবতায় সংকট ব্যবস্থাপনার প্রচলিত পদ্ধতির বাইরে গিয়ে কৌশলগত কূটনীতি, অস্থায়ী ত্রাণ সহায়তার পাশাপাশি টেকসই প্রত্যাবাসন এবং বিচ্ছিন্ন উদ্যোগের পরিবর্তে সমন্বিত জাতীয় কৌশলের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।

জনপ্রশাসন উপদেষ্টা বলেন, রোহিঙ্গাদের মানবিক অধিকার ও সুরক্ষা নিশ্চিত করার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সম্পৃক্ততা বাড়াতে হবে। একইসঙ্গে মিয়ানমারের ওপর কার্যকর আন্তর্জাতিক চাপ সৃষ্টি করে তাদের নিজ ভূমিতে নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবর্তনের অনুকূল পরিবেশ গড়ে তুলতে হবে।

সেমিনার শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতির পদে এ বছর বাংলাদেশের প্রতিনিধি নির্বাচিত হওয়ায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের বিষয়টি আরও জোরালোভাবে তুলে ধরার সুযোগ তৈরি হয়েছে। চীন, জাপান, ভারত, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ সংশ্লিষ্ট দেশ ও সংস্থার সহযোগিতায় আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আলোচনার মাধ্যমে দ্রুত টেকসই প্রত্যাবাসনের পথ বের করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

সেমিনারে তিনটি বিষয়ভিত্তিক প্রবন্ধ উপস্থাপন করা হয়। অধ্যাপক ড. এ. এস. এম. আলী আশরাফ মিয়ানমার ও রাখাইনের পরিবর্তিত রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেন। অধ্যাপক শাহাব এনাম খান রাখাইনের উন্নয়ন, যোগাযোগব্যবস্থা ও প্রত্যাবাসনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শাফায়াত আহমদ, পিএইচডি (অব.) আঞ্চলিক কূটনীতি ও বাংলাদেশের কৌশলগত করণীয় বিষয়ে প্রস্তাব উপস্থাপন করেন।

প্রবন্ধগুলোর ওপর আলোচনায় বক্তারা বলেন, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনকে শুধু নিজ দেশে ফিরিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়া হিসেবে দেখলে চলবে না। প্রত্যাবাসন টেকসই করতে ফেরত যাওয়া নাগরিকদের নিরাপত্তা, নাগরিকত্ব, বাসস্থান, জীবিকার সুযোগ এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সঙ্গে গ্রহণযোগ্য সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার অনুকূল পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি। এসব মৌলিক বিষয় নিশ্চিত করা না গেলে প্রত্যাবাসনের স্থায়িত্ব নিয়ে অনিশ্চয়তা থেকে যেতে পারে।

সেমিনারে দেশি-বিদেশি কূটনীতিক, আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধি, অবসরপ্রাপ্ত সামরিক কর্মকর্তা, গবেষক, শিক্ষাবিদ ও বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। সূত্র: বাসস

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পাবনায় ম্যাজিস্ট্রেটের মধ্যস্থতায় মা ছেলের ঘরে ফিরলেন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

সোমবার, ১২ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৪:০৪ পি.এম


পাবনায় ম্যাজিস্ট্রেটের মধ্যস্থতায় মা ছেলের ঘরে ফিরলেন

পাবনার সাঁথিয়ার গ্রাম পুলিশের সদস্য সাগর হোসেন, যিনি মাকে নিজের সঙ্গে রাখতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিলেন, অবশেষে মায়ের ভরণপোষণ ও সব দায়িত্ব গ্রহণে রাজি হয়েছেন। আদালতের মধ্যস্থতায় ভুল বুঝতে পেরে তিনি মায়ের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন। পরে বৃদ্ধা মুন্নি খাতুন ছেলের সঙ্গে নিজ বাড়িতে ফিরে গেছেন।

রোববার (১১ অক্টোবর) পাবনা চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের সাঁথিয়া থানার আমলি আদালতে মা ও ছেলের বক্তব্য শোনার পর এ সমাধানটি হয়েছে।

সাগর হোসেন সাঁথিয়া উপজেলার নাগডেমরা ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) গ্রাম পুলিশের সদস্য। তার বাড়ি ওই ইউনিয়নে অবস্থিত।

এর আগে ৮ অক্টোবর, মায়ের ভরণপোষণ ও দায়িত্ব পালনের বিষয়ে একটি পারিবারিক মামলার শুনানি অনুষ্ঠিত হয় সাঁথিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ে। ওই সময় ইউএনও তাকে মায়ের প্রতি দায়িত্ব ও কর্তব্যের কথা বুঝিয়ে দেন। কিন্তু সাগর, মায়ের খরচ বহন করতে রাজি হলেও তাকে নিজের কাছে রাখতে অস্বীকৃতি জানান। এ ঘটনায় সেখানে হৃদয়বিদারক পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়।

পরে এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়।

বিষয়টি আদালতের নজরে এলে আদালত স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে উদ্যোগ গ্রহণ করে। রোববার বিকেলে সাঁথিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনিসুর রহমানকে নির্দেশ দেওয়া হয় সাগর ও তার মাকে আদালতে হাজির করার। পরে ওসি তাদের আদালতে নিয়ে যান।

শুনানিতে মা ও ছেলের বক্তব্য শোনার পর আদালত তাদের মধ্যকার বিরোধ নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেয়। এ সময় নিজের ভুল বুঝতে পেরে সাগর মায়ের ভরণপোষণসহ সব দায়িত্ব নিতে রাজি হন। তিনি মায়ের সঙ্গে এমন আচরণের জন্য অনুতপ্ত হওয়ার কথা জানিয়ে ভবিষ্যতে আর এমন আচরণ করবেন না বলেও আদালতকে আশ্বস্ত করেন। পাশাপাশি তিনি নিজের মা ও দেশবাসীর কাছে ক্ষমা চান।

ছেলের কাছে থাকতে পারার আনন্দ প্রকাশ করে মুন্নি খাতুন বলেন, ‘আমার ছেলে নিজের ভুল বুঝতে পেরেছে। আমি আমার ছেলেকে চেয়েছিলাম, অবশেষে তাকে ফিরে পেয়েছি। আমার আর কিছু চাওয়ার নেই।’

তিনি আরও বলেন, ‘ছেলের সব ভুল আমি মাফ করে দিয়েছি। এখন আমি ছেলের বাড়িতে ফিরে এসেছি। জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত ছেলের কাছেই থাকতে চাই। মা হিসেবে এটাই আমার সবচেয়ে বড় চাওয়া।’

সাগর হোসেন বলেন, ‘ওসি স্যার আমাকে গাড়িতে করে আদালতে নিয়ে গিয়েছিলেন। সেখানে গিয়ে আমি নিজের ভুল বুঝতে পেরেছি। আগে আমি যা বলেছি, তা আবেগের বশে বলেছি, অনেক কথাই মিথ্যা ছিল। এখন বুঝতে পারছি, আমার ভুল হয়েছে। আমি নিজের ভুল বুঝতে পেরেছি এবং অনুতপ্ত।’

তিনি আরও বলেন, ‘এখন থেকে মাকে সঙ্গে নিয়েই সামনে এগিয়ে যেতে চাই। মাকে নিজের কাছে রেখে তাঁর দেখাশোনা ও ভরণপোষণের দায়িত্ব পালন করতে চাই।’

এ বিষয়ে সাঁথিয়া থানার ওসি আনিসুর রহমান জানান, বৃদ্ধা মা ও ছেলেকে একসঙ্গে বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। এরপরও তাদের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখা হচ্ছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%