ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

কেরানীগঞ্জে বিয়ের এক মাস পর প্রভাষকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার


কেরানীগঞ্জে বিয়ের এক মাস পর প্রভাষকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

দক্ষিণ কেরানীগঞ্জে বিয়ের মাত্র এক মাস পর প্রভাষক আছিয়া আক্তার মিমের (২৬) ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) বিকেলে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের হাসনাবাদ এলাকার বাসায়, স্বজনরা তাকে গলায় ফাঁস দেয়া অবস্থায় উদ্ধার করেন। ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে জরুরি বিভাগে নিয়ে আসলে, চিকিৎসক সন্ধ্যা ৭টার সময় তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

মৃত মিমের বাবার নাম হলো মৃত মনিরুজ্জামান। তার বাবা-মা হাসনাবাদ এলাকায় থাকেন। তিনি সিদ্ধেশ্বরী কলেজের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী ছিলেন। পড়াশোনা করার পাশাপাশি তিনি হাসনাবাদ কামুচাঁন শাহ্‌ স্কুল অ্যান্ড কলেজে লেকচারার (প্রভাষক) হিসেবে কর্মরত ছিলেন। মাত্র এক মাস আগে পেশায় রিকশা গ্যারেজের মালিক ইমামুল ইসলামের সঙ্গে তার বিয়ে হয়েছিল।

আরও পড়ুন: রংপুরে ২৬ মামলার পলাতক আসামি শীর্ষ সন্ত্রাসী ‘মেরিল সুমন’ গ্রেপ্তার

হাসপাতালে মিমের স্বামী ইমামুল ইসলাম জানান, তারা একই বাড়ির ৩য় তলায় বাস করছেন। ২য় তলায় বসবাস করছেন মিমের বাবা-মা। বিয়ের পর থেকেই তাদের মধ্যে পারিবারিক বিষয় নিয়ে ছোটখাট ঝগড়া চলছিল। আজও তাদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়েছে। নতুন একটি বাড়ির নির্মাণ কাজ চলছে। দুপুরে ইমামুল সেই বাড়ির কাজের তদারকি করার জন্য চলে যান। বিকেলে বাসায় ফিরে মিম খাবার খেয়েছে কি না, জানতে শাশুড়ির কাছে প্রশ্ন করেছিলেন। এরপর তিনি বাসার দ্বিতীয় তলায় ঘুমাতে যান। ঘুম থেকে উঠে মিমকে দেখতে না পেয়ে তিনি খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। একপর্যায়ে বাসার তৃতীয় তলার একটি কক্ষ ভেতর থেকে আটকানো অবস্থায় দেখতে পান। অনেক ডাকাডাকির পরেও কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে তিনি দরজা ভেঙে ভিতরে ঢুকে দেখেন, সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ওড়না পেঁচানো অবস্থায় ঝুলন্ত মরদেহ দেখতে পান।

ঢাকা মেডিকেল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ (পরিদর্শক) মো. ফারুক চিকিৎসকদের বরাত দিয়ে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে রাখা হয়েছে। ঘটনা সংশ্লিষ্ট থানাকে অবহিত করা হয়েছে।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বুন্দিবুগিওতে ইবোলা টিকার ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল শুরু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১৪ই জুলাই, ২০২৬ ইং

১০:১৯ পি.এম


বুন্দিবুগিওতে ইবোলা টিকার ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল শুরু

বুন্দিবুগিও ভেরিয়েন্টের ইবোলার প্রাদুর্ভাব মোকাবিলার প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে এ ভাইরাসের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য একটি টিকার মানবদেহে ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল শুরু করা হয়েছে।

বিডি-ইবোভ নামে ফেজ-১ পর্যায়ের এই গবেষণাটি অক্সফোর্ডে ১৮ থেকে ৫৫ বছর বয়সি ৫০ জন সুস্থ স্বেচ্ছাসেবীর ওপর পরিচালিত হবে। এর মধ্যে চ্যাডক্স১ বিডিবিভি নামের টিকার নিরাপত্তা এবং রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরির সক্ষমতা মূল্যায়ন করা হবে। বর্তমানে অংশগ্রহণকারী নিবন্ধন চলছে এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদন পাওয়ার পর টিকা প্রয়োগ শুরু হবে।

এটি তৈরিতে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অক্সফোর্ড ভ্যাকসিন গ্রুপ ও প্যানডেমিক সায়েন্সেস ইনস্টিটিউট কাজ করেছে। এতে একই চ্যাডক্স১ ভাইরাল ভেক্টর প্রযুক্তি ব্যবহৃত হয়েছে, যা অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার কোভিড-১৯ টিকার ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়েছিল।

ভারতের সিরাম ইনস্টিটিউট (এসআইআই) মাত্র দুই সপ্তাহের মধ্যে পরীক্ষামূলক এই টিকার প্রায় ৬ লাখ ২০ হাজার ডোজ উৎপাদন ও মজুত করেছে। এর মধ্যে ৪ হাজার ডোজ ফেজ-১ ট্রায়ালের জন্য সরবরাহ করা হয়েছে।

প্রকল্পটি কোয়ালিশন ফর এপিডেমিক প্রিপেয়ারডনেস ইনোভেশনস (সিইপিআই)-এর ৮৬ লাখ মার্কিন ডলার অনুদানে পরিচালিত হচ্ছে। পাশাপাশি প্রয়োজনীয় নিয়ন্ত্রক অনুমোদন সাপেক্ষে উগান্ডাতেও অতিরিক্ত ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের প্রস্তুতি চলেছে।

গবেষণার প্রধান বৈজ্ঞানিক গবেষক প্রফেসর তেরেসা ল্যাম্ব বলেছেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) বুন্দিবুগিও ইবোলা প্রাদুর্ভাবকে আন্তর্জাতিক জনস্বাস্থ্য জরুরি অবস্থা ঘোষণা করার মাত্র ৫৭ দিনের মধ্যে টিকাটি মানবদেহে পরীক্ষার পর্যায়ে পৌঁছেছে। এটি এই সংকট মোকাবিলার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে।

যদি টিকাটি নিরাপদ প্রমাণিত হয় এবং শক্তিশালী রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি করতে সক্ষম হয়, তবে সিইপিআই আরও বড় পরিসরে শেষ ধাপের ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে সহায়তা করবে। এসব তথ্যের ভিত্তিতে টিকাটির জরুরি ব্যবহারের অনুমোদন বা পূর্ণাঙ্গ লাইসেন্স পাওয়ার প্রক্রিয়া এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে।

এদিকে আফ্রিকা সিডিসি-এর মহাপরিচালক ড. জ্যাঁ কাসেয়া এই অগ্রগতিকে স্বাগত জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, প্রাথমিক পর্যায়ের এই পরীক্ষা চলমান প্রাদুর্ভাবে আক্রান্ত মানুষকে তাৎক্ষণিকভাবে সহায়তা করতে না পারলেও, বর্তমান ও ভবিষ্যতের ইবোলা মহামারির জন্য কার্যকর টিকা উন্নয়নে এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

আখাউড়ায় নবগঠিত বরিশল ইউনিয়নের অস্থায়ী কার্যালয় উদ্বোধন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্রাইম বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১৪ই জুলাই, ২০২৬ ইং

১০:২১ পি.এম


আখাউড়ায় নবগঠিত বরিশল ইউনিয়নের অস্থায়ী কার্যালয় উদ্বোধন

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলার সাথে সদ্য যুক্ত নতুন ‘বরিশল’ ইউনিয়ন পরিষদের অস্থায়ী কার্যালয় উদ্বোধন করা হয়েছে। একইসঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন এই ইউনিয়নের প্রশাসকের দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন মো. ফজলুর রহমান ভূঁইয়া।

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সকালে বরিশল গ্রামে মো. ফজলুর রহমান ভূঁইয়ার নিজ বাড়িতে পরিচালিত এই অস্থায়ী কার্যালয়ের উদ্বোধন করা হয়।

এর আগে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার বাসুদেব ইউনিয়নের ছয়টি গ্রাম নিয়ে নতুন এই ‘বরিশল’ ইউনিয়ন গঠন করে সরকার গেজেট প্রকাশ করে। এর ফলে আখাউড়া উপজেলায় ইউনিয়নের সংখ্যা পাঁচ থেকে বেড়ে ছয়টিতে উন্নীত হলো।

অস্থায়ী কার্যালয় উদ্বোধন এবং নবগঠিত ইউনিয়নের প্রশাসকের দায়িত্ব হস্তান্তর অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন আখাউড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তাপসী রাবেয়া, জেলা বিএনপির সদস্য কবীর আহমেদ ভূঁইয়া, আখাউড়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. জয়নাল আবেদীন, কসবা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শরীফুল হক স্বপন, আখাউড়া পৌর বিএনপির সভাপতি মো. সেলিম ভূঁইয়া ও সাধারণ সম্পাদক মো. আক্তার খাঁনসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।

দায়িত্ব গ্রহণের পরে নবগঠিত বরিশল ইউনিয়নের প্রশাসক মো. ফজলুর রহমান ভূঁইয়া মন্তব্য করেন, ‘ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার মধ্যে বরিশলকে আমি সর্বশ্রেষ্ঠ ইউনিয়ন হিসেবে গড়ে তুলব। আমি নিজেও কখনো দুর্নীতি করিনি, কাউকে করতেও দেব না। সরকারের সকল বরাদ্দ সবাইকে নিয়ে পরামর্শ করে বণ্টন করব এবং নিজে তদারকি করব।’

এ বিষয়ে আখাউড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তাপসী রাবেয়া বলেন, ‘আজকে নতুন বরিশল ইউনিয়নের অস্থায়ী কার্যালয় উদ্বোধন করা হয়েছে। এখন থেকে প্রশাসক তার পরিষদ নিয়ে এখান থেকেই যাবতীয় কার্যক্রম পরিচালনা করবেন।’

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

এইচএসসি পরীক্ষা নিয়ে বার্তা দিলেন মাহদী আমিন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১৪ই জুলাই, ২০২৬ ইং

১০:২৩ পি.এম


এইচএসসি পরীক্ষা নিয়ে বার্তা দিলেন মাহদী আমিন

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন বলেছেন, পরীক্ষা দিতে আসা শিক্ষার্থীরা আমাদের সন্তানতুল্য। তাদের ভবিষ্যৎ, স্বপ্ন ও মানসিক অবস্থার গুরুত্ব সরকার গভীরভাবে উপলব্ধি করে।

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) রাতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকের একটি স্ট্যাটাসে তিনি এই কথাগুলো বলেন।

পোস্টে মাহদী আমিন উল্লেখ করেছেন, ‘দেশজুড়ে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা-২০২৬ চলমান রয়েছে। বিরূপ আবহাওয়ার মধ্যে কেন এই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে, এ নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং শুভানুধ্যায়ীদের উদ্বেগ ও প্রশ্ন রয়েছে। এ বিষয়টি নিয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ও যথেষ্ট ভেবেছে। পারিপার্শ্বিক সব পরিস্থিতি বিবেচনায়, দেশের সব বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান এবং শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক ও অন্যান্য অংশীজনের মতামতের ভিত্তিতে বর্তমানে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। ভারী বর্ষণের কারণে সাময়িক জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছিল। তবে জানা গেছে যে, দেশজুড়ে পরিস্থিতির যথেষ্ট উন্নতি হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘পরীক্ষার্থীরা আমাদের সন্তানতুল্য। তাদের ভবিষ্যৎ, স্বপ্ন ও মানসিক অবস্থার গুরুত্ব সরকার গভীরভাবে উপলব্ধি করে। জনগণের নির্বাচিত সরকার হিসেবে শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ পরিবেশে পরীক্ষা নিশ্চিত করা সরকারের একটি দায়বদ্ধতা। পরীক্ষার্থীদের যেন কোনো দুর্ভোগ না হয় সেটি যেমন সরকারের লক্ষ্য, ঠিক তেমনি তাদের দীর্ঘদিনের পাঠ্যক্রম ও মানসিক প্রস্তুতিকে মূল্যায়ন করে যথাসময়ে এবং সুষ্ঠুভাবে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা সম্পন্ন করাও সরকারের দায়িত্ব। শিক্ষার্থীদের স্বার্থ রক্ষাই আমাদের অগ্রাধিকার। এ কারণে শিক্ষা মন্ত্রণালয় বিগত কয়েকদিন ধরেই আবহাওয়া অধিদপ্তর এবং প্রতিটি বিভাগ, জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রেখেছে। আজ সকালে বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার এবং সব শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানের সঙ্গে আলোচনা করা হয়েছে। সর্বসম্মত মতামত এসেছে যে, চট্টগ্রাম বোর্ড ব্যতীত দেশের সকল বোর্ডের আওতাধীন এলাকায় পরীক্ষা নেওয়ার অনুকূল পরিবেশ বিদ্যমান। তবে একইসাথে সীমিতসংখ্যক শিক্ষার্থীর ভোগান্তি কাম্য নয় এবং সেক্ষেত্রে সংশ্লিষ্টদের কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশনা রয়েছে।’

ফেসবুক পোস্টে মাহদী আমিন আরো লিখেছেন, ‘চলমান এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় দেশের ২,৬৯৭টি কেন্দ্রে মোট ১২ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৩ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিচ্ছে। বন্যায় সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের অধীন চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, রাঙামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ি- এই পাঁচ জেলায় ইতোমধ্যে ১৬ জুলাই পর্যন্ত পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। অন্যান্য জেলায় পরীক্ষা আয়োজনের জন্য অনুকূল পরিবেশ থাকায়, বৃহত্তর স্বার্থ বিবেচনায় পরীক্ষা চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়েছে। সামনের দিনগুলোতেও বিরূপ আবহাওয়ার জন্য একদিকে দেশজুড়ে পর্যাপ্ত প্রস্তুতি রয়েছে, অন্যদিকে শিক্ষার্থীবান্ধব যে কোনো পদক্ষেপ গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি স্থানীয় প্রশাসনকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, কোথাও যাতায়াত বা জলাবদ্ধতার কারণে সমস্যা হলে প্রয়োজন হলে কেন্দ্র পরিবর্তন, পরীক্ষা স্থগিত, কিংবা পরীক্ষার সময় বৃদ্ধিসহ যে কোনো প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত তারা নিতে পারবেন। যদি বিরূপ আবহাওয়ার কারণে দেশের কোথাও কোনো শিক্ষার্থী পরীক্ষা দিতে না পারে, তবে তারা চট্টগ্রাম বোর্ডের স্থগিত হওয়া পরীক্ষার সঙ্গে একই দিনে অংশগ্রহণ করতে পারবে। পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্রের প্রশ্নে দুটি ভুল পাওয়ার তথ্য এসেছে। উক্ত প্রশ্নের জন্য সবাইকে ফুল মার্কস দেওয়ার যে সিদ্ধান্ত, সেটি শিক্ষার্থীবান্ধব নীতিরই প্রতিফলন।’

তিনি বলেন, ‘গতকাল কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজ কেন্দ্রে নৌকায় পরীক্ষার্থী পারাপারের ছবি বেশ আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের ১৯৩টি কেন্দ্রের মধ্যে আকস্মিক জলাবদ্ধতার কারণে মূলত এই একটি কেন্দ্রের ৯৮৭ জন পরীক্ষার্থী সাময়িক সমস্যায় পড়ে। পরিস্থিতি বিবেচনায় জেলা প্রশাসন, পুলিশ সুপার, সিটি করপোরেশন এবং শিক্ষা বোর্ডের সমন্বিত সিদ্ধান্তে ওই কেন্দ্রের পরীক্ষা এক ঘণ্টা পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং পরীক্ষার পূর্ণ সময় নিশ্চিত করা হয়েছে। পাশাপাশি যাতায়াতের জন্য আলোচিত সেই ছবির মতো বহুমুখী উদ্যোগের মাধ্যমে প্রশাসনিক পদক্ষেপে শিক্ষার্থীদের পরীক্ষায় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হয়েছে। কেবল একটি কেন্দ্রের এই অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি অত্যন্ত দুঃখজনক হলেও, কুমিল্লা বোর্ডের বাকি ১৯২টি কেন্দ্রের প্রায় সকল শিক্ষার্থীর পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘সারা দেশে ২,৬৯৭টি পরীক্ষা কেন্দ্রে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। তার মধ্যে মুষ্টিমেয় কিছু কেন্দ্রের ছবি ও ভিডিও নিশ্চয়ই পুরো পরীক্ষা ব্যবস্থার প্রতিনিধিত্ব করে না। মিথ্যা-পুরোনো ছবি ও ভিডিও দিয়ে অপপ্রচার চালানো, কিংবা রাজনৈতিক ফায়দা হাসিল ও উসাকনি প্রদান গণআকাঙ্ক্ষার সঙ্গে সাংঘর্ষিক। এ বিষয়ে কোমলতি শিক্ষার্থীরা নিশ্চয়ই সজাগ রয়েছে।’

গণতান্ত্রিক যে মূল্যবোধ আমরা ধারণ করি, সেখানে গঠনমূলক ও ইতিবাচক সমালোচনা অবশ্যই থাকবে উল্লেখ করে ফেসবুক পোস্টে মাহদী আমিন লিখেছেন, ‘মতের পার্থক্যও থাকবে, কিন্তু দেশের বৃহত্তর স্বার্থে আমাদের ঐকমত্য থাকতে হবে। আমরা বিশ্বাস করি, বৃহত্তর জাতীয় স্বার্থে শিক্ষার্থীবান্ধব প্রতিটি মানুষের ঐক্য প্রয়োজন। কারণ দেশটা আমাদের সবার। এই শিক্ষা ব্যবস্থা আমাদের সবার। এই শিক্ষার্থীরাই আগামী বাংলাদেশের নেতৃত্ব দেবে। তাদের সহযোগিতা করা ও প্রেরণা যোগানো আমাদের সবার সমন্বিত দায়িত্ব।’

‘শিক্ষার্থীদের প্রতি প্রবল দায়বদ্ধতা ও অবারিত দায়িত্বশীলতার মাধ্যমে দেশ পরিচালনায় বর্তমান সরকার ব্রত রয়েছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় আমরা বিপুলসংখ্যক জনগণের আকাঙ্ক্ষা ও চাহিদার প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রাকৃতিক দুর্যোগের মাঝে পরীক্ষা দিতে গিয়ে অনেক শিক্ষার্থীর কষ্ট হয়েছে, এটি যেমন সত্য; তেমনি বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী নির্বিঘ্নে পরীক্ষায় অংশ নিতে পেরেছে, এটিও সত্য। কিছু পরীক্ষা কেন্দ্রে ভোগান্তির সৃষ্টি হয়েছে, এটি যেমন সত্য; দেশের বিরাট অংশের শিক্ষার্থীরা কোনো ধরনের বন্যা, জলাবদ্ধতার বা দুর্ভোগে পড়েনি, এটিও সত্য।’

মাহদী আমিন বলেন, ‘এইচএসসি পরীক্ষার্থীরাই আগামীর দেশ বিনির্মাণের কারিগর। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সবসময় তরুণ প্রজন্ম ও শিক্ষার্থীদের সুযোগ ও সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে দায়বদ্ধ। তাই সব ধরনের দ্বিধা ও অস্থিরতা পেছনে ফেলে, নিজের মেধা ও যোগ্যতার ওপর পূর্ণ আস্থা রেখে, দেশের সকল পরীক্ষার্থীদের মূল মনোযোগ হওয়া উচিত পড়ালেখায় মনোনিবেশ করে সর্বোচ্চ ফলাফল অর্জন করা। এই পরীক্ষা শুধু একটি সার্টিফিকেট পাওয়ার লড়াই নয়, বরং পরিশ্রমের ফলস্বরূপ নিজের লক্ষ্যে পৌঁছানো এবং দেশকে এগিয়ে নেওয়ার গুরুত্বপূর্ণ ধাপ।’

ফেসবুক পোস্টের শেষ অংশে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন লিখেছেন, ‘আমাদের সবার সম্মিলিত দায়িত্ব, এমন পরিবেশ অটুট রাখা, যেন শিক্ষার্থীরা আতঙ্কিত না হয় বা তাদের আত্মবিশ্বাস কোনভাবেই ক্ষুণ্ন না হয়। আগামী দিনের পরীক্ষাগুলোতে শিক্ষার্থীরা সুন্দর ও সুষ্ঠুভাবে অংশগ্রহণ করবে, নিজেদের সাফল্যে নিশ্চিত করবে বাংলাদেশের সমৃদ্ধি, ইনশাআল্লাহ’

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি না হলে ফের রাজপথে নামবে জনগণ: হাসনাত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১৪ই জুলাই, ২০২৬ ইং

১০:২৫ পি.এম


আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি না হলে ফের রাজপথে নামবে জনগণ: হাসনাত

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহ মন্তব্য করেছেন, শুধু সরকার বা ‘চালক’ পরিবর্তন করলেই হবে না, রাষ্ট্রের কাঠামোগত সংস্কারও জরুরি। তিনি বলেছেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি না হলে জনগণ আবারও রাজপথে নামবে।

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সন্ধ্যায় মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলার নিমতলা শিকদার মার্কেটের সামনে জুলাই পদযাত্রার কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। বাসের ব্রেক ও চাকা পরিবর্তনের সঙ্গে রাষ্ট্রকাঠামো সংস্কারের তুলনা করে তিনি বলেন, জনগণের বড় অংশ এ ধরনের সংস্কারের পক্ষে মত দিয়েছে।

হাসনাত আব্দুল্লাহ অভিযোগ করেছেন, নির্বাচনের পর সরকার সংস্কারের প্রতিশ্রুতি থেকে সরে এসেছে। অতীতের নির্বাচনে ভোট চুরির অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, এবারও জনগণের মতামত উপেক্ষা করা হয়েছে। তিনি এনসিপির দাবি তুলে ধরেছেন, যা শুধু সরকার পরিবর্তন নয়, বরং পুরো রাষ্ট্রব্যবস্থার সংস্কার প্রয়োজন।

পুলিশকে নির্দলীয় ও পেশাদার বাহিনী হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে পুলিশ সংস্কার কমিশন গঠনের দাবি পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি। একই সঙ্গে স্বাধীন গণমাধ্যম কমিশন ও সংবিধান সংস্কারের বিষয়েও সরকারের সমালোচনা করেছেন এই নেতা।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির অভিযোগ এনে এই সংসদ সদস্য বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ের তুলনায় বর্তমান পরিস্থিতি আরও নাজুক হয়ে উঠেছে। তিনি থানায় হামলা ও আসামি ছিনিয়ে নেয়ার ঘটনাকে সরকারের ব্যর্থতার উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়নি বলে তিনি দাবি করেন। কর্মসংস্থানের পরিবর্তে দেশে মাদক ও জুয়ার বিস্তার ঘটছে। পরিস্থিতির উন্নতি না হলে আবারও জনগণ আন্দোলনে নামবে বলেও তিনি সতর্ক করেছেন।

আওয়ামী লীগের সমালোচনা করে হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেছেন, দলটির শীর্ষ নেতৃত্ব দেশের মানুষের স্বার্থ রক্ষায় আন্তরিক নয়। তিনি সিরাজদিখানে জমি দখলের অভিযোগ তুলে বলেন, বৃহস্পতিবার (৫ আগস্ট) এর পর হাতবদলের ঘটনাগুলোর জন্য স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা কার্যকর ব্যবস্থা নেননি।

সবশেষে তিনি বিএনপির দীর্ঘদিনের ত্যাগী নেতাকর্মীদের এনসিপিতে যোগ দেয়ার আহ্বান জানান। তিনি এ কথা বলেন, দেশের গণতন্ত্র ও জনগণের স্বার্থ রক্ষায় এনসিপি আন্দোলন চালিয়ে যাবে।

এ সময় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম আহ্বায়ক আলী হাসান জুনায়েদ, ঢাকা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক সাইফুল্লাহ হায়দার, আবু বকর মজুমদার, মুন্সীগঞ্জ জেলা আহ্বায়ক মাজেদুল ইসলাম এবং জেলার সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুল আলীম উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া দলের জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের নেতাকর্মীরা সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন।

ডেইলি দি ক্রাইম/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%