ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে কূটনীতির ওপর জোর দিচ্ছে বাংলাদেশ: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী


রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে কূটনীতির ওপর জোর দিচ্ছে বাংলাদেশ: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানিয়েছেন, বাংলাদেশ বলপূর্বক বাস্তুচ্যুত মিয়ানমারের নাগরিকদের (রোহিঙ্গা) নিরাপদ, স্বেচ্ছায়, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে যোগাযোগের সম্ভাবনা বিবেচনায় রেখে সকল ধরনের কূটনৈতিক পথ খোলা রাখছে।

মন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, পরিবর্তিত ভূ-রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে চীন, জাপান, আসিয়ান, জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক অংশীজনদের সম্পৃক্ত করে সমন্বিত আঞ্চলিক উদ্যোগের মাধ্যমে প্রত্যাবাসনের টেকসই সমাধান খুঁজছে সরকার।

রোববার (১১ অক্টোবর) রাজধানীর হোটেল রেডিসন ব্লু ওয়াটার গার্ডেনের অন্তরা হলে ফাউন্ডেশন ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজের (এফএসডিএস) উদ্যোগে ‘রোহিঙ্গা সংকট: উত্তরণের পথ-টেকসই প্রত্যাবাসন ও স্থায়ী আঞ্চলিক সমাধানের দিকে’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

আরও পড়ুন: ‘আল্লাহর বাড়ি মানুষ যায় পবিত্র নিয়তে, ওখানে এ ধরনের কর্মকাণ্ড ঠিক না’ হুমায়ুন কবিরের মন্তব্য

মন্ত্রী বলেন, বাস্তুচ্যুত মিয়ানমারের নাগরিকদের টেকসই প্রত্যাবাসনে বাংলাদেশের একক প্রচেষ্টা যথেষ্ট নয়। এজন্য চীন, আসিয়ান, জাতিসংঘ, জাপানসহ সংশ্লিষ্ট সব অংশীজনকে নিয়ে একটি কৌশলগত আঞ্চলিক জোট ও সমন্বিত দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে তোলা প্রয়োজন। প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সমন্বিত কূটনৈতিক প্রচেষ্টা আরও জোরদার করা হচ্ছে।

রাখাইন রাজ্যের পরিবর্তিত রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি তুলে ধরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সংকট সমাধানে আনুষ্ঠানিক কূটনীতির পাশাপাশি অনানুষ্ঠানিক যোগাযোগসহ বিভিন্ন কূটনৈতিক মাধ্যম কাজে লাগিয়ে সম্ভাব্য পথ খোঁজা হচ্ছে। তবে রোহিঙ্গাদের শান্তিপূর্ণ প্রত্যাবাসনই বাংলাদেশের মূল লক্ষ্য। এ লক্ষ্য অর্জনে সব সম্ভাব্য পথ বিবেচনায় রেখে কূটনৈতিক সংলাপ অব্যাহত থাকবে।

তিনি জানান, সম্প্রতি জাপান সরকারের মিয়ানমার বিষয়ক জাতীয় পুনর্মিলন-সংক্রান্ত বিশেষ দূত ও নিপ্পন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান সাসাকাওয়ার বাংলাদেশ সফরকালে প্রধানমন্ত্রী ও তিনি নিজে তার সঙ্গে প্রত্যাবাসন ইস্যুতে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন। এ বিষয়ে জাপান সরকার সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে।

চলতি মাসের শেষ দিকে প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফরের কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ওই সফরে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করার বিষয়টি নিয়ে আরও আলোচনা হবে।

আরও পড়ুন: জলবায়ু ও উন্নয়ন কাজে তুরস্কের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার চায় বাংলাদেশ

সেমিনারের সভাপতি এফএসডিএসের চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল ফজলে এলাহী আকবর (অব.)-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় বিষয়ক উপদেষ্টা মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ।

তিনি বলেন, রোহিঙ্গা সংকট কেবল মানবিক সমস্যা বা দ্বিপক্ষীয় বিষয় নয়; এটি বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থ, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনীতির সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত। মিয়ানমারের পরিবর্তিত রাজনৈতিক ও সামরিক বাস্তবতায় সংকট ব্যবস্থাপনার প্রচলিত পদ্ধতির বাইরে গিয়ে কৌশলগত কূটনীতি, অস্থায়ী ত্রাণ সহায়তার পাশাপাশি টেকসই প্রত্যাবাসন এবং বিচ্ছিন্ন উদ্যোগের পরিবর্তে সমন্বিত জাতীয় কৌশলের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।

জনপ্রশাসন উপদেষ্টা বলেন, রোহিঙ্গাদের মানবিক অধিকার ও সুরক্ষা নিশ্চিত করার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সম্পৃক্ততা বাড়াতে হবে। একইসঙ্গে মিয়ানমারের ওপর কার্যকর আন্তর্জাতিক চাপ সৃষ্টি করে তাদের নিজ ভূমিতে নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবর্তনের অনুকূল পরিবেশ গড়ে তুলতে হবে।

সেমিনার শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতির পদে এ বছর বাংলাদেশের প্রতিনিধি নির্বাচিত হওয়ায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের বিষয়টি আরও জোরালোভাবে তুলে ধরার সুযোগ তৈরি হয়েছে। চীন, জাপান, ভারত, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ সংশ্লিষ্ট দেশ ও সংস্থার সহযোগিতায় আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আলোচনার মাধ্যমে দ্রুত টেকসই প্রত্যাবাসনের পথ বের করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

আরও পড়ুন: ক্ষমা চাইলেন ‘পাপের লাশ বাংলাদেশে আসুক চাই না’ বলা এমপি রতন

সেমিনারে তিনটি বিষয়ভিত্তিক প্রবন্ধ উপস্থাপন করা হয়। অধ্যাপক ড. এ. এস. এম. আলী আশরাফ মিয়ানমার ও রাখাইনের পরিবর্তিত রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেন। অধ্যাপক শাহাব এনাম খান রাখাইনের উন্নয়ন, যোগাযোগব্যবস্থা ও প্রত্যাবাসনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শাফায়াত আহমদ, পিএইচডি (অব.) আঞ্চলিক কূটনীতি ও বাংলাদেশের কৌশলগত করণীয় বিষয়ে প্রস্তাব উপস্থাপন করেন।

প্রবন্ধগুলোর ওপর আলোচনায় বক্তারা বলেন, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনকে শুধু নিজ দেশে ফিরিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়া হিসেবে দেখলে চলবে না। প্রত্যাবাসন টেকসই করতে ফেরত যাওয়া নাগরিকদের নিরাপত্তা, নাগরিকত্ব, বাসস্থান, জীবিকার সুযোগ এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সঙ্গে গ্রহণযোগ্য সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার অনুকূল পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি। এসব মৌলিক বিষয় নিশ্চিত করা না গেলে প্রত্যাবাসনের স্থায়িত্ব নিয়ে অনিশ্চয়তা থেকে যেতে পারে।

সেমিনারে দেশি-বিদেশি কূটনীতিক, আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধি, অবসরপ্রাপ্ত সামরিক কর্মকর্তা, গবেষক, শিক্ষাবিদ ও বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। সূত্র: বাসস

আরও পড়ুন: অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের প্রতিবাদে গ্রাহক ফখরুল ইসলাম সোহেলের মামলা

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পাবনায় ম্যাজিস্ট্রেটের মধ্যস্থতায় মা ছেলের ঘরে ফিরলেন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

সোমবার, ১২ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৪:০৪ পি.এম


পাবনায় ম্যাজিস্ট্রেটের মধ্যস্থতায় মা ছেলের ঘরে ফিরলেন

পাবনার সাঁথিয়ার গ্রাম পুলিশের সদস্য সাগর হোসেন, যিনি মাকে নিজের সঙ্গে রাখতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিলেন, অবশেষে মায়ের ভরণপোষণ ও সব দায়িত্ব গ্রহণে রাজি হয়েছেন। আদালতের মধ্যস্থতায় ভুল বুঝতে পেরে তিনি মায়ের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন। পরে বৃদ্ধা মুন্নি খাতুন ছেলের সঙ্গে নিজ বাড়িতে ফিরে গেছেন।

রোববার (১১ অক্টোবর) পাবনা চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের সাঁথিয়া থানার আমলি আদালতে মা ও ছেলের বক্তব্য শোনার পর এ সমাধানটি হয়েছে।

সাগর হোসেন সাঁথিয়া উপজেলার নাগডেমরা ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) গ্রাম পুলিশের সদস্য। তার বাড়ি ওই ইউনিয়নে অবস্থিত।

এর আগে ৮ অক্টোবর, মায়ের ভরণপোষণ ও দায়িত্ব পালনের বিষয়ে একটি পারিবারিক মামলার শুনানি অনুষ্ঠিত হয় সাঁথিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ে। ওই সময় ইউএনও তাকে মায়ের প্রতি দায়িত্ব ও কর্তব্যের কথা বুঝিয়ে দেন। কিন্তু সাগর, মায়ের খরচ বহন করতে রাজি হলেও তাকে নিজের কাছে রাখতে অস্বীকৃতি জানান। এ ঘটনায় সেখানে হৃদয়বিদারক পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়।

পরে এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়।

বিষয়টি আদালতের নজরে এলে আদালত স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে উদ্যোগ গ্রহণ করে। রোববার বিকেলে সাঁথিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনিসুর রহমানকে নির্দেশ দেওয়া হয় সাগর ও তার মাকে আদালতে হাজির করার। পরে ওসি তাদের আদালতে নিয়ে যান।

শুনানিতে মা ও ছেলের বক্তব্য শোনার পর আদালত তাদের মধ্যকার বিরোধ নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেয়। এ সময় নিজের ভুল বুঝতে পেরে সাগর মায়ের ভরণপোষণসহ সব দায়িত্ব নিতে রাজি হন। তিনি মায়ের সঙ্গে এমন আচরণের জন্য অনুতপ্ত হওয়ার কথা জানিয়ে ভবিষ্যতে আর এমন আচরণ করবেন না বলেও আদালতকে আশ্বস্ত করেন। পাশাপাশি তিনি নিজের মা ও দেশবাসীর কাছে ক্ষমা চান।

ছেলের কাছে থাকতে পারার আনন্দ প্রকাশ করে মুন্নি খাতুন বলেন, ‘আমার ছেলে নিজের ভুল বুঝতে পেরেছে। আমি আমার ছেলেকে চেয়েছিলাম, অবশেষে তাকে ফিরে পেয়েছি। আমার আর কিছু চাওয়ার নেই।’

তিনি আরও বলেন, ‘ছেলের সব ভুল আমি মাফ করে দিয়েছি। এখন আমি ছেলের বাড়িতে ফিরে এসেছি। জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত ছেলের কাছেই থাকতে চাই। মা হিসেবে এটাই আমার সবচেয়ে বড় চাওয়া।’

সাগর হোসেন বলেন, ‘ওসি স্যার আমাকে গাড়িতে করে আদালতে নিয়ে গিয়েছিলেন। সেখানে গিয়ে আমি নিজের ভুল বুঝতে পেরেছি। আগে আমি যা বলেছি, তা আবেগের বশে বলেছি, অনেক কথাই মিথ্যা ছিল। এখন বুঝতে পারছি, আমার ভুল হয়েছে। আমি নিজের ভুল বুঝতে পেরেছি এবং অনুতপ্ত।’

তিনি আরও বলেন, ‘এখন থেকে মাকে সঙ্গে নিয়েই সামনে এগিয়ে যেতে চাই। মাকে নিজের কাছে রেখে তাঁর দেখাশোনা ও ভরণপোষণের দায়িত্ব পালন করতে চাই।’

এ বিষয়ে সাঁথিয়া থানার ওসি আনিসুর রহমান জানান, বৃদ্ধা মা ও ছেলেকে একসঙ্গে বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। এরপরও তাদের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখা হচ্ছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

যুক্তরাষ্ট্র থেকে বাংলাদেশে এনআইডির জন্য আবেদন ও কার্ড সংগ্রহের নিয়ম জানুন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

সোমবার, ১২ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৪:০৬ পি.এম


যুক্তরাষ্ট্র থেকে বাংলাদেশে এনআইডির জন্য আবেদন ও কার্ড সংগ্রহের নিয়ম জানুন

যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত নাগরিকরা বাংলাদেশে না গিয়েও জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) জন্য আবেদন করতে সক্ষম। আবেদন প্রক্রিয়া শুরু করার পর, যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস বা সংশ্লিষ্ট কনস্যুলেট জেনারেলে সশরীরে উপস্থিত হয়ে বায়োমেট্রিক তথ্য প্রদান করতে হবে। আবেদন থেকে শুরু করে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুত, তথ্য যাচাই এবং স্মার্ট কার্ড সংগ্রহের পুরো প্রক্রিয়া সম্পর্কে বিস্তারিত জানুন ধাপে ধাপে।

ধাপ ১: আবেদনের যোগ্যতা যাচাই

দূতাবাসের নির্দেশনা অনুযায়ী, যাঁদের পূর্বে বাংলাদেশের এনআইডি নেই এবং যাঁরা এর আগে এনআইডির জন্য আবেদন করেননি, তারা নতুন নিবন্ধনের জন্য আবেদন করতে পারবেন। আবেদনকারীকে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত হওয়ার প্রমাণ উপস্থাপন করতে হবে।

এ জন্য বৈধ বা মেয়াদোত্তীর্ণ বাংলাদেশি পাসপোর্ট অথবা দূতাবাসের নির্ধারিত ঘোষণাপত্র এবং ১৭ সংখ্যার বাংলাদেশি জন্মনিবন্ধন সনদ প্রয়োজন হতে পারে। পাসপোর্ট ও জন্মনিবন্ধনের তথ্যের মধ্যে সামঞ্জস্য থাকা অত্যন্ত জরুরি।

তবে, বয়সের যোগ্যতা নিয়ে দূতাবাসের ওয়েবপেজ ও নির্দেশিকার পিডিএফে ভিন্ন তথ্য থাকায় আবেদন করার আগে সংশ্লিষ্ট দূতাবাস বা কনস্যুলেট থেকে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া উচিত।

ধাপ ২: অনলাইনে আবেদনপত্র পূরণ

প্রথমে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের এনআইডি সেবা পোর্টালে প্রবেশ করতে হবে। ওয়েবসাইটের ঠিকানা: https://services.nidw.gov.bd/nid-pub/

এরপর নতুন নিবন্ধনের আবেদনপত্র ফরম-২(ক) পূরণ করতে হবে। আবেদনপত্রে বাংলা ও ইংরেজি উভয় ভাষায় সঠিক তথ্য প্রদান করতে হবে। নাম, জন্মতারিখ, বাবা-মায়ের পরিচয় এবং বাংলাদেশের স্থায়ী ঠিকানা লেখার সময় জন্মনিবন্ধন ও পাসপোর্টের তথ্য অনুসরণ করা আবশ্যক।

আবেদনের সময় সচল বাংলাদেশি মোবাইল নম্বর প্রদান করা হতে পারে। পরিচয় ও ঠিকানা যাচাইয়ের প্রয়োজনে বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাচন অফিস থেকে যোগাযোগ করা হতে পারে।

আবেদন জমা দেওয়ার পর ফরমটির মুদ্রিত কপি সংরক্ষণ করতে হবে। পাশাপাশি পোর্টাল বা সংশ্লিষ্ট দপ্তরের নির্দেশনা অনুযায়ী অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিতে হবে।

ধাপ ৩: প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুত

আবেদনের আগে প্রয়োজনীয় নথি গুছিয়ে রাখা অপরিহার্য। সাধারণত যেসব কাগজপত্র লাগতে পারে-

অনলাইনে পূরণ করা ফরম-২(ক)-এর মুদ্রিত কপি।

১৭ সংখ্যার বাংলাদেশি জন্মনিবন্ধন সনদের মূল কপি ও ফটোকপি। বৈধ বা মেয়াদোত্তীর্ণ বাংলাদেশি পাসপোর্টের কপি।

সাম্প্রতিক পাসপোর্ট আকারের এক কপি ছবি। বাবা-মায়ের এনআইডি, জন্মনিবন্ধন ও পাসপোর্টের কপি। প্রযোজ্য ক্ষেত্রে মৃত্যু সনদ, উত্তরাধিকার সনদ, নাগরিকত্ব বা দ্বৈত নাগরিকত্বের সনদ।

বাংলাদেশি পাসপোর্ট না থাকলে দূতাবাসের নির্ধারিত ঘোষণাপত্র জমা দেওয়ার সুযোগ থাকতে পারে। সে ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত তিনজন বাংলাদেশি এনআইডিধারীর সত্যায়ন প্রয়োজন হতে পারে।

চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান জেলার আবেদনকারীদের অতিরিক্ত বিশেষ তথ্য ফরম পূরণ করতে হতে পারে।

কাগজপত্রের তালিকা আবেদনকারীর পরিস্থিতি অনুযায়ী ভিন্ন হতে পারে। তাই অ্যাপয়েন্টমেন্টের আগে সংশ্লিষ্ট দূতাবাস বা কনস্যুলেটের সর্বশেষ নির্দেশনা দেখে নেওয়া উচিত।

ধাপ ৪: দূতাবাস বা কনস্যুলেটে সশরীরে উপস্থিতি

অনলাইনে আবেদন করলেই এনআইডি নিবন্ধন সম্পন্ন হয় না। নির্ধারিত অ্যাপয়েন্টমেন্টের দিন আবেদনকারীকে নিজে বাংলাদেশ দূতাবাস বা তাঁর এলাকার জন্য প্রযোজ্য বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেলে উপস্থিত হতে হবে।

সেখানে আবেদনকারীর আঙুলের ছাপ, চোখের আইরিসের তথ্য, ছবি ও স্বাক্ষর নেওয়া হবে। বায়োমেট্রিক নিবন্ধন শেষে একটি স্লিপ দেওয়া হতে পারে। পরবর্তী সময়ে আবেদন অনুসরণ ও স্মার্ট কার্ড সংগ্রহের জন্য স্লিপটি গুরুত্বপূর্ণ।

তাহলে স্লিপটি যত্ন করে সংরক্ষণ করা আবশ্যক। দূতাবাসে যাওয়ার আগে অ্যাপয়েন্টমেন্টের সময়, সেবার নিয়ম এবং অতিরিক্ত কাগজপত্রের প্রয়োজনীয়তা নিশ্চিত করে নেওয়া ভালো।

ধাপ ৫: বাংলাদেশের নির্বাচন অফিসে তথ্য যাচাই

বায়োমেট্রিক নিবন্ধনের পর আবেদনকারীর তথ্য বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাচন অফিসে যাচাইয়ের জন্য পাঠানো হবে। এ পর্যায়ে আবেদনকারীর পরিচয়, পারিবারিক তথ্য ও বাংলাদেশের স্থায়ী ঠিকানা যাচাই করা হতে পারে।

প্রয়োজনে অতিরিক্ত নথি চাওয়া হতে পারে। যেমন-

এসএসসি বা সমমানের শিক্ষাগত সনদ। জেএসসি বা পিএসসি সনদ। দ্বৈত নাগরিকত্বের সনদ। বাংলাদেশি ড্রাইভিং লাইসেন্স বা কর শনাক্তকরণ নম্বরের (টিআইএন) নথি। বিবাহ বা তালাকের সনদ এবং স্বামী বা স্ত্রীর এনআইডি। জাতীয়তা সনদ। বাংলাদেশের ঠিকানার প্রমাণ হিসেবে ইউটিলিটি বিল বা হোল্ডিং ট্যাক্সের রসিদ।

সব আবেদনকারীর ক্ষেত্রে সব নথি প্রয়োজন হবে না। যাচাইকারী অফিসের চাহিদা অনুযায়ী অতিরিক্ত কাগজপত্র জমা দিতে হবে।

ধাপ ৬: এনআইডি ডাউনলোড ও স্মার্ট কার্ড সংগ্রহ

তথ্য যাচাই ও অনুমোদনের পর এনআইডি প্রস্তুত হলে আবেদনকারী এনআইডি সেবা পোর্টালে নিজের অ্যাকাউন্টে প্রবেশ করে পরিচয়পত্র ডাউনলোড করতে পারবেন। এ জন্য আবেদন করার সময় ব্যবহৃত ব্যবহারকারীর নাম ও পাসওয়ার্ড সংরক্ষণ করা জরুরি।

অন্যদিকে, স্মার্ট এনআইডি কার্ড বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনে প্রস্তুত হওয়ার পর দূতাবাস বা সংশ্লিষ্ট কনস্যুলেটে পাঠানো হতে পারে। কার্ড সেখানে পৌঁছালে নির্ধারিত নিয়মে সংগ্রহ করা যাবে।

তবে আবেদন থেকে স্মার্ট কার্ড হাতে পাওয়া পর্যন্ত নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা নিশ্চিত নয়। বাংলাদেশের তথ্য যাচাই, অনুমোদন, কার্ড মুদ্রণ ও যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানোর প্রক্রিয়ার ওপর সময় নির্ভর করবে।

আবেদনের আগে যেসব বিষয়ে সতর্ক থাকবেন

এই প্রক্রিয়া মূলত নতুন এনআইডি নিবন্ধনের জন্য। আগে থেকেই বাংলাদেশের এনআইডি থাকলে একই প্রক্রিয়ায় নতুন নিবন্ধন করা যাবে না। সংশোধন বা অন্যান্য সেবার জন্য আলাদা নির্দেশনা অনুসরণ করতে হবে।

আবেদনপত্রে ভুল বা মিথ্যা তথ্য দেওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে। বিশেষ করে নাম, জন্মতারিখ, বাবা-মায়ের পরিচয় এবং বাংলাদেশের স্থায়ী ঠিকানার তথ্য প্রামাণ্য নথির সঙ্গে মিলিয়ে দিতে হবে।

এ ছাড়া বয়সের যোগ্যতা, ফি, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও অ্যাপয়েন্টমেন্টের নিয়ম সময়ের সঙ্গে পরিবর্তিত হতে পারে। তাই আবেদন করার আগে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের এনআইডি সেবা পোর্টাল এবং সংশ্লিষ্ট বাংলাদেশ দূতাবাস বা কনস্যুলেটের সর্বশেষ নির্দেশনা যাচাই করে নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ উপায়।

সরকারি তথ্যসূত্র

বাংলাদেশ দূতাবাস, ওয়াশিংটন ডিসি: https://washington.mofa.gov.bd/pages/static-pages/6952668935ce18e1c05a9de3

বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের এনআইডি সেবা: https://services.nidw.gov.bd/nid-pub/

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মুন্সীগঞ্জে ৩৫৭ পূজামণ্ডপে ২৪২.২০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

সোমবার, ১২ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৪:০৬ পি.এম


মুন্সীগঞ্জে ৩৫৭ পূজামণ্ডপে ২৪২.২০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ

মুন্সীগঞ্জে শারদীয় দুর্গাপুজা উপলক্ষে সরকার ৩৫৭টি পূজামণ্ডপের জন্য মোট ২৪২.২০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ করেছে।

জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন অফিসের তথ্য অনুযায়ী, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর থেকে শারদীয় দুর্গাপূজা উদযাপনের জন্য ৩৫৭টি পূজামণ্ডপে ভক্তদের আহার্য বাবদ ৩৫৭ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ করা হয়েছে।

এতে সদর উপজেলার ৪৪টি মণ্ডপে বরাদ্দ করা হয়েছে ২৬.৪০ মেট্রিক টন, গজারিয়ার ১০টি মণ্ডপে ৬ মেট্রিক টন, টঙ্গিবাড়ীর ৫২টি মণ্ডপে ৩১.২০ মেট্রিক টন, লৌহজংয়ে ৩৭টি মণ্ডপে ২২.২০ মেট্রিক টন, সিরাজদিখানে ১২৯টি মণ্ডপে ৭৭.৪০ মেট্রিক টন এবং শ্রীনগরে ৮৫টি মণ্ডপে ৫১ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ করা হয়েছে।

জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মুহাম্মদ মুবিনুর রহমান জানিয়েছেন, প্রতি মণ্ডপের জন্য ৬শ’ কেজি হারে চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

প্রত্যেক উপজেলায় পূজা উদযাপন কমিটিগুলো যাতে বরাদ্দকৃত চাল নির্দিষ্ট সময়ে পায়, সে জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। এবারের বরাদ্দে মণ্ডপ প্রতি চালের পরিমাণ বৃদ্ধি করা হয়েছে। গত বছরের তুলনায় এবারে ৬৯.৭০ মেট্রিক টন চাল বেশি বরাদ্দ করা হয়েছে। সূত্র: বাসস

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

দিল্লিতে আবহাওয়া অধিদপ্তরের রেড অ্যালার্ট, ভারী বৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়ার সম্ভাবনা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

সোমবার, ১২ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৪:০৭ পি.এম


দিল্লিতে আবহাওয়া অধিদপ্তরের রেড অ্যালার্ট, ভারী বৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়ার সম্ভাবনা

ভারতের রাজধানী দিল্লিতে ভারী বৃষ্টির সঙ্গে তীব্র ঝড়ের সম্ভাবনা দেখা দেওয়ায় দেশটির আবহাওয়া অধিদপ্তর রেড অ্যালার্ট জারি করেছে। পূর্বাভাসে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ঘণ্টায় ১৫ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টিপাত এবং ঘণ্টায় ৬০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমসের খবর অনুযায়ী, সোমবার (১২ অক্টোবর) স্থানীয় সময় ভোর ৬টায় এই সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

দিল্লির পাশাপাশি পার্শ্ববর্তী নয়ডা, গুরুগ্রাম ও গাজিয়াবাদেও বৃষ্টির প্রভাব লক্ষ্য করা গেছে। রাজধানীর করোলবাগ এলাকার ঝান্ডেওয়ালা মন্দিরের কাছে ভারী বৃষ্টির কারণে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে সকালের ব্যস্ত সময়ে সড়কে যান চলাচল ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

তবে আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, বৃষ্টির এই পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার সম্ভাবনা কম। আগামী ছয় দিন দিল্লির আকাশ আংশিক মেঘলা থাকতে পারে এবং এ সময়ে উল্লেখযোগ্য বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা নেই।

এদিকে, আগামী দিনগুলোতে দিল্লির দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩১ থেকে ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে থাকতে পারে বলে জানানো হয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%