প্রধান কার্যালয়ঃ ৩-ডি, কাব্যকস ভবন, কারওয়ান বাজার, ঢাকা-১২১৫
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি- ২০৪৪৭৪/২০২৫
ফোন:- 02224458547-01339-314085
ই-মেইল- crimebd2025@gmail.com
উনিশ শতকের মাঝামাঝি সময়ে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের কাছে কাঁচা তুলার গুরুত্ব অতিশয় ছিল, যা তখনকার সময়ে ‘সাদা সোনা’ নামে পরিচিত ছিল। ভারতের মুম্বাই, সোলাপুর এবং নাগপুরের মতো বড় সুতি উৎপাদনকারী অঞ্চলগুলোর সঙ্গে ডেকান মালভূমিতে সরাসরি যাতায়াতের প্রধান বাধা ছিল দুর্গম সহ্যাদ্রি পর্বতমালা বা ভোর ঘাট। এই বাণিজ্যিক পথে সুবিধা সুবিধা আনতে এবং মুম্বাইয়ের সঙ্গে পুনে, কলকাতা, মাদ্রাজ ও দিল্লির সরাসরি ট্রেন যোগাযোগ স্থাপন করার পরিকল্পনা করে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি, পাহাড় কেটে রেলপথ নির্মাণের উদ্যোগ নেয়।
১৮৫২ সালে ‘দ্য গ্রেট ইন্ডিয়ান পেনিনসুলার রেলওয়ে’র চিফ রেসিডেন্ট ইঞ্জিনিয়ার জেমস জন বার্কলে দীর্ঘ চার বছর ধরে জরিপ চালিয়ে এবং ৩ হাজার মানচিত্র প্রস্তুত করে ভোর ঘাটের জটিল পথটি চূড়ান্ত করেন। প্রকল্পটির পরিধি ছিল বিশাল এবং এতে ২৫টি সুড়ঙ্গ, ৮টি খিলানযুক্ত ভায়াডাক্ট এবং হাত দিয়ে প্রায় ৫ কোটি ৪০ লাখ ঘনফুট খাড়া পাথর কাটার মতো কঠিন কাজ অন্তর্ভুক্ত ছিল।
১৮৫৬ সালের জানুয়ারিতে আনুষ্ঠানিকভাবে এই কাজের সূচনা হয়। কাজ সম্পন্ন করতে গিয়ে বার্কলে অসুস্থ হয়ে একপর্যায়ে ইংল্যান্ডে ফিরে যান। পরবর্তীতে নির্মাণের দায়িত্ব নেন ঠিকাদার উইলিয়াম ফ্যাভিয়েল, যার অধীনে কাজের পরিবেশ এবং শ্রমিকদের ওপর অমানবিক নির্যাতনের নানা চিত্র সামনে আসে। খাড়া পাহাড়ে সাধারণ সরঞ্জাম নিয়ে কাজ করেছেন ২৫ থেকে ৪২ হাজার শ্রমিক, যাদের মধ্যে একটি বড় অংশ ছিল নারী ও শিশু।
ম্যালেরিয়া, কলেরা, খাড়া পাহাড় থেকে পড়ে যাওয়া এবং খনির বিস্ফোরণের মতো দুর্ঘটনায় প্রকল্পের আট বছরের মধ্যে আনুমানিক ২৪ হাজার শ্রমিকের মর্মান্তিক মৃত্যু ঘটে। ১৮৫৯ সালে মাসের পর মাস বকেয়া মজুরি না দেওয়ায় এবং পরে তা অর্ধেক করার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ শুরু করে শ্রমিকেরা, ফলস্বরূপ সেখানে এক রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে যেখানে মিস্টার কারেন নামের এক ব্রিটিশ পরিদর্শক নিহত হন।
পরবর্তীতে নতুন ঠিকাদার সলোমন ট্রেডওয়েল কলেরায় মারা গেলে, তার স্ত্রী অ্যালিস ট্রেডওয়েল প্রকল্পের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। অবশেষে বহু অনিশ্চয়তা পেরিয়ে ১৮৬৩ সালের এপ্রিলে ভোর ঘাট রেলপথের নির্মাণ কাজ সমাপ্ত হয়। বোম্বাইয়ের তৎকালীন গভর্নর স্যার বার্টল ফ্রেরে এটিকে ভারতের ‘রেল যুগের সূচনা’ হিসেবে ঘোষণা করলেও, এ ইতিহাসটা হাজার হাজার ভারতীয় শ্রমিকের রক্ত এবং ঘামে লেখা হয়েছিল, যাদের অবস্থান রয়ে যায় অনালোচিত এবং উপেক্ষিত।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন