১১:২৯ এম
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) এক নারী শিক্ষার্থীকে প্রেমের প্রস্তাব দেওয়ার পর প্রত্যাখ্যাত হওয়ার পর ছুরি ও অস্ত্রের ভয় দেখানো এবং পদ্মা নদীতে ফেলে দেওয়ার হুমকির অভিযোগ উঠেছে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের এক কর্মীর বিরুদ্ধে।
রোববার (২৬ জুলাই) রাত সাড়ে ৯টার সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর বরাবর দিয়ে শিক্ষার্থীটি লিখিত অভিযোগে এই তথ্যগুলো তুলে ধরেন।
অভিযুক্ত মহসিন আলম বিশ্ববিদ্যালয়ের সংস্কৃত বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের ছাত্র এবং একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের কর্মী। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীও একই বিভাগের ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী।
আরও পড়ুন: জলবায়ু ও উন্নয়ন কাজে তুরস্কের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার চায় বাংলাদেশ
লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে যে, গত ২২ জুলাই থেকে অভিযুক্ত মহসিন আলম ভুক্তভোগীকে বিভিন্নভাবে উত্ত্যক্ত এবং হয়রানি করতে শুরু করেন। এক পর্যায়ে তিনি প্রেমের প্রস্তাব দেন। তবে প্রেমের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করার পরও মহসিন আলম বিরত না থেকে পুনরায় ভুক্তভোগীকে চাপ দিতে থাকেন।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, রোববার (২৬ জুলাই) বিকেল ৩টার দিকে অভিযুক্ত মহসিন ভুক্তভোগীকে জোরপূর্বক পদ্মা নদীর পাড়ে নিয়ে যান এবং আবার প্রেমের প্রস্তাব দেন। ভুক্তভোগী যখন পুনরায় প্রস্তাবটি প্রত্যাখ্যান করেন, তখন অভিযুক্ত একটি ছুরি বের করে তাকে ভয় দেখান এবং তার কাছে পিস্তল রয়েছে বলেও হুমকি প্রদান করেন।
ভুক্তভোগী অভিযোগ করেছেন যে, ভয়ে কান্নাকাটি শুরু করায় অভিযুক্ত তাকে মেসের দিকে নিতে সম্মত হন। তবে পথিমধ্যে রুয়েট এলাকা থেকে আবারও পদ্মা নদীর পাড়ে নিয়ে গিয়ে তাকে নদীতে ফেলে দেওয়ার হুমকি দেন। দীর্ঘ সময় কান্নাকাটির পর তাকে মেসে পৌঁছে দেওয়া হয়। এরপর অভিযুক্ত ফোন করে আত্মহত্যার কথাও বলেন। এ ছাড়া অভিযুক্তের এক সহযোগী তাকে বিশ্ববিদ্যালয় ছেড়ে চলে যাওয়ারও হুমকি দেন।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত মহসিন আলমের মোবাইলে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কোন সাড়া দেননি।
আরও পড়ুন: অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের প্রতিবাদে গ্রাহক ফখরুল ইসলাম সোহেলের মামলা
রাবি শাখা ছাত্রদলের সভাপতি সুলতান আহমেদ রাহী মন্তব্য করেন যে, অভিযোগটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে সত্যতা যাচাই করা উচিত। যদি অভিযোগ প্রমাণিত হয়, তাহলে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি-বিধান ও দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। একইসঙ্গে তদন্তের আগে কাউকে দোষী বা নির্দোষ হিসেবে চূড়ান্তভাবে বিবেচনা করা যাবে না। এছাড়া তিনি উল্লেখ করেন যে, অভিযুক্ত শিক্ষার্থী নিয়মিত কর্মসূচি পালন করেন না বা সক্রিয় কর্মী হিসেবে পরিচিত নন। অভিযোগের বিষয়টি নিয়ে প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যাচাই করতে পারে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মাহবুবর রহমান বলেন, সংস্কৃত বিভাগের একজন নারী শিক্ষার্থীর কাছ থেকে আমরা একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। অভিযোগটি গুরুত্বের সঙ্গে গ্রহণ করা হয়েছে। সোমবার দুপুর ১২টায় অভিযুক্তকে ডাকা হয়েছে এবং অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন